দহন

নাহিদা নাহিদ



লোকে বলে আমি ভাগ্যের বরপুত্র, না চাইতেই সব পেয়ে যাই সব। কেমন? সেটার প্রমাণ দিচ্ছি। সেদিনের কথা বলি 'কুকুর হইতে সাবধান' এই নীতিতে বিশ্বাস করে পার্কের পাশে ঘেউ ঘেউ করা দুই কুকুরের উত্তেজিত বাক-বিতণ্ডায় নিজ দায়িত্বে কুকুর হতে সরে গিয়েছিলাম নিরাপদ দূরত্বে। তারপরও কি বাঁচা যায়! পারলাম না। কেন যেন সেদিন প্রকৃতিরও ছিল রাগ।সেই রাগে রাস্তার দুপাশের সড়কবাতির মুখগোমড়া করে দাঁড়িয়েছিলো আলোহীন। প্রকৃতি যা ই করুক ভাগ্যদেবী বসে নেই। অন্ধকারের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা এক আধো-ভৌতিক চরিত্রের দীর্ঘশ্বাস ঘোচাতে দেবী আমায় পাঠিয়ে দিলেন পতনের তোহফা নিয়ে ; বুঝলাম না কেমন করে আমি তার ঘাড়ের উপর লাফিয়ে পড়লাম-
--ওকি গায়ের উপর পড়ছ কেন?
--কুকুরের তাড়া খেয়েছি!
- এখানে!
- হুঁ
-কেন?
- আমি কেমন করে বলবো কুকুর কেন আমায় এখানে তাড়া করলো?
- কই আশেপাশেতো কোন কুকুর দেখছিনা! তা রাত করে এখানে কী? কোন গং ফং নেইতো?
- আমি প্রায়ই আসি, মাঝে মাঝে পার্কে ঘুমাই।
- এখানে? ঘর নেই? খারাপ মতলব!
- কবিতা লিখি, গল্পের শরীর খুঁজি, শোনেননি মহৎ শিল্পীরা পার্কের বেঞ্চেও রাত কাটায়!
- তবে কেউ কেউ শিল্পীর ভাব ধরে মেয়েছেলে ঘাটে, সে ইচ্ছে আছে নাকি? আমাকে অতটা সহজলভ্য ভেবো না; রমণীর সচেতন হয় আত্মসম্ভ্রমে!
আমি অপ্রস্তুত হই না বরং অবজ্ঞায় উড়িয়ে দেই তার শ্লেষ! এই শহরে আমি নতুনতো নই!
- আপনার হাত থেকে পায়ের কাছে আগুন পড়ছে, সিগেরেটের আগুন সিনথেটিকের সেলোয়ারে লাগতে পারে।
- লাগলে লাগুক, তোমার তাতে কী? অযাচিত আলাপ সূত্র না খুঁজলেই নয়? অনেকদিন পর এখানে একটু একা থাকতে এসেছিলাম! তোমার জন্য তা আর হল কই!
--তার অসৌজন্যকর আচরণে আমার ভেতরে সদ্যগজিয়ে ওঠা রাশভারি ব্যক্তিত্ব আহত হওয়ার কথা, হয় না। অপমানে মন কেমন করে ওঠার কথা, ওঠে না, জানি করার কিছু নেই কেননা কুকুরের তাড়া খেয়ে আমি নিজেইতো এসেছি এই অনুজ্জ্বল নগরবাতির আলোয় ছায়াসদৃশ এই রমণী সংসর্গে। মেয়েটার কী দোষ সেতো একা একা প্রকৃতিতে মনোযোগের সহিত বিষাক্ত বিষ উদগীরণ করছিল। আমার অযাচিত হুড়োহুড়িতে সে বিরক্ত হতেই পারে! তবে আমার কেন যেন মনে হচ্ছে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে মেয়েটা বিরক্ত নয় বরং আলাপ করতেই তার ভালই লাগছে! আহা প্রগলভ নারী!
- তুমি কি ছাত্র? না পড়ালেখা শেষ! মাকাল সদৃশ চেহারা দেখে বোঝাও যায় না কিছু ছাই,
আমি হাসি, উত্তর দেয়া জরুরি নয় বুঝি!
--জানো না রাত-বিরাতে পার্কে ভাল ছেলেরা থাকে না ।
-এবার আমার আরও বেশি হাসি হাসি পায়, আহা আমিতো ভাল ছেলের ভাব ধরতে আসিনি, মেয়োটা অযথাই এসব বলছে কেন! তাকে কী এখন আমার বলা উচিৎ -
ওহে রমণী, বিদ্যা নামক অমূল্য সাধনার ধন সে আমার নহে,
বহুল প্রত্যাশিত পুঁথিগত সার্টিফিকেটের মোহ ছেড়েছি সেই কবে!
- ওকি জবাব দিচ্ছ না কেন? বল কোন মতলবে ঘুরছ?
