ওহ মারমেইড!

সেঁজুতি বড়ুয়া



ওহ মারমেইড!

বৃষ্টিভেজা ভোর, কুয়াশা শিশির রোদ
কিছুই তো মানতে না! অথচ ব্যালকনিতে
দাঁড়ালেই কেমন মারমেইড, মারমেইড মনে হতো!
মারমেইড বলেই- চুলগুলো খুব এলোমেলো উড়তো
বুকের উপর কোথা থেকে প্রজাপতিরা এসে বসতো
একদিন ঘরে ফেরার পথে রিক্সা পেলে না, বাসও বন্ধ
তখন তপ্ত রাজপথ।ফুটন্ত মারমেইড বলেই পড়ে গেলে
- তাহাদের হাতে!
এক হাত থেকে অন্য হাতে, শূন্যে শূন্যে...
চুলগুলো আরো এলোমেলো হলো
বুকের উপর থেকে সব প্রজাপতি কোথায় পালালো
শুধুমাত্র মারমেইড বলে ওরা তোমাকে ছুঁতে পারলো!
হাস্নাহেনার শিরস্ত্রাণে বিষণ্ন মারমেইড তুমি
কখন যে কঠিন খনিজ হয়ে গাঢ় মনোকষ্টের রঙে
জ্বলন্ত দুপুর ছুঁলে- রাত্রির গর্জনে...
যে পথ মাড়িয়ে গেলে- সমাধি ফলকে
শুধু তার নিষিদ্ধ আমিষগন্ধ নাকে এসে লাগে
শুধু তার ভয়ঙ্কর নাভীর পাতালে শোনা যায়
পাতার আশ্চর্য মর্মর গান...
অথচ তুমি তো মারমেইড নও শুধু
ঘুরছো আশ্চর্য নারীজন্ম নিয়ে!










শীতে, আমার ইচ্ছেগুলো


খুব শীত শীত লাগছে!
গরম চায়ের সাথে ফুলকপির সিঙ্গাড়া খাচ্ছি
নীরবতা ভেঙে একটা লাল পিঁপড়া সাঁতার কাটছে চায়ে
এখন যদি বলি, চা-টা বদলে দেবে?
জানি তো বলবে তুমিও, কী করবে বলো চায়ে চিনি থাকে
সেই চিনিতে পিঁপড়া থাকবেই...
গরম চায়ে তিরতির কাঁপছে ঠোঁট
শীতের কাঁপুনিতে জড়িয়ে যাচ্ছে বাদলঘন মেঘ
তবুও তুমি বললে না, আহা! খুব কাঁপছো
এসো ঘন হয়ে বসে থাকি চুপচাপ, কিছুক্ষণ!
তখন আকাশে ঝিরঝিরে বৃষ্টি নামছে
শীতের প্রকোপ আরো বাড়ছে
তোমার দিকে তাকাতে পারছি না
চায়ে নরম ঠোঁট পুড়ছে
মুখে ফুলকপির বদলে গরম কলিজার কামড়...
তুমি রেগে-মেগে বললে, তোমার জন্যে কী মার্সিডিজ আসবে?
বৃষ্টি পড়ছে। তাড়াতাড়ি ওঠো তো রিক্সায়...







স্বপ্ন যেভাবে তাড়া করে ফেরে


গড়িয়ে যাওয়া বিকেলে হিমালয় থেকে ফিরে সবাইকে আমি-
স্তব্ধতার বাষ্পচাপে থাকা একটি পাহাড়ের উদাসিনতার গল্প বলেছিলাম!
বিভীষণা নাগিনীর মতো প্রতিহিংসাপরায়ণ মেঘ কীভাবে ফুঁসে উঠেছিল
রোমাঞ্চপ্রিয় একঝাঁক ভ্রমণপিপাসুদের এমন পুষ্পকরথে বজ্র-বিদ্যুৎভর্তি
বিষের পেয়ালায় কালো মেঘদল কী এক অমোঘ সংকেত পাঠাচ্ছিলো
অদ্ভুত অশরীয় ক্ষমতায় যেন কিছুতেই- গা ঘেঁষতেই দেবে না হিমালয়ে!
- পুষ্পকরথ?
হ্যাঁ, পুষ্পকরথই তো!
এমন উড়োজাহাজে চড়ে হিমালয়ের শ্বেতশুভ্র-সোনালী উঁচু চূড়াকে
মনে হচ্ছিলো ঠিক যেন খাঁজকাটা হিরে- ঠিকরে পড়ছে পৃথিবীর গায়ে
চির দুর্জ্ঞেয় রহস্যে, সমস্ত পুরাণ-ধর্মের বাণী যেন এই গিরিশ্রেণি থেকেই
বরফে, ঝর্ণার স্ফটিকস্বচ্ছ জলে নেমে এসেছে দুর্গম লোকাচারে!

সেদিন পাহাড়ের সোনালি আভা মেখে ক্ষুর্ধাত মেঘের ছোবলে
নেমে এসেছিলাম- আবারো তুষারশুভ্র হিমালয় দেখার সংকল্প নিয়ে!