ক্যাপ্টেন ও আমি

পার্থজিৎ চন্দ

ক্যাপ্টেন ও আমি – ১

ইঁদুরেরা বিদায় নিয়েছে। জাহাজে এখন আমি আর ক্যাপ্টেন
আমাদের টেবিলে দুলছে অবশিষ্ট মদ। তিনি
হাতঘড়ি খুললেন, খুলে রাখলেন কম্পাস। ডোবালেন মদের পাত্রে
দু-তিনটি বুদবুদ শেষে গোল-ডায়ালের মুখ দুলতে লাগল
কাঁটাগুলি খসে থিতিয়ে পড়েছে। তারপর আমি আর ক্যাপ্টেন
ঝুঁকে রইলাম সেই দৃশ্যের দিকে
সমান্তরাল দুই ঘড়ির কাঁটার মাঝখানে শুধু এক
ঘড়ির ডায়াল। ক্যাপ্টেন ঘাম মুছলেন; বললেন

আমি তোমার কেবিনে ... তোর কোলে মাথা রেখে একটু ঘুমাবো

জাহাজ ডোবার আগে তাকে আমি শান্ত কেবিনের দিকে নিয়ে যাই

ক্যাপ্টেন ও আমি - ২

অভিযান শেষ হয়েছিল জটিল ক্রিভাসে

তার তাঁবু উড়িয়ে দিয়েছে ঝড়। বায়ু কমতে কমতে
ফাটিয়ে দিয়েছে ফুসফুস। রুকস্যাক থেকে শুকনো খাবার
ছিঁড়ে নিয়ে গেছে পাহাড়ি নেকড়ে

বেসক্যাম্প থেকে আমরা শুনেছি সারারাত
তুষারঝড়ের লেজ ঝাপটানো

আর্লি-সামারে বরফ গলানো জল
তিরতির করে পাথরের গা বেয়ে গড়িয়ে নামছে

প্রিয় ক্যাপ্টেন, এই জলের মধ্যে কোথাও রয়েছে
তোমার পায়ের ছাপ


মীনজাতক

একদা মীনশরীর প্রাপ্ত হয়েছিলাম
মাঝে মাঝে ঘাই মেরে দেখতাম
বাতাস ডুবিয়ে রেখেছে কত বস্তুপুঞ্জ

আজ জল দেখলেই মনে পড়ে মাছবন্ধুদের মুখ
জল থেকে তোলা মাথা, দম বন্ধ হয়ে আসা ...

অনেক বেলুন নিয়ে বসে আছে শিশু

বেলুনে বেলুনে ঠাসা শুধু বায়ু

অনন্ত পিপাসা