পরীসাধনা

অমর্ত্য মুখোপাধ্যায়

(১)
আসানসোল থেকে আদ্রা যাওয়ার পথে রেলের একটা ছোট্ট স্টেশন, নাম মুরাডি। অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে সেখান থেকে সাইকেলরিকশ বা ট্রেকারে খুব এবড়োখেবড়ো রাস্তা ধরে মাত্র ছয় কিলোমিটার, প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট ধরে যাওয়ার পর পৌঁছনো গেল বরন্তীতে। কলেজের কিছু অধ্যাপক বন্ধু আর তাদের স্ত্রীপুত্রকন্যারা। অতনু গেছে একা। ছেলের সেকেণ্ডারির টেস্ট বলে স্ত্রী যেতে পারেন নি। কিন্তু প্রাণে ধরে বরকে আটকাতে পারেননি। ফলে অতনু একাই। সঙ্গী জনা পাঁচেক বন্ধু আর তাদের ভ্রাতৃবধূপ্রতিম স্ত্রীরা, আর ভাইপো ভাইঝিরা।
কয়েকজন বাণিজ্যাভিলাষী ডাক্তার খান এখানে দুটি কম্পাউন্ডে খান ছয়েক কটেজ বানিয়ে রেখেছেন। নাম বরন্তী ওয়াইল্ড লাইফ অ্যাণ্ড নেচার স্টাডি হাট। এসিটেসি নেই। সব কটি কটেজই অতনুরা বুক করে’ দখলে রেখেছে। কটেজগুলোর মধ্যে একটা পুরো কাঁচের, পর্দা দিয়ে ঘেরা। কেবল ভিতরে বাথরুমের অনচ্ছ দেওয়াল সিলিং অবধি ওঠেনি। তবুও সেটা দেখেই অতনু দুস্টুমি করে ঘোষণা করলো — যারা যারা মধুচন্দ্রিমা করতে চাও এখানে বোলো, বাকি সময় ঘরটাতে আমি থাকি। আমি এখানে পরীসাধনা করবো, পরী নামাবো। ভ্রাতৃবধূপ্রতিম বন্ধুপত্নীরা প্রমাদ গণে এমুখো হলোনা আর তাদের স্বামীরা কাজে কাজেই দূরেই থাকলো। অতনু হোলো ঘরটির একেশ্বর।
একটা টিলা আর পাহাড়ের মাঝামাঝি হিলকের কোলে একটি অপূর্ব ছোটোমাপের লেকের ধারে বরন্তী ওয়াইল্ড লাইফ অ্যাণ্ড নেচার স্টাডি হাট। সেই অমিত্রসুলভ রাস্তাও এর সামনে এসে বন্ধুতার লাল মোরামের। পিছনে সাঁওতাল পল্লি। ওর ঘরটির সামনে ইউক্যালিপ্টাসের সারি, দেবদারু, বোধহয় ঝাঁকড়াতর নিম ছাড়াও কিছু বুনো ফুল, পুটুশ, স্থলপদ্ম, ইত্যাদি। কটেজের পাঁচিলের বাইরে তো প্রাচীন অরণ্যানী প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে! কয়েকটি তিথিতে এখনো প্রাক্ কোজাগরী রাতের চাঁদ দেরিতে উঠে, পুষিয়ে দিতে গাছের পাতা কেটে এক পাতাময় মায়াময় মনোময় ঘন বনজ্যোছনা তৈরি করে। যেন প্রেমিকা থাকলে চামচে করে আমুল ক্রিমের মতো খাইয়ে দেওয়া যেতো। মনে পড়িয়ে দেয় রমেন্দ্রকুমারের লাইন, ‘এক চামচে জ্যোৎস্না তুলে ধরে তার প্রেমিকার মুখে’।* প্রেমিকা দূর অস্ত্, স্ত্রী অব্দি বেপাত্তা। কল্পশরীরিণীরাই ভরসা!
