অনন্ত রিপুর আখ্যান

প্রবুদ্ধ ঘোষ ও প্রীতম সরকার

কবিতা- প্রবুদ্ধ ঘোষ
গদ্য- প্রীতম সরকার


#ক্রোধ#
পোড়া ঘরে

ভীষণ ক্রোধের তাপে চকোলেট ঘর গলে যায়
সযত্নআয়না জুড়ে কাটাকুটি লাল ছেঁড়া দাগ
আঙুল উঠেছে আর গলা চড়ে আহত কথায়
চেনা ঘরে গুমরোয় বিচ্ছেদ নিজঘাতী রাগ

কী ছিল কথার ভাঁজে? কী ছিল ঠোঁট জুড়ে?
শরীরে কথন জমে কথকের মন জুড়ে হিম
কবেকার বিষে জিভ আজও নীল হয়ে আছে?
আহত ক্রোধের তাপে গলে গেছে দিন
ক্রোধের ইরেজার ঘষে চলে স্মৃতির ওপরে। আদরের দাগ মুছে যায় যাতে গুঁড়ো গুঁড়ো স্পর্শসময় উঠে যায় ছায়া ছায়া লেগে থাক স্বেচ্ছাবিষাদ। নিজেকেও পুড়িয়ে চলে অনুভূতি গলিয়ে গলিয়ে রাগের আগুনে ফেলে ছেঁকে নেয় স্বর। যা দেখে সামনে আর যা শোনে সবেতেই তর্জনী তুলে রাখে যেন বহুযুগ হেঁটে আসা ক্লান্ত নিষাদ। নিয়ত বোধের পাশে থাবা চাটে লেজ আছড়ানো গরগরে বেড়াল আর শিকার করে নিয়ে যায় প্রিয় ডাকনাম। তখন কথায় দ্ব্যর্থ তখন বেঁধানো হুল ফুটো করে দেয় এযাবৎ সাজানো সযত্নসাম্পান। উপহার জমানো চকলেট এলইডি ভাংচুর হয়ে এককোণে পড়ে বহুদিন না-পেরনো সাঁকোর মতো। ক্রোধ শুধু সাজিয়ে রেখেছে মোম দাহ্য কেরোসিন ছেঁড়া চিঠির কাগজ যেকোনও সময় ঘরে দাউদাউ আগুনকথিত।
ক্রোধযজ্ঞ নিভে এলে পোড়াঘরে সিঁদুরকৌটো খুঁজতে এসো।