তার অনবরত কর্কশ তিরস্কারে আমার ভেতরে এতক্ষণে ক্ষোভ জমে যাওয়ার কথা, যাচ্ছে না। বরং কথা চালিয়ে নেবার মত অনুকূল পরিস্থিতি সে নিজেই তৈরি করছে বলে তার উপর আমি কৃতজ্ঞ হয়ে উঠি। আর মতলব! আচ্ছা এই মেয়টাকে কী জানে আমার আশৈশব কবি হতে চাওয়া মন কামসূত্র, প্রজাপতি পড়ার অপরাধে শিক্ষালয়চূত হয়েও দমে যায়নি, মতলব যদি থেকেই থাকে তবে তা তুচ্ছ নারী সংসর্গে এসে টুটে যাবে তেমনটা কী আমায় দেখে মনে হয়? অবশ্য চেহারা আজকাল অনেক বেশিই বিভ্রান্ত করে, সুন্দর সুকুমার মুখের পেছনে লুকিয়ে থাকে বিষধর সর্প!
- দেয়াশলাই হবে?
আমার দিকে না তাকিয়েই সে আগুন চায়,আমি দেখতে পাই তার হাতের লাইটারটা ছুড়ে মারছে অসীম গতির শক্তিবলয় তৈরি করে। সম্মুখের স্থির জলতরঙ্গ তার লক্ষ্য। জলে ঢেউ ওঠলো আবার থেমেও গেলো।
আমি কাঠি এগিয়ে দেই, আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে সে,আধো অন্ধকার আর মোটাফ্রেমের চশমাবিহীন চোখ আমার তার কিছুই দেখতে পায়না স্পষ্ট।
মেয়েটা অবজ্ঞায় ফোড়ন কাটে
- এইটুকু বয়সেই তামাক পাতা, অগ্নিশলাকা! রে যুবক এরপর নিশ্চয় তরল শরবত! গোলাপি দানার প্রেম!
- এবারও আমার আহত হওয়ার মত বোধ জাগেনা, খুশি হই যাক মেয়েটা শিক্ষিতও! বুঝতে পারছি তার দক্ষ আচরণে স্বেচ্ছায় সে আমায় উদ্দীপ্ত করতে চায় তার প্রতি,এখন অবশ্যই আমার সংযত আচরণে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ভেতরকার সানন্দিত সম্মতি।
-বয়স কত?
-জানা প্রয়োজন?
- না এমনি!
তাকে কেমন করে বলি তার উদ্দীপ্ত রসন অযৌক্তিক মধুর কটুবান সহ্য করার মত মানসিক বয়স আমার আগেই হয়েছে। তবে অস্বীকার করার উপায় নেই তার এই বেহায়া বক্রোক্তির ছল একেবারেই অপরিণত বুদ্ধির কৌশলহীন প্রকাশ! এখন যতটা সম্ভব আলাপে তাকে আমার নিরাসক্তি ভাবটা দেখাতে পারলেই তার আগ্রহ চক্রবৃদ্ধির হারে বাড়বে বৈ কমবে না।
-বাবা মা আছেন?
-হু
- শহরেই?
- নাহ আছেন কোথাও!
- কিছু বলেন না তারা ? নাকি তাদের সয়ে গেছে তোমার এই কলির কেষ্টর মত নষ্ট হওয়ার ধাত!
কলির কেষ্টর কস্টিউম বা নষ্ট হওয়ার মত যথেষ্ট প্রমাণ আমার শরীরে বা আচরণ অনুপস্থিত থাকলেও তার এই আকস্মিক দোষারোপে আমি অভিভূত হই,আমি জানি আমি সুপুরুষ এবং স্বশিক্ষিত! প্রথম আলাপে আমার আমার প্রতি যে কোন রমণীর আগ্রহ জন্মাবে জানা কথা! হচ্ছেও তাই। তবে সামনে পড়ার সাথে সাথেই এত দ্রুত কাজ হবে ভাবি নি। আমিতো আগেই প্রস্তুত। এবার আটবাঁধি আলাপ কন্ট্রোল করার। মেয়েটা আমার সমবয়সী নয় তার আচরণে স্পষ্ট! দেখার সাথে সাথেই আমার প্রতি তার আগ্রহ জন্মে থাকলে বাজিয়ে দেখবে, কৌশলের খেলা খেলবে, সূতা ছড়াবে এবং হারবে নিশ্চিত। আমি শার্টের কলার গোছাই, হাতা ঠিক করি টেনেটুনে! আমার এই আত্মবিশ্বাসী ভাঙ্গিমায় সে জোরে হেসে ওঠে।
- বাহ পুরুটাই পুরুষ !
- হু পা থেকে মাথা পর্যন্ত!