কটেজের বাইরে ডানদিকের ঢালাও মাঠে পাহাড়ের গোঁত্তা খেয়ে সূর্য আগে থেকেই ঢলে যায়। চাঁদ ওঠে দেরিতে। সেখানে গপ্পের আসর বসে বিকেল পাঁচটা পঁয়ত্রিশের ঘন অন্ধকারে। দূরে কোথাও, ডালটনগঞ্জে নাকি ম্যাক্‌ক্লাস্কিগঞ্জে ফাউন্ড্রির চুল্লির আগুন মাঝে মাঝে আলেয়ার মত ঝলসে ওঠে। অতনু ভাইপো ভাইঝিদের স্বরচিত ভূতের গল্প শোনাতে শোনাতে বাড়িকে ফোনে ধরতে চেষ্টা করে। কিন্তু ভোডাফোনের টাওয়ার নেই। একমাত্র বন্ধুদের বিএসএনএল-এ দূঊঊরে ছেলের কচি গলা পাওয়া যায়। যতক্ষণ না পায় অতনু ভূতের গল্প চালায়। ভ্রাতৃবধূ আর ভাইপো ভাইঝিদের মধ্যে ফুল-বিশ্বাসী, হাপ-বিশ্বাসী আর প্রায়-অবিশ্বাসী তিন রকমেরই আছে। কিন্তু কেউই উঠতে পারে না, ম্যায় দশমবর্ষীয় এক যুক্তিবাদীও। ছেলে বৌয়ের সঙ্গে কথা শেষ না হলে অতনুর পেতনিদের, শাঁকচুন্নিদের, ভোলার, ভুলোর, মানুষপ্রতিম বৃষকাঠের দেশের গল্পও শেষ হয় না। হ্যাঁ, অতনুর গল্পে ভূতনিদের দাপট বেশি। শিবু আর কারিয়া পিরেতদের সেই ডেপ্‌থ কোথায় যা ভূতনিদের আছে! একজন বা দুজন যুক্তিবাদী সহকর্মী এই কুসংস্কারের প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য অনুযোগও করে। তবে কাকতাল! গল্পের শেষে।
রাত্রে সাঁওতাল পল্লি ঘুরে দেশি মোরগের ঝোলের সঙ্গে রামরহিম সব মিশিয়ে খেয়ে গ্লাস হাউসের সামনে অতনু বসে পরী নামাতে। সঙ্গীরা ধীরে ধীরে ভেগে পড়ে সঙ্গিনীদের সঙ্গে। সবাই কি রাতচরা? পাতাচেরা জ্যোৎস্নার মধ্যে অতনুর অদ্ভুতুড়ে চেহারাটাও মিলিয়ে যেতে থাকে। ঘুম নামে সারা শরীর বেয়ে, তবু ‘ঘুমে চোখ চায় না জড়াতে’। কটেজের বারান্দায় বসে ঢুলতে ঢুলতে অতনুর মাঝে মাঝে গাছেদের ফাঁকে মধ্যে জোড় দেয়া সূক্ষ্ম মাকড়শার জালে পড়া গাছেকাটা জ্যোৎস্নার রঙ দেখে মনে হয় পরীই নামলো বুঝি! আবার! এক অদ্ভুত অপেক্ষার মধ্যে ঘন্টাভর আটকা পড়ে’ অতনু নিজেকে ছিঁড়ে নিয়ে ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ে। রাত্রি কাটে স্বপ্নের আনন্দে।
সক্কালে সবার আগে আসে দশম বর্ষীয় যুক্তিবাদী। ছদ্ম উদাসীনতা ও শ্লেষের সঙ্গে শুধোতে — কি জ্যেঠু, কাল কটা পরী নামালে? অতনু উদাসভাবে বলে — তিনটে!
— তা দেখতে কেমন?
অতনু বলে — দেখার অবস্থা কি ছিল? ‘প্রাক্ প্রচ্ছদ নটী যেন। সঙ্গে সঙ্গে ঘোচে ব্যবধান/ দৃশ্য ও দ্রষ্টার মধ্যে, ভুলে যাই/ উত্তরচল্লিশ আমি; উদ্‌গ্রীব হ’য়েও যদি চাই,/ তবু গলকম্বলের থর/ মুকুরের অধিকাংশ জোড়ে; ...’**
— সকালেও ঠিক হওনি? কিসব বলছো?
— সুধীন দত্ত।
— তার মানে? পরী কেমন দেখলে?
অতনু বলে — প্রথম দুটিকে বুঝতেই পারিনি! ওই বইয়ের কভারে যেমন থাকে তার দশ লক্ষ গুণ জোরালো, চোখ ধাঁধানো! শরীরের ভিতরেও ‘জ্যোৎস্না ফিনিক দিচ্ছে’!*** তবে তিন নম্বরকে কোনো রকমে চোখে সওয়ানো, দেখা গেলো! তিনিই একটু নিরেস কিনা, তাঁদের মধ্যে!
— তিনিই কেমন শুনি!
অতনু বলে — শাড়িটা যেমন উড়ন্ত ফড়িঙের দ্রুত ঘোরা অলাতচক্রের মতো পাখনা হয়, তার থেকেও একশো পঞ্চাশ গুণ ফিনফিনে! গোলাপী পেঁয়াজ রঙের। খানিকটা ওই মুঘল আমলের ‘ভোরের শিশির’ ব্র্যাণ্ডের ঢাকাই মসলিনের মতো।
— সেটা আবার কবে দেখলে?
— দেখিনি তো! শুনেছি!
— তা, যিনি পরেছেন তিনি কেমন?
— কী আর বলি! কী করেই বা বলি! সে ভাষা কি আমার আছে! দশটা রবীন্দ্রনাথ আর পঁচিশটা জীবনানন্দ পঁচাশি বছর চেষ্টা করলে হয়তো পারতো!
— তা তোমার ভাষায় বল শুনি!
