অনন্ত রাতের গান

কস্তুরী সেন

১.ভোর
কস্তুরী সেন
তবে পাড় ধ্বসে যাক
তবে এই অবিশ্বাস,
কূলে কূলে ফের জন্ম ফের মৃত্যু এসে একই দূরত্বে দাঁড়াক
তবে ভূমি উপড়ে নিক
হে শির, হে বজ্রাঘাত
হে দৃষ্টি পুড়িয়ে দেওয়া অন্ধজল, অন্ধকার আলো
আমার উপায় নেই
আবার ভোরের আগে
ছন্দে শব্দে উড়েপুড়ে নতুন লেখারা এসে
তোমাকে শোনাবে বলে
কলমে দাঁড়াল।

২.অনন্ত রাতের গান

যে কবিতা ভিক্ষাভাষা
যে কবিতা জন্ম জন্ম
দেহে আর মনে সব ভিক্ষাদাগ নিয়ে শুধু রয়ে গেল লোভে আর ক্ষোভে আর আশায় আশায়
যে কবিতা পরাভূত,
যে কবিতা অনন্ত রাতের গান
পূর্বসূরী সবাকার মতো শুধু এক মুখ এক সুখ লক্ষ্য করে অজস্র জন্মের রাস্তা ঢেকে গেল অজস্র মৃত্যুর জলে, দীন মমতায়
দয়া হোক তার,
রঙে নয় ঘ্রাণে অন্ধকারে
ধুয়ে দিক
আমার আবদ্ধকোষ ভরে দিক
সুনির্জন বাংলাভাষায়।

৩.অপরাজেয়

এসো ও কর্কশ শব্দ এ হাত বাড়ানো আছে ধরো
এসো বাক্য তুঙ্গে ওঠো
চুম্বনের বিষ দাও কণ্ঠে গ্রীবামূলে,
কাহিনি অকুণ্ঠ এসো কলহ প্রগাঢ় এসো
নেমে এসে থিতু হও এক থেকে অন্য জিহ্বাকোষে
এসো হে অপরাজেয় মন
যে দিয়েছে ছিঁড়েখুঁড়ে নাভির সুগন্ধবল্লী
উরুসন্ধি কলঙ্কে জখম
তাকে পান করো গাঢ়, শুষে নাও,
প্রভু হলে
সে তোমারই স্বাদু সঙ্গম।