রিপুত্রয়ী

স্বপন রায় ও শৌভিক দত্ত

স্বপন রায়

রিপুত্রয়ী
……
কাম
......................
ক.
তোমার পিঠে হুকের গৎ আঁকা
আমি চঞ্চল হে

খ.
নতা এই চুমুর পর্যায়ে অস্ফূট প্রথম ওভার
খেলবো না ছেড়ে দেবো?

গ.
তো, হঠাৎই অস্তের টান
সরু প্রদেশের কোমরে যদিও নিম্নচাপের আলো

ঙ.
শুধু কাৎ হয়ে পড়া টি-পটের আর কি
শুধু কাপেরই কেঁপে ওঠা, উপছে পড়া আর...

মোহ
............
ক.

তোমার কথাই আমার স্নায়ু
তা হবার নয় যা হবার নয় ভেবে ভেবে

খ.
ভেতরে কি ভাবতে ভাবতে
আগুনের কি ভাবতে ভাবতে চলে যাচ্ছিলে
পুরনো চোখ
একটু জলও ছিল কিন্তু

গ.
একটি আঁকে একটি থাকে
অপেক্ষা আর প্রতীক্ষা
ঘ.
একটু কষ্ট জমে আছে, বাকিটা হাসি
পুরো তো কিছুই নয়
বৃষ্টি পড়লেও নয়

ঙ.
বাড়ি ফেরার কথায় বাড়িও আনমনা

লোভ
......
আমি জানতাম এই ফাইলের অনেক নিচে, সইগুলোর তলায়
একটা ঘাঘরা জন্ম নিচ্ছে
আমি কিছু একটা বলেছি, আস্তে নয় আবার খুব জোরেও নয়
সব্জি চেষ্টা করছে স্টল থেকে বেরিয়ে আভা তুলতে
এরকম কিছুটা

এরকমই টুসকি একটা বাজে নাম
সঙ্গম করার সময় হয় কি, আমার বাজে নাম, বাজে কথাই ভাল লাগে
তারপর রিয়া ব’লে ডাকি
সাধারণভাবে

এভাবেই আগে কখনো কেউ সব্জির মাঝখান দিয়ে যাওয়ার সময় ডেকে ওঠেনি
বাচ্চু বাচ্চু

ফাইলে আঙুল লাগে
ঘসা লাগে
ঘাঘরা সরে যায় সই টই পেরিয়ে, কি হিল্লোল কি তরঙ্গ
এসবই একটা রাতের ঘটনা
টুসকি রিয়া সাজছে, আনন্দ মাখছে রিয়া...


=============================================


শৌভিক দত্ত


রিপুমোচনের ছায়ায়

এক(কাম)


খেলার বাইরে দাঁড়িয়ে খেলার ছায়া।সেই প্রথমপাঠে ভূগোল খুলে যায়।গৎ আঁকা চকবন্দী বারান্দার।তার ছিটকে যাবার ভয় হয়।যেহেতু ছোটবেলায় আকাশ চিনতে গিয়ে একদিন...অথচ সে জানে অনেক গাছপালা ঘেরা এই চার্চের চৌহদ্দিই তার সীমানা।জানে এই ঘেরাটোপের বাইরে কোনও উড়াল নেই।কোষের গভীরে কোথাও ডালপালার নড়াচড়া সে টের পায়।টের পায় আনুষঙ্গিক নিম্নচাপ।আজকাল রাতে ঘুম রাখে না তার চোখ।
চার্চের প্রধান যাজক গুরুতর অসুস্থ।তাঁর দেখাশোনা করতে পাশের গ্রাম থেকে মেয়েটা আসে।মেয়েটার চোখ, হাসির চোরাটান তাকে বিহ্বল করে।শামুকের মত গুটিয়ে ওঠে সে।কিন্তু অনুভব করে তার বিপরীতে খেলাটা আস্তে আস্তে ঘুরে যাচ্ছে। রক্ষন আলগা হচ্ছে তার।বুকে কোথাও গির্জার বিশাল ঘড়ির শব্দ।
শরীরের জাগরণ সে বুঝতে পারে।রক্ষন মজবুত করতে চেষ্টা করে আপ্রান।সে জানে ছোটবেলা থেকেই নির্দিষ্ট করা তার গন্তব্য।তার জীবনের অধিকার একমাত্র ঈশ্বরের।এই লক্ষণরেখাই তার ধর্ম,তার মুক্তি।তাকে যাজক হতেই হবে।চারিত্রিক দুর্বলতা তাকে মানায় না।তবু কেন শরীরে এই অদ্ভুত দোলাচল......
খেলাটা শেষ হয় একসময়।জয়ী সে।শরীরের রোগ তাকে হারাতে পারেনি।শুধু মাঝে মাঝে রাত আলগা হলে সে অপলক চাঁদের দিকে চেয়ে থাকে। খুব চাঁদ খিদে হয় তার।

