ঘৃণা

শতানীক রায়



তোমরা জানতে পারবে না
কখন কীভাবে সব পুরোনো মাংস খসে গিয়ে
নতুন মাংস জুড়ে যাবে...
তাই বলে কি আমার ভেতর কোনো বোধই নেই!
যেখানে যত বালি ছিল
সব একই বিশ্ববোধে আচ্ছন্ন
যত মানুষ মরে গিয়ে
তৈরি হচ্ছে সমাধি
তার কতটুকু মানুষ জন্মের পর
পুরোনো বিশ্বের মতো হ্রেষা তোলে
সেই সব মাঝখান থেকে উঠে আসে
এক-একটা যোনিসম্ভবা নারী
এবার ডুব দেব ওই জলে,
করুণ সকাল টেনে এনে
ছিঁড়ে দেব আমাদের জাতীয় সত্তা।
জানি কোথাও কিছুই নেই
দক্ষিণ দিকে সূর্য মরে গিয়েছিল
গতকাল সমস্ত রাত মরতে মরতে
একটা সময় যখন দেখলাম
এই হল সারকথা বস্তুরক্ষা
আর জীবন নামক এক ঘৃণ্য কীটের
উপর থেকে উড়ে গেল
সেই রাত।



এখন ঘৃণার উদ্ভব হচ্ছে
দলা দলা অন্ধকার
কেন কিছু করতে পারছি না আমি!
কে জানে, কে বলতে পারবে
কখন একটি শিশুর জন্ম হবে?
কখন হবে মাতৃতৃষ্ণা পূর্ণ...
কেন বুঝতে পারছি না...
কোথায় সমস্ত দেশ লুকিয়ে আছে
কোথায় পাখিগুলো চাল খুটে খায়...
আঁচলের দীর্ঘতা ঢেকে দিয়ে যাচ্ছে
কিছুই নেই বলে জানতাম
আসক্তির সীমা পেরিয়ে গেলে
কীভাবে আমার দেশ আবার
মোড়ক খুলে বেরিয়ে আসবে!...
খুব পুরোনো হলে যেমন একটি মানুষ
ঘুমিয়ে পড়ে...সমস্ত শব্দ আমারই
রসের অনটনে গোপন করে এই দেশ
সম্মান টেনে ছিঁড়ে আমরাই জেগে উঠি
বহু পুরোনো ঘুম থেকে...বহু পুরোনো ঘুম...



তাহলে আঁচল শব্দটা ধরেই এগোই। কেন তখন কবিতা লিখতে গিয়ে আঁচলের কাছে বাঁধা পড়ে গেলাম...না কি মায়ায় পড়ে গিয়ে এমনভাবে পতিত হলাম! প্রশ্নও ঠিক নয় তবে আমার দেশের কাছে ডাক পাঠাতে চাই, চিঠি। কখন কেমন করে পালটে গেলাম আমি?...আবার এটাও বলতে চাই কীভাবে মায়া দিয়ে আচ্ছন্ন করে রাখা যায় গোটা পৃথিবী। শব্দ বলে যখন কিছুই থাকে না, ঠিক তখনই আমার এই মারাত্মক চাঁদ হয়ে ওঠা। বিচ্ছিন্ন হতে হতে নিজের অন্ধকারটুকু দেখে এগিয়ে যাওয়া।