#
রাগ আমারও ছিল। তবে সে বহু আগের কথা। যবে থেকে এই জোনাকির প্রতুলতার মাঝে এসে পড়েছি, যবে থেকে এই গাছপালার প্রাচুর্যের মধ্যে এসেছি তবে থেকেই ঝামেলা বেড়েছে। আজ যখন আমার সারা শরীরে মটি লেপ্টে গেছে, তারার আলোতেও যখন আমি পথ দেখতে পাই তখন আর কি করে বলি যে সেই আমার আবাল্য প্রানসখা রাগ এখনও বেচে আছে।
এখানে একটা পরিত্যক্ত কারখানা আছে আর সেখানে এক চৌকিদার এখনো বহাল আছে। বাবুরা কারখানা তুলে নিয়ে গেছে কিন্তু কেন জানিনা এই লোকটাকে ফেলে রেখে গেছে এখানে। লোকটা রোজ দেখে যন্ত্রপাতি খেয়ে ফেলছে শ্যাওলার দল, জংধরা লোহা গুড়ঁোগুড়ঁো হয়ে পড়ে যাচ্ছে মাটিতে। একজন চৌকিদারের কাছে এর থেকে বড় কষ্ট আর কি থাকতে পারে। কোনও চোর আসবে না অথচ একদিন সব শেষ হয়ে যাবে। কোনও অঘটন ঘটবে না অথচ কিছুই সে রক্ষা করতে পারবে না।
গ্রামের মাঝমধ্যিখান দিয়ে একটা রেলওয়ে লাইন চলে গেছে তাই একটা রেলওয়ে ক্রসিংও আছে। তার পাশে একটা ছোট্টো ঘর আর সেখানে একটা লোক। যার নামটা আমার এখনো জানা হয়নি কেউ জানেও না বোধহয়। লোকটা শুধু গেট নামায় আর তোলে, বছরের পর বছর ধরে একই কাজ। একটা সবুজ পতাকাও আছে লোকটার ট্রেন তার ঘরের কাছে এলে সে সেই পতাকাটা তুলে ধরে আর ট্রেন এগিয়ে যায়। এগিয়ে যায় তোমার শহরের দিকে, যেখানে তুমি আছো, multiplex আছে, 4 lane-এর রাস্তা আছে, সন্ধেবেলার শীততাপ নিয়ন্ত্রিত পানশালা আছে। লোকটাকে পেছনে ফেলে এগিয় যায় ট্রেন সেই দিকেই। কতবার দেখেছি ট্রেন চলে গেলে লোকটা সেই দিকেই তাকিয়ে থাকে, গেট তুলতে ভুলে যায়, তারপর আটকে পরা কোনো লোকের হাঁকডাকে নিজের সম্বিত ফিরে পায়।
আমার বাড়ির পাশেই এক মহিলা থাকে। স্বামী তার আর্মি তে কাজ করে। সে একাই থাকে। মহিলাটি বাঁজা। বাড়িতে প্রচর হাঁস মুরগী রয়েছে তার। রান্নার হাত তার অসাধারন। আমাকেও খাইয়েছে বেশ কয়েকবার, দেখতেও ভারী ভাল তাকে। বিবাহিত না হলে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিত গ্রামের অনেকেই। অনেকে অবশ্য অন্য চেষ্টাও করেছে। তবে দোষের মধ্যে তার একটাই দোষ, আর সেটা আমি ছাড়া কেউ জানেও না। আমি আমার দোতলার বারান্দা থেকে দেখতে পাই তার উঠোন আর প্রায় প্রতি রাতেই সে হাঁস মুরগীর বাচ্ছাগুলোকে জ্যান্ত চিবিয়ে চিবিয়ে খায়। বাচ্ছাকাচ্ছা সে আর একদম সহ্য করতে পারেনা।
এদের মধ্যে থাকতে থাকতেই বোধহয় আমি তোমাকে ভালোবাসতেও ভুলে গেছি। আর তাই রাগ নেই আমার। আর আমি তোমার বেঁচে থাকার জন্য রেগে নেই, তোমার সুখের সংসার আর আমায় রাগায় না। ভাবায় না আর তোমার ঊঁচু apartment, ভাবি না আর তুমি কি চাইতে। রাগ আমারও ছিল। তবে সে বহু আগের কথা।
" Mujh se pehli si muhabbat mere mehboob na maang
aur bhii dukh hain zamaane mein mohabbat ke siva
raahaten aur bhi vasl ki raahat ke siva"
- Faiz Ahmed Faiz



#মদ#
অহং ব্রহ্মাস্মি- সোহহং

চোখ নেই কান নেই অবয়ব নেই
শুধু প্রসারণ। অধিকার পর্যাপ্ত নয় বুঝে
নিয়ত সাইরেনে ত্রস্ত করে রাখা-
প্রতিবেশে ঢেলে দেওয়া বিষ, কেড়ে নেওয়া
পরিচয়, নিজকে অপর করা
ভোট দাও কর দাও সেবা দাও আমাকেই-

আমি দেব নিশ্চয়তা মাপা অন্ন-জল-সুখ
বেঁধে দেব আলাপন, কথোপকথন
কতটুকু প্রতিবাদে কতখানি ভয়
সমস্ত জনপদ বন্দরে আমারই শাসন

কত অস্ত্র কত কোপে হত্যা স্বীকৃত হবে
কত উচ্ছেদে নদীবাঁধ আলো পাবে
আমিই জোগান দেব দড়ি, সস্তা শ্রমিক
যুদ্ধ ও শিক্ষাখাতে কত দশমিক
কোথা থেকে কেনা হবে প্রতিরক্ষা
সাজানো শত্রুরা আদেশমাফিক

নতজানু, আমাকেই ভালবাসো; জেনো
আমিই তোমাকে জানি গভীর গোপনে
শুধুই সংখ্যা তুমি, নাগরিক।
বাঁধাছকে চলাফেরা আচমকা পতনে
অদৃশ্য সুতোয় নাচে
দেশ-জাতি-ঘরদোর বিজ্ঞাপিত মানুষ