- নিজের নিয়ন্ত্রণ রেখে অনুজ্জ্বল সোডিয়াম আলোয় আমি তার মুখোমুখি দাঁড়াই, মেয়েটা কাঁচা! একদম কাঁচা,পাকা খেলোয়ার নয় একদম! এ পেশায় এমন মানুষ টিকে থাকে কেমন করে অদ্ভুত! তার আচরণে কেমন অস্থিরতা। কী হয়েছে মেয়েটার আজ! ঘটনার ক্লাইমেক্স জমাতে ফস করে সে আমার কাছ থেকে নেয়া দেয়াশলাই কাঠির একটা জ্বেলে দেয়। উজ্জ্বল আলোয় এবার দেখতে পাই হায় যাকে আমি এতক্ষণ মেয়ে ভেবে আগাচ্ছিলাম সে রীতিমত মধ্যতিরিশের অনাকর্ষণীয় এক বিধ্বস্ত রমণী। তার সহজ তরলতার মানে এবার বুঝলাম কিছুটা। তার গায়ের আটসাট করে পরা অর্ধকামিজ টপস আর নগ্নগোড়ালির জিন্স এতক্ষণ তার শরীরকে তাজা ও সতেজ দেখানোর চেষ্টায় এতক্ষণ যথেষ্ট সহায়কই ছিলো কিন্তু তার মুখ আর চোখ প্রকাশ করে দিল সকল দীনতা, ভেতরের নিঃসঙ্গতা!
রমণী এবার পুরোটা ঘুরে দাঁড়ায়, আমার কাছে আসে, তার চোখ লাল, মেকাপ লেপ্টে আছে গালে, কাজল গলে ছড়িয়ে পড়েছে চিবুক অব্দি। হয়তো কেঁদেছে অথবা অন্য কিছু!
-মেয়ে দেখতে ভাল্লাগে?
- হু লাগে, আমি জানি উত্তরটা ইতিবাচক হলে রমণী জিতে যায় তাই উত্তরটা এমন!
- সে আরও আগায়!
তার গালের বাঁ পাশটায় চিবুকের নিচে সেলাই সমেত একটা বিশাল ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট, আরও কাছে আসতেই তার গায়ের কুৎসিত বোটকা গন্ধে আমার পাকস্থালীর ভেতরে পচে যাওয়া নষ্ট ভাত শোরগোল শুরু করে, আমি সয়ে যাই।
তার বসার ঘরটা অদ্ভুত! খুব সাধাসিদে স্নিগ্ধ ভাবের মাঝেও ভয়ংকর কোন অসুন্দর যেন মিশেল দেয়া এই ঘরে, আমাকে প্রায় জোর করেই নিয়ে এসেছে সে। বসে আছি অনেক্ষণ, সেই কখন থেকে একতালে বেজেই চলছে বেখাপ্পা গজল! বেগমজাদির গুলবাগিচার চাঁদ! দেয়ালে টাঙানো ছবিতে গালিচায় শুয়ে আছে প্রেমিকপুরুষ খৈয়াম। পাশেই আধশোয়া বসরাই গোলাপের মত প্রণয়ী। অন্য দিকের দেয়ালে ঝুলছে অ্যামেরিকান ফক্সহাউন্ড শিকারি কুকুর, কুকুরটা ভয়ংকর নয় দেখতে মোটেও, মনে হচ্ছে ঢাকার রাস্তার নেড়ি,তবু তার চকচকে কালো চোখে কী যেন আছে। রমণী আমার কোলের কাছে ধপ করে বসে যায়
- কী পুরুষ ঘাবড়ে গেলে?
- আপনি মানিক পড়েছেন তাই না? তা এই কুৎসিত পারফিউমটা গায়ে মাখেন কেন?
- এটা একধরনের মিশরীয় আতর এটার দাম কত হিসেব আছে!
- প্রয়োজন নেই শোনার, যার আবেদন নোংরা তার মূল্যমান পরিমাপে আগ্রহী নই।
আমার কথায় মেয়েটা আহত হয় খুব, রেগে গিয়ে পটাপট জামার ভেতর থেকে দুতিনটা হুক খুলে বুকের ভাজে আমার নাক চেপে ধরে, গায়ে তার দারুণ তেজ! বলে "দেখো এই শরীরে শুধু পচা মাংসের গন্ধ, কী কুৎসিত বোটকা গন্ধ জানো না। এই নোংরা শরীর ভালো লাগবে কারো? এতটুকু দুর্গন্ধ ঢাকতে কতটুকু সুগন্ধ লাগে বলতে পারবে? হু আমাকে আতর মাখতে হয় রোজ!
- আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে,আমি হাঁসফাঁস করি, একসময় মুখ তুলি, শ্বাস ফেলি, চোখ চলে যায় তার বুকের সাদা চামড়ায় সেখানে অজস্র ক্ষত হওয়া দাগ, একপাশের স্তনে বোঁটা নেই, হায় রমণী মাংস! কী বিভৎস! আমার কেমন লাগে, তার বুকের ভেতরের নিষ্ঠুর হাতুড়ি পেটানোর শব্দে আমি অস্থির হই। মিনতি করি -
আজ আমায় যেতে দাও, অন্য একদিন পৃথিবীর সমস্ত কুৎসিতকে চেলেঞ্জ করে ঘরের বাতাস পাল্টে দেবো আমরা দুজন। আজ যাই?
আত্মবিস্মৃত সেই পরাবাস্তব জগত থেকে শেষ রাতে আমার মুক্তি মেলে। তেজকুনি পাড়ার বন্ধ ঘরে ফিরতে ফিরতে সেদিন আর আমার তাকে বলা হয়নি আমি তার পাশের বদ্ধ ঘরে এক মেয়ের কাতর গোঙানি শুনতে পেয়েছি । সেখানকার ব্যাকুল চিৎকারে হারিয়েছি তার সুগন্ধ, সেই থেকে বুকপকেটে নিয়ে ঘুরছি ব্যথা। সোহাগিনী সে ব্যথা আড়াল করে কেমন করে দলিত করি তোমার মাংসপিণ্ড! কেমন করে।
স্মৃতিময় ঢাকার বন্ধ গলির এই চারকোনা ঘরে আমি নতুন করে ভাবি তার কথা, আমি জানতাম সে আসবে। ঘরের চারপাশে সন্ধ্যা হতেই বৃত্তাবদ্ধ যে জমাট অন্ধকার দাঁড়িয়ে থাকে তার নাম পরিত্যক্ত গ্যারেজ। তাকে আমি দিয়েছি এ ঠিকানা। নামমাত্র খরচে গ্যারেজের দারোয়ানের সাথে আমার যে মেসবাড়ির সংসার সেখানেও খুব একটা আত্মীয়তা নেই দুজনের । আমি জানি বয়সের আগেই রাশি রাশি বয়সী মানুষের পাঠ্যসূচির বই আমার যে বয়স বাড়িয়ে দিয়েছে তার টানেই সে আসবে, নিশ্চিত আসবে।
কিন্তু দিন যায় সে আর আসে না।
অবশেষে একদিন মধ্যরাতের ঘোর আমাকে মাতালের মত টেনে নিয়ে যায় তার ঘরে। আমি উপলব্ধি করি গভীর প্রেষণা। আর পারি না। মস্তিস্কজাত সূক্ষ্ম ক্রীড়ায় এবার আমিই পরাজিত। অস্থির আমি ছুটে যাই তার কাছে। অসহ্য সুন্দরকে ধারণ করার ক্ষমতা যেমন মানুষের নাই, তেমনি অসম্ভব অপেক্ষাকেও না। আমি ভাবিনি হুট করে এসে পড়ে যাবো এমন কোন দৃশ্যে যা আমার জন্য প্রত্যাশিত নয়। ওই রমণীর বসার ঘরে তখন অশ্লীল জলসা চলছিল। মেয়েটাও একদম ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায় আমায় দেখে। এলকোহলের কটু গন্ধের সাথে সাথে চার-পাঁচজন প্রায় বিবস্ত্র পুরুষ এক কিশোরীকে উলঙ্গ করছিল, খোচাচ্ছিল, উদ্দাম গানের সাথে কিশোরীর কোমর ধরে নাচার চেষ্টা করছিল; কিশোরীর করুণ চোখ! আমার ভেতরটা কেমন করে ওঠে, কী করবো আমি, এই জলসা ঘরটা পুড়িয়ে দিলে কী শান্ত হবে মন? হয়তো না। আমি জানি আমি কাপুরুষ নই বুদ্ধিমান! আমার বুকের ভেতর গলিত টগবগে ক্রোধ দিয়ে গোপনে পোড়াই অনুভূতির সীসা। পুড়ছে হৃদয় তবু আমি সংযত হই, হতবিহ্বলের মত কয়েকটা অসভ্য পুরুষের সামনে থেকে তাকে টেনে হেঁচড়ে আনি পাশের ঘরে। যাওয়ার আগে চোখের কোণায় দেখি কিশোরী মেয়েটা আমায় দেখে না, লজ্জায় আড়াল করে রেখেছে তার বেদনার্ত মুখ।
- তুমি ঘরে ঢুকলে কীভাবে?
-দেয়াল টপকে, গ্রিল কেটে।
- বাহ প্রফেশনাল ডাকাত!
-হুঁ
- আবার হুঁ , তুমি জানো না এখানে এসে তুমি আমার কী ক্ষতি করে দিলে!
- করলাম, তো? আমার অধিকার আছে বলেই এসেছি
--অধিকার!
