তরল আগুন রাত... ফিরে আসুক হিমঘরে

ফরিদ কবির ও অনিন্দ্য বর্মন

ফরিদ কবির
......................................................
ভূমিকম্প

ঢুকে যাচ্ছি-
এক তলা থেকে তিন তলা অন্ধকারে
তিন তলা থেকে চার-পাঁচ-ছয় করে
একেবারে সপ্তম তলায়
এতোটা পিচ্ছিল রাস্তা, এতোই মসৃণ
যাচ্ছি, নাকি ফিরে আসছি, বুঝতে পারি না

কম্পমান তুমি
আমি দেখি- থরথর কাঁপছে দুই পাহাড়ের চূড়া
আছড়ে পড়ছে
তীরে
সমুদ্রের ঢেউ
গড়িয়ে পড়ছে লাভা, তরল আগুন...

আচম্বিত পুরো রাস্তা ভিজে একাকার

কম্পন থামলে দেখলাম-
আমাদের লাশ পড়ে আছে, তছনছ বিছানায়...
............................................................ .......

সঙ্গম

প্রদক্ষিণ শেষে একদিন তোর বুকে নেমে আসবে চাঁদ
মুঠোর দখলে নেবে পাহাড়ের চূড়া
আর, তোর সমুদ্রের উন্মুখ মোহনা

এবার তছনছ হবে নির্জন অরণ্য
চাঁদের প্রতাপে, আর সশস্ত্র চুম্বনে কেঁপে উঠবে ভূমি তোর

ধ্বংসই নিয়তি যদি, তবে এই অন্তহীন সঙ্গম চলুক
প্রাচীন গহ্বর তোর ভরে যাক গরম আলোতে

নিশ্চয়ই সেখান থেকে জন্ম নেবে অগণিত নক্ষত্রসন্তান
আর, তারা উড়তে থাকবে
আগামীকালের কোনো সৌর আসমানে...
............................................................
শরীর

বন্দি নয়, তোর হাত নিজে এসে আশ্রয় নিয়েছে
এই করতলে
তোর কাছে নিরাপদ নয় কোনো কিছু
তোর হাত, হাতের আঙুল

সামান্য যে গাছ, সেও অরক্ষিত রাখে না পাতাকে
তুলে ধরে যতোটা সম্ভব শূন্যে, স্পর্শের বাইরে
যে কারণে পাতা থাকে নিতান্ত সবুজ

স্পর্শাতীত কিছু নেই তোর
যে রকম হাতের ইশারা বুঝে তোর হাত
ঢুকে পড়ে আমার মুঠোয়
কথা হয় আঙুলে আঙুলে

শরীরও যথেষ্ট জ্ঞানী তোর
ভাষা বোঝে আরেক দেহের...

====================================================

অনিন্দ্য বর্মন

দেহান্তে... দেহ এবং দেহীর শোকগাথা


স্পর্শের আলোড়নে কাম। যেন সঙ্গম ফুরিয়ে লেখা। রাত অথবা ঘণ্টা বেজে ওঠে। আহা! এতো নগ্ন রাত আগে আসেনি। আমরা পড়ে নিচ্ছি অন্ধকার বৃষ্টি। তথ্য খুঁজে ফেরে শিলালিপি।
দেহীর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি। আমাদের যত্ন আছে, প্রস্তুতি নেই।
ভোরেও রাত ফিরে আসে। এই দীর্ঘ অকালবোধনের নাম সমকাল। কারণ বিমূর্ততার ভূমিকা থাকলেও, জবানী নেই। যে কোনও শয্যাই মন্ত্রপাঠে স্বীকৃত। শরীরে ধর্ম আহত হয়। অপটু শরীরে রাত বাড়ে। গাফিলতির শোরগোলে আমরা পোশাক পাল্টে ফেলি। গর্ভ ভরে উঠলে জিভ খসে পড়ে। টিকটিকির ল্যাজও। আদিমতা ফিরে আসে। গোসলের কাচে নগ্নতা বন্দী থাক। শয্যা জানুক সকল গোপনীয়তা। নাঃ, আমরা গন্তব্যে পৌঁছেও ঠিকানা ভুলে যাই।

প্যাকিং ফর আ জার্নি টু নো-হোয়্যার।
‘আই লাইক টু ওয়াক ইন দ্য রেইন, কস নো ওয়ান ক্যান সি মাই টিয়ারস...’। নো-হোয়্যারের নাম বেছে নেওয়ার খেলা সারারাত।
আমাদের সময় পেরিয়ে উঠে আসে ঝড়। বৃষ্টির প্রকোপে ঘর ভরে ওঠে। এই অফুরান ক্লান্তি আমায় ক্ষমা করবে না। বীজ রোপনের ব্যর্থতা সরিয়ে অবরুদ্ধ সুড়ঙ্গ। হয়ত কখনও ল্যাণ্ডস্লাইডে ভেঙে গেছে লকগেট। অথবা সেই তীব্র শব্দ ঢাকা পড়েছিল কোনও সুতীব্র আর্তনাদে। আমি শুধু মনে রেখেছি সেই অন্ধকার দুপুরের ঘ্রান। আহাঃ শরৎ, কাশ আর বাতাসে ফুটে ওঠে দুর্গা।
হে নারী, একাধিক রাত্রি যাপনে তুমি ব্যাভিচারিনী। আমি ভৌগোলিক উত্তরের পাতায় রেখে আসি পাহাড়, উপত্যকা, যোনিচ্ছেদের চিহ্ন।
স্বপ্ন ফুরিয়ে এলে হারিয়ে যায় বুলার সাথে ছক্কা-পুট খেলা। মৃত্যু সঙ্গম। ছাই ভাসিয়ে দেওয়ার আগের মুহূর্তে আমি মিশে যেতে চেয়েছিলাম...।
আমিত্বের মৃত্যু জুড়ে অমরত্বের বাগান। চারাগাছের শবদেহ। বঞ্জর জমীন ঢাকা পড়ে কাফনে।

রাত্রির প্রথম উদ্গার পেরিয়ে তুমি কথা দিয়েছিলে...। আড়ষ্ঠতার খোলশেই অসতর্কতা ছুঁয়ে ফেলা। জলে ধুয়ে যাওয়া সকল পাপ গর্জে ওঠে হাজার আর্তনাদে।
রাস্তারা জেনেছিল সেই আগুন। আইসক্রিম গলে গেল উত্তাপে। আর কতো জোনাকি সন্ধ্যা পেরিয়ে তুমি চলে গেলে। সঙ্গম না থাকলেও দেহ ছিল...গোপনীয়তার গর্ভে।
আমার আমি অন্য শরীর খুঁজতে থাকে। আর তুমি খুঁজে নাও নতুন জীবন।

রাত ফিরে আসুক হিমঘরে। ডট ফ্লেভার্ড লাশ।
দেহ থেকে দেহীতে উত্থান। ফুরিয়ে আসে ঘর। মায়া বুনে নেওয়া মাধবীলতা।
শরীর ফুরিয়ে এলে, উত্তাপের সকাল। সূর্যের তীব্রতায় ফুরিয়ে যেতে শেখা। প্রচেষ্টার খেলাঘর মুছে কবরিস্তান। আগুন পুড়ে আসে। আমি গায়ে মেনে নিচ্ছি প্রজাপতি।