শিরোনামহীন

উমাপদ কর

১৩

এসো, দিগন্তকে হাত ধরে নিয়ে যাই আরেকটু দূরে
চলো, সেই দূরত্বে গিয়ে কিছুটা সময় জিরোই
সমস্ত চাবি সেই কবেই তো ফেলে দিয়েছি, আফশোষ নয় হালকা

ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন না স্বপ্নের ঘোরে ঘুম নির্বাচিত হলো না আজও
আজও কেওনঝড়ের জঙ্গলে তোমাকে দেখলে একটুও অবাক হই না
নিরালায় বসে তুমি যে স্বপ্নটিকে আজও আলো বাতাস দাও স্বপ্নেরই ঘোরে

নিজেকে ওই নিরালায় বসিয়ে দেখেছি শুধুই হিজিবিজি রেখার কাটাকুটি
অনেকটা দৌড়ে এসেছিলাম হাঁপাচ্ছি এখনও, স্বপ্ন বাতুলতা মাত্র
আমি কি সব বলে ফেলে ভাবছি হালকা হয়ে যাব স্বপ্নের চেয়েও

মালতী ফুলের চারাটিকে জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে নিরালা বলতে সে কি বোঝে
প্রথম ফুল ফোটার সময় সে ঠিক কী করবে
আর আমার শরীরে যে ফুল অনেক আগেই ফুটেছে তার কী হবে ক’দিন পর

সলাজ চারাটি আমার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিল অনেকটা আবেগ নিয়ে
কিন্তু কেন যে আমি একটা কথাও শুনতে পেলাম না


১৪


একটা উল্টোমুখী রাতের কথা ভাবা যেতে পারে
প্রায় ভোরের আদুরেপনা থেকে সন্ধের আলসে
যেন রূপকথার দেশটিকে পর্দায় ভাসিয়ে তোলা নিমিত্ত ছাড়াই

কেন যে বেদনার কথাই আসে পরতে পরতে বাঁক ঘোরাতে
কেন যথেষ্ট রোদ্দুর থাকলেও বৃষ্টিকে অনুভব করি বেশি
কঠিনের চেয়ে আরও কঠিনকে কেন যে চাওয়া হয় না চলার পথে

এত সব কেন নিয়ে নিজেকে যতটুকু আলাদা মনে হয়
তারই ফাঁক গলে বিষণ্ন চাঁদটির ক্ষয়াটে আলো
একদল উড়ন্ত পাখির ডানায় সামান্যই প্রতিফলিত হয়

ওড়া আর ঘরে ফেরার মধ্যে এত ফারাক জানে শুধু মধ্যরাত
যেখানে ভোর আর সন্ধের জটা এক বিন্দুতে মেশে
আর শূন্যতায় ফেলে আমাকে নিয়ে কী করবে বুঝে পায় না

আমি দু-দিক থেকেই রাতকে কাটিয়ে দেখেছি
রূপকথারা ঠিক একই রকম থাকে যাদের আলাদা করা যায় না