অবয়ব

তন্ময় ভট্টাচার্য

(১)
অথচ, তুমি নিজেও জানো না এই লেখা ঠিক কোথায় গিয়ে শেষ হবে। শব্দের পর শব্দ জমা হচ্ছে আর তুমি ব্যাকস্পেস মেরে ফিরে যাচ্ছ শুরুতে। আবার সাজানো ও আবার শেষ। এভাবে কমতে-কমতে একদিন ঠিক শূন্য লিখে ফেলবে। শব্দের পাশে দাঁড়ি ও দাঁড়ির পরে এন্টার তোমাকে বুঝিয়ে দেবে নিচে নামার কথা। অবশ্য সে-কাজও এতদিন হয়েছে যথেষ্ট। আজ, একটা বাক্যের সঙ্গে জীবন ও প্যারাগ্রাফের সঙ্গে সম্পর্কের তুলনা করতে গিয়ে, বিশেষ কিছুই নয়, ছাপার যোগ্য একটা গদ্য সম্ভবত লিখে ফেলবে তুমি।
(২)
লেখার মাঝখানে এসে, তোমার গান গাইতে ইচ্ছে করছে। ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে’ ইত্যাদি। পারছ না, কারণ তার জন্য যতটা দরাজ গলার প্রয়োজন তা তোমার সাহসে কুলোচ্ছে না। তুমি বিশ্বাস করো, প্রতিটা লেখাই শব্দে-শব্দে একটা মেয়ের অবয়ব ফুটিয়ে তোলে, যে অপেক্ষা করে আছে পড়বে বলে। ভয় পাচ্ছ। যদি তোমার গান শুনে আনমনা হয়ে যায়, যদি অন্য কোনো পুরুষের কথা ভেবে বসে – এই এক আতঙ্ক তোমাকে চুপ করিয়ে রেখেছে। আস্তে আস্তে, রবিঠাকুরকেও সন্দেহ করতে শুরু করেছ তুমি।
(৩)
অস্থির হয়ে উঠছ। পাগলের মতো তোলপাড় করছ মেয়েটার আনাচ-কানাচ। কার কথা ভাবছে সে, কার? হিংসা ঢুকে পড়ছে লেখায়। ছুরি। কোপ মারার আগে, নামটা জেনে নিতে চাইছ তুমি। পরের শব্দে উঁচিয়ে রাখছ সূক্ষ্ম একটা পেরেক। আর এভাবেই, বহর বেড়ে যাচ্ছে লেখার। সম্পর্কের মধ্যিখানে দপদপ করছে রগ বা কারসার। আজ আর শেষ হবে না। তুমি সেভ করতে ভুলে গেলে। এক্ষুনি নিজের নাম শুনতে চেয়ে, মুলতুবি রাখলে স্বাভাবিক পরিণতির কথাও। মেয়েটা তোমায় ছেড়ে চলে গেল অন্য নোটপ্যাডে।