নরহরি বাবুর ‘ mistake ’

দামোদর গোস্বামী

নরহরি বাবু নতুন কলকাতায় এসেছেন । রাস্তাঘাট এখনো ঠিকমত চিনে উঠতে পারেন নি । সারা জীবন ঝাড়খণ্ডের ছোট্ট শহর মোহনপুরে কাটানোর পর হঠাৎ করে এত বড় একটা জায়গায় এসে সবই কেমন অদ্ভুত মনে হচ্ছে তাঁর ।
ওখানেই বেশ ছিলেন তিনি । কিন্তু হলে কি হবে , সরকারকে সে কথা বোঝাবে কে ? নরহরি বাবু রেলের গেটম্যান । ট্রেন আসলে গেট বন্ধ করে দেওয়া তাঁর কাজ । গিরিডির কাছে ছোট্ট স্টেশন মোহনপুর সংলগ্ন রেল গেটটায় বেশ ভালোই কেটে যাচ্ছিল নরহরি বাবুর । ট্রেন বলতে সারাদিনে মোটে চারটে । সকালে পর পর দুটো , সন্ধ্যে বেলায় একটা আর রাত ন’টায় একটা এক্সপ্রেস ট্রেন। স্টেশনের পাশেই কোয়ার্টার । তাই কাজকর্ম প্রায় কিছুই নেই । সারাদিনে সঙ্গী বলতে ওই সাঁওতাল ছেলেগুলো । ওরা সারাদিন হইহই করে ঘুরে বেড়ায় শাল পিয়ালের জঙ্গলে । মাঝে মাঝে বন থেকে পেয়ারা এনে দেয় নরহরি বাবুকে । আর সন্ধ্যের সময় আসতো শেয়ালের ঝাঁক । খুব খানিকটা ডাকাডাকি করে তারা ঢুকে যেত পূব দিকের ঘন জঙ্গলটায় । পরের বার আবার যখন তারা আসতো , নরহরি বাবু তখন আধ্বেক ঘুমে । ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই শুনতে পেতেন ওদের ডাক । কতবার ভেবেছেন রাতের দিকে একবার গিয়ে দেখে আসবেন ওরা কি করে । ওখানেই বসে থাকে না কি তখুনি জঙ্গলে চলে যায় । কিন্তু সে যাওয়া আর তাঁর কোনওদিন হয়ে ওঠে না ।
এ হেন নরহরি বাবুকে রেল বিভাগ হঠাৎ করে বদলি করে দিল একেবারে মহানগরে । কেন কে জানে ? তিনি তো কোন কারণ বুঝতে পারলেন না । কিন্তু এখানে এসে অবধি তাঁর মনটা ভালো নেই । চারিদিকে শুধুই লোকজন ,
ভিড় , চেঁচামেচি , সবাই চারিদিকে দৌড়োচ্ছে । কেন যে দৌড়োচ্ছে তা অনেক ভেবেও নরহরি বাবু এখনো ঠিক বুঝে উঠতে পারেন নি । দু’এক মিনিট পর পর ট্রেন , তাও সবাই ট্রেন ধরতে দৌড়চ্ছে । আবার গেট খুলতে একটু দেরি হলেই হইচই । মাঝে মাঝে মনে হয় এবার বুঝি তাঁর মাথাটাই খারাপ হয়ে যাবে ।
তিনি সেইজন্যে আজকাল খুবই অন্যমনষ্ক হয়ে থাকেন । মন কেমন করে মোহনপুরের জন্যে , মন কেমন করে নিজের হাতে লাগানো খেজুর গাছটার জন্যে , ছোট ছোট সাঁওতাল ছেলেগুলোর জন্যে , এমনকি কোন কোন দিন শেয়ালগুলোর জন্যেও । ওরা তাঁর অনেক দিনের সঙ্গী। সন্ধ্যেবেলা একদিন লোডশেডিং হয়ে সব আলো নিভে গেছিল , হঠাৎ তাঁর মনে হল এইবার বোধহয় শেয়ালগুলো এসে পড়বে । কিন্তু একটু পরেই আলো চলে এল আর লোকজনের চেঁচামেচিতে তাঁর সেই ভাবনাটা কোথায় যেন মিলিয়ে গেল । এই তো আজ সকালেই বাজার করতে বেরিয়ে কি সব ভাবতে ভাবতে কোন দিকে যেন চলে গেছিলেন । তারপর রাস্তা হারিয়ে ফেলে, এদিক ওদিক ঘুরে , জিজ্ঞেস করে করে বাড়ি পৌঁছেছেন অনেক কষ্টে । কাল থেকে ঠিক করেছেন খুব সতর্ক থাকবেন , কোনো ভাবেই আর রাস্তা ভুল না হয়ে যায় ।
কিন্তু পরের দিন বাজারে বেরিয়ে একটা ঘটনা ঘটল । একটু এগিয়ে দেখেন রাস্তার ধারে একটা বেড়াল ছানা কুঁই কুঁই করে ডাকছে । খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বুঝলেন কেউ বাড়ি থেকে ছেড়ে দিয়ে গিয়েছে ওকে, ওর মা-কেও কাছাকাছি কোথাও দেখা যাচ্ছে না। তিনি কাছে এগিয়ে হাতটা পাততেই ছানাটা টুপ করে তাঁর হাতের ওপরে উঠে পড়ল । নরহরি বাবুর মনটা কেমন যেন হয়ে গেল । ওকে তুলে নিয়ে জামার সামনের দিকের বড় পকেটটার ভেতরে বসিয়ে দিলেন তিনি । সে - ও বেশ নিশ্চিন্তে বসে দু’হাত দিয়ে পকেটের কিনারা টা ধরে মুখ বের করে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখতে লাগল । কিন্তু এইবার বোধহয় রাস্তাটা আবার গুলিয়ে গেল নরহরি বাবুর । আর একটু হাঁটতেই চারিদিকে কেমন যেন অচেনা অচেনা ঠেকতে
