পোখরাজ

তিলোত্তমা বসু

পোখরাজ

কেন দিল মন অতীত কালের
ঘড়ির কাঁটায় স্থির গতিহীন
হ্রেস্বাধ্বনি শোনা যাবে খুব
লাফিয়ে উঠবে বুকের ভিতর
শতাধিক চুনি পোখরাজ হিরে
সোনার মোহর মুঠোমুঠোছুঁড়ে
ঘাঘরায় শত জ্বলে ওঠে চোখ...

হাঁসের পালকে লাগে না কিছুই
ঘড়ির পৃথিবী পৃথিবীর ঘড়ি
হাসে ফিক ফিক....
#
কেন দিল মন -- ভাবিকাল যেন
জ্যোতিষের ছকে আকাশচর্চা করছে এবং
ভাবছে তোমাকে---
দেওয়া চলে না কি নীলচিঠি আর
ওলিসেন্টের গন্ধ মাখিয়ে ...
যদিও তো তুমি যাবেই এড়িয়ে
শব্দের এ এক গোছা ফুল
#
ফিবাস ... ফিবাস...ফিবাস ...ফিবাস..
ডেকে যাবে মন আহাম্মকের
#
সবুজ পাতাটি এই করতলে
শুকিয়ে হলুদ ।

আংটি

নীল টি- শার্টের বোতাম খুলছি---
ঝিরিঝাউবন,সোনালিআবেল
দেরি করে ফেলা সব দোষারোপ
কোলে তুলে নিতে গিটারবাজলো
সবুজ গেলাসে মরিচা রঙের কী যেন পানীয়
রঙিন ছাতারাসিবিচের বুকে করেছে বাগান
হঠাৎ ফোয়ারা....অবাক ফোয়ারা
কোথা থেকে এলো সুর দিয়ে বোনা এই ক্যাসুরিনা

যেন আর কোনো দায় নেই কারো
তোমার হাসির স্বর্গে আমার বাড়িটি বানানো
বুঝি এতদিন কাঁটার উপরে হাঁটতে হাঁটতে
ঝরেনি অশ্রু ঝরেনি রক্ত
অথচ তুমি যে বুদবুদ দিয়ে তৈরি আমার ইচ্ছের সোনা
যত দূরে চাঁদ অত দূরে থাকো
যাবে না জড়ানো আঙুলে তোমার ছোট্ট বায়না....

মাখন

প্রেসারকুকার সিটি মারতেই
গোলাপিগোলাপি ধোঁয়া- পুতুলেরা
ঘোরে চারপাশে , পাজামা ও শায়া
লেগে যায় গিঁট ...
সাদা টি-পটের ফুল তোলা ছবি,
টেবিল – ঢাকনা ...লেস- কারুকাজ,
লাল নীল আর হলুদ কমলা জলের বোতল
চামচ বাজছে ডিশের উপরে
খুব তাড়াহুড়ো
গলছে মাখন আলুর খোসায়
পিঠের উপরে আচমকা এসে
খেয়ে গেল চুমু কার পুরু ঠোঁট ?

অথচ এসব স্বপ্ন বানানো
ভাবনা -মেশিনে সিল্কের সুতো
ছিঁড়ে ছিঁড়ে যায়----
কেন কেউ নও নীলচেটিশার্ট
সবুজ মলমলাগিয়ে দেবার ....
যখন গরম ফ্যানের ফোঁটায়
ফোস্কা পড়েছে হাতের পাতায়
পারো না জানতে কষ্ট জ্বলছে ....কষ্ট জ্বলছে....
কেউ নও বলে এই জীবনের.....