— কী আর বলি! তোদের বলিউড হলিউড টলিউড টেলিউডের সুন্দরী ডাকসাইটেনিরা তার বাড়িতে বাসন মাজার চান্স পেতো না!
— কী বললো?
— কিছু না! ‘কিঞ্চিত হৃদয় ঋণ’ নিয়ে গেল ‘অপাঙ্গ চাহনি বিনিময়ে’!****
— হ্যা! তাচ্ছিল্যের কিতব ছড়িয়ে দশম বর্ষীয় যুক্তিবাদী চলে যায়। তারপর পুরো তেরাত্রি পরী নামিয়ে, দূরের সাঁওতাল বাজারে কেনা পেশল লড়াইয়ের মোরগের মাংস, খেয়ে নাকি অন্য কোন কারণে, বরন্তী থেকে ফেরার পর অতনুও মৃতপ্রায় থাকে কিছুকাল। তার পর তার কলেজ পাল্টে যায়। দশম বর্ষীয় যুক্তিবাদীর বাবাকাদাদের একটি কথা বলে আসাই হয় না! পরীসাধনার আসল কথাটা। শিশুদের বলাও যেতো না!
ভেবেছিল বটে, কিন্তু বাচ্চারা দূরে থাক বরন্তীর বন্ধুদের সামনে হাল্কাচ্ছলে পরী নামানোর গল্পের ভিতরের কথাটা অতনু ওদের কতটুকু বলবে ঠিক করতে পারে না। আজকালকার যুক্তিবাদীরা ‘রিজন’ আর ‘প্রেজুডিস’-এর সম্পর্ক বিষয়ে বার্কের অসাধারণ চিন্তার কথা জানে না। সুইডেনবর্গবাদের উপর দাঁড়িয়েও ভূত দর্শন বিষয়ে কাণ্ট আর শোপেনহাওয়ারের মত পার্থক্যের কথা জানে না। তবু ভাবে নিজের জন্যেই ব্যাপারটা লিখে ফেলা যাক।
(২)
ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল ১৯৫৯-৬০ সাল হবে। অতনুর বয়স তখন নয় দশ। ছোট রেলের খুশিরহাট স্টেশনের অফিসঘরে তার জন্যে করা বাবার আলাদা শিক্ষাপ্রকল্পে বিকেল চারটেয় গীতার বিশ্বরূপ অধ্যায়ে অতনু অর্জুনের শেষ আত্মসমর্পণের আর কৃষ্ণবন্দনার শ্লোক কটি মুখস্থ করছে। চটকা ভাঙল ভারি কিন্তু সুরেলা দাঠাউর ডাকে। আর বাবার গমগমে গলায় — নুরু! তোর একি চেহারা! পু্ঁয়ে পেয়েছে নাকি তোকে!
অতনুদের সেই রহস্যময় ছোটোবেলায় কোনো মানুষ, বিশেষ করে বাচ্চা, হঠাৎ রোগা হয়ে গেলে লোক বলতো তাকে পু্ঁয়ে পেয়েছে। পু্ঁয়ে সাপ বলে দুটো শুঁড়ওয়ালা কেঁচো ধরণের একটা জীবও ছিল। তার সঙ্গে পু্ঁয়ে পাওয়ার কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা তা অতনুরা জানতো না। কিন্তু পু্ঁয়ে সাপের গায়ে হাত দিতো না কেউ! আর নুরু মানে নুরুদ্দিন। অতীতের দুর্ধর্ষ ডাকাত আর খুনে বন্দুকবাজ। চিলশকুনকে হারিয়ে দেওয়া টিপ! অতনু শুনেছে ‘সেবার’ যখন তাদের দেশে, সিংটিতে তাদের বিশাল বড়পুকুরে দামোদরের জল উপচে এসে ঘড়িয়ালে ভর্তি করে দিয়েছিল, আর তাদের লেজের আছড়ানিতে মাঠাকুমার বাসন পুকুরে তলিয়ে যাচ্ছিল, আর ওঁদের স্নান করা আর জলসরা গুলিয়ে যাচ্ছিল, তখন নুরুদ্দিন তার দোনলা গাদা বন্দুক নিয়ে গোটা পনেরো ঘড়িয়ালকে একাই নিকেশ করেছিল। জ্যাঠতুতো পিসিমার কাছে শুনেছে। ‘সেবার’ মানে তার জন্মের অনেক আগে। কোন্‌বার তা সে জানে না। তবে সবাই গল্পটা বলার সময় ‘সেবার’-ই বলে। যেমন বলে ‘সেবার’ ডাকাতি ক’রে রণপায় এক রাতে নুরু আঠাশ ক্রোশ চলে এসে বাড়িতে ঘুমোচ্ছিল। পরদিন সকালে পুলিশ এসে বোকা বনে যায়। অতনু কেবল শোনেনি, এমনকি নুরুদ্দিনের পড়ন্ত সময়ে দেখেওছে যে তার তেলচুকচুকে পেটানো শরীরে আলো ঠিকরে পড়তে। জ্যাঠতুতো বালবিধবা পিসি কেমন অন্য চোখে, যেন ভিতরের দিকে তাকিয়ে, বলতেন তার শরীরে মাছি পিছলে পড়ে।
সেই নুরুদ্দিন ওরফে নুরু এখন ফ্যাকাশে, হাড়জিরজিরে, কংকালসার। বাবার অকপট বিস্ময় বেরিয়ে এলো যে কথাটিতে— ‘নাকি পরীসাধনা ধরেছিস’, তাতেই বিশ্বরূপদর্শন থেকে মন চটকে একেবারে পাকা কলা হয়ে গেল অতনুর। পরীসাধনা আবার কি? তাতে কি পরীদর্শন হয়? সত্যি! পরী আছে? হয়?