লাগল । যাই হোক , আজ তাঁর মনটা ভালো থাকায় তিনি ব্যাপারটাকে খুব একটা পাত্তা দিলেন না । একটা গান অনেকক্ষণ থেকেই মনের মধ্যে উঠি উঠি করছিল , এইবার সেটা তাঁর হঠাৎ মনে পড়ে গেল । তিনি বেশ ফুর্তির সঙ্গে গুনগুন করে গাইতে গাইতে চলতে লাগলেন জোর পায়ে । বেশ খানিকটা হাঁটার পর একটা খুব বড় বাজার দেখতে পেলেন । অবাক হয়ে ভাবলেন , এটা তো সেই বাজারটা নয় , রোজ যেখানে বাজার করতে আসি , এটা তো আরও বড় , অনেক ভালো , আরও অনেক কিছু পাওয়া যায় দেখছি । মনটা তাঁর আরও একটু ভালো হয়ে গেল । আজ সকালে কার মুখ দেখে বেরিয়েছিলেন কে জানে , শুধুই ভালো ভালো ঘটনা ঘটছে । কদিন থেকেই গিন্নি সরযূবালা বলছিলেন গন্ধরাজ লেবু নিয়ে আসার জন্যে কিন্তু কোনোদিনই তিনি বাজারে পাচ্ছিলেন না । এই বাজারে দেখলেন একটা বুড়ি অনেক গন্ধরাজ লেবু এনেছে । খুব খুশি হয়ে তিনি একেবারে চারটে কিনে ফেললেন । দরকার - অদরকারি আরও অনেক কিছু কিনে ফেললেন মনের আনন্দে , তারপর পা বাড়ালেন বাড়ির দিকে। এতক্ষণ বেড়াল ছানাটার কথা তিনি ভুলেই গিয়েছিলেন , দেখলেন সে তার বড় পকেট টার মধ্যে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছে । গরমটা পেয়ে বেশ আরাম হয়েছে বোধহয় ।
বাড়ী এসেই সরযূবালা কে বললেন সব কথা । এত কাছে যে একটা এত ভালো বাজার আছে যে খবর তিনি জানতেন - ই না । ঠিক করলেন এবার থেকে ওইখানেই রোজ যাবেন ।
নরহরি বাবুর আরও অনেক মজার মজার গল্প আছে । সেসব বলতে গেলে একদিনে শেষ হবে না । তাঁর গল্প থেকে আমরা এবার একটু বিজ্ঞানের দিকে দৃষ্টি ফেরাবো । আমরা দেখব যে প্রাকৃতিক নিয়মগুলোও কখনও কখনও নরহরি বাবুর মতোই কাজকর্ম করে । কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদ যখন জন্ম নেয় তখন সে যে জেনেটিক গঠন টা পায় , সেটা প্রধানতঃ আসে তার বাবা মায়ের কাছ থেকে । কিন্তু তার বাইরেও কিছু অদ্ভুত ব্যাপার ঘটে । না হলে তো বাবা মায়ের সাথে ছেলে মেয়েদের কোনো তফাৎ থাকতো না । তা কিন্তু হয় না । কিছু কিছু মিল থাকলেও অমিল-ও থাকে অনেকটা । আর এই অমিলটাই ছেলে মেয়েদের আলাদা করে দেয় বাবা মায়ের থেকে । এই আলাদা হওয়াটা কখনও বা ভালো হয় , কখনও বা মন্দ । কি হবে তার ওপর আমাদের কোন হাত নেই । ঠিক কি হয় এই সময়টা তে ? বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘ crossover ’ । অর্থাৎ দুটো DNA কাছাকাছি আসলে এর খানিকটা অংশ ওর সাথে জোড়া লাগে আবার ওর খানিকটা অংশ এর সাথে । এইভাবে জোড়া লেগে নতুন যে জিনিষটা তৈরী হয় সেটা সত্যিই একটা নতুন জিনিষ । একটা গাছ আর একটা পাখির ছবি যদি আলাদা করে নিয়ে তাদের খানিকটা করে কেটে নিয়ে অন্যটার সাথে জোড়া লাগানো হয় তাহলে নতুন যে বস্তুটা তৈরী হয় সেটা আর গাছও থাকে না , পাখিও থাকে না , সম্পূর্ণ নতুন একটা কিছু হয়ে দাঁড়ায় । তবে এখানেই প্রকৃতি ক্ষান্ত হয় না । আরও খানিকটা নতুন জিনিষ করার লোভে সে মাঝে মাঝে একটা মজার কাণ্ড করে । হঠাৎ হঠাৎ করে জেনেটিক কোড এর কিছুটা অংশ বদলে সম্পূর্ণ নতুন করে দেয় । এর নাম ‘ mutation ’ । এই ‘ mutation ’ এর কিন্তু কোন নিয়ম নেই । কোথায় যে বদলে দেবে , কিভাবে দেবে আর কত জায়গায় দেবে সেটা কিছুতেই আগে থেকে বলে দেওয়া যায় না । তাই এর নাম ‘ random mutation ’। বিজ্ঞানে ‘ random ’ কথাটার মানে হল যার কোন নিয়ম নেই । নিয়ম নেই মানে আমি বের করতে পারিনি বা আমি জানিনে
