দহনদিন

শতাব্দী দাশ



লেকের বড় গাছটা যেখানে বাহু বাড়িয়ে ঈষৎ ঝুঁকে জল ছুঁয়েছে, সেইখানে পা ঝুলিয়ে জলমুখী হয়ে বসেছিল দূর্বা। ওর পিছনে গৃহাভিমুখী সন্ধের শহর বয়ে যাচ্ছিল। সিমেন্টের সিটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল প্রেম। একাসনে তিনজোড়া মানব-মানবী, স্থান সংকুলান করে নিয়েছে। কোথাও একটা বাঁশি দিচ্ছিল বজবজগামী ট্রেন, তারও পেটে দুমড়ে মুচড়ে নিজেদের কুলিয়ে নিয়েছিল অতিরিক্ত মানুষেরা। লোহার শিকল আলগোছে ঘিরে ছিল হ্রদকে।


অনতিদূরে ছিল সেই ছোট সবুজ আইল্যান্ড, যেখানে সন্ধেবেলা শহরের কাকেরা সমবেত হয়। শহরের মধ্যে হ্রদ, আবার হ্রদের মধ্যে দ্বীপ। ভূমি-জল-ভূমি...এরকম একটা সমকেন্দ্রিক বৃত্তের নকশা দূর্বার মাথায় খেলে যাওয়া মাত্রই জ্যামিতিক নির্মাণটা সচল হয়ে উঠেছিল। নিটোল সমকেন্দ্রিক বৃত্ত হঠাৎ ঘূর্ণির মতো ঘুরতে শুরু করেছিল। বাঁই বাঁই ঘুরতে ঘুরতে বৃত্তের কেন্দ্রটা কেমন অতলে তলিয়ে যাচ্ছিল । কিংবা আসলে দূর্বার মাথা ঘুরছিল। প্রেসার ফল করেছিল কি গরমে? মে মাসের ভ্যাপসা আঁচ গায়ে না মেখে দূর্বা ঘোর লাগা মানুষের মতো ঠায় বসেছিল।


---------



একটা বাচ্চাকে নিয়ে স্টোরি করতে গেছিল আজ দূর্বা। বনগাঁ থেকে উদ্ধার হয়েছে মেয়েটি।সেই সূত্রে কিছু চক্রের হদিশ পাওয়া যেতে পারে, ধরপাকড় হতে পারে শোনা গেল । কিছু ঠিকঠাক সোর্সে ফোন লাগালেই এসব খবর নেমে যায়, অফিসে বসে বা যাওয়া-আসার পথে। ফিলার বৈ তো নয়! বেরোবে পাঁচ বা সাতের পাতার খাঁজখোঁজে। কিন্তু দূর্বা নতুন, পিআর ভালো না।


বেরোনোর আগে সিনিয়র দীপ্তদা বললেন- এর জন্য এই গরমে বেরোবে?


দূর্বা থমকায়, জিগ্যেস করে
-বেরোবো না?


-ধুস্, সব ধর্ষণ আসলে একরকম।


দূর্বা ব্যাগ কাঁধে পা বাড়ায় লিফটের দিকে। সোর্সগুলো বলে দিত না কি দীপ্তদা, সিগ্রেট খাওয়ার সময় একসঙ্গে নামলে? আধঘণ্টাটাক সময় কাটালে এসি রেস্তোরাঁর? দূর্বা একটা মেয়েকে নিয়ে স্টোরি করবে ভেবেছিল। যদিও সে জানে তিন-চারশ শব্দে খবর হবে শুধু যোনি নিয়ে। সেই খবরের ঘাঁতঘোঁত জানে পোড়খাওয়া লোকটা, কিন্তু মিনিমাগনায় সেসব জানাবে না।
শিয়ালদা থেকে ট্রেন ধরেছিল দূর্বা। শহরের অনতিদূরে জেলা হাসপাতালে পৌঁছতে বেলা একটা। ভিতরে তখন গলদঘর্ম ব্যস্ততা। ফোটোগ্রাফারহীন রিপোর্টার দেখে লোকজন নড়েচড়েও বসে না, নিজের মতো কলম পেষে। দূর্বা এনকোয়ারির কাঁচের ব্যবধানের উপর দিয়ে মাথা বাড়ায়। সাদা পোষাক পরা একটি ছেলে বসেছিল। কায়দামাফিক প্রেস কার্ড দেখিয়ে দূর্বা বলে,
-বনগাঁর মেয়েটিকে কভার করতে এসেছি।


-পুলিশের কাছে যান, এখানে কী?