অতনুর বাবা সাত্ত্বিক পুরুষ। আর হবেন নাই কেন? তাঁর বাপের গুটি সাতেক ছেলে মেয়ে হলেও হিমালয়বাসী যোগী। গ্রামের লোক বলতো যোগাসনে বসে ধ্যান শুরু করার পর তাঁর আসন আর মাটি ছুঁতো না। ঠাকুরমার এক সন্নিসি কাকা সদানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিদ্বারে, লছমন ঝুলায় আশ্রমও ছিল। ঠাকুরমার দুয়েকটি ছেলে মরে’ যাওয়ায় সেই কাকা সংসারত্যাগ করার বারো বছর পর পূর্বাশ্রমে ফিরে এলে, ঠাকুরমা নিজের এক ছেলেকে তাঁকে দিয়েও দেন বাঁচিয়ে রাখতে। অতনুর সেই কাকা গায়ে কম্বল, মাথায় জটাজুট হাতে কমণ্ডলু নিয়ে অচেনা লোক এলে সংস্কৃতয় তাকে শুধোতেন ‘কস্ত্বম্’। বাবা যৌবনে হরিদ্বারে কুম্ভমেলায় গেলে, গঙ্গার স্নানঘাটে লক্ষ লোকের মধ্যে ছোট ভোলা গিরি মহারাজ তাঁর স্বনামে তাঁকে ডেকে নিয়ে গিয়ে দীক্ষা দিয়ে দেন। বাবারও কিছু বিভূতি ছিল। কতবার অতনু আর তার ছোট ভাইকে— হ্যাঁ তাদের দুজনকেই কেবল— পুরক-কুম্ভক-রেচকের কৌশলে না সাঁতরে জলে সটান ভেসে থাকা দেখিয়েছেন, ওই লোহিত সাগরের বা ডেড সীর ছবির মতো। সারা জীবন রাশন্যাল শৈব হিসেবে অতনুর বাবার সব রকমের তন্ত্রসাধনা, ডাকিনী-পিশাচ-জিন-আফ্রি দির চর্চায় অবজ্ঞা ও ঘৃণা সত্ত্বেও তাঁর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লোকের কাছে মন্তব্য থেকে অতনু এইটুকু জেনেছিল যে এইসব অঞ্চলে পরীসাধনা ক’রে কিছু লোক রাত্তিরে পরী নামায় আর তার ফলেই বিপদে পড়ে।
যেমন পড়েছে নুরু। যদিও নুরুর বিপদটা কী তা অতনু জানে না। কেউ তাকে বুঝিয়ে বলেনি আর বলবেও না। তাই জানার আশাও নেই। কেবল আলগা কিছু কথা শুনে ফেলেছে। যেমন পরীসাধনা করতে করতে লোকের নেশা লেগে যায়। তারা এর পর দিনের বেলায় কাজ করতে পারে না। পৃথিবীর কোনো কিছুই ভালোই লাগে না তাদের। আর ক্রমাগতঃ পরীদের সঙ্গে থাকতে থাকতে তাদের শরীর দুর্বল হয়ে যায়। সব্বার নয়। যাদের সংযম নেই। সংযম কথাটার মানে জানে অতনু। সে ভালো ছাত্র। মাস্টারমশাই বাংলা ক্লাসে কাপড়ের অভাবের মানে জিজ্ঞেস করায় এক লহমায় বলেছিল বস্ত্রের অনটন। কিন্তু সংযম কী, আর কী করলে সেটা থাকে, আর কী করলে যায় তা সে জানে না।
খুশিরহাট জায়গাটা মজার। জনসংখ্যানের বিচারে মুসলমানদের চরম সংখ্যাধিক্য না থাকলেও সংখ্যা অনেক। হিন্দুমুসলমানরা বেশ ভাবসাবের সঙ্গে থাকেও পাশাপাশি। আর একেবারে গরিব গুর্বোদের মধ্যে একের বিশ্বাস অন্যের উপর বেশ প্রভাবও ফেলে। পীর রসুল আলি-র নামে একটা মেলা ‘রসুলালির যাত’ নামে একটা স্কুলের পাশের মাঠে হয়, আর এক মাস থাকে। হিন্দুমুসলমান সব্বাই হিন্দু বা মুসলমান না হয়েই অংশ নেয়। আর তাদেরি কেউ কেউ সংস্কৃত, বাংলা, ফার্সিতে হিন্দুমুসলমানের মেলানো, অ-ব্যাকরণসিদ্ধ মন্ত্রে বিভিন্ন শক্তির ‘সাধনা’ করে।
