গরমা-গরম

অগ্নিজিৎ




অসমাপ্ত গালাগাল থেকে শুরু করা যাক। বুদ্ধির পরিক্রমা সেরে উকুন বাছতে গেছে মেধারা। ফাটল দিয়ে দেদার দাঁত কেলিয়েরা বক্তব্যের মাড়িতং জগৎ খুলে বসেছে। আন্তর্জালিক সমোচ্চারিত শব্দ খোশ ও মেজাজে বিজ্ঞাপন শানিয়ে যাচ্ছে। বহু উচ্চারণে ক্লান্ত একটা জিজ্ঞাসা বেবাক চিহ্ন হয়ে ঝুলে। আর আমাদের ঘাটতি ও পেড়ে ফেলার ঐতিহাসিক গুণভাগ নির্ণয় করতে থাকে সেইসব যোগ বিয়োগ।
এদিকে লেনিনের ভেঙে পড়ায় শ্যামাপ্রসাদের চোখের জল আটকানোর বানিজ্যিক সম্প্রচার সঙ্গমের উৎসাহ লঘু করে তোলে। ফলে ব্যাপারটা দাম্পত্যেও গুরুতর হয়ে ওঠে। এরপর গাজা থেকে সিরিয়া হয়ে রোহিঙ্গাদের মতো উদ্বাস্তু মনে হয়।
ভেবে চিনতে যখন আর কোনও ভাবনা আসে না, তখন নৈতিক ঘামাচিতে জাতীয় কর্তব্যের চুলকানি চলতেই থাকে। GST, ডেঙ্গু, ধর্ষণ, DA, রামরহিম ইনসান, বিরাট কোহলি...। পশ্চিমবঙ্গে নাকি ধর্ষণের থেকে ডেঙ্গু বেশি হচ্ছে!!! ভালো তো...ভালো!!! ??? এমন অবস্থা যে নেট ব্যালেন্স না থাকলে মৃত্যু খবরও পৌঁছায় না। দেহ ছুঁয়ে selfie তুলে শোক confirm করতে হয়। সময় পুরো আমির খান। মানে জো জিতা জাস্ট সিকান্দর। গরমে গরম হওয়ার মতো। আপাতত সংবাদপত্র থেকে পাতা ওল্টালাম। এরপর যেটুকু কাটাকুটি সবই ইকিরমিকির।
জীবন আর কিছু না হোক মুদ্রা দোষের। মুদিখানা সেজে থাকা সর্বক্ষণ। ফর্দ মিলিয়ে ঠিকঠাক টিক মেরে যাওয়া। সত্যি বলার হেঁচকি পুরোটাই সামাজিক। যে যার মতো হেগে যাও নইলে তুমি শালা বাথরুমটুকু পাবে না। এর থেকে দেশকে ভালবাসা অনেক সোজা। অন্তত জাতীয় পতাকা হাতে নেবার অনুমতি বউ-এর থেকে নিতে হবে না। লিঙ্গের মতো শিরদাঁড়া আর দাঁড়ায় না। চাদরের তলা থেকে ভেজা গলায় ‘জয় হিন্দ’। ছলছল চোখ আরও একবার মনোজ কুমার মনে পড়ে যায়।
আসলে যুক্তি যতটাই জোরালো হয়, হার ততটাই নিশ্চিত। অলরেডি valuation হয়ে গেছে Indian market-এ আমাদের। এতো চাপ সত্ত্বেও আমাদের পাপ নেই। তাই আত্মহত্যাও নেই। শুধু নায়িকার নাচতে নাচতে পেট দেখা গেলে রাণী মা ভেবে দু’একটা হয়ে যায়। দোষটা পরিচালক না নায়িকার কোমরের জানা নেই। এখানে কবিতার ভুলে FIR হয় ভুল বানানে। সশস্ত্র পড়ুয়াদের মেরে উদম খুঁজে পাওয়া যায় আগ্নেয়াস্ত্রের মতো মশার মলম। নেতা তছরুপ সেরে জেল ফেরত নীতিকথা শোনায়। অথ্যচিত্রে যদি আসে ‘আঁধি’, ‘তুফান’, ‘ইলজাম’ তাই ‘গুনাহ কা ফ্যায়সলা’ চাই। নয়তো যদি ছড়িয়ে পড়ে ‘আগ হি আগ’ সেই ‘আগ কা গোলা’ থেকে। সে তুমি নোবেল লরিয়েট হয়ও কিংবা ‘অবতার’ ঠিক ‘আন্দাজ’ অনুযায়ী বাক্যালাপে ‘হতকড়ি’ পড়বেই। এতো হতেই পারে। কারণ পরিবার একটা সংঘই। আর এই ঘটনাগুলো জাতীয় অথবা দেশীয় থেকে পারিবারিক। তা না হলে, যুধিষ্ঠির মহাভারত থেকে হেঁটে আবার ফিরে আসেন স্বশাসিতের চেয়ারে। Cinema-রও তো শাসন দরকার। কিংবা শাসকের মতো পুরোটাই cinema।
জানা দরকার মতো আর দরকারটা জেনে ফেললেই হলো। এই জেনে ফেলার প্রতিযগিতায় যেসব মক্কেলের আক্কেল লাভ হয়েছে তারা ধরাছোঁয়ার সামাজিক মাধ্যাকর্ষণের (শ্রীযুক্ত হকিং সাহেব ক্ষমা করবেন) বাইরে। এক অনাবিষ্কৃত নক্ষত্রের মতো।
আর যারা অতটাও উঠতে পারেনি তাদের হাতে আবিস্কারের পোস্টার ─ ‘আমাদের বেক্তিগত চোব্য অনেক, তাই অন্যের জন্য আর চেবানো সম্ভব নয়।’ তাছাড়াও বাজার করা, খিস্তি, হাগা, মোতা, মারামারি ছাড়াও যা জানি সেই বিষয় যদি বার্তা আসে তবে বৈদ্যুতিন মাধ্যমেই আমার সৃষ্টিশীলতার উপোস ভাঙব। যদিও আমাদের যাবতীয় পারাপারি সবই ঐ খালি পেটে হোমিওপ্যাথির পুরিয়া বা শিশিতে আটকানো যার কোনও side-effect নেই।
অসংখ্য মধ্যমেধার ভেতর একটা বেছে নিয়ে ছিটকিনি তুলে দাও। বাইরের temperature এখন ৪২ ডিগ্রি। ঘরের ভেতর ১৮। শীত করছে।
আমাদের তো একটাই কাজ। কবর গুনে যাওয়া। এসব খোঁড়াখুঁড়ি তো আমাদের DNA-তে। তাই অন্য মুখে পাশ ফিরে শুয়ে পড়াই ভালো।