-শারীরিক অবস্থা নিয়ে যদি ডাক্তারের সাথে কথা বলা যেত!


-নেই। ডাক্তার নেই। থাকলেও ব্যস্ত।


-অপেক্ষা করছি।কোন ওয়ার্ডে আছে?


- ফিমেল ওয়ার্ডেই।


- কার আণ্ডারে ভর্তি হয়েছে ?


কিছু অকারণ ঘ্যানঘ্যান, কিছু প্রগলভতার পর জানা গেল ডাক্তারের নাম। কথার ফাঁকে চারপাশটা দেখছিল দূর্বা। কভার করতে আর কেউ এল কি? চেনা মুখ খুঁজে পায় না সে । খবরটা এক্সক্লুসিভলি ওদের কাগজেই যাবে তাহলে? উজ্জ্বল হয়েই আমার নিবে যায় দূর্বা। তিন-চারশ ওয়ার্ড! কী হয় তাতে!


ফিমেল ওয়ার্ডে গিয়ে জানা গেল, ডাক্তারবাবু আউটডোরে । কেউ আবার বলল, ওটিতে। বিকেলের আগে দেখা হবেনা। এখানে ওখানে ঠোক্কর খেয়ে দূর্বা একটা বেঞ্চ পায় কাঠের, পা গুটিয়ে বসে। পুলিশের কাছেই যাওয়া উচিত ছিল কি? কেন এল হাসপাতালে? এফ আই আর হয়েছে। খবর হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয়? শারীরিক ক্ষয়ক্ষতির ডিটেল তো পুলিশই দিতে পারত। মেয়েটির ঢলোঢলো মুখ না টানাটানা চোখ, তা ইমম্যাটেরিয়াল। ইন ফ্যাক্ট, চাইলেও সে মেয়েটির কাছে পৌঁছতে পারবে না। কতগুলো পয়েন্ট জেনে নিতে হত শুধু। ধর্ষণ পরীক্ষায় প্রমাণিত কিনা। কোথায় কোথায় আঘাত, কালশিটে? নাবালিকা হলে- ছয়,বারো না ষোলো? নাবালিকা প্রতিদিন ধর্ষিত হয়, পাঠকের চোখে-মনে সয়ে এসেছে। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কারণে ধর্ষণ কি? ভালো ম্যাটার তবে । আর হ্যাঁ,ধর্ষণ পরবর্তী অত্যাচার কতটা হয়েছে? অন্ত্র বের করে এনেছিল? পা ছিঁড়ে নিয়েছে? যোনিতে টর্চ,মোমবাতি, নারকেল তেলের শিশি -কোনটা পাওয়া গেছে?


সব হাসপাতালেই রোগীদের আত্মীয়দের একই রকম দেখতে। হাতে রিপোর্টে ঠাসা একটা প্লাস্টিকের প্যাকেট থাকে, আর জলের বোতল। চোখ একইরকম শূন্যতায় নিহিত, একই রকম উৎকর্ণ তারা। যেমন পাশের ভদ্রলোক। প্রতিটা ঘোষণার সময় ভ্রু কুঁচকাচ্ছে তাঁর, শিরদাঁড়া সোজা হয়ে যাচ্ছে। যেন কোনো দু:সংবাদ আছড়ে পড়বেই মাইক বেয়ে।


-কোন ওয়ার্ড আপনার? কে ভর্তি?


-আমার স্ত্রী। অপারেশন হয়েছে গতকাল।


-ভালো আছেন?


-ওই আর কি! হিস্টেরেকটমি। ইউটেরাসটা বাদ দিল।


-ওহ!


-আপনার?


- খবরের কাগজ থেকে এসেছি। একটি বাচ্চা মেয়ে..


-হ্যাঁ। ফিমেল ওয়ার্ডেই আছে। অবস্থা ভালো নয় শুনলাম।


-আপনি দেখেছেন ওকে?


