কাম অন বেব...

শুভ আঢ্য ও রুখসানা কাজল

শুভ আঢ্য

কাম অন বেব...

“টেবিলের ওপর রাখা হয়েছে একটি টমেটো”
ওই যে ট্রে আর তার ওপর টেবিল নামক শব্দটি
প্রতিস্থাপিত হল আর তার ই-কারান্ত ‘ব’-টি পড়ে আছে লাল
তার বাণ্ডিল টুপি মসৃণ আঢাকা সেখানে যোনির দেশ
তার ওপর ছয় ক্রস ছয় একটি আয়তন গোলক
প্রাকারান্তরে দু’টি সমযোজনের অণু
একে লেপটে রয়েছে অপরকে সাম্য
এভাবেই আমরা শিখেছি ইজেরের ভেতর

আর যে ট্রে’টি অন্ধকার ভূমিস্বরূপ সেখানে রাঙা
কাম’টি ‘বন’ শব্দের ওপর স্যাটিসফায়েড
এদিকে সেদিকে ট্রানফরমেশন
‘চুষে দিয়ে যাও’ বলে রাং ছড়িয়ে যে টমেটো পড়ে
আছে তার আইসক্রিমের গলনাঙ্ক নিয়ে
পরীক্ষা পূর্ণদৈর্ঘ্যে চিত্রসহ ব্যাখ্যা
কাগজে উপলব্ধ অথচ শব্দটি রয়ে গেছে রাঙা
ভাঙা মাজার তলায় গেল সকালের গ্রিন-টি টেবিলে



এসব সরিয়ে রাখো, তন্ত্রের ভেতর নির্ভার সম্যক দেহ, যা কিছু অ্যাডিপোস, হাড়ের গঠন থেকে দেখা যায়, তা বাহ্যিক। এই রঙটুকুতে প্লেটো বসেছিলন। অনোন্যপায়, শরীর নিয়ে বসা একজন গ্রীক, খুব গভীর তার বসা শরীরের ওপর থেকে দেখেছিল টেবিলটি আধার ছেড়ে একটি গাছ, যেন বা প্রাচীন গাছেদের অবয়ব খুলে ফেলে তারই নীতির কাছে স্থির। যদিও নীতি একটি আভ্যন্তরীণ ছলনা, যেভাবে একটি শরীর অপর শরীরকে চা’য় ফোটাতে, তারই অ্যান্টিডোট। টেবিলটি ফুটেছিল, তারও অতীতে, টমেটোটির পাছার তলায় এবং প্যান্টির দাগেও ফুটেছিল শব্দটি। তার মালকোষ রাগ নিয়ে ফুটেছিল। প্লেটো ফুটেছিলেন, তন্ত্রের ওপর আর দৃশ্যত বোধের ভেতর যে আঁচড়ের দাগ – তার নাম প্লেটোনিক, সিনেমা থেটারে হয়েছিল।



আমাদের কর্ণের উপমা শুধু বানানটি তফাতে
মাটির ওপর একটি অমাবস্যায় যথোচিত বানানটি
খাড়া হতে উদগ্রীব তার রেফ সম্বন্ধিত
গ্রীবাটি ঢুকিয়ে দিতে বড় করুণ তাকে কর্ন
বলে ডাকা যেতে পারে যেমনটি পূর্ণিমার অছিলায়
লুব্রিকেটিং অয়েলের ডাকনামে সে’ও তো এক অবসিন
বিনয় তারও লুকানো ফলার মতো, তার ল্যাঙটে
মাখামাখি, চুল আর চেরা চুলের মাঝখানে
সিন তো একটাই আমাদের উপমার নিচে তরুণ মাংস
আর বৃদ্ধ ক্ষোভ তাহাদের সমকোণে বসা প্রতিটা অক্ষের
একটা নামকরণ বনে থাকবে, বড়ই স্থানাভাব
মনে পড়েছিল

উড়ন্ত মাঠটির পাশে সরে বসে আছে ভালবাসা নামের শুয়োরগুলো। তাদের পোঁদের ভেতর গুটলি হয়ে থাকা বাচ্চারা ঐশ্বরিক হাসছে। এ পথে কোনো বীর্য নেই, ডিম্বাণু সরণি থেকে অন্য পাড়ায় যে জন্মের নামে শুয়োরগুলি টপকে পড়ছে শিকের সামনে, তাদের কোনো রসায়ন - অলিখিত। প্রাণ এক চেতনা, তারা সেই চেতনার ওপর ঝুলে পড়া এক-একটা খারিফ শস্যবিন্দু যাদের ঋতু নেই, অবস্থানটুকু প্রতিভাত হতে হতে সরে এসেছে মাঠটির পাশে এবং আমরা ছোটোরা ভালবাসা নামে তাদের দিকে ছুঁড়েছি থুতু। ওহ্‌, মাসিকের প্যাডটুকুও দিয়েছি সেখানে।

