যেভাবে বাড়ি ফেরেনি একটি সারস

সূর্য্যমুখী



নির্মোহ আবেদনে ডুবে আছে একাগ্র জীবন
তুলে এনে দেখো, লাল লাল ক্ষত-
শূন্য শালিক; চোখের মাঝে মৃত ব্যবিলন।

হারানো বর্ষার খোঁজে কেউ কেউ চষে বেড়ায় পৃথিবীর গোপন কুঠুরি অথচ বর্ষা নামে পুরনো দীঘিজুড়ে; সীমান্তের কিনারে দাড়িয়ে থাকা জলজ্যান্ত আর্তনাদে- টলটলে আর খানিকটা সবুজ। আয়নায় চোখ পড়লে নত হয়- ঢেকে নেয় চোখের কিনার অথচ উঁচু ঢিবি দেখলেই জেগে উঠে শর্তাধীন ভালোবাসা; মন্ত্রপূত নখের ভ্রম। ভ্রম- বালিকার অশ্রুত কামিজের নাম; ভ্রম- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলজুড়ে কিশোরীর আলুয়ায়িত দেহের ভাঁজ; ভ্রম- পত্রিকার হেডলাইন, অপস্রিয়মাণ চোখের কিনার অথবা একটি সারস জন্মের জন্য জমে থাকা নির্জন অপেক্ষা।
ছাই হয়ে যাওয়া নগরীর বুকে তবু জেগে থাকে মৃদু সন্ধ্যা, ফিরে আসা বালিকার ভুলস্রোত- চন্দ্রাহত জানালার ধার। পুড়ে যায় দীর্ঘায়িত বাগান- অনির্ণেয় চাষাবাদ। কে তুমি বলেছিলে সবজান্তা শালিকের হাত ধরে ফিরে আসে কোমল চিৎকার? একে একে ভেসে উঠে উনুনের আলো, জলজ উঠান আর পৃথিবীর গ্রীবাজুড়ে লেগে থাকা অপৌরষের ঘ্রাণ।
ঘ্রানের কথা বলতেই মনে পরে হারানো চশমার কথা। কোন এক ফাল্গুনের বাড়ি ফেরা। মহিষের ক্ষেতে হারিয়ে যাওয়া দিকবালিকা- সেগুন কাঠের আলমারিজুড়ে তুলে রাখা ছেলেবেলা; যেনো আশৈশব ম্লান চোখে তাকিয়ে থাকা নিশ্চিন্দপুর- কয়লার ট্রেন বোঝাই চলে যাওয়া নির্জন দুপুর যেভাবে চলে যায় পুরাতন শালিক আর পরিচিত আপেল বাগান।
শুরু হয় দহনকালীন ভাঙন। পুড়ে যায় কুমারী নদী... কাদম্বরী... অশোকের আত্মজা। পুড়ে যায় একাডেমি ভবন-মধুপুর-হবিগঞ্জ; পুড়ে যায় ২৫শে মার্চ, স্বাধীনতা দিবস। পুড়ে গেলে ক্ষত রয়। ক্লান্ত চোখে জেগে থাকে নির্জন ঠোঁট। দগ্ধ নখ। ছাই হয়ে যাওয়া আত্মায় রয়ে যায় আসন্ন বৈশাখের ঝড়- একদা গড়ে উঠা তীব্র দহন। পৃথিবীর কোন এক বন্দরে এভাবেই জমা পরে ধর্ষিতা সকাল- হারানো বকুল; প্রেমিকদল মুছে গেলে পরে থাকে একান্ত পুরুষ।
অতপর কিছু থাকে- ছেড়া শেমিজ, দোতলার ছাদ, দূরের কার্নিশ আরও থাকে টিফিনবক্স বোঝাই নিশ্ছিদ্র আর্তনাদ, পরিত্যাক্ত ভোলগার কিনার। মা বলতেন, ‘শব্দ করে কাঁদিস না’; বাবা বলতেন মাথা দুলিয়ে হাসতে অথচ হারানো বালিকা গোটা ভূগোল ক্লাসজুড়ে খুঁজেছিল একাকী পদ্ম- ‘মাছের তাড়নে যে পদ্ম কাঁপিতেছে’।