খুলিতে হাসপাতাল: যে দেশে যুদ্ধ হয়

জুয়েইরিযাহ মউ ও অপরাহ্ণ সুসমিতো


জুয়েইরিযাহ মউ


খুলিতে হাসপাতাল: যে দেশে যুদ্ধ হয়
*
\\ যে দেশে যুদ্ধ হয় সেখানেও কবি থাকে, স্তন চোষা শিশু কোলে কবিরাও ঘর ছাড়ে।
পেছনে পড়ে থাকে ধোঁয়া ভস্ম বই, পোড়া-কাঠে বাচ্চার কাঁথা।

যে দেশে যুদ্ধ হয় সেখানে কবির বুক, টসটসে পুঁজে ভরা আস্ত নারকেল খোল।
মৃতের দুধের মদে বিষণ্ন দুপুর গাঁথা। //





ভবাদার খুলিতে হাসপাতাল
*
\\ ঘুমঘোর কাটার পর সবুজ আকাশ এবং কালো মাটি নিয়ে জেগে উঠবো আমরা। নারীদের মাতৃদুগ্ধ লাল হয়ে গেল বলে তাদের বিভ্রম জাগে! শিশুদের কান্নার মুখে ঝুলে থাকে সুমহান আপেল!
সকালকে ইতিহাস বলতে বলতে দৌড়ায় যে ছেলেটা তার চেহারা মেলাতে বসে লোকেরা। নবী নূর আজরাইল অসুর দূর্গা দেবতা সমস্ত ভজঘট পাকাতে থাকে!
ঠিক তখন মানুষেরা বোঝে না এটা পৃথিবীর শেষ না শুরুর দিক!
ঠিক তখন স্মৃতি বিভ্রমের মাঝে তেলাপোকা ছুটে!

কেবল ভবাদা পুরান ভাতে বাংলা ঢেলে পান্তা খেতে বসে আয়েশে! //
(উৎসর্গ ভবাদাকে)




খুলিতে হাসপাতাল: নিম গাছ ঈশ্বর
*

\\ পৃথিবীতে নিম গাছ ঈশ্বর!
ঈশ্বরের কাছে থাকা কাঁদাতে বিশ্বাস!
যেহেতু নিম গাছ ঈশ্বর!

প্রেমিকেরা মাছ আঁকা আয়না...
মাছেরা ফ্যালাস ...
চামড়াতে দেখি পুরুষে পুরুষে টক্কর! //

*
রিপু- মোহ
রস – করুণ
=============================================

অপরাহ্ণ সুসমিতো

কোন মোহ নেই

আপনার নদীর কবিতাটা নতুন না আগের? আমার নতুন লাগছে। এই আপনি তো খুব ভালো লেখেন। সিরিয়াসলি!! আর আল্লার দোহাই, একটু রাজনীতি ইতিহাস যোগ করে দিয়েন, মানুষ বা মানুষের অনুভূতি তো এর বাইরে থেকে আসতে পারে না। কখনো কখনো আপনার লেখা পড়লে মনে হয় মানুষের মাঝারে লোভ,কাম,ক্রোধ এসব কিছুই নেই।

আজকের নদীর লেখাটাও অনেক ভালো হইছে। আপনার ভাষা জোস। মার্কেটিং লাগবে, মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া লাগবে। আর ওই ভদ্রতা কমাতে হবে। আপনি বেশি ভদ্র। রিপু বিহীন ভদ্র। লেখার পক্ষে এটা ভালো না। ব্যক্তিগত জীবনের ভদ্রতার কথাই বলছি, কবিতায় না। ভদ্রতা কমান। আর বেশি বেশি প্রেম করেন। কবিদের একটা দুইটা রিপু নাই,,এআইটা কি হইল?

প্রেম ছাড়া কিছু হবে না। আপনার শাড়ি পরে কলেজে যাওয়া মেয়ের সাথে প্রেম না করলেই না। মাঝে মাঝে মদ খাবেন। মদ না খেলে কি কবিদের কাম জাগে? পড়েননি ?

কেবল ভবাদা পুরান ভাতে বাংলা ঢেলে পান্তা খেতে বসে আয়েশে!

