দেশভাগের ভুল না ভুলের দেশভাগ ?

রানা মুখোপাধ্যায়

১৯৪৭ সালের ১৫ই আগষ্ট । ৬৭ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে । মানুষের এখনও মনে হয় কেন হল দেশভাগ ? সেটা কি এড়ানো যেত না । কোন ভুলে এই অঙ্গচ্ছেদ ? এক একজন মানুষ এক একরকম ভাবে । তবে প্রত্যেকেই , মনে হয়, একটা জায়গায় একই রকম ভাবে ।
তা হল , দেশভাগ না হলেই ভাল হত । কিন্তু ভুলের তত্ত্বকথার যে বিপুল পরিমান তা হৃদয়ঙ্গম করা প্রায় অসম্ভব সাধারণের ক্ষেত্রে । কারণ ইতিহাসকারেরা নিজের মত করে ঘটনাকে চেহারা দিয়েছেন । আর পদার্থ বিজ্ঞানের ইতিহাসের সঙ্গে পার্থক্য এটাই যে , কোন ঐতিহাসিক ঘটনাকে পরীক্ষাগারে ঘটিয়ে দেখানো যায় না । ঐতিহাসিককে নির্ভর করতে হয় তৎকালীন সাক্ষের উপর । যার মধ্য সরকারি দলিল দস্তাবেজ , মহাফেজ খানায় রক্ষিত অন্যান্য উপাদানের উপর নির্ভর করতে হয় । এবং ঐতিহাসিকের বিশ্বাস , তাঁর রাজনৈতিক পক্ষ , তাঁর সামাজিক অবস্থান প্রভাবিত করে তাঁর কর্মকে । ঐতিহাসিক কার বলেছেন , বিশ্লেষিত ঘটনাই ইতিহাস । কারণ তাঁর মতে , ঐতিহাসিক বিহীন ঘটনাবলী নিরর্থক আর ঘটনাহীন ঐতিহাসিক অসহায়। এ প্রস্তবনার একটাই এই বিশ্লেষণও সেদিকেই যাবে ।
দেশভাগ ইতিহাসের বিপুল সমুদ্রের মধ্যে নেমে পড়লে পড়লে পথভ্রান্ত হবার সমূহ সম্ভাবনা। তবুও পথ খুঁজে যেতে হবে । আমরা শুরু করব, দেশভাগের প্রস্তুতি পর্ব থেকে । এলেন বড়লাট মাউন্টব্যাটেন । রূপবান , বিত্তশালী , যশস্বী , সৌভাগ্যবান । তাঁর পত্নী ছিলেন সেকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দরী ও ধনবতী এডুইনা অ্যসলিকে । অ্যাটলির বদান্যতায় তিনি পেলেন বড়লাটের পদ । বহু মজার গল্প চালু আছে এই বড়লাটের সম্পর্কে । প্যাটেল ভেবেছিলেন , নেহেরু তাকে বশে আনবে আর প্যাটেল প্রমুখ সবাই তাকে কেবু করে ফেলবেন । কিন্তু তাঁর এই আমুদে রূপ দেখে কেউ কল্পনা করতেও পারেন নি তাঁর কূটনৈতিক দক্ষতা ও নিষ্ঠুরতা । তিনি সুকৌশলে কংগ্রেসী মন্ত্রীদের মনে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন দেশভাগের ধারনা । প্যাটেল হলেন তার প্রথম স্বীকার । মৌলানা আজাদ লিখেছেন , ‘ It would not perhaps be unfair to say that Vallabbhai Patel was the founder of Indian partition ’ নেহেরুকেও মাউন্টব্যাটেন জয় করে নিয়েছিলেন । নেহেরু প্রথমে দেশভাগ সম্পর্কে অরাজি থাকলেও মাউন্টব্যাটেনের দেশভাগের এই প্রসঙ্গে মৌলানা আজাদ লিখেছেন , Within a month of Lord’s Mountbatten’s arrival in India , Jawaharlal , the firm opponent of partition had become , if not a supporter at least acquiescent to the idea এবং আরও - I think one factor responsible for the change was the personality of Lady Mountbatten. এতো একটা দিক । অন্যদিকে মহম্মদ আলি জিন্না । জিন্নার দেশপ্রীতি অথবা দেশপ্রেমের উদাহরণ কেউ দিতে পারবেন বলে মনে হয় না । কংগ্রেসে কলকে না পেয়ে তিনি বেছে নিলেন মুসলিম লিগকে । ক্ষমতা এবং পদ তাঁকে বিপুলবেগে চালিত করেছিল । সমস্ত রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনও কারাবাস করেন নি । যখন যেভাবে সম্ভব , অবস্থাকে ব্যবহার করেছেন নিজের অনুকূলে , তা বলে তাকে সাম্প্রদায়িক বলা যাবে না । তাঁকে হিন্দু মুসলিম ঐক্যের অগ্রদূতও বলা হয়েছে। শাসকের নীতিতে সবসময়ই একটা বিভেদ তৈরির প্রবনতা রয়েছে । মিন্টো মর্লে সংস্কার থেকে তা শুরু হয়েছে । “ স্যার সৈয়দ আহমেদ , আগা খান , ঢাকার ও বগুড়ার নবাব , স্যার আবদার রহিম , মহম্মদ সাফি , সিকান্দার হায়ৎ খান , জাফারুল্লা খান , শেষে মহম্মদ আলি জিন্না , নাজিমুদ্দিন , সুরাবর্দি – যখন যাকে তোলার দরকার হয়েছে তখনই বড়লাট , ছোটলাট সচেতন ভাবে তা করেছেন । সবচেয়ে মদৎ দিয়েছেন কার্জন , মর্লে, রিডিং , উইলিংডন , লিনলিথগো ও ওয়াভেল এবং বিলেতের রক্ষণশীল দল সর্বদা । ” (দ্রঃ স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস – অমলেশ ত্রিপাঠী ) ।