কোয়ার্টার থেকে বাঁদিকে একক্রোশ হেঁটে শ্যামবাটিতে ইস্কুলে যায় অতনু। ডানদিকে সমান দূরত্বে তার মামার বাড়ি রসা-র দিকে। ডানদিকে হিন্দুরা বেশি, আর বাঁদিকে মুসলমান, যদিও ইস্কুল যেতে হয় শ্মশান পার হয়ে। গাছ আর টলটলে জলে এই মোহময় শ্মশানের পুকুরঘাটে কতবার ইস্কুল থেকে আসার পথে শেষ বিকেলে বিশ্রাম নিয়েছে অতনু। তার ভূতের ভয় প্রায় নেই (এখনও)। কতবার বসার সময় ভেবেছে কেউ এসে তার গলায় তীক্ষ্ণ সরু দাঁত বিঁধিয়েছে। আর কী একটা ঘোরের মধ্যে ‘তার’ সঙ্গ নিয়েছে অতনু। মনে হয়েছে এ তার কত কালের চেনা। আর ওদের নিজের হয়ে গিয়ে একটা আলোআঁধারির জগতে ঘুরছে, যেখানে রোদ কখনও ঢোকেনা। একটা শ্যাওলা রঙের ভ্যাপসা, মরা, মিষ্টি গন্ধ চারদিকে, হাসপাতালের মরা কাটা ঘরের থেকে আসা দূর সুবাসের মতো। সেই গন্ধে চমক ভেঙে দারুণ অসোয়াস্তিতে পড়ে দ্রুত হেঁটে বাড়ির দিকে চলে এসেছে তার পর।
সহপাঠী আর সহপাঠিনীরা তাকে, ভাইকে, খুড়তুতো দিদিকে, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইশটিশান মাস্টারের ছেলে শশবিন্দুকে, আর মালাকারদের বাড়ির সীতা, আর চম্পাকে বাদ দিলে প্রায় সবাই মুসলমান, আর গড়ে তিন চার বছরের বড় সবাই। গ্রামের গরীব ঘরের ছেলেমেয়েরা একটু বড় বয়সে পড়ে। তাদের মধ্যে রোশেনারা যার আবার ডাক নাম মুন্নি, কাদের, বরকতুল্লা, মসূর আলি, মনিরুল, আর মহম্মদ মুসা তার পরম বন্ধু। জায়গাটা এক্কেবারে অন্যরকম ইস্টিশন পাড়া থেকে। একটু ভিতর দিকে গেলেই মুসলমান পাড়ায় পীর, গুণিনদের দেখা মেলে। তাদের মধ্যে একজন এসেমের ছেলের হারানো আশ্চর্য ফাউণ্টেন পেন বাটিপড়া ক’রে প্রায় খুঁজে দিয়েছিল। মানে বলতে পেরেছিল যে ওটা কেলাসের কেউই নিয়েছে। শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিল অতনু। কী করে পারে?
সেই গণৎকার, রেজাউল করিমকেই জিজ্ঞেস করবে ভাবে অতনু। কিন্তু রোশেনারা শুনে বলে — ‘বোকার হদ্দ! পরীসাধনার কথা তো সবাই জানে! গুণিনের কাছে গে কি হবে? তুই জানতে চাস কী করে নামায়? তবে চল একদিন দেখাই। রোশেনারার গায়ের রঙ মাজা হলেও লম্বা গড়ন, পানের মত মুখ, আর ফুর্তিবাজ মিশকালো চোখ। একটু বড় বলেই হোক বা মেয়েমানুষের কলাগাছের বাড়ের জন্যেই হোক, অতনুর চেয়ে বেশ একটু লম্বা। সব মিলিয়ে খুব মিস্টি লাগে। পুজোর আগে একদিন বেশ একটু আগেই ইস্কুল ছুটি হয়ে গেল। রোশেনারা বলল আজ যাবি? অতনু তো একপায়ে খাড়া!
— কোথায় যাবো রে?
— তাতে তোর দরকার কি? যাবি তো চল, নইলে ছেড়ে দে!
— আরে! আমি যাবোনা বলেছি? খামোখা রাগ দেখায়!