এমনটা নয় , এর মানে হল যার কোন নিয়ম চেষ্টা করলেও বের করা যাবে না , কেউ কোনদিনই বের করতে পারবে না । এবার প্রশ্ন হল এমনটা কেন হয় ? কি দরকার ছিল এমন সৃষ্টিছাড়া ভাবে বদলে দেওয়ার ? এটা করতে হয় নতুন কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরী করতে । তাতে সবসময় যে ভালো কিছু পাওয়া যাবে তা না - ও হতে পারে , হয়তো খারাপ - ই হল । তেমনটা হয়েও থাকে । কিন্তু পরিবর্তনটা না হলে তো ভালো কিছু হওয়ার রাস্তাটাও খোলা রইল না । নরহরি বাবু রোজ - ই যে রাস্তা ভুল করে ভালো বাজার খুঁজে পাবেন এমনটা নিশ্চয়ই হবে না । প্রথম দিন তো তিনি রাস্তা হারিয়ে শুধু শুধুই ঘুরেছেন অনেকটা । কিন্তু ওই নতুন রাস্তায় যাওয়াটা বন্ধ হয়ে গেলে তো কোনোদিনই গন্ধরাজ লেবুর খবরটা পেতেন না । আবার মাঝে মাঝে এর থেকে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ভাবে বেড়াল ছানাও খুঁজে পাওয়া যায় । সেটা একটা বাড়তি পাওনা । তাই মাঝে মাঝে ভুল করারও দরকার হয়ে পড়ে, না হলে জগতটা ‘ তাসের দেশ ’ হয়ে যায় । ‘ মিসটেক ’ শুধু আপনভোলা নরহরি বাবুই করেন না , করে প্রকৃতিও । ইচ্ছে করেই করে , নতুন কিছু খুঁজে পাওয়ার জন্যে করে , ‘ mis – take ’ থেকেও কিছু ‘ take ’ করা যায় এটা জানে বলেই করে ।
আমাদের গল্প এখানেই শেষ । এবার একটু তত্ত্বের কচকচি । এটা যাঁরা মিউটেশন এর বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব জানতে উৎসাহী তাঁদের জন্যে । তবে এটা না জানলেও গল্পের মজা নষ্ট হবে না ।
প্রথমে আমরা চোখ রাখি এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার পাতায়। এখানে মিউটেশনের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এই ভাবে:
“ mutation , an alteration in the genetic material ( the genome ) of a cell of a living organism or of a virus that is more or less permanent and that can be transmitted to the cell’s or the virus’s descendants . ( The genomes of organisms are all composed of DNA , whereas viral genomes can be of DNA or RNA ; see heredity : The physical basis of heredity . ) Mutation in the DNA of a body cell of a multicellular organism (somatic mutation) may be transmitted to descendant cells by DNA replication and hence result in a sector or patch of cells having abnormal function , an example being cancer. Mutations in egg or sperm cells (germinal mutations ) may result in an individual offspring all of whose cells carry the mutation , which often confers some serious malfunction , as in the case of a human genetic disease such as cystic fibrosis. Mutations result either from accidents during the normal chemical transactions of DNA , often during replication, or from exposure to high - energy electromagnetic radiation ( e . g . , ultraviolet light or X – rays ) or particle radiation or to highly reactive chemicals in the environment . Because mutations are random changes , they are expected to be mostly deleterious , but some may be beneficial in certain environments . In general , mutation is the main source of genetic variation , which is the raw material for evolution by natural
selection .”
