তোমার নিভাঁজ মাংসে ছায়া ঘনাইছে

শুভম চক্রবর্তী ও কিংকর চক্রবর্তী

শুভম চক্রবর্তী

----------------------


তোমার নিভাঁজ মাংসে ছায়া ঘনাইছে
-----------------------------------------------------



শরীরে তুমুল জ্বলে
কামনাপ্রদীপ
বর্ষার নির্জন ভিড়ে
ছাতারে শীতল
তোমার ভেতরে আমি
ঢেলেছি গরল
--------------------------

ভালোই লাগেনা আর খুব ভালো লাগে
প্রেমে কামে ঘামে নোনা আত্মরত রতি
তোমার নিভাঁজ মাংসে ছায়া ঘনাইছে
এবার সম্মতি দাও এবং সন্ততি
-------------------------------------------------

গান ও গোঙানি আর সুর ও সাঙাত
কামরাঙা ভাঙা রোদে দাঁত জিভ লালা
বুনো মানুষের গন্ধ আদরকোলাজ
বধির শরীর যার , সে আবার কালা !
-----------------------------------------------

যেভাবে ছাগল মাতে সঙ্গিনীর সাথে
যেভাবে কুকুরেদাঁত ভাদুরে হাওয়ায়
উড়ে উড়ে কুকুরীর ঘাড় খুঁজে নেয়
তোমাকে পাইনা কেন, সেভাবে নরম
তোমাকে পাইনা কেন, রক্তমাংসহাড়
--------------------------------------------------
তুমুল বর্ষার রাত দাঁতে নখে ছিন্নভিন্ন ধড়
আমাকে আগুন ভেবে পেতে দিলে সমস্ত শহর
অর্ধেক গোগ্রাসে খেয়ে ঢেকুর উঠেছে চোখেমুখে
আগুন পোড়ানো রক্ত বমি করছি দুধসাদা বুকে
------------------------------------------------------------ --

কামনা বিকৃত নয়, নয় আলো স্বর্গীয় - সুন্দর
অন্ধকার গাঢ় হলে আঁচড়কামড়ে দুটি দেহ
শুধুমাত্র দেহ নয় দেহহীনতার পথে যাবে
আমার নশ্বর মুণ্ড অনশ্বর ভূমিতে গড়াবে
------------------------------------------------------------





কিংকর চক্রবর্তী

প্লেটোনিক প্রেম

শঙখ ঘোষের লেখায় পড়েছি -- জন্ম আকস্মিক, যৌনতা অনিবার্য, মৃত্যু অমোঘ। যা নিবারণ করা যায় না তারই নিবৃত্তি এবং অলৌকিক মহিমা আরোপ -- সে কাজ দূরূহতম।অসম্ভব। আর এই অসম্ভবের প্রতিই মানুষের চিরকালের ধ্যান ও সাধনা। রিপু সত্য। কিন্তু রিপুজয়ও কি অসত্য? এখানেই আসে দেখার ভঙ্গি। নারীকে ধর্ষকের দেখা আর প্রেমিকের দেখা তো এক নয়। আবার শ্রীরামকৃষ্ণ দেখলেন একেবারেই মাতৃরূপে। পুজো করলেন নারীকে।অসম্ভবই এলো সম্ভবের সীমানায়। সাধারণ নারী ও পুরুষ যৌনতার অনিন্দ্য সুন্দর সীমানা পেরিয়ে যেতে পারে না কিন্তু সীমার মধ্যেও সে অসীমকে পেতে চায়-- আর সেখানেই তার প্রেম স্বর্গ ছুঁয়ে থাকে।সেটাই তাদের স্বর্গীয় প্রেম।

নারী ও পুরুষের ধারাবাহিক দেহজ মিলনে রহস্যের সব দ্বার খুলে গেলে-- প্রেমের আগুন পুড়ে ছাই হয়ে যাবার কথা।কিন্তু জীবনে তা তো ঘটে না বরং অতৃপ্তি বাড়তেই থাকে। একাধিক অন্য গমনেও ক্ষয় হয় না দেহজ প্রেমের -- সে চির অতৃপ্ত।কেন এই অনন্ত অতৃপ্তি? নানারকম ধর্মীয় সাধনায় নর-নারীর দেহজ প্রেমকে অস্বীকার করার অসংখ্য সাধন পদ্ধতি মানুষ অবলম্বন করেছে কিন্তু সে সব গুটিকয় মানুষের অন্তর্জীবনের গূঢ় রহস্যই থেকে গেছে। কী এই প্রেম? তা যৌন না স্বর্গীয়? যদি যৌন হয় তবে একাধিক মিলনেও কেন তা চিরঅতৃপ্ত? এই চিরঅতৃপ্তির বোধ যেখানে শুরু সেখান থেকেই বোধহয় স্বর্গীয় প্রেমের অনুভব। তাই কি সে মনে মনে ফিরে যায় বাল্য ও কৈশোরের সেই মেয়েটির কাছে শরীরবিহীন দিনের স্বর্গীয় মহিমায়, যেখানে প্রেম ছিল তার অগাধ অবোধ সরলতায়? জটিলতাহীন, দেহাতীত ( যদিও কৈশোর অনেক দুষ্টুমি জানে) সেই প্রেমই কি তাকে স্বর্গীয় প্রেমের আনন্দ দেয়? সেই কি তার প্রকৃত প্রেমভূমি? অপার্থিব প্রেমের আনন্দআশ্রম ?