-- হুঁ, মেয়েটাকে এখনো মেরে ফেলোনি কেন? সেদিন পাশের ঘরে দেখেছিলাম বাইরে থেকে তালা দেয়া। মেয়েটা ভেতরে গোঙাচ্ছিল খুব, আমি ভাবছিলাম এতদিনে সে মরে গেছে।
--সেসব তোমার জানতে হবে না, তুমি পুলিশ বা সাংবাদিক নও খোঁজ নিয়েছি, আমাদের বিজনেস নিয়ে বেশি আগ্রহ দেখালে নির্ঘাত মারা পড়বে! এমনিতেই কদিন পর মেয়েটা পার্শেল হয়ে চলে যাবে অন্যদেশে। মাঝে তোমার হবে বিপদ! আমাদের কী দোষ! তার প্রেমিকইতো তাকে বেচে দিয়েছে এখানে! গুলনাহার চটে যায়!
আমি স্বর পাল্টাই, গুলনাহার রেগে গেলে বিপদ! মেয়েটাকে হারাবো। ও আচ্ছা ওর নামটাইতো বলা হয়নি এতক্ষণ, ওর নাম গুলনাহার! যার গায়ের পচামাংসের গন্ধ ঢাকতে পারে না কোন দামী পারফিউম, মিশরীয় আতর!
আমি গুলনাহারের হাত টেনে বুকের কাছে আনি, নরম করে বলি
"ভালো আছ গুলনাহার?"
গুলনাহার কেঁপে ওঠে এই পাপী- তাপি মেয়েটার ভেতর এখনও এত আবেগ! ও আমায় উল্টো প্রশ্ন করে হঠাৎ কেন এখানে?
--এই যে তুমি যাওনি!
- আমার কী যাওয়ার কথা ছিল?
- ছিল তো, তুমি বাধ্য করেছো আজ আমায় আসতে। আমি গাঢ় চোখে তাকাই গুলনাহারের চোখের দিকে। গুলনাহার চোখ সরায়!
--তুমি চলে যাও আজ, কাল আমি তোমার মেসে যাবো
- ঠিক যাবে?
- হুঁ
- আচ্ছা
আমি ফিরে আসি গুলনাহারের বাসা থেকে! কিন্তু কেন যেন আমার সন্দেহ বাতিক মন সহজে বিশ্বাস করতে পারছিলনা ও যাবে আমার কাছে ! দ্বিধা নিয়ে আবার ফিরে আসি কিন্তু এবার ঢোকার রাস্তা বন্ধ। রাতপ্রহরী ভয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাস্তায়, কড়া নিরাপত্তা প্রহরা চলছে।
রাস্তায় নেমে আমার কেবলি মনে হয় আমার গায়ে গুলনাহারের গায়ের আতরের গন্ধ লেগে আছে, মাথায় বাজছে সেদিনের গুলবাগিচার সুর। আচ্ছা ওরা কি এই সুরেও ঘরের বন্দী মেয়েটাকে নাচায়? তাকিয়ে দেখি আমার ঠিক পাশেই একটা কুকুর সমানতালে হাঁটছে। গুলনাহারের ঘরে টাঙানো সেই কুকুরটা নয়তো এটা? আমার গায়ের পচা মাংসের গন্ধ পেয়েই লগ ধরেছে । আমার ভাল্লাগে না কিছু। আজ রাতের এত ব্যথা নিয়ে আমি কোথায় যাবো! আমার কী আজ মরে যাওয়া উচিৎ? হাঁটতে হাঁটতে কখন যেন পরিচিত গণ্ডি ছেড়ে আধভাঙা পলেস্তরা খসা একটা পুরনো ব্রিজের কাছে চলে এসেছি। প্রায় শেষরাত এখন, নিঃশব্দ নগরে যান্ত্রিক ভোঁতা একটা শব্দ ক্রমশ ধেয়ে আসছে কাছে। একে চলে যায় দানব ট্রাক পাশ কাটিয়ে। হঠাৎ গাঢ় চিৎকারে বাতাস ভারি হয়ে যায়। ঘাড় ফেরাতেই দেখতে পাই, পেছনে ব্রিজের মাথায় সেই কুকুরটার মাথা থেঁতলে দিয়ে গেছে কোন একটা। আমার কেমন লাগে,কোথায় যাবো এখন! পৃথিবী এত অসুন্দর! দৃশ্যটা আড়াল করতে ভূতে পাওয়া মানুষের মত ব্রিজ ফেলে, রাস্তা ফেলে, আলো ফেলে, অন্ধকার ফেলে ছুটে যাই মহাখালি, ট্রেন আসবে এখুনি। ভোরের ট্রেন। কমলাপুর ছাড়িয়ে যে ট্রেনটা রোজ ছুটে যায় এপথ দিয়ে, আজ সেটায় আমি হারিয়ে যাবো শূন্যে। আমি কান পাতি। দূরে কিসের যেন শব্দ! ঐতো ট্রেন আসছে কিন্তু আশ্চর্য এই ব্যস্ত ট্রেনের কোলাহলের মাঝেও ঝমঝম করে বাজছে একটা সুর, করুণ মৃত্যুর কান্না। একটানা বেজেই চলছে! ট্রেনটা এসে আমার পাশে দাঁড়ায় আমি তাকিয়ে দেখি ট্রেনের গায়ে কত-শত ধূলো বালি, পথে পথে নেমে যাওয়া মানুষের স্মৃতি। এই ট্রেনটা এর আগে আমার দেখা হয়নি। আমি কী দুপুরের যাত্রী! কত কি ভেবে সে আর দাঁড়ায় না, চলতে শুরু করে, মনে হয় তার ডানা ঝাপটানো শেষ, আমি দাঁড়িয়ে আছি ঠায়! হুশ হুশ করে ট্রেন চলে যায়, জেনে যায় সব পাখি নীড়ে ফেরে না, ইস্টিশনে দাঁড়ানো কেউ কেউ থাকে নিঃসঙ্গ! যার যাবার মত কোন ব্যক্তিগত জংশন নেই।
