মৎস্যপুরাণ

অনিন্দিতা গুপ্ত রায়

এক
বহুভূজের কোনো বিন্দুতেই স্বচ্ছন্দ নয় যে মাছ’টি
সাঁতার দিয়ে সে শুধু পৌঁছতে চায় লবণ সীমানায়
বেড়ে ওঠে জলতল--পরিধির চারপাশে
চোখের তলায়, কাজলে ও ঘুমে
স্নানের আবহ থেকে শিখে নেয় তুলে নিতে শীত
ভিতর ঘরে বসে কেউ আলাদা করে কাঁটা ও শস্য
পাখনার নিচে বিপদ-সংকেত রঙ বদলায়
সে সমস্ত নস্যাৎ করে মাছ খুব সমুদ্রে ভাসে...
সে জানেই নি
সমস্ত লোনা গল্পের উৎস আসলে তার দুইচোখ
যা বহুদিন দৃষ্টিহীন, অপলক ও অপেক্ষার দিকে উন্মুখ ছিল!

দুই
পূর্ব সমুদ্র কথাটায় কেমন রোদে পোড়া হাওয়া
আর পুরনো সিন্দুকভর্ত্তি লোণা গেরস্থালী
অনেকটা দূর দিয়ে জাহাজের মত কিছু একটা ভাসে
হয়ত সে পোড়োবাড়ি, ডুবোঘর অথবা পাহাড়
মাছের খোলস থেকে খোলাচুল, শরীরী আতর—
ক্রমাগত ওড়ায় সাদা রুমাল
পুচ্ছপাখনা থেকে বালি ঝরে ঝরে এমন একটা দ্বীপ
যার কোনও দিকেই কোনও উপকূল দেখা যায় না
সেই না-দেখা পেরিয়ে সমস্তদিন শুধু জলের শব্দে
বন্দর পর্যন্ত গড়িয়ে যাচ্ছে নোনতা পৃথিবী!



তিন
তোমার দৃষ্টিহীনতায় আমি করুণারঙের মেঘ রাখিনি উদাসীন
শুধু নির্ধারিত দূরত্বের মধ্যে কয়েক’পা পিছনে সরেছি
নিভাঁজ জাল নিজেকে খোলার আগেই
অন্ধকার আর ভয় জড়িয়ে ধরে পরস্পর
মিঠেজল থেকে খরজল অবধি সমস্ত হিসেব নিয়ে
পাঠশালা বসেছে মাছেদের—ডাঙা আর কুমীরের দূরত্বে
পিঠের ওপর জড়ো হওয়া ফসফরাস গুঁড়ো
তাকেই আলো ভেবে পতঙ্গ উড়ে আসছে-- মৃত্যুতে, প্রেমে!