পাকিস্তান চিন্তা অবশ্য অনেক আগেকার । ইকবাল যদিও তরানে এ হিন্দ লিখেছেন , তথাপি তিনি বলেছেন , ‘ life of Islam as a cultural force in this country very largely depends on its centralization in a specified territory ’ এবং তা ‘ deepen the patriotic feeling ’ of Muslims . এই কথা অনুরণন তুলল কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে । চৌধুরি রহমৎ আলি পাকিস্তান শব্দ উচ্চারণ করলেন । ব্যখ্যা করলেন এইভাবে , P stood for Punjab ; A for Afghanistan or the North West Frontier Province, ‘ K ’ for Kashmir ; ‘ S ’ for Sind and ‘ tan ’ for Baluchistan . The literal translation of ‘ Pakistan ’ was ‘the land of the pure of the holy ’. ( দ্রঃ The Sole Spokesman……Ayesha Jalal ) জিন্না কিন্তু যে পাকিস্তান চাইবেন , তা এরই কাছাকাছি । যদিও এই প্রস্তাব লন্ডনে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্সে ‘ Student Scheme ’ বলে বাতিল করে দেওয়া হয় । অথচ কি আশ্চর্য , জিন্না এই দাবি নিয়েই পরবর্তী কালে পাকিস্তান প্রস্তাব নিয়ে বারগেন
করবেন । অথচ এই জিন্নাই বলেছিলেন, religion should not enter politics. ’ জিন্না তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে উদারনীতিবাদি একজন গনতান্ত্রিক মানুষ ছিলেন । কিন্তু তাঁর ক্ষমতার উচ্চাভিলাষ তাঁকে পরিচালিত করেছিল অন্যদিকে ।
দেশভাগ কি এড়ানো যেত না ? কোন ভুলে তা করে গেল না ? হিন্দু মুসলমানের ভেদ রেখাকে কাজে লাগিয়ে সাম্রাজ্যকে নিরোপদ্রব রেখে স্বার্থ সাধন করে যাচ্ছিল শাসকেরা । এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলী সে দিকেই নির্দেশ করে । তাতে আমাদের দেশীয় রাজনীতিকরা প্রচ্ছন্নভাবে ও প্রকাশ্যে মদত দিয়েছিলেন । ব্রিটিশ আসার আগে হিন্দু মুসলিম তো একই দেশে ছিল পাশাপাশি । ধর্মীয় ব্যাপারটা এত প্রকট হয়ে দেখা দেয় নি । পলাশীর যুদ্ধে মুসলিম নবাবের হয়ে হিন্দুরাই তো মরণপণ লড়েছিল । তাহলে সমস্যাটা কোথায়? সেই সমস্যাটা হল ভারতীয় রাজনীতির তৎকালীন প্রেক্ষাপট ।
কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভূমিকা । স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের অগ্রগতি , ভুল , একদেশদর্শিতা , উদারতা , জাতীয়তাবাদের ধারনা এবং নেতৃত্বের প্রসার , সীমাবদ্ধতা এবং সর্বোপরি মহাত্মা গান্ধীর অগ্রনী ভূমিকা আমাদের ইতিহাসের মূল দেহ । কিন্তু দেশভাগ কি এড়ানো যেত না ? কিন্তু কেন এড়ানো গেল না ?
১) আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্ষেত্রে হিন্দুত্ব ’ র একটা প্রভাব ছিল । বিপ্লবীদের গীতা ছুঁয়ে বিপ্লবী জীবনের শপথ নিতে হত । বিবেকানন্দের বানী ছিল তাদের পাথেয় । দয়ানন্দের অসহিষ্ণু , বিধর্ম – বিদ্বেষী , সংগ্রামী আর্যধর্ম যার সারাৎসার হল , মুসলিম শিখ ও খ্রীস্টান ধর্ম – অপাংক্তেয় । যা কিছু বিদেশী তাই বস্তুবাদী , যন্ত্রস্পর্শে কলুষিত এমন ধারণা ভারতকে পেয়ে বসে । (দ্রঃ অমলেশ ত্রিপাঠী) গান্ধীর ভিতরেও একটা ধর্মভাব বিকশিত হয়েছিল কিন্তু তা ছিল সংকীর্ণতা মুক্ত । হিন্দ – স্বরাজ ... গান্ধী লিখিত এই বইটি পড়লে একটা অদ্ভুত অনুভূতি আপনার হবে। বোঝা যাবে একজন নেতার অদ্ভুত কতকগুলি ধারণার কথা। যদিও তাঁকে কখনই সাম্প্রদায়িক বলা যাবে না । বরঞ্চ তিনি দুই সম্প্রদায়কে মেলাবার চেষ্টা করেছিলেন । পারেন নি । তবে তাঁর প্রতি গভীর অনুসন্ধিৎসা আজও ঐতিহাসিকের । কোন এক ঐতিহাসিক বলেছিলেন , তাঁর বিপুল রচনাবলীর বিরাট অংশ ব্যয়িত হয়েছে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে । এবং আজ পর্যন্ত যদি এমন একজন নেতার আবির্ভাব হয়নি আমাদের দেশে যিনি সবাইকে এক পতাকার তলায় আনতে চেয়েছিলেন কিন্তু পারেন নি । গান্ধী উপকথা কিভাবে সাধারণ্যে ছড়িয়ে পড়ছে তা দেখিয়েছেন সতীনাথ ভাদুড়ি তাঁর ঢোঁড়াই চরিৎ মানসে । তিনিও সাম্প্রদায়িকতার বীজ নির্মূল করতে পারেন নি। তবে তাঁর অকূতভয় চরিত্র দাঙ্গা ঠেকিয়েছিল এবং সেজন্যই হয়তো তাঁকে নিহত হতে হয়েছিল। তাহলে প্রথম ভুল হল সাম্প্রদায়িকতা যা অনেকেই খুব পরিকল্পনা করে সযত্নে লালন পালন করে তাকে বিষ বৃক্ষে পরিণত করেছিলেন ।