রাতশেষে অথবা দিনের শুরুতে পিংকরুটের এই বাসাটা এক অন্য আলোয় ভরে যায়, আমার যা কিছু দায়, যা কিছু কর্তব্য যা কিছু ব্যর্থতা সব ছড়িয়ে আছে এই হিজিবিজি চক্রাবক্রা চার রংয়ের দেয়ালে। এখানে পুরুষ হওয়ার প্রথম সফলতায় আমার যতটা উৎফুল্ল বোধ করার কথা, চোখে মুখে আমি ততটা উৎফুল্ল হতে পারছিনা না এখনো। সময় পেয়েছি এখন হয়তো হবে। বর্তমানে আমার পরিচয় আমি গুলনাহারের কেপ্ট সহজবাংলায় তার পোষ্যপুরুষ। এখানকার সবই ভালোলাগে কেবল আমাদের দুজনের পাশের ঘরের মেয়েটার কান্না ভাল লাগে না। ঘরটা বাইরে থেকে তালা আটকানোই থাকে রাতের বেলা দু-একজন করে পুরুষ এলে খুলে দেয়া হয়, মেয়েটা বেশিরভাগ সময় গোঙায়, আমি শুনিনা, কানে বালিশচাপা দিয়ে রাখি। অথবা কাগজ ঘষে ঘষে কিছু একটা লেখার চেষ্টা করি, না পারার যন্ত্রণায় ছটফট করি কিছুক্ষণ, কখনো কখনো কলমের মাথা ঘষে দেই শক্ত ইটের শরীরে লাগানো পলেস্তারায়, কলমের মৃত্যু ঘটিত হত্যাপ্রক্রিয়ায় কিছুটা হলেও তৃপ্তি আসে মনে। কত ব্যস্ততা আমার। নীলক্ষেত ঘুরে সস্তায় কিছু বই কিনে এনেছি ঘরে । বইয়ের বাজারে ভিড় কম, কি একটা আন্দোলন নিয়ে জনতা খুব উত্তেজিত। মিছিলে শ্লোগানে চারপাশ উত্তাল। আমার ওসব দেখার সময় নেই, বরং কিনে আনা বইয়ের একটা পাতলা পৃষ্ঠা উল্টে দেখি মাঝের দুটো পাতা নেই সেটা নিয়ে বেশি উদ্বেগ আমার! পুরনো বই কে কখন ছিড়ে রাখে তার হিসেব কে রাখে,গত কয়েকদিন ধরে আমি গার্হস্থ্য শাস্ত্রের বই পড়ছি। এরপর পর হয়তো পড়বো মানবশিশুর পরিচর্যা। গুলনাহারের একার এই সংসারে আমার নিজেকে এখন তার ভবিষ্যত স্বামী কল্পনা করা উচিৎ, ও যখন ফোনের ওপাশে অন্য করাো সাথে বেগুনবাড়ি বা কল্যাণপুর বস্তি থেকে কী যেন সাপ্লাইয়ের দরদাম নিয়ে খিস্তি খেউর করে তখন আদর্শ প্রেমিকের মত তাকে আমার আচ্ছা রকম ধমক মারা উচিত বলে মনে হয় । দু একবার চেষ্টাও করি। গুলনাহার খুশি হয়, বুঝি আমার এই অধিকারবোধ ওর ভালো লাগে। মাঝে মাঝে ওর মতো ফেন্সি, ইয়াবা, তামাক সম্রাজী হওয়ার স্বপ্নও দেখি যদিও আমি পুরুষ! এমনকি বন্ধ ঘরের ঐ মেয়েটাকে নিয়ে ম্যানপাওয়ারের বিজনেসের কথাও ভাবি এসব বললে গুলনাহার মুখ কালো করে ফেলে। আমি আর ঘাটাই না। কে যেন বলেছিল না Man is born free, and everywhere he is in chains, হু চেইনইতো ভেবে দেখলাম এখন আমার পায়ের কাছে লোহার শেকলের নাম গুলনাহার। ওই মধ্যরাতের কান্না করা মেয়েটা নিশ্চই না। গুলনাহারের একটা বিষয় খুব ভালো সে হয়তো খারাপ মেয়েলোক তবু ইদানীং যতরাতই হোক ঠিক এই ঘরটায় ফিরে আসে নিয়ম করে। এবং সাথে করে যখন তখন কোন ব্যাটাছেলে নিয়ে আসে না। এজন্যই তাকে কখনো কখনো আমার দেবীর মতো পবিত্র লাগে। মনে হয় সে আমার ঘরের বউ। গুলনাহারের আচরণে কেন যেন সন্দেহ হয় মেয়েটা কি সত্যি সত্যি সংসারী হওয়ার কথা ভাবছে? আহা স্বপ্ন দেখতে দেখতে মানুষ কেমন বোকা হয়ে যায়, মূর্খ হয়ে যায় একদম। গুলনাহার বিশ্বাস করে ঈশ্বরের মতো অসীম ক্ষমতায় আমিই পাল্টে দেবো তার জীবননাট্য!