অতনু আর দ্বিরুক্তি না ক’রে রোশেনারার পিছু নেয়। ইস্কুলের পিছন দিয়ে শ্যমবাটীর মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে জঙ্গল আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। আজ কেউ ভাবতেও পারবে না পশ্চিমবঙ্গে এক সময়ে গ্রামের শেষে বন না হলেও জঙ্গল কির’ম থাকতে পারতো! সজারু, ভাম, খটাশ, বনবেড়াল, এমনকি ছোট গুলবাঘা, বাঘরোল অহরহ দেখা যেতো। এখন গাব, মাদার, মাকাল, কুঁচ, বেঙুচ, শেকুল, আঁশফল, গাবভেরেণ্ডা, বুনো আম, বনজাম, কাঁঠাল, বিচুটি পাতা আর কাঁটাগাছের মধ্যে দিয়ে সাবধানে পথ করে যাচ্ছে ওরা। বেশ খানিকটা যাওয়ার পরে একটা পুরোন, প্রায় পোড়ো বাড়ির সামনে দাঁড়ায় দুজনে। রোশেনারা আগে। দুজনেই একটু ক্লান্ত, হাঁপাচ্ছে, তবে রোশেনারা বেশি। ওর মুখও যেন একটু লাল। বাড়িটা পরিত্যক্ত, একটু জঙ্গুলে। কিন্তু মনে হয় মানুষের যাতায়াত আছে। যে পরিমাণ ধুলোবালি থাকার কথা ততটা নেই। এখানে কী হয়? অতনু শুধোয়। এই বাড়িতেই তো পরী নামে! বলে রোশেনারা।
— কখন নামে?
— শুক্লপক্ষে, জুম্মাবারে, শুক্কুরবার রাতে।
— তবে এখন নিয়ে এলি কেন?
— তুই তো আমায় নে এলি! আমি কই? খিলখিল হাসে রোশেনারা। কিন্তু হাসির আওয়াজটা ওই, ... কিরকম যেন।
— আমি তোকে নিয়ে এলাম? আমি তো এদিকের কিছু চিনিই না! অতনুর গলায় ক্ষোভ।
— ন্যাকা! ইস্টিশন মাস্টারের বাড়ির বাবু! শহুরে ভাষায় কতা বলেন। রেল লাইনের বাইরে গেরামের রাস্তা চেনেন না! কাপড়ের অভাবের বাংলা বলেন বস্ত্রের অনটন! আর আমাকে টান মারেন!
— আমি টান মারি! অতনু এবার রেগেছে। আমি কবে কাকে টানলুম? আমি তোর গায়ে হাত দিয়েছি, খেলার সময় ছাড়া?
— ও তুই বুঝবিনি, বোকারাম! তুই পরী দেখবি কিনা বল!
— তাই জন্যেই তো এলুম! কিন্তু আজ তো সোমবার! আর নামে তো সেই শুক্কুরবার রাতে!
— অন্য বারেও আর দুপুরে বিকেলেও নামে। বলে রোশেনারা। দেখতে চাস!
— হ্যাঁ।
— তবে চোক বোজ!
— চোখ বুঝলে দেখবো কী করে?
— চোক খুলতে বললে খুলবি! আগে তাকাবিনি, ঠিক তো! চোক খুললে বিপদ হবে! আমিও খুলবো না। ঠিক?
— আচ্ছা, তাকাবো না।
কতক্ষণ হোলো? মিনিট দশেক? না আরো বেশি? চোখ বুজে থাকে অতনু। সেই কখন এসব হুঁশিয়ারি দিয়ে বাড়িটার ভিতরে কোথাও চলে গেছে রোশেনারা। এরকম জঙ্গুলে বাড়িতে একা চোখ বুজে থাকতে একটু ভয়ই করছে। একটা পাঁইজোরের আওয়াজ কানে আসে। শব্দটা তার দিকেই এগোচ্ছে! হঠাৎ ভয়ে আঁতকে ওঠে অতনুর মন! এখনও চোখ বুজে থাকবে? নাকি খুলবে সে? কিন্তু তাকিয়েই বা কী হবে? যদি ওই শ্মশানের পুকুরঘাটে যাদের কথা ভেবেছে তাদের মতো কাউকে দেখে? তাহলে কী হবে?

