শারীরবৃত্তীয়

অর্ণব বসু

(১)

এ মুহূর্তে কিছু একটা ঘটে যাওয়া জরুরী

মৃত্যুর আগে কোনো দ্বিধা রাখতে নেই

সবকিছু উজাড় করে দিলে পড়ে থাকে

প্রাক্তনের হাত ধরে হেঁটে চলে যাওয়া-

যেন এক রক্তদৃশ্য দেখে চমকে উঠেছি।



অথচ কী নিবিড় মনযোগে বেড়া বেঁধেছিলে

মেঘলা দিনে সেসব বেড়ার ফাঁক দিয়ে

উড়ে যায় একটা দুটো চড়ুই-

আমার তো কাঙাল জীবন, সেইসব দৃশ্য

দেখে হাত পাতি তোমার কাছে......



নিঃশব্দে ঘটে যায় মৃত্যু, বহুচর্চিত এসব কাহিনীর

আড়াল খুলে খুলে পড়ে, ঘরসংসার পাড়ায়-বেপাড়ায়

পরদিন সন্ধ্যায় নিষিদ্ধ পিপাসা নিয়ে

কে যেনো নদীর গভীরে চলে যায়......



(২)

এইসব নিমফল দুপুরে বসন্তহাওয়া নিয়ে

ছেলে মেয়ের আনাগোনা পুকুরের ঘাটে



এককোণে জড়সড়ভাব, নিজের আঙুলে জড়ায় ছেলেটি-



ওই তার ধ্যানমগ্ন ছিপ ফেলে বসে থাকা-

ফাতনায় নড়ে ওঠে আত্মবিশ্বাস, ওই।


(৩)

আমরা যারা ভেতর থেকে দারুণ ভাবে একা,

সহস্র রাত কাটিয়ে দেবো জেগে

মৃত্যু অনিবার্য জেনেও শিয়রে

বসে কাঁপন হয়ে উঠি



এসব দেখে হাসতে হলে,এসব শুনে দুঃখ পেলে

গাছের কাছে যেও,আঁকড়ে ধরো শক্ত গুঁড়ি

ভেতর থেকে আবারও কেউ কষ্ট পেলে-

ছাল বাকলা বেরিয়ে আসে,জড়িয়ে ধরো,জড়িয়ে ধরো।



সেসব শুধু অনুভবের;

সমস্ত রাত ভেতর ভেতর পুড়লো যাদের ঘর,

তদন্তে তাই উঠে এলো দু-তিনজনের নাম

আগুন শুধু ছুঁয়েছিল,শুকনো কিছু খড়।