হা ঈশ্বর! হা গুলনাহার!
সেদিন রাতের অন্ধকারে গুলনাহার আমার বুকের কাছে সরে আসে।তার কণ্ঠে দরদ!
- আচ্ছা আমি মরে গেলে তুমি কাঁদবে না?
- হুঁ কাঁদবো অনেক। তোমার লাশ নিয়ে ছুটবো আকাশ পাতাল,দেখো এই আমিই আবার পুনর্জীবিত করবো তোমাকে সেই মৃত লক্ষ্মীন্দরের মত! আমি হবো তোমার বেহুলা।
- তোমার সেন্স অফ হিউমার ভালো জানি, তবে সবসময় সেগুলোর প্রয়োগ না করলেই নয়!
-আচ্ছা, করবো না। তুমি আমার আশ্রয়দাতা, পালনকর্তা, গৃহকর্তা। তুমিই মা, তুমিই বাপ, তুমি যা বলবে তাই সই।
- ধ্যাৎ! ভাল্লাগে না। যাও এসব প্রসঙ্গ বাদ।
-- আচ্ছা বাদ।
-- কতদিন বাড়ি যাও না তুমি?
- সে অনেকদিন! হঠাৎ এ প্রশ্ন?
- এই যে তোমার কখনো কোন ফোন আসে না কেন, কেউ কখনো কোন খবর নেয় না আমার অদ্ভুত লাগে।
- ও আচ্ছা। আসলে মা তো জানেন আমি ঢাকায় পড়ালেখা করছি, আর বাবাও জানেন আমি ভাল ছেলে ভাল থাকি। তারা যদি জানতেন তাদের ভাল ছেলেটা সংসারের মত কিছু একটা যাপন করছে তাহলে তারা আমার সাথে সাথে তোমার খোঁজও ঠিক নিতেন!
--তাই?
--হুঁ
--- আচ্ছা ধর তুমি যদি হঠাৎ দুম করে মরে যাও, আমি খোঁজ না জানালে কেউ কি জানবে কোথায় আছ তুমি? কেউ কি কাঁদবে তোমার জন্য আমার মতো করে।। কেউ কি অস্থির হবে, কেউ কি চাইবে তোমার সাথে একসাথে সহমরণে যেতে! আছে তেমন কেউ তোমার? প্রেমের বা স্নেহের?
- আরে থাম, থাম, এত প্রশ্নের উত্তর একসাথে দেয়া যায়! একটা একটা করে বলি?
- নাহ বলা লাগবে না থাক।
গুলনাহার বিষণ্ন হয়! কেমন উদাস হয়ে তাকিয়ে থাকে জানালা ছেড়ে ফাঁকা রাস্তায়! ছলছল চোখে বলে আমি জানি তুমি মরে গেলে তবু কেউ কাঁদবে আর আমি মরলে? তুমিও না। তোমার চোখ কেমন নিষ্ঠুর পাষাণ! গুলনাহার উঠে চলে যায় পাশের ঘরে।
যাক, শুরু থেকেই সে এমন! প্রায়ই দরজা আটকে একা একা কাঁদে মধ্যরাতে।
কাঁদুক। কার কী! আমি ওর অভিমানে কান দেই না, আলো জ্বেলে আবার পাঠে মনোযোগ আনার চেষ্টা করি। গত দুদিনের কঠোর পরিশ্রমে রাশান একটা অনুবাদ দুপাতা পড়েছিলাম, ছেড়াপৃষ্ঠাগুলো কল্পনা করে নেওয়াটা আমার জন্য খুব একটা কঠিন না। আমিতো জানি আমার লেখক হওয়ার কথা ছিল, পৃথিবীর সকল মহৎ সাহিত্য রচনা পেছনে আমার অনুভূতির দাম সমান। তবে এই মাঝরাতে সেসব কঠিন কিছু ভালো লাগছে না আর। বহুবার পড়া পুরনো একটা বই টেনে আনি হাতে। আমার মনে পড়ে যায় গতরাতে না যেন তার আগের জনমের কোন এক রাতে আমিই বুড়ো সান্তিয়াগোকে ঠেলে দিয়েছিলাম প্রতিকূল সমুদ্রের ঢেউয়ের মাঝে, উত্তাল সমুদ্রের গর্জন মুখে আবার আমিই তাকে ফিরিয়ে এনেছি ডাঙায় । আমিইতো শিখিয়েছি তাকে Man is not made for defeat. Man can be destroyed, but not defeated!
