হারানো সাঁতার

বহতা অংশুমালী

ট্রাফিকে অপার

কথার মধ্যিখানে সখী চলে গেল!
তার হাসির তারল্যে বুঝলাম
ওপারে রোমশ কেউ আছে
ফোন স্তব্ধ,
ব্লুটুথের স্পিকার নীরব বড় বেশী
শান্ত আমার এই বাতানুকূল গাড়ির হাওয়াটি
এখন যে ক্রমাগত ট্রাফিকের ঢেউ
হাতে পাল ধরে পায়ে দাঁড় ধরে বসে থাকি
ভেসেছি উজানে
বাড়ি দূর, বহু যাওয়া বাকি

যেহেতু বিষমকামী আমরা এবং
যেহেতু এখনো রস শরীরে প্রবল
ভুয়োদর্শী সমাজের নিভৃত বিকেলে একলাই
আমরা অনেকে
যদিও কথাও দেয় অর্গ্যাজম তবু আরো বেশি
আরো বেশি কিছু পেলে নেমে যাই যাবো
মাঝপথে আমরা অনেকে
যেতে দিতে হয় তবু গীশা খুঁজে খুঁজে মরে চোখ ,
কিসে দোষ কিসে সকড়ি বড় অনিশ্চয়। সে যা হোক
মুখোমুখি এক কাপ কফি খেলে যেন ভালো হতো,
তেমন কাউকে পেলে
এক ঠোঁট চুমু খেলে যেন
আরো ভালো হতো!

************

আচারের স্বাদ

আচারের মতো করে আমাদের কিছু কিছু প্রেমিক জিইয়ে রাখা থাকে
তাতে কি কি মশলা দিই, একান্ত নিজস্ব ভাঁড়ারে
এমনিই বিস্বাদ লাগলে রুটি,
তাক থেকে নামিয়ে নিই শিশিগুলি
পুরনো গোলাপ, হয়তো বা, একটি ইলেকট্রনিক চিঠি -
রাত্রে লেখা, যার গায়ে দিনে বহু স্বেদবিন্দু ছিল
স্বেদের বিন্দু দেখে দময়ন্তী নলকে চিনেছিল
না চিনলেও হতো। হতো না কী?
চেনা যেতো অন্য অভিজ্ঞানে
কে কেমন কম্পনে, কে ঘুমোয়, তারও পরে কে বা জেগে থাকে
এই সবই সেই ফাঁকে জানা যেত, ভিন্ন ভিন্ন নলে ।
এসবের কাল্পনিক সদুত্তর কিছু সেই আচারের তেলে ধরা ছিল
সে লেবুর ফলন কবে, নিশ্চিত যাবে না তাও বলা
সে আমের গুটি কোন ঝড়ের বিকেলে !

সেসব প্রেমিকদের আমরা দেখি নি কোন রাতে
আমাদের আবক্ষ ছবির বাইরে কখনোই
তাদেরো রাখি নি
তবু কোন করুণ বিকেলে সব্জী মাঠে
বাজারের ব্যাগ নিয়ে তারা চিনে ফেলে
কি অসহ্য আশ্চর্য আদল
আমরা ঝটিতি হাঁটি
আমরা ভীষণ বেগে হাঁটি
নিম্নমুখী স্তন দোলে, অবাঞ্ছিত চর্বি দোলে তাতে
হঠাৎই বিষণ্ণ চাঁদে, সন্ধের মলিন ন্যাকড়া চাঁদে
তারা কবজি ধরে বলে, বহুদূর ভালোবেসেছিলো
শাঁখের শব্দের মতো বলে
পাখিদের শেষ আওয়াজের মতো বলে
ধূসর সন্ধের মতো বলে
খুব অবিশ্বাসযোগ্য করে বলে
ট্রেন চলে যায় অদূরেই
পোড়ো বাড়িটার জানলায় শেষ লাল
আমরা প্রবল হাঁটি
আচারের বয়ামে গিলে খাওয়া দিনটাকে উগরে দিই
বহু যত্নে পুরি
তাকের পিছন দিকে রাখি।
***********

হারানো সাঁতার

লোকদুটো কথা বলছিল থেমে থেমে
কাছে দুই মৎস্যকন্যা নিজ নিজ অ্যাকুরিয়ামে
সাবধানে ঘাই দিচ্ছিল
হাতে নীল গেলাসের জল দেখে দুই বন্ধু
মাধ্বীবিজড়িত গলায় বলছিল
সমুদ্র মনে পড়ে যাচ্ছে
বালি মনে পড়ে যাচ্ছে
এবং সাঁতার
মৎস্যকন্যা দুটি খুব নিবিষ্ট মনে
শ্যাওলা খুঁটছিল
মাছেদের খাওয়াচ্ছিল
হাই তুলছিল
ঘোলা জলে ঘড়ি দেখছিল
লাব ডাব লাব ডাব লাব ডাব
সমস্ত ঘরে আর কোন শব্দ নেই
স্মৃতিবিচরণ ছাড়া আর কোন কথা নেই

বহু রাত হলো
বিচ হাউসের ধারে ওয়াচ টাওয়ারে
টর্চের আলো ঘুরে ঘুরে ফিরলো সমুদ্রের জলে
এক বন্ধু অন্যকে রাত্রি যাপনের প্রস্তাবও দিয়েছিল
তবে যা দস্তুর
অন্য জন থাকলো না
ঢাউস গাড়িতে উঠে বসলো
এবং
হাই তুলে কুর্নিশ সেরে
সোফার ধরলো স্টিয়ারিং
নফরেরা একুয়ারিয়াম তুলে নিয়ে এলো
পাশের সিটেই
রেখে দিল ধরাধরি ক'রে

*************