আমাদের চৌকাঠে

রাজিয়া সুলতানা

রাতের সিন্ধু পার হয়ে এইখানে মৃত্যুলেখা শুয়ে আছে।
তার চারপাশে ঘুমিয়ে পড়েছে সহস্র প্রহরী-
কারা যেন আকাশ থেকে প্যাম্ফলেট ফেলছে –
সেগুলো উড়ে উড়ে এসে ঢেকে দিচ্ছে গ্লোবাল চিবুক সাবধানে।
অথচ কর্পোরেট বায়ুর নিশানায় আনন্দ ঝরে পড়ার কথা ছিল পশ্চিমে।
এখন চীনের ডিম আমদানীতে সেও অভ্যস্ত, পুষ্টিতে যেমনই হোক
অর্গ্যানিক অর্থনীতির হিসেব তো মিলছে।
হাওয়াকলে অজস্র স্বপ্নের চিরায়ত ধ্বনি বৈকল্যের পাঠ দিয়ে নিভে যাচ্ছে প্রান্তরে।
এইসব শব্দ বাতাসে এখনো ঠিক নড়ে, মেঘে মেঘে ভেসে বেড়ায়-
আমরা রাতে ঘুমোতে যাই, সকালে জাগি-
শ্রম-ঘুম বিশ্রামে ইটের ওপর মাথা রাখতেই স্বত্বাধিকার, মুনাফার হাটে সেইসব ধ্বনি ঠোঁটে
আবার জেগে উঠছে রাত্রি-
গাইছে-
যতক্ষণ না মজুরের লাশ নিশ্চিত আকাশ থেকে ছিটকে পড়ছে আমাদের চৌকাঠে।

ঈশ্বরের এপিটাফ।।
রাতের আঁধার গলে ঢুকে পড়েছে গতি ও স্থিতিজড়তা-
প্রান্তরে পেন্ডুলামের কৌণিক দূরত্বে ঝুলছে চরাচর।
অ্যাকুয়্যারিয়ামে বন্দী প্রায়ান্ধ শরীর-
অদৃশ্য গোলকে গোল্ডফিশ বিলাসিতা-মরণোত্তর!
মাধ্যাকর্ষণরহিত স্মৃতিশোক-
তীব্রটানে ছিঁড়ছে কী? সুতো?
বাতাসে অদৃশ্য ফলকে দুলছে ঈশ্বরের এপিটাফ-
কী লেখা তাতে? অমরত্ব?

আঙুল ছুঁয়েছে বেহালার ছড়-
মাঝরাতে।
জানালার কাচে ভেজা রূপসারি শ্লোক,
নক্ষত্রবিরহ-
দেহজ সম্বিৎভার, সঙ্গীত অনমনীয়।

ঈশ্বর প্রেমিক বটে-
বীক্ষণে বিচূর্ণ পাঁজরের মর্মর।

ঘুমের মধ্যে।।
আরও একটা পাতা হলুদ হলো সবুজের নিচে।
মাছেদের পিঠ থেকে পিছলে আসা নদী প্রতিসরণে গেল বেঁকে।

নীড়ে ফিরে গেছে শেষ পাখিটি।
এখন উত্তরে শীতের ঘুড়ি-
ইচ্ছের লাটাই হাতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি প্রান্তরের মাঠে-
মাঞ্জা নেই-ভোঁকাট্টা-পা ফেলছি খলসে মাছের ভেতর-
খালুইয়ের আঁশটে গন্ধে আবারও ঘুম পাচ্ছে …