১টি পিকাসো জানলা & এলিমেন্টারি বরফ

রাহুল গাঙ্গুলী ও কৌস্তুভ গঙ্গোপাধ্যায়

রাহুল গাঙ্গুলী


১টি পিকাসো জানলা & এলিমেন্টারি বরফ

[b][১/০][/b]

ক্রিতদাসী রাত ~ খসছে তারাঠোঁট
যেমন : মৈথুনাহীন শার্শি-শরীর
অবয়ব < ছায়া > অবয়ব।চওড়া মুক্তি
ঈশ্বর ] গোপনীয় বাইনারি স্মৃতি
উড়ছে ~ (চালকলাদূর্বো / পারদ-পায়রা-পালক)


[b][০/১][/b]

লুডো চাল ~ পা বাড়ালেই সর্পিল গণিত
ইদানীং : আলোকণা [ নিখোঁজ বাউল ]
বাউল ঝরে।বাউল বিকেল।বাউল মাধ্যাকর্ষণ
~ ওপারে প্যারাডক্স ~
নীচে যন্তরমন্ডর।ঝুলন্ত সিলিং।আরশিকথন



[b][১/১][/b]

মন-আয়নার ইশারা ~ যতকাল ভিজেভিজে বালি
আড়ালে ঈশ্বরীয়।প্রকাশিত শ্যাওলা-স্তর
ভিজেভিজে বালি : পচা থ্যালামাসে তীব্র অ্যাসিড
ছোবল।ছোবলনেই।ছোবলহীন
মারণাস্ত্র ~ ক্রমশঃ তড়িৎ হওয়া নিস্তব্ধতা
সফেদ ওড়না : ঢাকা আছে স্বচ্ছ তরল



[b][০/০][/b]

এঁটো শব্দঝড়।মহাকাশ ~ ক্ষয়।ক্ষয়িত।ধোঁয়া
বিশেষ অপেক্ষা : জেব্রাক্রসিং চিরে ফেলে রাস্তা
আণবিক ভ্রূণ ~ ক্রমাগত মেলানকলিয়া বিশেষ
শূন্য > ০ < সিঁড়িছায়া।পিঁপড়েকণা- বায়োলজি
০-খুন ~ আরো ১ধাপ জটিল।মোহবতী সন্ন্যাসী
পাখি ওড়ে ] ওড়ে [ ওড়ে ] ওড়ে [ ওড়ে ] ওড়ে [

=============================================

কৌস্তুভ গঙ্গোপাধ্যায়
এক্স ও ওয়াই ক্রোমোজোম অথবা একটি লাল পতাকা

যুগপৎ সম্ভ্রম ও লালসায় মিনতির হাতপানে চেয়ে ৷ সকালে প্রদক্ষিণরত কমরেডি মুষ্টিতাল হাত প্রভূত লালশালু মোড়া চেলাকাঠের ঝমকে গমক বিদ্রোহে তথাপি তা রাত্রে নেয় v শেপ যোনির অমানিশা কালমোচনে নিছক ঝরিয়ার জলনিকাশি কঞ্চিপনায় ৷ মোহাবিষ্ট হয়ে লাল আবির না ধোওয়া হাতের নৈপুণ্য দেখি মচাৎ করে আমার শুক্রদেব পরিপাটি হয়ে মাথাচাড়া দেন তিলক শিখরে ৷ পাথর গড়িয়ে আসে যেমন করে দুটো মরাকে পিষকে আরেকটা জ্যান্তকে মাড়ায় তেমনি মিনতির সর্বাঙ্গ বলতে স্তন টুসকি বেলুন হয়ে কাঁপন ধরা রোষাবিষ্ট পিংপং বনে আমায় জিন্দা ২০৬ + ১ হাড়ের কঙ্কাল করে দেয় প্রায় ৷ ও চাইছে আমি যাতে প্যান্টটা খুলে হস্তসাধন করি ৷ কিন্তু আমি তো আর পাঁচমিনিট পর সুইসাইড করবো... ওকে ফাঁসাতেও মন চাইছে তদ্যপি মেহনও হয়ে যায় ৷