তবু যদি অঙ্ক ঘেঁটে যায়?
খসে পড়ে হোর্ডিং তথ্যের ওড়ানো ফানুস?
কী হবে সাজানো পাঠ, কী হবে অহং?
জবরদখল করা মনোভূমি স্থান কাল
ক্রমশ প্রসারিত শাসনভড়ং
সব যদি খসে পড়ে? মুখোশের শান্তিকল্যাণ-
তবুও জিয়ল মাছের বিশ্বাসে টিঁকে থাকা,
আমি রাষ্ট্র- এই বোধ এই শিল্প এই ধ্যান
ধমনী শিরায় প্রজন্মান্তরে...
দ্রোহ যদি টান দেয় আমার শিকড়ে?

#
মহাত্মা তার শখ করে বানানো টিলার ওপরের ঘরটা থেকে দেখছিলেন । তার চেয়েও লম্বা জানলার শিক ধরে দাঁড়িয়ে তিনি দেখছিলেন টিলার নীচ দিয়ে কাতারে কাতারে মানুষ তার এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে । মহাত্মা তাদের চলে যেতে বলেছেন, তাই তারা দল বেঁধে এলাকা ছাড়ছে । গতকালও গেছে আগামীকালও যাবে । মহাত্মা চলে যেতে বললে যেতেই হবে ।
ভালো মানুষ ছাড়া কেউ মহাত্মার এলাকায় থাকবে না । আর ভালো মানুষ তারাই হতে পারবে যাদেরকে মহাত্মার ভাল লাগবে । শুধু মানুষ কেন মহাত্মার না ভালো লাগার কোনোকিছুই আর থাকবে না । এক সপ্তাহ আগে তিনি একটা নীলচে পাখি দেখেছিলেন, তার ভালো লাগেনি । তিনি ওই জাতের পাখিটিকে তার এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন । দু’দিন আগে দু’টো ফুলের নাম তিনি বদলে দিয়েছেন । তার ভাল না লাগলে সে জিনিসগুলো ভালো কি করে হবে ?
ঠিক এইসময় তার এক প্রিয় মন্ত্রী এসে তাকে বললেন, “মহাত্মা আরও চারজনের নাম মন্ত্রীসভার সকলের সম্মতিক্রমে বিতাড়নের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে । আপনি অনুগ্রহ করে যদি একবার বিবেচনা করে দেখেন”।
মহাত্মা কিছু না বলে শুধু একটু হাসলেন । কে তালিকায় থাকবে, কে থাকবে না সেটা কে ঠিক করবে ? কিসের মন্ত্রীসভা ! মন্ত্রী কারা হবে সেটাও তো তিনিই ঠিক করেছেন, সভা তো তিনিই বসিয়েছেন, তাহলে ? কাল তো এই তালিকাতে তার এই প্রিয় মন্ত্রীটির নামও থাকতে পারে তাহলে ? তাই কিছু না বলে শুধু একটু হাসলেন । তারপর ইঙ্গিতে কাগজটা রেখে চলে যাওয়ার আদেশ দিলেন ।
বিকেলে মহাত্মার অনেক কাজ । বিকেলে তিনি এক জনসভায় ভাষণ দেবেন । ভাষণের বিষয়, কীভাবে তার প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠা যায় । এখন তার একটু ঘুমের প্রয়োজন । মহাত্মা ঘুমোতে গেলেন ।
বিকেলে বেরোনোর আগে মহাত্মা দাড়ি কামাবেন বলে হাসলেন আয়নার সামনে । তার সেই আশ্চর্য ক্ষুর তার হাতে । এই ক্ষুরের আশ্চর্য ব্যাপার হল এর ধার কোনোদিন কমে না । আজন্ম কাল এই ক্ষুর দিয়ে দাড়ি কামিয়ে চলেছেন অথচ প্রথমদিনের সেই তীব্র ধার এখনও রয়ে গেছে ।
পরিপাটি করে দাড়ি কামানোর পরেও মহাত্মা আজ আয়নার সামনে দাঁড়িয়েই রইলেন। মহাত্মার কপালের বাঁদিকে একটা ছোট তিল ছিল সেটাকে হঠাৎ আজ তার আর ভাল লাগছিল না । তার মনে হচ্ছে তিলটার ওখানে কোনও দরকার নেই, তাই ওটার ওখানে থাকার কোনও মানে নেই । মহাত্মা হাতের ক্ষুরটা তুললেন । খুব নিপুনভাবে তিলের চারধারের চামড়াটাকে কেটে তিলশুদ্ধু তুলে আনলেন । মুখের বাঁদিকটা রক্তে এখন ভেসে যাচ্ছে, বেরিয়ে রয়েছে দগদগে মাংস । এরপর মহাত্মা বুঝলেন তার ডান কানের লতিটা বড্ড বাজে আকৃতির, ওটা না রাখাই ভালো । আবার ক্ষুর উঠলো, কেটে আনলো কানের নরম মাংসটাকে । ঘাড় কাঁধ রক্তে ডুবে যেতে থাকলো । মহাত্মা রক্তস্নাত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে আয়নার সামনে । তিনি প্রস্তুত । এখন তার অনেক কাজ । তাকে জনসভায় ভাষণ দিতে যেতে হবে । ভাষণের বিষয়টা তো সবাই জানে ।