তাহলে দেখা যাচ্ছে মিউটেশনে বেশির ভাগ সময়ে খারাপ - ই হয় , এর থেকে হতে পারে নানান রকম জেনেটিক ডিজিজ , এমনকি ক্যান্সার হওয়াও বিচিত্র নয় । তবু ইভোলিউশনের প্রয়োজনে , নতুন ভালো কিছু খুঁজে পাওয়ার প্রয়োজনে সেই রিস্ক টা নিতেই হয় । মিউটেশন হতে পারে বাইরের কোন কারণ থেকে অথবা রেপ্লিকেশনের পার্ট হিসাবেই ।
এবার আমরা একটু দেখে নি আমাদের অতি পরিচিত উইকিপিডিয়া এ বিষয়ে কি বলে :
“ In genetics , a mutation is a change of the nucleotide sequence of the genome of an organism , virus , or extrachromosomal genetic element . Mutations result from unrepaired damage to DNA or to RNA genomes ( typically caused by radiation or chemical mutagens ), errors in the process of replication , or from the insertion or deletion of segments of DNA by mobile genetic elements . Mutations may or may not produce discernible changes in the observable characteristics ( phenotype ) of an organism . Mutations play a part in both normal and abnormal biological processes including : evolution , cancer , and the development of the immune system.
There is increasing evidence that the majority of spontaneously arising mutations are due to error prone replication ( translesion synthesis ) past a DNA damage in the template strand . As described in the article DNA damage ( naturally occurring ) , naturally occurring DNA damages arise about 60,000 to 100,000 times per day per mammalian cell . ”
এখানে খুব বেশী নতুন কিছু নেই । শুধু দুটি জায়গায় একটু মন দিতে হবে । মিউটেশন কি তা বোঝাতে গিয়ে দুটি কথা দু জায়গায় বলা হয়েছে আরও অন্যান্য কথার মাঝখানে , সেই দুটির দিকে একটু নজর দেওয়া যাক । এক জায়গায় বলা হচ্ছে এটি “ errors in the process of replication ” আর এক জায়গায় বলা হচ্ছে “ There is increasing evidence that the majority of spontaneously arising mutations are due to error prone replication ”। এই ‘ error ’ শব্দটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, অনেকটা ‘mistake’ এর কাছাকাছি।
শেষকালে আমরা এক ঝলক চোখ বুলিয়ে নেব বিখ্যাত ব্রুকলীন কলেজের ওয়েবসাইটে । সেখানে যে সব কারণে মিউটেশন ঘটে সেগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। যেমন বিশেষ কোন কেমিক্যালের জন্যে হতে পারে , হাই এনার্জি রেডিয়েশন থেকে হতে পারে , আল্ট্রাভায়োলেট রেডিয়েশন থেকে হতে পারে আবার স্পন্টানিয়াস মিউটেশন - ও হতে পারে । আমাদের উৎসাহ এই স্পন্টানিয়াস মিউটেশন কে নিয়েই , কারণ এখানে পরিবর্তন টা বাইরের কোন কারণ থেকে
হয় না , নিজে নিজেই হয় । এখানে বলছে ,
“ Spontaneous mutations occur without exposure to any obvious mutagenic agent . Sometimes DNA nucleotides shift without warning to a different chemical form ( know as an isomer ) which in turn will form a different series of hydrogen bonds with it's partner. This leads to mistakes at the time of DNA replication . ”
এখানে শেষ লাইনে ‘mistake’ কথাটার দিকে শুধু লক্ষ্য করতে হবে। নরহরি বাবু মিসটেক করে যে খুব একটা খারাপ কাজ করেন নি সেটা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন কি না কে জানে, তবে আমরা এবার অনেকটাই বুঝতে পারলাম।
***** ***** *****
তথ্য সূত্র
• http://www.britannica.com/EBchecked/topic/399695/mutatio n
• http://en.wikipedia.org/wiki/Mutation
• http://www.brooklyn.cuny.edu/bc/ahp/BioInfo/MUT/Mut.
Definition.html