-হুঁ, নার্স মলম লাগাচ্ছিল কাল। শুনলাম বহুবার ইয়ে... রেপ...খারাপ পাড়ায় পাওয়া গেছে। খবর হবে কাল?


-এখনো সুবিধে করতে পারিনি। ডাক্তারবাবুকে পাইনি।


-জুনিয়রদের ধরুন। ওই যে একজন আসছেন। ইন্টার্ন...


দূর্বা দ্যাখে, গলায় স্টেথো এক তরুণী ক্লান্ত পায়ে এগিয়ে আসছে। যেন এখুনি কান্না ফেলে এলো।


-ম্যাডাম, মিডিয়া থেকে আসছি।


মেয়েটির ভয় আর চমকে ওঠা স্পষ্ট ধরা পড়ে চোখে। তারপর দূর্বার মুখ দেখে, মনে হয়, আশ্বস্ত হয় খানিক। ভয়ের বদলে সপ্রশ্ন বিরক্তি ফুটে ওঠে।


আবার খানিক অকারণ হাসি ও অসহায়তা প্রদর্শন করে তাকে ক্যান্টিনে যেতে রাজি করিয়ে ফ্যালে দূর্বা।


-আমার নাম নেবেন না। নাম করে কিছু ছাপবেন না। স্যার রাগ করবেন।


এই শর্তে তারা মাটিতে শুয়ে বসে অপেক্ষারত রোগীদের পাশ কাটিয়ে বেরোয়। চা নিয়ে বসে।


মেয়েটি অবাঙালী। অঙ্কিতা তিওয়ারি। চোদ্দ ঘণ্টা ডিউটির পর ভীষণ ক্লান্ত দেখায় তাকে।


-বেশিক্ষণ জ্বালাবো না আপনাকে। বাচ্চাটি আছে কেমন?


-অবস্থা খুব খারাপ। বহুবার রেপড। রেললাইনের ধারে পড়েছিল নাকি। খোওয়া পাওয়া গেছে কয়েকটা ওর ফিমেল অর্গ্যানে।


দূর্বার চা বিস্বাদ হয়ে যায় মুহূর্তে। বমি ঢেলে দেওয়ার জন্য বেসিন খোঁজে সে। কী কী যেন জীগ্যেস করার ছিল, সব গুলিয়ে যায়।


অঙ্কিতা নিজেই বলে চলে-


-করণীয় সব কিছু করা হয়েছে। ভ্যাজাইনার সোয়াব নেওয়া হয়েছে। নখের সেলস। ইউরিন টেস্ট। ব্লাড টেস্ট ফর এইডস এন্ড এসটিডি। ধর্ষণ যে সে নিয়ে তো সংশয় নেই। প্রশ্ন হল, কতবার। বাড়ির কেউ আসেনি। সম্ভবত বাড়ির লোকই বিয়ে দিয়ে দিয়েছিল।


-বিয়ে দিয়ে দিয়েছিল? এই বয়সে?


-পুলিশ তাই বলল। রেললাইনের পাশে বাড়ি। ওই অঞ্চলে অনেকেই নাকি মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেয় পাত্র দেখতে আসার দিনেই। মানে ধরুন, কেউ দেখতে এল। দেখল। পছন্দ হল। সেদিনই বিয়ে। পাত্রের বাড়ির খোঁজখবর নেওয়ার দরকার নেই।


-তারপর?


-তারপর পুরো শ্বশুরবাড়ি মিলে ধর্ষণ করেছে মনে হয়। লোকগুলো পালিয়ে বেড়াচ্ছে।


-বেশ্যাপাড়ায় কীভাবে?


- সম্ভবত বহুবার ধর্ষণের পর বেচে দেয়। এ পাড়া ওপাড়া হয়ে চলে আসত কলকাতা। সেখান থেকে মুম্বাই হয়ত। বা রাজস্থান, ইউপি। কিন্তু মেয়েটা সহ্য করতে পারেনি। শরীর দেয়নি আর। তারপর ফেলে গ্যাছে রেলের ধারে।


-বাঁচবে?