আর রাজনীতি ইতিহাস যোগ করে দিতে বলেছি মানে একেবারে প্রচ্ছন্ন ভাবে। সত্যি বলছি, কলেজে যাওয়ার রাস্তায় না দাঁড়ালেন তো কেমন হবে! আমার মতো হন, আমার তো পাকস্থলী ভরা প্রেম, এদিকে ভাষা নাই! আপনার আছে অঢেল।

আমার যেই উচ্চতার প্রেম, লিখতে পারলে ঝড় হয়ে যেত! ভাগ্যিস পারি না। এই এক আপনাকে নিয়ে এত এত ভেবেছি, এত মাথা চালিয়েছি, হায়! কে করে এমন! যান, আপনাদের জন্য ময়দান ছেড়ে দিলাম, প্রতিযোগী কমলো। কিন্তু রিপু বিষয়ক মনোযোগ না বাড়ালে রসদ পাবেন কোথায়! ওই যে দেখতে পাচ্ছি জিন্স পরা আপনি, ওই যে কেডস পরা, কেমন সুন্দর করে কথা বলে, বসে কেমন সুন্দর! ভদ্রতা করলেই যশোরের ভাষায় ঝামেলা করে দেব।

আজকে আমি বাড়ি ফিরেও স্নান করিনি স্পর্শটুকু রাখব বলে তোমার হাতের মুঠোয় ভরা পুস্করিণী পরিবর্তে কী দেব আর ? আমার শুধু দু’ চার পাতা লিখতে আসা......
ঝড়ের মতো এসে পড়ল আর একটা প্রেম ! এখন একে কোথায় বসাই একটা ঘরে ঘর পরিজন, অন্যটাতে লেখার কাগজ বইপত্তর বারান্দাভর অতিথ্-স্বজন ! কোথায় বসাই?
একটি বিচ্ছেদ থেকে পরের বিচ্ছেদে যেতে যেতে কয়েকদিন মাত্র মাঝখানে পাতা আছে মিলনের সাঁকো মেঘ করে আসবেই। পথ ঝাপসা হবেই বৃষ্টি পা পিছলে তলিয়ে যাবে, তার আগে যতক্ষণ পারো আঙুলে আঙুল আঁকড়ে রাখো।

আমি ভাবলাম বুঝলেন, অনেক ভাবলাম, অন্য কবিদের সাথে আপনার তফাত কিসে?
তফাত জীবন যাপনে
আর কিছু না
তফাত বন্ধু বান্ধবে
তফাত প্রেম করায়,কাম ক্রোধ লোভ লালসায়
আর কিছুতে না।

এক্সপ্রেশনে তফাত শুধু, ওই আপনি খানিক এলিট হয়েছেন, দোষের না, স্বাভাবিক। আপনি স্টেশনে বসে থাকেননি, অভাবে পড়েননি, কোন ব্রোথেলের মেয়ের প্রেমে পড়েননি। মোহে লীন হন নাই।
আপনার প্রেমিকা বা বান্ধবীরা সবাই ওয়েল মেইন্টেইন্ড। এতেই তফাত…

দ্যাখেন, কবিতার বিষয়বস্তু এক। আপনি ওর চেয়েও ভালো লেখেন। কিন্তু মানুষ কবির কাছে অনেকটা নায়কের মত ব্যাপার স্যাপার আশা করে। সাজানো গোছানো কবি নিতে পারে না
আমি জানি না জয় গোঁসাইয়ের ব্যাপারে যা ভেবেছি তা ঠিক কিনা, কিন্তু তার লেখায় ওরকমই প্রকাশ পায়।


শোনেন, কলকাতায় একটা ডেভেলপমেন্ট হইছে, কি জানেন? সাব কন্টিনেন্টের কম্যুনিস্ট বলেন আর জাতীয়তাবাদী ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন বলেন, ওখানে শুরু। মনে করেন ১০০ বছর ধরে একটা চর্চা চলছে, মানুষ পড়ালেখা করে, মানুষ বলতে যারা সাহিত্য করে টরে, ওখানে বাম ফ্রন্ট ধান্দাবাজ হলেও ৩০ বছরের বেশি ক্ষমতায় ছিল! এটারও একটা বড় প্রভাব আছে। ওখানে কম্যুনিজম নিয়ে পড়েইনি অথচ শিল্প সাহিত্য করে, উঁহু এটা হবে না। ধান্দাবাজি করে হলেও জানতে হবে, ফ্যাশনসুলভ জানা হলেও জানতে হবে, এটা স্টাইল।

