এই শহরে আমি বেশ ভালো আছি

তিমির দে

এই শহরে আমি বেশ ভালো আছি


এই গুয়াহাটি শহরেই আমি বেশ ভালো আছি
রোজ মর্নিং ওয়াকে যাই
ছেলেকে স্কুলবাসে উঠিয়ে দিই
পাণ্ডু বাজারে গিয়ে ছোটো মাছ
সস্তায় কিনে নিয়ে আসি

কলেজে যাই মন দিয়ে ছাত্র পড়াই
কলেজ লাইব্রেরি-তে বাংলা-অসমিয়া
-ইরেজি পত্রিকা দেখি
হেডলাইনগুলি মন দিয়ে পড়ি
'হিন্দুবঙালিক খেদিব লাগিব'
'বাংলাদেশি হিন্দু শরণার্থীক ঠাই দিয়া নহব'
ইত্যাদি রক্ত হিম করা কথাগুলি শুনি এবং পড়ি
আবার সন্ধ্যার সময় ক্লান্ত পাখির মতো নীড়ে ফিরি
স্ত্রী সন্তান সাথে টি.ভি-র সামনে বসি
লোকাল চ্যানেলে অসমিয়া নিউজ শুনি
'এই জুই জ্বলিছে জ্বলিব', 'আ ওই অ আকৌ ওলাই আ', 'বঙাল খেদা আন্দোলন গঢ়ি তুলিব লাগিব।'
----এইসব কথা বিজ্ঞজনের বুদ্ধিজীবীদের প্যানাল ডিসকাশনে শুনি
স্ত্রীর মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকি
সন্তানকে কোলে তুলে নিই হতাশায়। আদর করি।
দেশভাগ,উদ্বাস্তু, শরণার্থী, ভিটেমাটি, দেশবাড়ি
এইসব কথা আমার এই সাত বছরের সন্তান বোঝে না
টি.ভি.-র চ্যানেল পাল্টে দিই,পূর্বপুরুষের কথা ভাবি
বাঙালির কথা ভাবি,ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের কথা ভাবি আর নিজে ক্ষত-বিক্ষত হই।

সবচেয়ে মজার বিষয় এইসব উগ্র জাতীয়তাবাদী কথা
উনিশশো আশি বা তিরাশি সালের নয়
দুহাজার ষোলো-সতেরোর

এইভাবেই দিন চলছে তিন-চার পুরুষ ধরে
বন্ধু
তবু এ শহরে আমি বেশ ভালো আছি!


ছায়া

আমি আমার ছায়া
নিজেই তৈরি করি

তাই
কারও ছত্রছায়ায় থাকি না
রোদ পড়ুক
বা
বৃষ্টি-ই পড়ুক
তবুও
নিজের ছায়াতেই থাকি।


প্রেম

তোমাকে ভালোবাসার আগেই
কেটে গেছে
কুড়ি বা পঁচিশ বছর

সব মিলিয়ে যা পেয়েছি
তা কেবল
শূন্য বা বিয়োগ

দু-পা মেলেনি একদিনও
কিন্তু হেঁটেছি
হাজারও পথ

ভালো করে মুখখানা
দেখিনি আজও
কিন্তু প্রতিরাতে মৈথুন-উত্সব।