ধ্বংস

পাঠান জামিল আশরাফ



ধ্বংস

ওহে সূর্যবান
রে দাহ্যের সিংহ-আসন
পোড়াও এ সন্ধ্যা


দ্বিধা

তাক থেকে শব্দগুলো কাঁধে নেবার দিন
এসে গেছে; অস্ত্রের মুখে পড়েছে রাষ্ট্রযন্ত্র
পালটা অস্ত্র করেছে তাক।
ইশারা! ইশারা!
পত্রিকার কন্ঠ বদলে যায়।
জলমগ্ন দুপুর— সাহস নিভিয়ে দিলে
খাটের উপরে শুয়ে থাকে ছন্দা গুহ
চাইলেই ভ্রমণ করতে পারো
কয়েকটি শব্দ তাকিয়ে থাকবে
কেবল —
উষ্ণতার শেষে দুর্বল হয়ে ওঠো কি না!


প্রোষিতভর্তৃকা

মানুষ, কী অপরূপ! মুখ ভালোবাসে। ভাবতে ভাবতে চোখের নিচে গাঢ় ছায়াদেশ;
জলপূর্ণ বেসিনে ধুয়ে নিচ্ছে নীলিমা। সূর্যকমলা শাড়ীতে জড়িয়ে নিচ্ছে পাহাড়,
প্রবাস থেকে যেন কেউ ফিরবে। আজন্ম জড়িয়ে ধরবে সারাটা বিকেল।
উষ্ণ বুকের ঘাম ঢলে পড়বে নাভিতে; প্রবাসের আঙুল ডোবাবে সন্ধ্যা।
শরীর ভাঙবে উপোস, উজাড় করবে মন। আজ তারাদের হয়রানি,
ঈর্ষায় জ্বলে পুড়ে মরা। সারারাত বোঝাপড়া হবে —
এই স্মৃতি থেকে যতটা সম্ভব মুছে যাওয়া।

টারবাইন
বুকের ভেতরে একটা সূর্য
যেন টার্বাইনের মত ঘুরছে
বিম্বের প্রতিবিম্ব হয়ে
স্মৃতিসন্ত্রাস তাড়া করছে খুব।
লাল হওয়া চোখে
পুরোনো দুপুরের স্মৃতি দেখি,
পশমি বুকের ক্ষত এইখানে
ধানকিশোরীর ফড়িং-আঙুল
কি যে দ্রুততায় লাফাচ্ছে!
আর আমি হয়ে যাচ্ছি
শস্যযুবকের পিতা।
আঙুলে আঙুলে যুদ্ধ
লেগে যাচ্ছে।
হাসি কেটে কেটে
দুরে চলে যাচ্ছি আমি।
নদীতে সন্ধ্যা নামে
বেদনার আলো ফেটে
লাল হয় আরো
সবুজ ফসল ভর্তি মাঠে
ধানকিশোরী
একা একা অন্ধকারে
ধান-অন্ধকার করে
দুর থেকে আমার চোখ
লাল থেকে গাঢ় লাল হতে থাকে
অতি নিকটে জমাট রক্তে
অন্ধকার নদী
টলমল শব্দ করে।