খোঁজ

ফারহানা রহমান

খোঁজ

আজকাল অভিশাপগুলো মৃত্যুর মতোই মুখোরিত খুব
স্যানাটোরিয়াম দেখতে গিয়ে বুঝেছি আমিও আছি
ওদের সাথেই জোনাকির খুব কাছাকাছি
যদি দৃষ্টিপাতের বাহিরে দেখি
পাতার আড়ালে লুকানো কফিন
ভেবে নেবো এই সবকিছু শুধু ভাবনার মিথ
দৃশ্যত যখন শুশ্রূষার সাথে
মিশে থাকে বাঁকা চোখের ধিক্কার
সেখানে তারারা খসে হয় বেদনাবিধুর
দুহাতের মুঠোতে অজস্র আর্তনাদ ভরে
আবারও যদি ডাকো নক্ষত্রের নিবিড় সিথানে
জেনো আত্মহননের আগে খুঁজে নেবো আমি আমাকেই ।


নোটবুক

প্রতিদিন নিয়ম করেই লিখছি নোটবুক
ভাবনাগুলো তবু তন্ময় ঢেউয়ে বাঁধা
কাঁপায় শিল্পের মতো ঘোরগ্রস্ত প্রকৃতিকে
অফসেটে ভুলভাল অভিনয় টুকে রাখি
তবু কোনদিন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন শুনতে শুনতে যদি
মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যায়
বরফের কুচি এনে দেয় কোলাহল
আকাংখ্যার অতলে দাঁড়িয়ে জড়িয়ে ধরবো
ভীষণ নার্ভাস তোমাকেই
আর নিমগ্নতা প্রতি পায়ে পায়ে কাছে এসে
বেদনার জলে মিশে হয় নীল আর শাদা
অনুমতি দাও এবার আমায় মরীচিকা
অনাবৃত জীবনে বাজাই তৃষাতুর মদির সানাই
কবিতার গায়ে ঝরে পড়ি ফুল হয়ে...


বায়স্কোপ

এখনো ঘুড়িটা নাটাইয়ের সাথে বাঁধা আছে দ্যাখো
অথচ আমাকে ছেড়ে দিলে তুমি চৌরাস্তার মোড়ে

কী যে অনায়াস সমর্পণ ভাগ্যদেবীর উপরে
পালতুলে ধুলির ফানুশ ওড়ে পাতার সংসারে

কোথায় দাঁড়িয়ে আছো বলো, বন্ধি কার বায়স্কোপে
পিঙ্গল পাতায় বিজড়িত অমাবস্যা রাত শেষে

শিকারির উল্লাসে খুঁজেছো পুরাতন শিলালিপি
শিশিরভেজা আয়নায় আঁকো ক্লাসিক্যাল হলোগ্রাফি

তবু কেন মুখোশে লুকাও আজ পৌত্তলিক মুখ
যুদ্ধ করো নিজের সাথেই ক্রমাগত অপরাধবোধে ?