দম আটকে বসে থাকে অতনু। তার পর টের পায় কে যেন তার গা ঘেঁষে বসলো। তার গাটা যেমন নরম তেমনি উদোম। জামাকাপড় পরে না পরীরা? আর তাদের ইস্কুলের একমাত্র খেলার জিনিশ টেনিস বলের চেয়ে একটা নরম বল তার গায়ে চেপে যাচ্ছে, আর নাকে আসছে কারো গরম নিঃশ্বাস। অতনু সিঁটকে ওঠে যখন টের পায় একটা খুব নরম, গরম আর অচেনা হাত তার মাথায়, গালে বুকে, পিঠে, ঘুরতে ঘুরতে তলপেটের নিচে নেমে যাচ্ছে! আর বড় এলাচ আর পেঁয়াজের গন্ধ মাখা ঠোঁটের মত কিছু দুটো তার ঠোঁটে চেপে বসেছে। এটাই কি তবে পরী? কিন্তু পরী তার হাতটা টেনে নিয়ে নিজের তলপেটে ঘোরাচ্ছে কেন? তার ঠোঁটেই বা বড় এলাচ আর পেঁয়াজের গন্ধ কেন? এত কাজ কেউ একসঙ্গে করতে পারছে কী করে? তবে কি এটা সত্যিই পরী। কিন্তু ওর গায়ে কিছু নেই কেন? পরীর গায়ে থাকে তো ফিনফিনে মসলিনের মত শাড়ি! তাকানো বারণ। তাবলে লুকোচুরি খেলার সময়ে খেলুড়িনিদের হঠাৎ অবাধ্য হাতের খেলার মতো কিছু চলছে আর ও তাকাবে না!
মরীয়া হয়ে চোখ খুলে ফেলে অতনু, আর অবাক হয়ে দেখে সামনে বসে, ... আর কেউ নয় রোশেনারা। মুখ ঘেমে দেখাচ্ছে যেন গর্জন তেলে ধোয়া। লম্বা গলায় ঝোলা লাল সুতোর তাবিজটাও নেই, আর তাই দেখা যাচ্ছে তিনটে আড়াআড়ি ভাঁজ। এর পরেই বগলে তামাটে কচি চুল। হিলহিলে তামাটে গায়ে কিচ্ছুটি নেই, ফ্রক, প্যাণ্ট। বুকে দুটো গোল বোম্বাই টোপার উপরে পড়ে থাকা কাঁচা কিসমিসের রঙের বোঁটা। কোমরের নিচ থেকে জ্বলছে ঘাসে ঢাকা বনে জ্বলা আগুনের মতো কিছু। চোখ রাখা যায় না! আর তার মুখের দিকেও তাকাতে ভয় করে! লাল। যেন ধুম জ্বর হয়েছে। ফ্যাঁসফেঁসে গলায় সে বলছে
— বাবুর পরী নামানোর শখ! চারধারে পরী দেখতে পাস না! নে, কী দেখতে চাস বল। আমিই পরী!
— তুই আমায় ঠকালি মুন্নি! ককিয়ে ওঠে অতনু, আর ভোঁ দৌড় দেয় বাড়ির দিকে। আর কক্ষনো সে রোশেনারার সঙ্গে মিশবে না। অসভ্য একটা মেয়ে রোশেনারা। অতনুর আসল ভয় এর পর সে তার মহাদেবের মত বাবার সামনে দাঁড়াবে কি করে? বাবা যে একবার তাকালেই অতনুর ভেতর বার সব দেখতে পান!
কিন্তু পরের দিন ভোরে উঠে পয়েন্টসম্যানদের ফাঁকা কোয়ার্টারে রাখা নিজের পোষা ছাগলকে এনে চুণিভুষি খাইয়ে বাড়ি ফেরার সময় অতনু অবাক হয়ে দেখে রোশেনারার উপর তার সব রাগ উবে গেছে। আর মনে হচ্ছে রোশেনারার কী দোষ? তাকে পরী দেখাবার জন্যেই নিজের লজ্জা রাখলো না! আর ইস্কুলে গিয়ে যখন সকলে প্রেয়ারে ‘শুভ কর্মপথে ধর নির্ভয় গান’ করছে তখন অতনু অবাক হয়ে লক্ষ করে রোশেনারার চোখ দুটো ভেজা। আর এর পর শুধনো যায়, রোশেনারা সত্যিই পরী নয় কিনা?
