কোজাগর 

দেবাশিস মুখোপাধ্যায় 

কোজাগর 

বিশাল চাঁদের নীচে সে ছায়া 
দেবী বলে এবারে কোনো ভুল হয় নি
ভাঁড় ভেঙে গেলে ধরা পড়ে 
সবগুলো কয়েন ঐশ্বর্য রাই নয়
সে জেগে আছে 
কারো বাড়ি ফেরা হয় নি বলে 
নতুন শাড়িতে ঢাকার আগে 
খুঁটিয়ে দেখে নিচ্ছে 
কতটা গ্রহণ লেগেছে 
কবে শোনা একটা হাঙরের গল্প 
তার স্তনবৃন্ত কাঁপিয়ে দিয়ে যায় 
জানালার ওপারে উদাস অন্ধকার
 ভাবনার ভিতর 
আনতে পারছে না 
কি করে তার লক্ষ্মী লাভ হবে!


কৃষিকাজ

রামপ্রসাদী ভোরে ধ্যানের গভীরে পথ চলে আসে ধবল পদ্মের

পাপড়ি খোলার সেই বিশেষ ক্ষণ
আকাশের ডানা যেন চুপ

এ ডুব রূপসাগরে প্রত্যয় বলে
বিলের শরীর খুলে যায়

গমনের অভিলাষ নিঃশব্দে 
বয়ে যেতে দেয়

আবাদের মন্ত্র  ফসলের কানে


চিন্ময়ী


অন্ধকারে হাঁটি । আমি ও ঋভু । গাছের শব্দ শুনি । দূর থেকে দূর
সরে যায় তারার ছায়া । শান্ত জলে
মাছেদের স্বপ্নগুলো হাসে

খড়ের উপর মাটিদেবী । প্রতীক্ষার
রঙ পড়ে গেলে হেসে ওঠে চোখ ।
ঋভু মায়ের গন্ধ পায় । আঁধারেও
হাওয়া লাগে কাশে

আমার মাকে খুঁজি । চুল আঁচড়ে দিত কাজলের টিপ । নজর বাঁচিয়ে
কত দূরে সেই হারিয়ে যাওয়া রক্তমাংসের মা

গর্জন তেল পড়ে । ডাকের সাজে
প্রতিমা রাজরাজেশ্বরী । এসব দেখি
না । এখানে মা নেই । দেখি, শুধু লাল পাড় শাড়ি আর আলতা রাঙা পায়


অক্ষর লিপি 

জানালা উঁকি দিচ্ছে বৃষ্টি দেখতে আর সফেদ বলাকারা অখিলবন্ধু ছেড়ে কালো মেঘেদের সাথে সেরে নিচ্ছে রাখি বন্ধন

নরম মাটি পা ছাপ চাইলে জুতো  খুলে রাখছে কেউ আর ফর্সা ডিমের আলতা আভা আভাস জাগাচ্ছে চোখের দোষের

সেবক পাতাগুলি তার পা ধুইয়ে 
ঘরে তুললে দেবীকে অপলক দেখি ভিতরের সব লক খুলে পলগুলি এভাবেই চলে যায় তাই না !

নাবাল নয়নে ভেসে যাচ্ছে নাউ
কাগজের নৌটঙ্কি হাওয়া ছাড়াই