ওই যে কবীর সুমন, অঞ্জন, কি করেছে ওরা? সেই তো বব ডিলান, পিট সিগারের বাংলাকরণ, কিন্তু এই করেই তারা চমৎকার। ওর মধ্যে মানুষের কথা আছে। বাংলাদেশে সেই কালচারটা দাঁড়ায়নি,এখানে যারা শিল্প সাহিত্য করে তারা অনেকেই পড়ালেখাটা করে না। তারা পড়লেও ইতিহাস পড়ে না, রাজনীতিটা পড়ে না। তাদের কাজের মধ্যে ওই গভীরতাটা আসে না তাই এখানে মার্ক্সবাদটা ফ্যাশন হয়েও উঠতে পারেনি। এর চেয়ে আমি মনে করি এই অঞ্চলে বাউল ফকিররা অনেক অনেক এগিয়ে। তারা গভীর, তাদের জন্যেই, লোক সংগীতের জন্যই এই বাংলাদেশের অংশটুক যা sommriddho।
কাল শওকত আলী পড়ে আমি স্তব্ধ হয়ে আছি! এই বইয়ে যা লিখেছে, এই তেজ এই বিউটি কোথায় আছে! অথচ দ্যাখেন কলকাতায় কয়জন শওকত আলীর নামটা জানে! কেউই জানে কিনা সন্দেহ!


৩.
বাসায় আজকে হাঁসের মাংস রান্না হইছে। মাংস মুখে দিয়ে কষ্ট হচ্ছিল। যদিও সে কষ্টের কোন যুক্তিসংগত কারণ নাই।


ফাল্গুনের সন্ধ্যায় বর্ষা হয়ে শুনশান। আপনি জ্যাজ শুনছেন? দুঃখী জ্যাজ। কালো কালো মানুষের কষ্ট অনুপম গাথা। জ্যাজ শুনলে আমার সহ্য হয় না, বেশি melancholic। সুন্দর বেশি। কাল থেকে নাদিন গর্ডিমার পড়ছি। ইংরেজি ভাষাটা আরেকটু ভালো বুঝলে দ্রুত পড়া যেত।

আজকে ছুটি, কালও আমার শ্যুটিং নাই। এতক্ষণ ভাবছিলাম আপনার তো শনি রবি খুব ব্যস্ততা থাকে। আপনি প্রতিদিন রান্না করেন, তাতে কী থাকে? ঐদেশি খাবার? কি রাঁধতে পারেন? আপনি ঢাকায় আসার অন্তত ১ মাস আগে আমাকে জানাবেন। আপনাকে যশোরের রসমালাই এবং গৌরনদী দই খাওয়াতে হবে। আমার বাসা থাকলে আমি লালশাক এবং ছোটমাছ, বাঁধাকপির ঘন্ট, চালকুমড়ো এসব আপনাকে খাওয়াতেই পারতাম, সে তো আর হবে না। গৌরনদীর দই আপনি খেয়েছেন?


ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় রোগা, ফর্সা, বেশি বোকা ছিলেন? ইশ এবার ফেব্রুয়ারির আগে আমি সত্যিই ভেবেছিলাম আপনি বুঝি আসবেন। ধ্যাত!
৬ মাস ধরে ভেবেছি। আরও কত কি,,,এই ভিড়ে আপনি কি করে ঢাকায় চলবেন,,,ঢাকা ৫ বছরে অনেক খারাপ হয়েছে,,,এখানে কি আপনার কোন গাড়ি থাকবে? না থাকলে রিক্সায় চড়লে ব্যথা পাবেন, রিক্সায় চড়তে তো অভ্যাস লাগে। কোন কফি শপে নিলেও আপনার ভাল্লাগবে না। মানুষেরা খুব জোরে কথা বলে। তারপর আপনাকে বাসায় কে পৌঁছে দেবে? আপনি তো রিপুহীন অলৌকিক কবি।