২) ব্রিটিশ শাসক হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়কে ব্যবহার করেছে নিজের সুবিধা
মত । মুসলিমরা শিক্ষায় ও চাকুরিতে পিছিয়ে পড়েছে , দোষ হয়েছে হিন্দুদের । সেই অবস্থা কাজে লাগিয়েছে শাসক । মুসলিম কৃষকেরা ব্রিটিশ করের বোঝা বয়েছে ; দোষ হয়েছে হিন্দু জমিদারদের । ব্রিটিশ শাসক সেটাকেও কাজে লাগিয়েছেন নিপুনভাবে।
( তথ্যসূত্রঃ অমলেশ ত্রিপাঠী ) ফলতঃ ....conservative loyalist Muslim nobility , frank in their confession that British imperial protection was indispensible to their continued well being , if not sheer survival , the Muslim emerged without stated nationalist ambitions . ( Jinnah of Pakistan – Stanley Wolpert ) । মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট হুসেন বলেছেন , It is through regard for our own lives and property , our own honour and religion , that we are impelled to be faithful to the Government and the British race……..our own prosperity is bound up with , and depends upon our loyalty to British rule in India . ’ ( Wolpert ) . এই অবস্থার প্রেক্ষিতে একথা বলা যায় যে , জিন্না আর একটু পরিশীলিতভাবে এগিয়েছিলেন ।

