কামিনী মন্থন

সুপ্রভাত মেট্যা ও আকাশ গঙ্গোপাধ্যায়


সুপ্রভাত মেট্যা


কামিনী মন্থন

(১)

যাহা প্রাকৃতিক তাহাই শুদ্ধ ।
সরলীকরনের সমান্তরাল এক আশ্চর্য ফলন...

তুমি বলবে বেলেল্লেপনা ?

মিলন সুন্দর কথামালা যদি কবিতা হয়
তবে ? তবুও কি বলবে ?....

ফসল গর্ভের মাঠ
কখনও কলঙ্কের হতে পারেনা !

(২)

বৈধ কিংবা অবৈধ ;
যেভাবেই সে আসুক তার আসাটা সত্য ,
তার এসে যাওয়ার ঘটমানতা; তাও সত্য
সত্য সততই সুন্দর এবং সুদূর প্রসারী।

পূজারী পুষ্পের হাত
মৈথুন পর্বে স্হলন ঘটালে
তাকে দোষের না বলে
বলো, স্বর্গীয় সুখের এক ফলন্ত সমাহার...

শরীর অর্থে আমরা তাকেই বলি না কী ?

(৩)

যাকে চাপা দিয়ে
কখনওই লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় না।
বরং তাকে লালিত করো।
যা খুশি করতে দাও ।
তারপর পৌঁছলে দেখবে তোমার লক্ষ্যটা
বিশাল এক সফলতার স্তম্ভ জড়িয়ে
স্হির দাঁড়িয়ে রয়েছে ।
কত লোককে আলো দিচ্ছে।
আবার ছায়াও দিচ্ছে ,অন্যের ইষা জর্জর...


================================================


আকাশ গঙ্গোপাধ্যায়

লিঙ্গহ্রদ

‘ফসল গর্ভের মাঠ
কখনও কলঙ্কের হতে পারেনা!’

এখান থেকে হাঁটতে হাঁটতে একদল সে পৌঁছে গেল শব্দে। শব্দ তাদের গ্রাম, এক নিঃঝুম অনুনাদের গ্রাম। যে গ্রামে এক ধূসর ছেলে ছুটি কাটাতে ফিরে আসছে বারংবার। মাঠের পর মাঠ বাঁজা জমির বুক থেকে সন্ধে হলেই উড়ে যাচ্ছে লীনতাপ হয়ে। একটা চমকপ্রদ হ্যাল তার হাত ধরছে। একটা ফাঁকা আকাশ, গোটা প্রেম হতে হতে তারার গুজবে কান দিচ্ছে রোজ। টাঁড়ের মাথা থেকে খসে পড়ছে পিচ্ছিল জ্যোৎস্না। এ অবধি আমরা কামের দাসত্ব ছেড়ে দেহ রাখছি ফুটিফাটা মাঠে। ধূসর ছেলেটি আদপে কেউ না’র মতো এক আমিই। অথবা আপনার ডাকনাম শুনতে পেয়ে পিছন ফিরলে সে আপনার প্রেমিক হতেই পারত। এক নিষ্কাম সন্ধের দাবিতে যে আপনাকে বুকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়েছে বেবাক।

‘পূজারী পুষ্পের হাত
মৈথুন পর্বে স্হলন ঘটালে
তাকে দোষের না বলে
বলো, স্বর্গীয় সুখের এক ফলন্ত সমাহার...’

এ-গ্রাম যদি এক ঘুমন্ত নারী তবে কানহা পাহাড় তার স্তনযুগল। কথায় কান দিয়ে ছেলেটি জেনেছে যারা কখনই আকৃতিতে এক হয় না। ঝোপঝাড় কেটে যখন বিকেলের দাবানলে জ্বলে যাচ্ছে, গড়িয়ে আসছে তার কাটাখালে লাভাসুলভ অগ্নিউদ্গিরণ, রাধা তখন তার অসমান স্তনযুগলের নাম রাখছে কানহা! যেন ঘুরতে এসে এ তার প্রথম ঋতুস্রাব। আমরা চোখের ভুলে যাকে দাবানল ভেবে থাকছি এখনও। ছোটো কানহা আর বড়ো কানহার নীচে ফুটিফাটা নির্লোম ত্বকে মাথা রেখে ধূসর ছেলে পালিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে। ভাবছে এবার মরলে হয়তো ফাঁকা গ্রামের বুকে রাতের রেললাইন হবে সে। শীতল শিরদাঁড়া বেয়ে ট্রেন ছুটে যাবে গ্রীবা থেকে নিতম্বের পথে আর শিহরণে সে পাশ ফিরে জড়িয়ে ধরবে এক ফাঁকা মাঠ। জ্যোৎস্না বীর্যে থৈ থৈ করবে উর্বরতা। জমির পর জমি ভেসে যাবে লাঙলের পিরিতে! অথচ সে জানে, এক স্বর্গীয় কৌমার্য্য ছিঁড়ে খেয়ে ফেলবে তাকে একদিন।

‘বিশাল এক সফলতার স্তম্ভ জড়িয়ে
স্হির দাঁড়িয়ে রয়েছে ।
কত লোককে আলো দিচ্ছে।
আবার ছায়াও দিচ্ছে ,অন্যের ঈর্ষা জর্জর...’

উঠে চলে যাওয়ার পরের মুহূর্তে মেঘ টেনে সে ঢেকে নিচ্ছে স্তনযুগল। ধূসর ছেলের চোখে তখনও আগুন ছড়াচ্ছে ক্রমশ বুকের দিকে। সে মায়ার জালে জড়িয়ে পড়লে আজ সমস্ত হাঁটাহাঁটি থেকে তার ঘুরতে আসা তুলে নেওয়া হবে ভেজা বিস্কুটের মতো, যার অনেকটাই গলে কাপের তলায় থিতিয়ে পড়েছে নিশ্চিত। এক কাপ জলে দু’ফোঁটা চাঁদের রস দিয়ে সে একঢোঁকে ঘুমিয়ে পড়বে শীতঘুম। আরেকটা ছুটিতে গিয়ে ভাঙবে তা। সে আসবে, এমন এক কামগ্ন সন্ধ্যায় তার যাদুদণ্ডে হাত রাখবে বারংবার তারপর এক চরম সুখের ঠিক আগে, লোপ পাবে তার লিঙ্গ। মহাজাগতিক অজুহাতে সরিয়ে নেবে হাত। ধূসর ছেলে ফিরে আসবে গ্রাম ছেড়ে আর বাকি বছর চাঁদ তার অনাবৃত পিঠে বড় নখের আদর রেখে ঘুম পাড়িয়ে দেবে; রিপু তার কিচ্ছুটি বিগড়াতে পারবে না!