সমসাময়িক কবিতা

শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়





কিছু চিৎকারের সামনে কোনওদিন প্রতিরক্ষা থাকে না
কিছু আগুনের সামনে বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ থাকে না
অথচ দূর থেকে আমরা চেঁচিয়ে উঠি
খবরের অক্ষরে একফোঁটাও ছাই লেগে নেই



আমি কেন প্রকাশ্যে চিৎকার করতে পারি না?
আমরা কেন রাস্তায় নেমে বলি না না-হওয়া নির্বাচনের কথা
কেন আমার কথা অন্য কেউ বলে দেবে
কেন আমার কৌতুহল সূর্যের প্রশ্নের সামনে কৈফেয়ত দিতে পারবে না?



বাতাসকে ভয় পাওয়ানোর মুখোশ পরে আছি আমরা
সমস্ত জীবন্ত ঠোঁট চুপ
সমস্ত ধর্মের সমস্ত পতাকা আমরা পুঁতে দিয়েছি পরস্পরের কাঁধে
কবিতার একমাত্র কাজ ভাষার সুরক্ষা করা বুঝে গেছি আজ



ধড়ের উপরে গুঁজে নিয়েছি পতাকা
দল বেঁধে এগিয়ে চলেছি স্রোতে
শব দিন শব কাল একই রকম
শবেদের ধর্ম নেই পরিজন শোকার্ত হলে
জ্বালিয়ে নিয়েছি পতাকার লাঠি



প্রতিশোধ বলে তো একটা কথা আছে
ভুলে গেলে চলবে কিকরে
আমাকে পাঠানো সাদা থান
এবার তোমাকে দেবো, শুরু হবে আমার উৎসব





আমার ভাষায় কেউ কথা বলবে না
আমার হরফ ছুঁইয়ে পড়ে থাকবে ছাই
আমার শরীর জুড়ে উৎসবের ঢেউ
আমার সমস্ত রং তোমাকেই লাগাতে হবে তোমাদের সমস্ত বাড়িতে





আমাদের দশটা মানে ওদের কুড়িটা
এভাবেই স্পষ্ট হোক দেয়ালের লেখা
দেয়াল তো লোকের দেয়ালেই মুছে যায় পুরনো চিহ্নেরা
আমার সময় এলে বুঝে নেব হাড়ের হিসেব



হাতে অস্ত্র এলে তবেই না বিদ্রোহ
বন্দুকের নল সংক্রান্ত সব কথা পুরনো হতেই
ঘরে ঘরে বিলিয়ে দিয়েছি কাটারি
জাতি হিসেবে আমাদের পরিচয় শান্তিপূর্ণ



আমার শরীর জুড়ে শত্রুতার গাছ
তোমার শরীর জুড়ে শত্রুতার বীজ
রাস্তা কারও ভুল হতে পারে না
কয়েকটা পতাকা ঘাড়ে পুঁতে দিয়ে প্রমাণ দেবোই

১০

তুমি তো আমার ভয়ে রেখে দিয়েছো অস্তিত্ব
ভয় কী? ভিয়েতকং এর কানে চেপে ধরা বন্দুক?
ঘুম তাড়িয়ে অনন্ত দ্রুত পায়চারির পথে ঠেলে দেওয়া
মাংস খাবার জন্য খুন? শুধুই দরজায় আওয়াজ শুনতে পাই
পরপর প্রতিবেশিদের জানলা বন্ধ করে দেওয়ার শব্দ
পরপর পতাকার দায়ে রান্নাঘরে আগুন লাগাবার শব্দ

১১

আমার সামনে একটা পাথরের বিস্ময় রং
কোনও এক সুতীব্র চোখ ভয়মুক্ত দিন
যদিও ভূতাত্ত্বিক বের করে দেবেন
পাথরের উপরে পর্বতের অসীম ভার
তার ভিতরের ভাঁজ
১২

ভয় তো আসলে একটা অভ্যাস মাত্র
এই নিস্তরঙ্গতায় ভাল লাগে
আমার ঘরের নিচে তেমন কেছু নেই
দু-একজন বন্ধু শুধু অযথাই কুঁকড়ে থাকে
অন্যেরা দলবদ্ধ শান্তিপূর্ণ মিছিল
প্যালেস্তাইনের হয়ে

১৩

সে কোন গহ্বর থেকে উঠে এসেছিল শ্বাস?
সে কোন আলোর মধ্যে লুকিয়ে ছিল দুর্বলতর নক্ষত্রের প্রতিধ্বনি?
সে কোন রাতের ফুলে লেগেছিল বাদামি ছিটে?
সে কোন গন্ধের পুস্প বমি তুলে এনেছিল মুখে?