“যোনি মেলে ধরো, শান্তি দাও”
সুধা হে, তোমার বেসিন খোলা... দু’দিকের বেসিন
টইটই করে যাচ্ছে দুধে, দু’দুবার করে পড়ো
একবার নয়, দ্বিতীয়ে স্তনের কথা পূর্বে প্রোথিত হয়ে আছে দেখো
হাইমেন লিখছি, ওই পৌরুষ কি কঠিন ইওর হাইনেস
ক্ষমা তুমি করে দিয়েছ ব্যথায় সুধা হে, গলার কাছে কি নিদারুণ
একটি লিঙ্গের ফুল ঘা দেয়, একক, দশক, শতকে বলেছ
শুনেছি মাইয়া কামের পাখী সে ঘুঘুর মুখে
একটি টমেটো বীচি লেগে আছে পাশটিতে
সে ঘুঘুর ফাঁদে ওহ্‌ সুধা দেখেছি খাল রঙের তোমার
গোলাপী বেসিন খোলা একবার নয়, দু’দুবার দেখেছি

টেবিলের ওপর একটি ননকনফার্মিস্ট ভোগ বৈজ্ঞানিক নাম
টমেটো খেতের পাশে একশো মোমবাতি
একটি রাঙা কাম অবৈজ্ঞানিকভাবে আমাদের ওপর

একটি কামরাঙা প্রতুল আবহে ঝরে পড়ছে আমাদের ওপর, তার ফলত্বক নেই, শাঁস নেই, শুধু ঝড়ে পড়ার মুহুর্তটুকু ধরা আছে তোমার জিভে এবং লালায় আমার।

(ঋণ – শ্যামল সিংহ, বিনয় মজুমদার, মলয় রায়চৌধুরী)