দুই (মোহ)


ভাবনা চুক্তির বাইরে যে সম্ভাবনার খোলা,সেখানে আগুনের সমান্তরাল বৃষ্টির হাঁটাপথ।উশকে ওঠে গোপন। নিউরনে নিউরনে রং নির্ভর এক উপাখ্যান।শিথিল হলে হয়ে ওঠার দিকে গড়িয়ে যায় ছায়া।চেতনারঞ্জন।এই বিবর্তনে অঙ্ক চলে না।সমস্ত ধারাপাত যখন এলোমেলো, সহজপাঠে দূর ঘনিয়ে আসে।ঢেউয়ের শেকড়ে আলগা হয় বনিয়াদ।ঘোরের অপারে কোনও এক নিরুচ্চার শূন্যতা।
সারারাত শহর সাজতে হয়।ইচ্ছেশরীর বেয়ে পোকার মত কিছু অনুবাদ।এ সময় বৃষ্টি নামে অঝোর। ভিজতে ভিজতে লোকটা লক্ষ্য করে ভেতরের আগুন নিভে গ্যাছে।ফুরিয়েছে উশকে তোলার জ্বালানীও।এক সিদ্ধান্তহীনতা গ্রাস করে তাকে।বাড়ী ফিরে যাবে ?বাড়ী কী কোথাও আদৌ আছে তার?যেভাবে তামাম অবশিষ্ট সে রাস্তায় ছড়িয়ে দিয়েছে,তা কুড়িয়ে তোলার জন্য তার পা আর চলতে চায় না।অথচ লোকটা সারাজীবন ধরে একটা বাড়ীর স্বপ্ন দেখে এসেছে।
আকাশের দিকে মুখ তুলে নির্বাসন প্রার্থনা করে লক্তা।কবিতাকে সে চলে যেতে দিয়েছে।এতোদিন তার জীবনে কবিতা ছাড়া অন্য কিছু ছিল না।কবিতার সঙ্গে এরকম কতো বৃষ্টিভেজা রাতের ময়দান ,কলেজস্ট্রিট,আউট্রাম ঘাট,সিকিমের ডাকবাংলো......
মোবাইলে চোখ পড়ে তার।এতক্ষন নিশ্চয় কবিতার ট্রেন ষ্টেশন ছেড়ে দিয়েছে।
যন্ত্রটা অচানক বেজে ওঠে।“চলো একবার ফিরসে অজনবী বন জায়ে হম দোনো”লোকটা মুখ তুলে আকাশ দেখে।মোবাইলটা ছুঁড়ে ফেলে এগিয়ে যায়।রাতের শেষ মেট্রো আসার সময় হল প্রায়।যন্ত্রটা বাজতেই থাকে।

তিন (লোভ)


“ভাব সম্প্রসারণ করো এই হাসির” এমনটাই বলেছিলে মনে হয়।অথবা নাও বলতে পারো।এমনও হতে পারে তোমার আঘ্রাণ।লক্ষ্য করো, গন্ধ কথাটা খুব মামুলী তাই লিখলাম না।গন্ধের পরতে পরতে লোভ। জমতে জমতে নদী ফুরিয়ে আসে।ধরা যাক দিঘী তোমার ডাকনাম। তখন সুর, তখন সরগমের আট দরজা খোলা।পাখীদের কিচিরমিচির।জলসায় ঘাঘরা চলে যায়।কাঁচুলির দুপাশে ঝলসে ওঠে চাঁদ। আমি চিরবামন, তাই খুব চাঁদকষ্টে ভুগি।যেন টুসকি মারলেই স্মৃতি থেকে ফুল সরে যাবে।তোমার অন্যরকমে আমার খুব ঘুম হয়।খুব বৃষ্টিলোভ।দানা দানা হয়ে ঝরে পড়তে ইচ্ছে হয়।
আজকাল যেভাবে অভ্যাস পাল্টে নিয়েছি, শিখে নিয়েছি আলোগড়নের কৌশল,এক ব্যাখ্যাতীত সরলীকরণের দিকে হেঁটে চলেছি শামুকের সতর্কটায়,নোঙর হারাতে হারাতে ঠেলে উঠছে এক অনিবার্যতা।এই যাত্রায় খোলস বদল হচ্ছে প্রতিবার ,আঙুল বেয়ে ছড়িয়ে পড়ছে জ্বর, রোগমুক্তির পর শেকড়ের কাছে ফিরে গিয়ে দেখি কিছু পাপ জমতে জমতে পাতাল ক্রমশঃ