রসাতল নিয়ে কোনো ধারণা নেই আমার ৷ কিন্তু আমি যে রসের অতলে যেতে চাই ৷ পটাশিয়াম মুখে তুলে বেশক্ রসসিক্ত হতে চাই ৷ টসটসে গুটিয়ে মিনতির স্তন যোনিতে থাবা লাগাতে চাই না আর ৷ তবুও মিনতি কপচায় খালি ৷ আমি পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক নজরানায় গুমটি হয়ে ছয় তালি মেপে ধুঁকে নিই পটাশিয়াম ৷


আচ্ছা মৃত্যুর পর কী আত্মা জাতিস্মর বোধ প্রাপ্ত হয় ৷ না হলে আমি বুঝছি কেমন ভাবে আমার এ' মৃত্যুর গত জন্ম লাল পতাকার জড়ত্মে জড় ৷ আমায় গুটিয়ে নিয়েছে হাতে মিনতি মা ! মিনতির বাবা চুমো বসায় মার মুখে সিগারেটের একরাশ জুলফি ছেড়ে .....তারপর... একদিন মিলন...সঙ্গম... লাখ সে লাখ শ্বেত পতং-এর ধেয়ে যাওয়া সৌধডিম্ব দিকে ! তখনও মুড়ে পড়ে আছি লাল পতাকা ফ্রেমের মরা ফ্রেডরিক এঙ্গেলসের ওপর ৷


ধরাচূড়া ত্যাগ করার পর একটু আগে আমি ঠিক করেছি এবার আর জন্মাবো না ....কিন্তু ওই যে মিনতি ওর পাপতাড়িত আঙুল ! পটাশিয়াম মুগ্ধ ত্যাজ্য দেহর সামনে এখনো মৈথুনাবিষ্ট ! তাহলে কি ও নেক্রোম্যানিয়াক ! ছটফটাই বায়ু কোণে এসে- ও ধবল ও মিনতি ৷ নৈঋ ধরে বলি- মিনতি থামো, আমি পচনে আছি বিজারণে তুমি থামো ৷ থামছে না মিনতি ৷ ওর লাল হাত জ্যান্ত কবরে সিঁধোচ্ছে বার হয়ে আবার মাটি কুপোচ্ছে ৷ আমায় এদিকে পরলোক ডাকে ৷ পরজন্মে আমি কি আবার পতাকা হবো না অনিল বসুর মত নেতা জানি না কিন্তু আমি পুনরায় যে কার্বণ হয়ে পৃথিবীর ভর সামলাবো এটা জানি ৷ লোভ হচ্ছে বড় আকাশের মতন সত্য হয়ে যাই ৷ জন্মাতে মন চায় না বরং না জন্মে অবিনশ্বর থাকি কিন্তু মিনতির চৌকিদার আঙুল আর তান্ডব আমায় তা হতে দেবে কৈ !