====================================================

রুখসানা কাজল

উজ্জ্বল উদ্ধার

রান্নাঘরের জানলা দিয়ে শিলু দেখে মা কেমন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ইশকুলে চলে গেলো। আব্বু এসেছিল অনেক রাতে। মাকে ছিঁড়ে না খেলে আব্বুর শান্তি হয় না। দিদা ওকে আটকে না রাখলে আজ ও আব্বুকে সত্যি সত্যি মেরে দিতো। লোকটা ভাড়াটে খুনি। তাতে এখন আর শিলুর খারাপ লাগে না । কিন্তু যেভাবে মাকে ছিঁড়ে খায় তাতে ওর খুন করে ফেলতে ইচ্ছে করে লোকটাকে।
চায়ের কাপে চিনি গুলতে গুলতে শিলু বেরিয়ে আসে বারান্দায়। রাগি রাগি মুখে দিদা বসে আছে। হঠাত দেখলে মনে হবে পঁয়ষট্টি নয়, দিদার বয়েস মাত্র পয়তাল্লিশ। যেনো মায়ের চেয়ে অল্প কিছু বড়। বরং ওর মাটা কেমন থুবড়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। অসুখি রগগুলো বেরিয়ে পড়ছে গলা, কপাল আর চোখের কোণ জুড়ে।
দিদাকে শুনিয়ে শব্দ করে চা খেতেই চেঁচিয়ে ওঠে দিদা, একদম অভদ্রতা করবি না সু। শিলুও গলা চড়ায়। নিজের রুমে ঢুকে পড়ার আগে চেঁচিয়ে বলে, এ বাড়িতে আবার ভদ্রতা। ওয়াক থুঃ, মাই ফুট !
লালবরফ গলে যাচ্ছে। পৃথিবীর অস্তিত্ব দ্রুত হুমকির মুখে। এরকম এক আর্টিকেলের উপর চায়ের কাপ রাখে শিলু। রেগে মেগে ভাবে, গলুক গলুক আরো গলে উপচে পড়ুক বরফ। ডুবে যাক শালার পৃথিবী।
চড়চড় করে রাগ বাড়ছে শিলুর। আজকাল মাকেও অসহ্য লাগে। মহিলা স্রেফ একখন্ড লাল মাংসপিন্ড ছাড়া আর কিছুই না। ব্যক্তিত্বের “ব” বলে কিচ্ছু নেই। ধার নেই চোখে, মুখে, মনে। অথচ স্বাবলম্বী, সুন্দরীও কম নয়। তারপরেও নিজের শরীরটাকে হাডুডু খেলার মাঠের মত ছেড়ে দেয় কেনো কে জানে!
মা কি ভয় পায় লোকটাকে ?
পাওয়ারই কথা। শিলু বোঝে টিস্যু পেপারের মত অগুন্তি মেয়েকে ভোগ করা আর পাখির মত গুলি করে মানুষ মারতে পারা লোকটা বহুত ভয়ের ব্যক্তি। ছোটবেলায় ও একবার দেখেছিল, মায়ের গায়ের উপর চেপে আব্বু হুহুম করে মাকে মারছিল। কারো গায়েই জামাকাপড় বলে কিচ্ছুটি ছিল না।
ভাগ অঙ্কের ভাগফল মিলছিল না বলে ও মাকে দেখাতে এসেছিল। দিদা খপাত করে ওকে টেনে নিয়ে বলেছিল, অঙ্ক মিলছে না ? কই, আমাকে দেখাও ত আপুসোনা !
শিলুর তখন ক্লাশ থ্রি। দিদা যতবার ওকে অঙ্ক বোঝায় শিলুর চোখে ততবার ভেসে ওঠে ভাজ্য ভাজকের নগ্ন উদোম দেহ। যেনো ভাগশেষ কেঁদে ককিয়ে বলছে, দরোজা তো বন্ধ কর। দরোজাটা ---
এরপর থেকেই শিলুর শরীর মাঝে মাঝে কেঁপে ওঠে। বুকটা সংকুচিত হয়ে যায়। হাত শক্ত করে কিছু ধরতে চায়। মাত্র কয়েক সেকেন্ড। অনেকটা সাপ দেখলে কিম্বা জোঁক দেখলে যেমন হয়। শিলু কাউকে বলে না।
আব্বু যেদিন আসে দিদার মেজাজও থাকে সপ্তমে। বার বার গজরায়, জানোয়ার। জানোয়ার। ওকে বিষ দেব আমি। মেরে ফেলব শয়তানটাকে। শিলু অপেক্ষা করে থাকে। দিদা কবে বিষ খাওয়াবে সেজন্যে।
কিন্তু দিদা বিষ খাওয়াতে পারে না। শিলু মনে করিয়ে দিলেই দুচোখ জলে ভাসিয়ে দেয়। একটা মোদো মাতাল, উদবাহু কাম তাপে ভরা বাজে মানুষকে বিষ দিতে কেনো যে এত মায়া শিলু বোঝে না। রাগের চোটে ও বুঝতে চায় না।
আব্বু লোকটা চলে যেতেই গরম পানিতে নুন ফেলে দিদা ভীষণ নরম গলায় মাকে বলে, যাও মা শরীরটাকে সেঁকে নাও। ঘরে কি ভদকা আছে ? থাকলে একটু ঢেলে নিও পানিতে। জানোয়ারটা যদি বুঝত ! শরীর সে ত ভালোবেসে নিতে হয়। উপভোগ করতে হয় ফুলের পাপড়ির মত পরতে পরতে খুলে !