-লেটস সি। বাঁচলে দেখতে হবে রোগ কিছু বাধিয়েছে কিনা। এ তো তাও একটা গ্যাং... পরশু এসেছিল এক নবছরের মেয়ে। কম্পলিটলি মিউটিলেটেড ভ্যাজাইনা। চাচেরা ভাই, বুঝলেন? মা কাঁদছিল। কাউকে কিছু বলতেও পারবে না নাকি!


দূর্বার মনে পড়ে, পাখির স্কুল থেকে ফেরার সময় হল। এবার দুধ খেয়ে খেলতে যাবে। ওর শিরদাঁড়া বেয়ে ঠাণ্ডা স্রোত নেমে যায়। সব শিশুর মুখেই পাখি জেগে থাকে।


ধন্যবাদ জানিয়ে উঠে পড়ে দূর্বা। মহিলা ডাক্তারের সামনে চা জুড়িয়ে গেছে। সে বলে,
-নাম লিখবেন না কিন্তু।


ডাক্তারনীকে নিথর বসিয়ে রেখে দূর্বা ট্রেন ধরার জন্য দৌড়ায়। ছায়াহীন দহনকাল ফেলে দৌড়চ্ছে ট্রেন। শুকনো মাঠ, জলহীন পুকুর, বিবর্ণ গাছ। কী আশ্চর্য, তা সত্ত্বেও বটের ঝুরি ধরে দুলছে এক অর্ধনগ্ন বালিকা! কত বয়স হবে ওর? আট? নয়? ও কি সুরক্ষিত এই শুনশান প্রান্তরে? আজ এতবার পাখির কথা মনে আসছে কেন?


পাশ ফিরতেই এক যুবককে মোবাইলে ওয়েব নিউজ পড়তে দেখে সে। সেই মন্দিরে গণধর্ষিতা শিশুর খবর। ফলো আপ। এর পর থেকেই তো শিশুধর্ষণ নিয়ে তদন্তমুখী হয়ে উঠল মিডিয়া। পঞ্চায়েত ভোটের আগে পর্যন্ত চলবে এটা । কিন্তু লোকটার কি গা গুলিয়ে উঠছে? মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে? নাকি সে যৌন আনন্দ লাভ করছে? এক নৃশংসতার বর্ণনা অনেক নৃশংসতাকে উস্কে দিচ্ছে কি? রোজ কেন ফিলার যাচ্ছে? রোজ? কেমন সুস্থ মানুষের মতো দূর্বা রোজ বেরিয়ে পড়ছে ফিলারের সন্ধানে!রক্ত বীর্য মাখামাখি পুতুলরা পড়ে আছে, তাদের পাশ কাটিয়ে,ডিঙিয়ে, দূর্বা তিনশ সাড়ে তিনশো শব্দের মতো দূরত্ব হাঁটছে। ফিরে আসছে। আবার হাঁটছে একই পথ। ফিরে আসছে।


বাইরে আবার চোখ রাখে দূর্বা। হঠাৎ গাছের নিচে একটুকরো ছায়ায় এক গ্রাম্য বালককে শুয়ে থাকতে দেখে সে। বালক আলগোছে জড়িয়ে আছে একটি ঘুমন্ত বাছুরকে। কি নিশ্চিন্দি দুজনেরই চোখে মুখে! আদিগন্ত দহনবেলায় এই আশ্চর্য ছায়াদ্বীপটিকে দূর্বা ঘুরে ঘুরে দেখে। দেখতে থাকে। সম্পূর্ন পাগল হয়ে যাওয়ার প্রান্তে এসে দাঁড়ালেই এমন অদ্ভুত সব দৃশ্য কে হাজির করে সামনে? কবিতার মতো কিছু একটা খেলে যায় দূর্বার মাথায়। সুস্থ থাকতেই হবে। সে নিশ্চিত জানে, পাশাপাশি ঘুমোলে তাকে আর পাখিকেও এমনই চোখজুড়ানো সুন্দর দেখায়। আজ অ্যাপয়ন্টমেন্ট ছিল কাউন্সেলারের সাথে। সুবিধামতো স্টেশনে নেমে পড়ে সে।