# মাৎসর্য#
ঈর্ষান্বিত হওয়ার বিপ্রতীপে কিছু লেখা সত্যিই বড় মুশকিল ব্যাপার। আমি প্রতি পদে পদে ঈর্ষান্বিত হই, হতেই হয়। কারণ আমার শহরে ষাট তলার বাড়ি তৈরি হচ্ছে, কারণ আমার শহরে পাড়ায় পাড়ায় CCD বসে যাচ্ছে, কারণ আমার শহরের প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় Spencers খুলে যাচ্ছে। ঝাঁ চকচকে জীবন আমায় ডাকছে। ধোপদুরস্ত বেঁচে থাকা আমার জিভে জল আনছে। আর যখন আমি ডুবে যেতে চাইছি কোনো এয়ার-কন্ডিশনড ঘরের নীলচে নাইট ল্যাম্পের আলোতে তখনই আমার গালে দু’টো থাপ্পড় মেরে তুলে আনছে দু’টো সিনেমা। আর, পাঠিয়ে দিচ্ছে মকাই ক্ষেতের মধ্যে চাষীদের রক্তস্নাত দেহের কাছাকাছি।

প্রথম সিনেমাঃ Two or Three Things I Know About Her- Jean Luc Godard
খুব জলজ্যান্ত সমস্যা। House Wife Prostitution সেই সময় ফ্রান্সে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। কিসের জন্যে এই সমস্যা? খুব সোজা উত্তর। নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহবধূরা চাইছে তাদের সংসারটাকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে। তারা যেন একটা ভাল অ্যাপার্টমেন্টের ঘর নিতে পারে, তাদের ছেলেমেয়েরা যেন ভাল স্কুলে-কলেজে-নামকরা ইউনিভাঋসিটিতে পড়তে যেতে পারে, তাদেরও যেন একটা ছোট গাড়ি থাকে। এইটুকুই তো চাই। বর্তমান বাজারসর্বস্ব পৃথিবীতে কি এটুকু চাওয়া অন্যায়? সমাজ কি এগুলোকেই জীবনের মোক্ষ বলছে না? এই উত্তরটায় গোটা সিনেমাজুড়ে খুঁজতে চাওয়া। এই উত্তরগুলো খুঁজতে খুঁজতে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহবধূরা বেরিয়ে পড়ে বেশ্যাবৃত্তির জন্য রাস্তায়। আর এর বদলে কি পাওয়া যায়? প্রেম-ভালবাসার সহজ সমীকরণগুলো গুলিয়ে যেতে থাকে। পারিবারিক বন্ধনীগুলো গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে খসে পড়তে থাকে। জীবনের ethical দিকগুলো বইতে থাকে নর্দমার জলের মধ্যে দিয়ে। কিন্তু ওরা বড় অ্যাপার্টমেন্টে ফ্ল্যাট কিনলে আমরা কেন কিনব না? ওরা গাড়ি চড়লে আমরা কেন চড়বো না? এটা কি দোষের কিছু? আর এটা দোষ না হলে আমার ব্যাভিচার দোষ কি করে হবে?

