মিসিং ষ্টেশন আর একটা গ্যালোপিং রেলগাড়ি

পার্থসারথী

মিসিং ষ্টেশন আর একটা গ্যালোপিং রেলগাড়ি

আত্মার একটা মোমদানি আছে -
আমাদের মুখের সব আলো মোমদানির আলো নয়।
অরন্যে গেলে সেখানে অন্য মোমের আলো পড়ে ...

আলোর আলো নিয়েই বিশেষ বায়ুমণ্ডলীয় -
বোঝাবুঝির মধ্যে দপদপ করে হ্যারিকেন -
কোনটা আলো কোনটা আলো নয় ...
নরম দিয়ে মেখে নিচ্ছি ওম
ভুল নামে হয়তো বা ডেকেছি কখনো ...

গমরঙা আলো অথবা আলোই নয়, মায়া বিশেষ
নাম দিয়ে দাগিয়ে রেখে দিচ্ছি –
অন্ধকারটা আসলে অথবা না-দানির মোমের বিকিরণ।

নদীকে বৃষ্টির কাছে ডেকে আনো অথবা বৃষ্টিকে ...
খরস্রোত তকমায় ঢেকে রাখো নিরবধি –
অমিত্রাক্ষর শ্রাবণে হেসে ওঠে হারমোনিয়াম।

কে জানো হে, সাঁতারের অন্য কোন নাম -
এক খন্ড পাললিক হয়ে আছ,
রাত্রির গভীরে ভেসে গেছে চাঁদ
নীল চুইয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে তার আত্মা ...
আত্মার একটা মোমদানি আছে
আমি আগুন বসাই।


যেভাবে যাব

যাবার সময় ভাললাগাগুলো রেখে যেও -
এখন একটু বেরচ্ছি -
কত আগুন লেগে আছে গো আকাশে -
.
এইভাবে ক্রমশ পৃথিবীতে সূর্যশিশির ফোটার মাঠ বিলুপ্ত হয়ে যায়-
কেন ফিরে আসি ?
ফিরে আসি -
সবুজ কলকার মখমল,
গাঢ় মেরুন দন্ড শীর্ষে বিন্দু বিন্দু হলুদ ফুটে উঠুক -
নরমে পা মেলবই আরামে, চোখ বুজে তোমার ফেলে যাওয়া রেণু ...


[b]একটা অ্যাপলিটিক্যাল [ইচ্ছে হলে অপটিক্যাল পড়তে পারেন] রূপান্তর[/b]

হামিং পাখি উড়ে এল বলে
তুমি গজগামিনী।
মরমে বিরল বিকাল বুলিয়ে নিচ্ছেন ফিদা,
বিদায় বেলা
তখনও রাজহাঁসের বীণায় লেগে রয়েছে কালিংড়া, পড়জ।

হাটেবাজারে কি যেন বলেছিল অজিতেশ, খিদের কথা -
খিদেদেরও বিভিন্ন গড়ন –
অমসৃণ অ-খিদের পেছনে খিদে ছোটে হুপস্‌ আফটার হুপস্‌
পাকা ফসলের মাঠে ‘পড়ে তার ঘোড়ার পা গেল ভেঙ্গে।
রেসের মাঠে ল্যাংড়ারা হৃদয় খুঁড়ে হাততালি দেয়
এরকম পছন্দ করে না রুদ্রপ্রসাদ
কাটা মুণ্ডু নিয়ে অন্য খেলা তৈরি করে –
ফুটবল।
ফু ট ব ল এক রাজনৈতিক খেলা।

অ্যাড্রিয়ানা যেন ফিরে যেতে চায় হ্যামিংওয়ের যুগে।
মধ্যরাত, স্বপ্নস্বপ্ন চ্যাম্প-ডি-মার্স –
নিভুনিভু হলুদ আলোয়,
বক্ষ খুঁড়ে কেন ভেদ করে এক-একটি কুয়াশা-পরত?
না, সব “না-পাওয়া”, - সব না-পাওয়া?

“সব সোনা ছিল”-
এমনটা বিশ্বাস করে না পিকাসো,
“আমি কি তোমার বালি দুর্গকে লাথি মারবো?”
হামিং পাখি হয়ে আসে
তাই তুমি গজগামিনী।

দালির পুরুষালী থেকে যে চোখ ভেসে গিয়েছিল
গলন্ত সময়ের থেকে তুলে সে চোখ আঁকা হয়ে গেছে –
নাক, ঠোঁট, চিবুক, গলায় তিনটে রেখা
উঠে আসছিল মহিসোপানের আশ্চর্য যামিনী –
শুধু ব্র্যাকেট দেওয়া হয় নি,
আমরা ব্র্যাকেটে বিশ্বাসী,
বন্ধনীর মধ্যে ক'রে নিলে সাগরও অবয়ব হয়
আমরা অবয়ব ছাড়া পৌঁছুতে পারি না -
হে!!! অবয়ব, তুমি গজগামিনী।










“প্রেম” অতিব্যবহৃত একটা শব্দ

বিপন্নতা আর নিরাপদ নিরালায় একটা নিজস্ব বাড়ি থাকে, বুঝলি -
সেখানে পাহাড়, অরণ্য, নরম নদী ও নারী,
স্বস্তির ঝর্ণা ও সুখহাওয়া - আবার
দিনের দ্বিতীয় রাত্তির নামিয়ে আনতে পারে এমন বিধ্বংসী ঝড় -
.... আছে ইত্যাদি জাগতিক যাবতীয়।
ইচ্ছে হলে কখনও আসিস, বেড়িয়ে যাস।
.
এখন বর্ষা খুব কাছাকাছি,
ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তোকে দেখিয়ে দেব
সাদা পাপড়ির উপর টুকরো বর্ষাকে কীভাবে ধরে রাখে জুঁই।
এইটুকুই তোকে দিতে পারি -
কিছু না হোক তোর খোঁপায় খুব মানাবে।
উজ্জ্বল তারার মতো তোর খোঁপা হয়ে উঠবে তার আকাশ।
............. এক্স ................


সন্ধ্যার চা -
.
এই ভ্যালিটা কোথাও পাওয়া যায় না রে ...
হাজির হয়ে যায়।
ওমনি মেঘলা ...
ঝিরিঝিরি ...
আর বৃষ্টি উপত্যকার গন্ধ ...
.
কৃষ্ণপক্ষের প্রথম চাঁদ -
গ্রহণ ছেঁড়া জ্যোৎস্নাকে কে চিনিস বলতো?
.
একটুকরো চাঁদ দিস
এক ফোঁটা বৃষ্টি দিস প্লেটে।