হরিণটানা দুপুর

শুভ্র সরকার

হরিণটানা দুপুর

হরিণটানা দুপুর— মাছ থেকে আলগা হয়ে আসা শালতারগাঙ চিৎ হয়ে পড়ে থাকে পাখিদের স্তনের নীচে। কলঘরে ধুয়ে রাখা স্নান— উড়তে থাকা একটা কোঁচকানো পাঞ্জাবির পকেটে চুপচাপ দোল খায়। ছেঁড়া ফিতে স্যাণ্ডেল হাতে নিয়ে সমস্ত খুশবু শরীর সেলাইয়ে ঝুঁকে পড়লে— গাছেদের ছায়ারাও কোনএকদিকে খুব চলে যাবার সাধ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।

এদিকে, পাখিদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় পাঠ করা ছুটির আবেদনে ছড়িয়ে পড়ে তোমার অপার ধানখেত।

কয়েকটা ফড়িং রোদ

প্লাটফর্মে একা ট্রেন—যেন দাঁড়িয়ে থাকা আলপথ
তাকে ধরে ফিরে আসে তোমার বুকের হিরায়েথ,
ইঞ্জিন জুড়ে শব্দের ক্যালিগ্রাফি, জানে— ব্রীজের ছায়ার নিচে
নদীও জল দিয়ে বানানো কোন সাঁকো, যেমন তুমিও…

ছুঁয়ে দিলে, কী ভীষণ হয়ে ওঠো যোগাযোগ!
পরিত্যক্ত চটিজুতো থেকে যেন অবিচ্ছিন্ন তাকিয়ে থাকে
…পায়ের দাগ

চিরহরিৎ শেমিজের ভিতর অকসর কয়েকটা ফড়িঙ রোদ
পেরিয়ে যায় তোমার বয়ঃসন্ধির নাকফুল...

দোতারা মন

নকশি আলো
টিনের চাল
এযেন ছুঁয়ে
নদীর গাল
পাখির গানে
বনমাতাল
ইলশে ঘ্রাণে
পোয়াতি জাল

দোতারা মনে
জিওল ঢেউ
তোমার নাম
গাইছে কেউ
গাইছে মাঝি
ঘরের বউ
চোখের দাঁড়
টানছে কেউ