কী যেন এর অর্থ! ভুলে গেছি। মানুষ ধ্বংস হয় না একথা ঠিক তবে প্রতারিত হয়,ব্যর্থ হয়! পড়তে পড়তে ভাবতে ভাবতে আমি কানের ভেতর শুনতে পাই সমুদ্রের গর্জন, শিকারী হাঙর দাঁত বের করে কাটছে কারো নরম উরুর মাংস। মেয়েটা কাঁদছে কী যেন বলছে আমি শুনতে পাই অস্পষ্ট "ভাইয়া, ভাইয়ারে আমি আর পারছি না। এবার মুক্তি এনে দে, দেখ আমার ফ্রক জুড়ে শুধু রক্তের দাগ, অন্ধকার! বন্ধঘরে আলো নেই কত দিন, সূর্যের মুখ দেখি না অনন্তকাল। নোনা পানি চারপাশে! আমার খুব শীত করছে ভাইয়া, একটু আলো দিবি, জানিস আমি তোর মেলায় হারিয়ে যাওয়া সেই ছোটন, তোর কৌটোয় জমিয়ে রেখে এসেছিলাম একশো একটা সূর্য, সেখান থেকে দিবি একটা?"
আমি শুনিনা সে ভ্রান্তির ডাক। কানে বালিশ চাপা দেই। ঘুমিয়ে পড়ি! ঘুমের মাঝে স্বপ্ন আরো গাঢ় হয়, মেয়েটা এবার আসে অন্যরূপে। ঘুমিয়ে গেলি? আচ্ছা বেশ। দেখতো আমায় চিনিস কিনা? আমি তানি। সেই যে ক্লাস নাইনে একবার তুই ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আমার ছবি একে দিয়েছিলি, আমার গায়ে ছিল লাল জামা, আমি ছিলাম লাল পরী। তানি এবার হাসতে থাকে, নাচতে থাকে, আচ্ছা স্কুলে পড়ার সময় তুইতো এত ভীতু ছিলি না, নাকি ছিলি? তানি ঘুরে ঘুরে নেচে কথা বলে আর আমায় অবজ্ঞা করে হাসে।হাসতে হাসতে ওর কাপড় খুলে যায়, তবু হাসতে থাকে হাসতেই থাকে। দেখ আমার গায়ে এখন চামড়া রঙের কাপড়! কেমন সুন্দর না বল? দেখ না দেখ!
আমি দেখার আগেই আবার স্বপ্ন পাল্টে যায় ! আমরা আর ঘরে নেই দৌড়াচ্ছি এখন খোলা মাঠে। শহর নগর বন্দর ছেড়ে আমি ছোটন অথবা আমি তানি অথবা আমার সাথে ঐ বন্ধ ঘরের মেয়েটা আমরা ছুটছি। ঐ তো সামনে জ্বলছে সূর্য, আর একটু এগুলেই পলেস্তরা খসা সেই ব্রিজটা। এখানে একটা কুকুরের লাশ থেঁতলে গিয়েছিলো দানব ট্রাক। আজ ছোটনকে অথবা তানিকে অথবা ঐ বন্ধঘরের মেয়েটাকে আমি আরেকটা নতুন কুকুরের লাশ দেখবো, যে লাশটা অনেকদিন ধরে মরে পচে আছে সেই মৃতকুকুরের সাথে। ওদের প্রতারক প্রেমিক গভীর আলস্যে গন্ধ ছড়াচ্ছে এখানে অনেককাল! দেখাবো আজ। আমাদের আর কিছু ভাবার মত সময় নেই, আমাদের যেতে হবে অনেকদূর! ইস্টিশনে আজ ভোরের সেই ট্রেনটা আসবে নিশ্চিত, ট্রেনের জানালায় আমি ছোটনকে অথবা তানিকে অথবা বন্ধ ঘরের সে মেয়েটাকে নতুন সূর্য দেখাবো কথা দিয়েছি। ঘুমের ঘোরেও আমরা ছুটছি!

.