দ্বিতীয় সিনেমাঃ Stalker- Andrei Tarkovsky
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকা বা জার্মানির মতো রাশিয়াও অনেক experiment করত মানুষের সমাজ নিয়ে। এইরকমই এক আজগুবি জায়গার কথা রয়েছে সিনেমাটাতে। এমন একটা পরিত্যক্ত কারখানা যেখানে ঢুকলে এমন এক যন্ত্র পাওয়া যাবে যা জীবনের খোলনলচেটা পালটে দেবে। যুদ্ধ পরবর্তী রাশিয়ার কিছু কপালপোড়া লোক এসে দাঁড়িয়েছে সেই কারখান্র সামনে। সবাই চাইছে জীবনটা পালটে যাক। জীবনটা অমুকের মতো সুন্দর হোক, তমুকের মতো আকর্ষণীয় হয়ে উঠুক জীবন। কিন্তু মজার ব্যাপার হল কেউই ঢুকতে পারবেনা সেই কারখানায়। সেই পরিত্যক্ত প্রযুক্তিকে কেউই ব্যবহার করার সাহস দেখাবেনা। পরিচালক তারই তৈরি protagonist-দের সামনে যুক্তির দেওয়াল একের পর এক খাড়া করতে থাকবে। যদি জীবনটা আরও খারাপ হয়ে যায়? বদলে যাওয়া মানে কি শুধুই ভালোর দিকে যাওয়া? খারাপের দিকে আসা নয়?

আমি জানিনা ইরানের মেয়েরা আমেরিকার মেয়েদের দেখে ঈর্ষা বোধ করে কি না। আমি জানিনা কাশ্মীরের মুসলিম ছেলেটা মধ্যপ্রদেশের হিন্দু ছেলেটাকে ঈর্ষা করে কি না। তবে আমি জানি আমি ডুবে যেতে চাইছি এয়ার কন্ডিশনড ঘরের নীলচে আলোয় আর বারবার ফিরে আসতে হচ্ছে রক্তস্নাত মকাই ক্ষেতে।

#
নির্বাসনে

এই যে ডিপ্রেশন, এই যে কোমল নির্বাসন
এসব ছাড়িয়ে কোনও গাছকে ঈর্ষা হয় খুব
এই যে স্থির হয়ে পরপর পাথর-আঘাত
আকর্ণ হাসিতে সয়ে বুকেতে জমানো
এসব ছড়িয়ে ফেলে নদীকে ঈর্ষা হয়

মানুষের কাছে আর ফিরে গিয়ে গাছ পাব? নদী?
শহরের কাছে ফিরে পুরনো সাঁতার পাব?
সেইসব চলাচল, কথা ছুঁয়ে ঠোঁটে ফেরা
ঠোঁটে ফিরে শব্দেরা বৃষ্টি নামাত, সেইসব যদি
না পাই বাইরে-ঘরে তোমাদের সমস্বরে
তখনই তো ভয় হয়, তখনই সরলরেখা
তোমাকেও ঈর্ষা করি।

নিজেকে জাগিয়ে রাখা, নিজেকে ছিঁড়েখুড়ে
চারদিকে ছিটিয়ে রাখা দিনমান
যুদ্ধের অবিরত অদৃশ্য রক্তদাগ মুছে
বাধ্যত সিটবেল্ট, লক্ষ্যমুখী পরের উড়ান
প্রিয় অবসর, স্বপ্নের সাথে যুঝে

সময়গ্রন্থি, এই নিরাময়হীন ক্ষতকথা
গাঢ় সন্ধ্যেনামা ভাষাহীন বিস্বাদ দেয়ালজুড়ে
যক্ষ ভাল নেই; নির্বাসনে বার্তাহীন পুড়ে।

তোমাকে ঈর্ষা হয় সুসময়,
কবে ফের এই মন্ত্রে জীবন নিকোব?
‘মধু বাতা ঋতায়তে মধু ক্ষরন্তি সিন্ধবঃ...’