আর শীতের দেশে জীবাণু বাঁচে না, কিন্তু এখানে জীবাণুর ফাল্গুন, আমাদের ধরবে না, আপনি আসলেই খপ করে ধরবে, তখন কি উপায় হবে? একবার তো ভাবলাম, ঢাকায় আসলে পুরোটা সময় আপনার পেট খারাপ থাকবে! এইসব ভাবনার দায়িত্ব আমাকে কেউ দেয় নাই!
সত্যি! তাতে আমি দোষ দেই না। আমি একজন নিরন্তর বোকাচোদা ধরনের মানুষ। বিশ্বাস করেন, প্রতিটা সম্পর্ক এরকম। আমি আপনাকে মনে করি, আপনাকে এত এত ভাবি, একদম সব ভুলে গাধার মত ভাবি। এমন মনে হয় যে এই ভাবনা বাদ দিলে, আপনি না থাকলে আমি দেশি গাভীর মত শুকিয়ে মরে যাবো। কিন্তু এর মধ্যেই যদি কোনদিন আপনি আমাকে একটা পরোক্ষ ঝাড়ি দিয়ে বলতে চান যে এইসব আপনার ভালো লাগছে না, আমি যতই আমার বিরাটকায় প্রেম থাকুক, ঠিকই আপনার যাতে ভালো লাগে তাইই করতে উদ্যত হব!
আপনি না হয়ে এই অবস্থানে অন্য কেউ থাকলেও একই। এটা ঠিক না। গরীব মানুষেরা এরকম হয়। গরীব এবং অনুৎপাদনশীল মানুষেরা এরকম হয়।

এই, আমার বুকের হাড্ডিগুলো সব কাউন্ট করা যাচ্ছে । মানে হলো শুকিয়ে যাচ্ছি। আরও আরও হাড্ডিসার হওয়ার আগেই প্লিজ চলে এসেন। আমার তো আর সুপার মডেল হতে হবে না, ওরা না খেয়ে খেয়ে এরকম হয়। মাত্র আয়নায় দেখলাম। ভীষণ খারাপ দেখাচ্ছে।

আপনার নতুন গল্পটা হুম ভালো হইছে তো। আমি তো ঠিকঠাক বলতে পারি না। আর শুনুন,আপনার অরুণিমার জন্যে মন ভিজেছে, এ মাসের শেষে তাকে দেখতে যাবো পাহাড়ে, সেখানে অন্টারিও লেক না থাকুক ফিউয়া লেক আছে। পাহাড়গুলো সব আপনি, লেকটা আপনার অরুণিমা। তাকে আমি ভালোবাসি তো। আপনার হয়ে ভেবে অকূল, আকূল না?

আজ আমাকে তো ৩৩ ই লাগছে। আমি সত্যি সত্যি ৩৩ হতে চাই না। আমার কি আর ১৭ থাকা হবে না! অথচ কে না জানে, আমি একজন কত ১৭!
যেমনই হোক, সুন্দর অসুন্দর, কি যায় আসে, আগে মুখের ব্রণ নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলাম,,,এখন বাতাসে গা ছেড়ে বসে আছি,,, আমার কেউ আসার নেই গো, মুখ গোল্লায় যাকগে। ইশ আপনি যখন ইউনিভার্সিটিতে পড়তেন, আমি কেন ঐ ক্লাসের লেদোবেদো ব্যাক বেঞ্চারটা ছিলাম না! বেশ প্রেমে পড়ে মরে যেতাম।

আপনার শহরে বসন্ত এখন? আমার বিষাদ। ওহ আমাকে তো পজিটিভ হতে হবে। সেদিন আমার নাটকের প্রোডিউসারও একই কথা বলল। শালার টাকার গুদাম। এখনও ‘সেক্স আপীল’ সস্তা পারফিউম মাখে। এসব লোক কানের কাছে উপদেশ দিলে কেমন লাগে বলেন তো?

উপদেশ দেয়া পৃথিবীর সবচে’ সহজ কাজ। মলত্যাগের মতো। বেগ পেল আর কমোডে গিয়ে বসো। ব্যস..

থাক কথা আর না বাড়ুক। কথা তো লতায় পাতায়। এখন এই ভেবে সান্ত্বনা খুঁজি যে আমার এই জনমে এমনই এক কবির নাগাল হইলো যে এই কবি কাম লোভের উর্ধ্বে।

থাক আপনার দেব চরিত্র হয়ে কাজ নেই। আমাদের সাথে মানুষের ভিড়ে একদম ন্যাংটা হয়ে থাকুন। কোথাও কেউ যদি আপনার সাথে টক্কর দিতে আসে বলবেন আপনার আছে অপূর্ব এক নিম গাছ,কোথাও হানাহানি নেই,কোথাও কারো ব্যাংকে রিপু বিষয়ক সঞ্চয় নেই।

পৃথিবীতে সব কবিই একা। কোন মোহ নেই তাদের।