শিলুর এখন ভার্সিটি। ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে ঘুরে বেড়ায়। একটা বোরকা কিনেছে। বসুন্ধরা সিটির ওয়াশরুম থেকে বোরকার সাথে সানগ্লাস পরে শিলু যখন বেরিয়ে আসে কেউ চিনতেই পারে না।
প্রথমদিন রবীন্দ্রসদনে আব্রারকে চমকে দিয়ে বলেছিল, এই ছেলে বল ত আমি কে?
আব্রার গড়াগড়ি খেয়েছে তিনবার, তুই আর বোর্কা। হায় আল্লাহ। আব্রারের মাথায়, গেঞ্জিতে শুকনো ঘাস। হাঁটু ভেঙ্গে বসে ভাল করে শিলুকে দেখে বলেছিল, সত্যি চেনা যাচ্ছে না। কিন্তু তোকে যে দস্যুরাণি দস্যুরাণি লাগছে শিলু!
শিলু এদিক সেদিক তাকায়। এই দুপুরে একজন রুগ্ন বাদামওয়ালা ছাড়া আর কেউ নেই এখানে। টুক করে আব্রারকে কিস করে, আমি তো দস্যুরাণিই। আব্রারের গা ছুঁয়ে বসে, তুই ত জানিস আব্বু পলিটিক্যাল পান্ডা। আমাকে কিছু বলবেনা কিন্তু তোকে পলিথিন ব্যাগ দিয়ে মুখ বেঁধে ধলেশ্বরীতে ভাসিয়ে দেবেনে তা বুঝিস।
আব্রার জড়িয়ে ধরে শিলুকে। ও জানে ওর বাবাকে উড়িয়ে দিয়েছিল শিলুর আব্বু। পৌরসভা ইশকুলের সামান্য একজন শিক্ষকের এমন দুর্দান্ত সুন্দরি বউ থাকতে নেই। একজন শিক্ষিত দামি ব্যবসায়ি কাম রাজনীতিবিদের চোখে পড়ে গেছিল আব্রারের মা। বহুদিন ধরে আপোসে কাজ হয়নি। সুতরাং সুপারি গিলেছিল শিলুর আব্বু।
আব্রার চাকরি করে। একটি বহুজাতিক কোম্পানির জুনিয়র এক্সিকিউটিভ। একা থাকে একটি ফ্ল্যাটে। কবিতা লেখে। দেশি বিদেশি গল্পের বই পড়ে। মাকে ভীষণভাবে ভালবাসে। আব্রারের মা সেই ব্যবসায়ির দ্বিতীয় স্ত্রী হয়ে ব্যংকক, সিংগাপুর, ইতালি, ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে ছেলেকে ফোন করে, বাবাই বাবাই তোমার বাবাকে ভুলো না সোনা। তোমাকে নিয়ে যে তার অনেক স্বপ্ন ছিল।
আব্রারের বুকের সাথে মিশে যেতে যেতে শিলু ভাবে, দিদা যে বলে অতিরিক্ত কাম, ক্রোধ, লোভ, মদ্য, মোহ, মাতসর্য থাকতে নেই রে শিলু। মানুষ তাইলে অমানুষ হয়ে যায় ! তাই কি সত্যি ! জীবন কি কোন ছাঁকনি নাকি চালুনি যে এগুলো ঝেড়ে বেছে ভাসিয়ে বা উড়িয়ে পুড়িয়ে দিয়ে ভালো মানুষ হয়ে থাকা যায় ! শিলুর যে ভালবাসারই সমান ক্রোধ !
এই যে এখন আব্রারকে নিতে নিতে ওর ইচ্ছা করছে খুন করতে। যতবার চুমুতে ভরিয়ে তুলছে আব্রার, ততবার ওর খুনের নেশা জেগে উঠছে। খুন ও করবেই। কিছুতেই এ পৃথিবীতে আব্বুকে বাঁচতে দেওয়া চলবে না। শিলু জানে আব্রারের পরিচয় জানতে পেলে আব্বু মেরে ফেলবে আব্রারকে।
শিলু আবার কেঁপে ওঠে। দুহাত পায়ে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আব্রারকে।
অন্ধকার বারান্দায় পা ছড়িয়ে বসে আছে দুজন। শিলুর নগ্নবুকে, পেটে, নাভির নমনীয়তায় ঠোঁট রাখে আব্রার, কুল বেবস, কুল। খামচে ধরে শিলু, কি করে পারিস তুই? সত্যিই কুল নাকি ক্যামোফ্লেজ তোর ?
শিলুকে জড়িয়ে ধরে হাসে আব্রার, হাহাহা। লবঙ্গ গন্ধ ভাসা শিলুর চুলে মুখ ডুবিয়ে আব্রার ভাবে, বলবে নাকি ওর বুকের ভেতর হাজার হাজার শ্রমণ দরবেশের শান্তিসংগীতের কথা ? বলবে কলিঙ্গ যুদ্ধে লাল হয়ে ওঠা দায়া নদি আর কারবালার যুদ্ধে রক্তাক্ত ফোরাত নদির হাহাকারের ইতিহাস ? বলবে ওর বাবার রক্তে ভেসে যাওয়া ওর মার কষ্ট যন্ত্রণার কথা ?
ক্রোধ, কাম, হিংসা, ঈর্ষায় আব্রারও ডুবে যায় কখনো কখনো। কত রাত, কটুগন্ধ ভরা কত দিনের কত সময় ও বুঁদ হয়ে থাকত গাঁজাপাতা আর রিরংসার ঘন ঘূর্ণিতে !
ক্রন্দসি শিলুকে বুকে তুলে নিয়ে আব্রার বলে, ক্যামোফ্লেজ নয় রে পাগলি। আমার ভালোবাসার চাইতে অন্য কিছুকে আমি বড় হতে দিইনা কখনো। ভালোবাসার জন্যে আমি হাজারবার মরতে পারি। ভয় কি তোর !
----------------------------