দূর্বার কাউন্সিলার মহিলা ব্যস্তসমস্ত, তবু হাসিখুশি। আজ অ্যাপয়ন্টমেন্ট দিয়েছেন শহরের এক রিহ্যাবের এক কোণের ঘুপচি চেম্বারে । বন্ধ দরজার আড়ালে দূর্বা তার অন্ধকার ঘর হাট করে। রাতে ঘুম হয়না। ওষুধের ডোজ বাড়াতে হবে। ফ্রিজে কেন খাবার ঢোকাতে মনে থাকেনা? চাবি দেওয়া হল কি হল না, তাই নিয়ে সারাদিন টেনশন চলে কেন ? পাখি এত দুষ্টু হয়ে যাচ্ছে! যার তার হাত ধরে খেলতে চলে যায়। কেউ যদি কখনো কোনো আড়ালে নিয়ে গিয়ে…


কাউন্সিলার বলেন, ক্রমাগত নেগেটভিটিতে মনোনিবেশ করতে গিয়ে দূর্বা আক্রান্ত হচ্ছে মনখারাপে। সেই সময় ফোন আসে ওঁর। তারপর ফোন আসে দূর্বার। কাল এক
অ্যাসিড ভিক্টিমকে কভার করতে যাবে। বন্ধ দরজায় ওপারে সেই সময় কেঁদে কঁকিয়ে ওঠে কোনো পাগল। দূর্বার ভালো করে ইন্সট্রাকশন নেওয়া হয় না ফোনে।


বাইরে এসে বাড়িতে ফোন করে দূর্বা। মা জানায়, পাখি ফিরেছে খেলেধুলে। এবার পড়তে বসবে। ফোনের ওপারে গানের সুর শোনা যায়। পাখি হাততালি দিয়ে গাইছে- ‘আজ ধানের খেতে রৌদ্রছায়ায়…’। গাইছে,
হাততালি দিচ্ছে, কারণ ‘সুবর্ণরেখা’-য় মা ওইভাবে হাততালি দিয়ে এই গান শোনাচ্ছিল তার ছেলেকে। পাখি সে ছবি দেখেনি। শুধু গানের দৃশ্যটি দেখেছে ইউটিউবে। দূর্বা দেখিয়েছে।


এক মোড়ের মাথায় দূর্বা প্ল্যাকার্ড হাতে মৌন জমায়েত দেখে। ওদের মুখ কালো কাপড়ে বাঁধা, বুকে মন্দিরে ধর্ষিত আটবছুরের ছবি। সরব, নীরব বা কলরবমুখর- সব প্রতিবাদ, সব প্রতিরোধ আসলে একটাই পথে যায়...যে পথ বেয়ে বাড়ি ফিরে এসে, সে আর পাখি ওই গানটা গাইবে, গাইতে পারবে, হাততালি দিয়ে। এইরকম এলোমেলো ভাবনা নিয়ে দূর্বা লেকের পাশ দিয়ে শর্টকাট ধরে।
----------



অত:পর ক্লান্ত পায়ে দূর্বা লেকের পাশে এসে বসেছিল । গাছের ছায়ায় শোওয়া বালক আর বাছুরটি ফিরে এসেছিল সন্ধেয় । কিন্তু কবিতা আসে নি। গত রাতে দূর্বা স্বপ্নে দেখেছিল, একটা মন্দিরের তলার শান্ত গর্ভগৃহে সে নেমে যাচ্ছে কবিতা লিখবে বলে। কিন্তু ঘোরানো সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে মুহুর্মুহু শিশুর চিৎকার শুনতে পেল বলে গর্ভগৃহের দরজা বন্ধ করা হল না। এ স্বপ্নের কথা কাউন্সিলারকে বলা হল না বলে দূর্বা চুক চুক শব্দ করে জলের ধারে বসে। কবিতা আসেনি বলে কালকের কাগজের ফিলার মোবাইলে টাইপ করে দূর্বা। হোয়াটস্যাপে সেণ্ড করে ঠাণ্ডা মাথায়, সঠিক নাম্বারে।


স্ক্রিনে দুটো টিক নীল হয়ে জ্বলে ওঠার মুহূর্তেই সন্ধে সাতটার চাঁদ চড়েছিল সেই দ্বীপের ঘাড়ে , যেখানে শহরের কাকেরা ফিরে, হট্টগোল করে, থেমে গেছিল। চাঁদ দূর্বার গায়ে রুপোলি অ্যাসিড ঢেলে দিয়েছিল।