কোরকের হাসি

নৈরিৎ ইমু

নূর

সামাল দিচ্ছো দাও
হিমহিম এ বায়ু
মুখের ছবিটুকু
আরাম পাক
সন্ধ্যা নামছে ধেয়ে
আড়ষ্ট দু-চোখে
না ঘুমানোর শোক
অস্ত যাক
পাথর হবার প'রে
সহসা গর্জালে
মানুষ তাকে বলে
বজ্রপাত
তাসের ঘরের মতো
ভাঙতে গিয়ে আমি
পাল্টে নেবো গতি
পায়ের মাপ
দীর্ঘ দোলায় দোলে
বিস্ময়ে তাকালে
পূর্ব পরিচিতা
দৃশ্যচূর
ভ্রমের অধিক কালে
চির ধরা আঁধারে
অন্ধ মতো খুঁজে
জন্মনূর!


কোরকের হাসি

বীণাযন্ত্রটির দিকে তাকিয়ে কাটাও একটা জন্ম, দেখো দ্রব হবে সকল ইচ্ছে-অপারগ। মানুষের জংশনে তুমি যা পাও সব হুল্লোড়। সব বিবমিষা, নিদ্রা ভাঙার পর দেহ শরীয়ত। জলের ফেনার অধিক কিছু নও তুমি, তবু ভাবা যাক জলে জলে কতদূর কত সহিঞ্চু সময়ের পরিণাম ধৌত করেছে এইসব। লুব্ধ কুসুমের পাশে— খুনের আঙুল সঞ্চালিত করো, এই ভ্রম জাগিয়ে তোলে, নেশাশোক থেকে আবার তাকাও তুমি কুফরী চোখে, সেই উৎকণ্ঠার ভেতর অলক্ষ্যে পৌঁছে যাও হিমবিভা, আরশপুর। ঝরার শব্দের মাঝে রক্তপ্লাবনের দেশে তুমি শুধু ভাষায় বশীভূত বোবারোগ, জড়িয়ে ধরার অতিথি তোমাকে ছুঁড়ে রেখে যায়, ভেতরে সে প্রবেশ করে না, যদিও নিকটতর, যেভাবে ব্রীজ, নদীর কাছ থেকে পৃথক করে দিয়েছে সমস্ত যাত্রা। নির্জনতার কাছে দেখা পাবে শীতল শিখার। সেটাও জ্বলন্ত উড়ান, পরহেজগার। শতচ্ছিন্ন পাখা নিয়ে তুমি যাবে বা কোথাও! বিদ্ধ তোমাকে পদতলে রাখা নাচ, মৃত্যুর বিরুদ্ধ জিদ দিয়ে তুমি তাও সয়ে নেবে। মাথা তুলে নিতে চাইবার প্রাক্কালে তুমিও ভাববে কিছু রিফু, পিষ্ট হবার ভয় মুড়িয়ে দিয়েছে তোমার হাঁটু!

অপস্রিয়মাণ, তুমি কি অক্ষর হতে মুছে যাওয়া কোন নাম! তোমার লুণ্ঠন আজ সৌন্দর্য জাগাচ্ছে। শাখারা ব্জ্র শিখছে তরুময়তায়। যা বিকল, উত্তাল বায়ুর তালে যেনো শিখরে উস্কে যাচ্ছে। সমস্ত সমাচার তরিকা হয়েছে বাঁশির। তোমার পাথরটুকু আরও পাথর জমাটের সন্দেহ ছড়াক। তোমার চতুর্দিক ধোঁয়াশা বাঁধানো গয়নার সাজ। তুমি কি ভরে ওঠছো, রমণী নিমকহারামে? অতর্কিত চোরাটান খুলে গিয়ে তুমি কি ঘূর্ণাবর্ত ছুঁড়ে দেয়া ঢিল! নির্বোধ, তুমি শুধু উৎপাদিত সরলতা, অলিখিত ঠিকানার মতো মনে, পথে পথে ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই সুর। কোন তমশাগান ধরে কেউ আর আজন্ম কারো বাঁধনে ফুটাবে না কোরকের হাসি।



ফুলের বিস্ফোরণ

আমরা কিছু ফুলের বিস্ফোরণে
ছড়িয়ে যাওয়া পাপড়িগুলোর নিচে
বাতাস ধারণ করেছিলো সুবাস
এমন একটি হতভম্ব ক্ষণে
আমরা ডুবছি, ভাসছিও জলবিনে!
দালান-আকাশ আড়াআড়ি যেনো
থমকে গেছে চারিপাশের গতি
কোথাও একটা গাঞ্জা খাওয়া লোক
গেয়ে উঠে লালন অনুভূতি
আমি কেমন শিশুসুলভ তখন
তুমিও খুব আত্মসমর্পণে
অভূত সে বিস্ফোরণের ঝাঁকি
গুড়িয়ে দিলো শিলাপাথর মনে
ঝুপড়িগুলো হঠাৎ উদ্ভাসিত
স্টেশনে অপেক্ষমাণ বুড়ো
অভাবগ্রস্ত নিমোনিয়া রোগী
তাকিয়ে দেখে দৃষ্টি নিয়ে সরু
আমরা তখন বিস্ফোরণের আলোয়
বাঁধভাঙা এক টান জাগানো প্রাণে
আমরা দুজন আঁকড়ে ধরতে চাইছি
তবু পৃথক করছে ভগবানে।