(৩)
খুশিরহাট থেকে চলে আসার পর অতনু আস্তে আস্তে অনেক বইয়ের মধ্যে মুখ গুঁজে থেকেই, গোটা বয়ঃসন্ধি জুড়ে পুঁয়ে পেয়ে, তাকে কাটিয়ে উঠে, নিজের কতকটা অজান্তেই বড় হয়ে গেছে। যেমন হয় দুবলা-পাতলা, ফটরফটর কথাবলা, দ্রুতচলা, কবিতায় মজা, বাঙালি ছেলে, যাকে দেখে’ স্বভাবতঃ কথা আটকে যাওয়া কবি করুণাময় বসু বলেছিলেন ‘ক্কৈশোরক ল্লাবণ্য’। কলেজে গিয়ে, প্রথম দিনেই ১৫এ ক্লাসরুমে ছোট ছোট লাল বুটির মেরুন শাড়িতে সাজা একটি সুন্দরী মেয়ের দেখা পেয়ে ধক করে ভেবেছে এ পরী নয় তো? এক পাঁজা ইঁটের মত প্রেমে ভেঙে পড়েছে অতনু। কবিতা শরণ করে’ সুন্দরী মক্ষীরানীর সুটরদের ভাগিয়েছে টেলিমেকাস যেমন মার প্রেমিকদের ভাগিয়েছিলেন, সেই ঢঙে। মুন্নির কাছ থেকে পাওয়ার পর দ্বিতীয়বার মক্ষীরানীর কাছ থেকে পেয়েছে, পেঁয়াজ ছাড়া জাঞ্জিবারের এলাচ, দারুচিনি মাখা প্রথম বোধিত চুম্বন, যাতে নড়ে বসেছে মক্ষীরানীর বাড়ির একেবারে আলাদা ঠাকুরঘরের ঈর্ষায় নীল গোপাল। প্রেমিকার সঙ্গে বাংলা কবিতার ছন্দপ্রকরণের পাখায় ভর করে’ উড়ে গিয়েছে উত্তর কলকাতা থেকে পায়ে হেঁটে ফোর্ট উইলিয়ামের পরিখার ধারের সেই হারিয়ে যাওয়া রামচরিত মানস পাঠ আর কুস্তির আখড়ার মাঝে কিশোর পেয়ারা গাছের নিচে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে অদ্ভুতুড়ে শাদা জ্যোৎস্নায় ধোওয়া গড়ের মাঠ পেরিয়ে কতবার পৌঁছেছে মেমোরিয়ালের কালো পরীর দিকের পথ কল্পনা করে’, পার্ক স্ট্রিটের গান্ধী মূর্তির নিচে পর্যন্ত, হাতে গোয়া পাউডারের গন্ধ, আর শুক্রনালীর কঠিন প্রদাহ নিয়ে। ভরসা তলপেটে মগ ভরতি জল আর হেট্রাজান এম। এর থেকে শেষে অতনু বুঝলো যে শরীরী প্রেমে ওর কুলোবে না। একদিন হঠাৎ প্রণবেন্দু দাশগুপ্তর কবিতা হাতে পড়লো ওর, একটা ছেঁড়া কবিতার বইয়ে, তাতে ছিল এই লাইন কটি —
প্রথম ফুল চয়ন, পরে পুষ্পধনু, ছিটকে আসা তীক্ষ্ণ মৌমাছি,
পরে আবার পায়ের তাল সামলে রেখে মালা গাঁথা —
মোহিনী অট্টম।

এটা পড়েই অতনু বোঝে এই তো রোশেনারার দান! বোঝে যে পরী ছাড়া ওর চলবেই না, তবে সে রোশেনারা নয়! তাকে পেতে চাই রেজাউল করিমকে। বসিরহাট সেকশনের ছোট রেলের মেন স্টেশনের জীবনের শেষ দিকের এক যাত্রায়, স্টেশনে গিয়ে চড়ে বসে। ট্রেন চলছে আজকের রাজারহাট দিয়ে। একদিকের দিগন্ত ঢেকে আছে রোশেনারা, অন্যদিকে মক্ষীরানী। অতনুর মনে আসে প্রণবেন্দু দাশগুপ্তর হয়তো কিছু ভুলে যাওয়া, কিছু মনে থাকা লাইন, স্ক্যানশনও মনে নেই, যতিও—

দেখা হলো কিন্তু যেন জলের ভিতরে
দেখা হলো তুমি স্থির ভাসলে অকূলে
আমি স্পর্শপ্রিয় তাই আস্তে ধরে ধরে
বুঝতে চাইলাম প্রেম ওষ্ঠে স্তনে ব্যগ্র বাহুমূলে
কিন্তু কিছুই কি বোঝা গেল তোমাকে এভাবে
আলাদা করে’ বোঝা যায়? শুধু চলো চলো শব্দ হলো
বিদ্যুৎবাহিনী জল ছড়ালো স্বভাবে
শুধু বেদনার ফুল লক্ষ ঝরে গেল।

ও মক্ষীরানী, ও রোশেনারা, ও পরী!

[পরের কিস্তি, আসল পরী নামানো, ঐহিকের পরের উৎসব সংখ্যায় সমাপ্য, তমাল জায়গা দিলে। কিন্তু না দিলেও এটা সম্পূর্ণ গল্প! পড়ে দেখুন।]

{এই কাহিনী সম্পূর্ণ স্বকপোলকল্পিত। সব চরিত্র কাল্পনিক, বিশেষ করে’ রোশেনারা বা মুন্নি, আর মক্ষীরানী। পরীরা তো বটেই! তবু যদি কাহিনীতে কেউ কারুর ছায়া দেখতে পান, তবে জানবেন পরীর কারসাজি। পরী আমাদের দাম্পত্য, সমাজ, নষ্ট করতে আসে। লাভ জেহাদের ডাক তাই প্লিজ দেবেন না।}

(তারকাচিহ্নিত লাইনকটি ক্রমানুযায়ী
* রমেন্দ্রকুমার আচার্য চৌধুরীর লাইন।
** সুধীন্দ্রনাথ দত্তর লাইন।
*** দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের লাইন!
**** তারাপদ রায়ের ভাঙা লাইন।)