ঈষৎ ঝুঁকে দেখল মরাটাকে মিনতি ৷ ওর স্তন মরার বুক পেল ৷ লিঙ্গ খামচে ধরে মুহূর্তে কলমের গ্রীপের মতন খুলে দেয় প্যান্ট জাঙ্গিয়া ৷ তারপর মৃতের শুষ্ক শিস্ন নিজ যোনির আশপাশে ছোঁয়াতে থাকে ৷ আমার মুখে কটা অবর বেরিয়ে আসে ৷ অশরীরি হওয়া আমার উচিত হয়নি ৷ হয়নি উচিত সামান্য দোলাচালে আত্মহত্যার মতন গুরুভার সিদ্ধান্তে ৷ ইউজলেস কার্বনেট বডিতে বিকারের স্বাদ ঘনীভূত আহার খুঁজে নিয়েছে মিনতি ৷ কখনো ঘাত বসায় পার্শ্বে কখনো চড়ে ওঠে শীর্ষে ৷ কিন্তু আমার করার কি আছে...আমি তো মোহ অনাসক্ত হতে চেয়েছিলাম ! মিনতির মাস্টারবেশন ক্রয় করে যাতে আমি টেক অফ্ না করতে পারি তার সৎ সরলীকৃত প্রয়াস ! জানতাম ওকে আমি এবার খেয়ে ফেলবো ৷ খেয়ে ফেললে হয়তো আরেকটা বিপ্লবী পতাকা মানবশিশু হয়ে ভূম নিতো ৷ শরীর এখন অনেকটা হালকা কিন্তু মাথা ভার নিয়ে দেখছি খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মরার অহেতুক বীর্য পতন চাইছে মিনতি ৷ ধ্বক ধ্বকে গ্লেসিয়ার গলন ৷ এখনই হয়তো ভুল ভাঙবে, বুঝবে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা-র সৌজন্য জেল পুলিশ মিডিয়া ৷ পালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল মিনতির অন্তত পোষাকটা গায়ে গলিয়েই ৷ কোনো বোধ হচ্ছে না আর ৷ স্বয়ং ঈশ্বর কতদূর থাকেন যে আমায় চুম্বকের মতন নিজের কৌস্তুভ লোকে ডাক দিচ্ছেন না ! গ্রহ উপগ্রহের মতন ঝুলছি অকৃত্রিম ফাঁকায় ! তবে কি আমার মোহ বিদায় হয়নি মিনতির ওপর সম্পূর্ণ ভাবে ৷ মৃত্যুর ওপর বড় রাগ হয় হঠাৎ ৷ ভাবি এরকম হয়েই থাকি তবে বশংবদ টানা হ্যাঁচড়ার মাঝে উভয়চর রূপে ৷ মাথার ওপর দেখি এমন সময় প্রকান্ড রামধনু পাক খেতে খেতে বুমেরাং হয়ে আমায় প্রদক্ষিণ করতে শুরু করেছে আর স্মীয় আঁধার কেটে গিয়ে আমি এক প্রকান্ড সরীসৃপ ৷ রঙ্গিলা ছটা গা দিয়ে উদলে বেরোয় খালি ৷ ঝকমক ডিস্কো থেকের রং আবজে দেয় মিনতির চোখের তারা ৷ মিনতি কাঁদছে ৷ ওর জলমুক্তো চোখ ঝিকমিকে স্নান শাওয়ার হয়ে আমার মরাকে ভিজিয়ে দেয় ৷ মরুভূমির ঊষর বিস্তারে কোনো আরব্যদাসীর হাত থেকে যেন চলকে পড়ে মদিরা ঘাম ৷ আহ্ আহ্ পরলোক আমায় নাও না কেন ৷ কেন এই নিরঙ্কুশ কম্পাসে দুলিয়ে চলেছ আমার শাখামুঁটে আত্মাটা ৷ বোধ হয় অতিচেতনের মোহ কেটেছে আমায় নেওয়ার ....তাই এত জলরঙের আয়োজন ৷


আমার পা ঢুকে গেছে মরার ওপর ৷ টের পাচ্ছি মৃতর হৃদপিন্ড তাপ ৷ ফিরে আসছে কোমল দ্রাঘিমাকোষে ৷ মিনতির শবসাধনা, ছয় শত্রুর চৌঠা শত্রুঘ্ন আমার আগত ঘায়েল করে ফেলেছে.... এক উপজীব্য কেড়ে নেয় আরেক উপজীব্যর দাম... প্রাণাতিপাত করা অভীষ্ঠ চলে যায় দূরে... মুখে ফেনা উঠছে চোখ কেঁপে উঠলো এই ... হা মোহতিমির তুমি দর পেলে না মরণ অন্তরালে ৷


মিনতি ঝাঁপিয়ে আসে বুকে ৷ আমি চোখ মেলি ৷ তারপর চুমো বসাই নতুন জন্মের ক্রীতদাসীর ঠোঁটে ...



**
শব্দরূপ : রাহুল গাঙ্গুলী (কবিতা) & কৌস্তভ গঙ্গোপাধ্যায় (গদ্য)