৩) বিভিন্ন প্রদেশের বিপ্লব প্রচেষ্টা ভদ্রলোকের রাজনীতিতে জায়গা পায়নি । নিম্নবর্গের ঐতিহাসিকরা দেখিয়েছেন আমাদের প্রচলিত ইতিহাস হয় উচ্চবর্গের লেখা না হয় উচ্চ বর্গের পৃষ্টপোষকতায় লেখা । স্বাভাবিকভাবেই আমাদের প্রচলিত ইতিহাসে উপেক্ষিত থেকে গেছে সে প্রতিবাদ । সাঁওতাল , তিতুমীর , সিপাহি বিদ্রোহ , মোপলা বিদ্রোহ ইতিহাসে উপেক্ষিতই থেকে গেছে । তাদের উপেক্ষা করার ভুলটাও কি মনে রাখতে হবে না ? আমাদের রাজনৈতিক জগৎ কি তাদের সম্পর্কে ভেবেছেন কখনও ? কত ধর্মঘট হয়েছে ... সেখানে অবশ্য ... নেতৃত্ব দিতে কেউ এগিয়ে আসে নি । একেবারে আধুনিক কালে নৌ বিদ্রোহে কম্যুনিস্ট পার্টি নেতৃত্ব দিয়েছিল । যদি সে সমস্ত বিদ্রোহকে যদি সংগঠিত করা যেত ! কিন্তু নেতৃত্ব তো এলিটদের হাতে। কংগ্রেস ছিল একটা মধ্যযুগীয় যৌথ পরিবারের মত , সেখানে সংসারের কর্তাই শেষ কথা বলেন । না হলে ত্রিপুরী কংগ্রেসে ভোটে জিতেও নেতাজীকে কংগ্রেস ছাড়তে হয়েছিল । আর মুসলিম লীগ তো রাজা রাজড়াদেরই দল । সাধারণ মানুষ সেখানে অপ্রয়োজনীয় অবান্তর । পাঠক, আপনার ঢোঁড়াইকে মনে পড়ে না ?

৪) ক্রিপস মিশন আসার সময় আর একটা ভুল জওহরলাল নেহেরুর । মৌলানা আজাদের মতে - সাংবাদিকরা যখন নেহেরুকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন , কংগ্রেস কি ক্রিপস মিশন হুবহু অনুস্মরণ করবে ? নেহেরু জানিয়েছিলেন , প্রয়োজনে কংগ্রেস তা সংশোধন করতে পারে । ব্যস জিন্না ঘোষণা করে দিলেন Direct Action Day . মৃতদেহের সারিতে ভরে গেল সড়ক । মৌলানা আজাদ তাঁর বইতে বলেছেন , আমাদের স্বাধীনতা তো লড়াই করে আসেনি এসেছে আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে। একটা সময় এসেছিল , যখন চার পাশে প্রতিবাদের আগুন , সে সংস্কৃতিতেই হোক অথবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। আজাদ হিন্দ ফৌজ যখন সীমান্তে উপস্থিত, যখন ময়রাং দখল করে নিয়েছে তারা , তখন দেশের মধ্য উদ্যাম বিপ্লব একটা পরিণতি দিতে পারত। কিন্তু তা হয় নি , কেননা কেউ তখন বড়লাট হতে চাইছেন , কেউ বা প্রধান মন্ত্রী । আর জিন্না মারা গেছেন ১৯৪৮এর ১১ই সেপ্টেম্বর । স্বাধীনতার প্রায় এক বৎসর পরে । যদি স্বাধীনতা লাভ আর এক বছর
পিছতো ! আসলে ইতিহাসে কি হতে পারতো তার কোন স্থান নেই , যে ঘটেছে তাই নিয়ে চলে বিশ্লেষণ ।

৫) সর্বশেষে বলতে হয় ধনিক ও বণিক শ্রেণীর কথা যারা স্বাধীনতা আন্দোলনে একটা বড় ভূমিকা নিয়েছিল । এটা সাধারণ ধারণা যে , স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁদের একটা ভূমিকা ছিল । আর তাঁরা যে , বিদ্রোহ বিপ্লবের বদলে একটা নমণীয় ব্যবস্থা চাইবেন , তা বলাই বাহুল্য । ঘনশ্যাম দাস বিড়লা তো ‘ In the Shadow of Mahatma – a Personal Memoir ’ নামে একটা বইও লিখেছেন।

এত ভুলের মাশুল গুণতে হল , আপামর জনসাধারণকে । ‘ ৬ লক্ষ মৃত , ১ কোটি চল্লিশ লক্ষ মানুষ গৃহচ্যুত , অন্ততঃ এক লক্ষ নারী অপহৃত , অথচ বড়লাটের পরিজনেরা
বলেছেন , ভারতকে স্বাধীনতা দেওয়ায় যে লাভ হল , তার তূলনায় এই ত্যাগ খুব
বেশি নয় ’ ( দ্রঃ– অমলেশ ত্রিপাঠী ) । কার লাভ কার ক্ষতি কে তার বিচার করে । একটি দেশ ভেঙে তিনটি দেশ । সন্ত্রাস, দারিদ্র, রাজনৈতিক ওলট পালট, দুর্নীতি কি... নেই ! শক্তি চ্যাটার্জির কবিতা দিয়ে শেষ করি - মানুষ বড় কাঁদছে ।