আমাদের বাড়িটা

আসমা চৌধুরী




আমাদের বাড়িটা

একটা একটা করে বাড়ছে সুপার মার্কেট
আর আমাদের বাড়িটা ঢেকে যাচ্ছে অন্ধকারে
বদলে যাচ্ছে ইতিহাস খামচে তুলে নিচ্ছে কেউ
ভোরবেলার নিরবতা
জীবন উসুল করে নিচ্ছে তার সার্ভিস চার্জ।
একা একা কতদূর যাবে?
গায়ে হাত দিয়ে দেখো তোমার অসুখ করেছে
এইভাবে কোন ঠিকানা পাওয়া যায়?
ক্রমশ নিজের কাছেও অপরিচিত হবে
তখন ভীষণ রাগ করে তাকিয়ে থেকে ঘৃণা করো
অথবা নিজেকেই ভুলে যেতে পারো।
আমাদের বাড়িটা একদিন আরো হারিয়ে যেতে পারে
তখন তোমার মত আমিও একদিন এইভাবে...



ভ্রমণ
যে কোন শহরে পা দিয়েই দেখি
ঝকমকে আয়নায় মোড়া চারধার
হোটেলের লোকেরা এত হাসতে পারে
হাসির পুঁজি থেকে
সৌভাগ্যের দেয়াল থেকে
আছড়ে পড়ি
আমার ভাঙা পা কেউ দেখতেই পায় না।


গাইড
যদি কিছু মনে না করেন আপনার সমস্যাটা জানতে পারি?
বিনীত গলায় বললেন,ঠিক সমস্যা নয়,খুঁজছি
বোকার মতো প্রশ্ন করলাম চিনেন শহরটাকে?
সে তাকিয়ে রইল।একজন অচেনা মানুষ
তাকে শেখাচ্ছে নিজের শহর সম্পর্কে।
ভাষা বোঝার আগেই বলে ফেললাম
জীবনের প্রতি পায়েই আমাকে কেউ গাইড করেছে
আর আমি নিঃস্ব হয়েছি।


গোছানো মানুষ
গোছানো মানুষ পাত্রে জিয়ানো মাছ
তার পায়ে গোড়ালি থাকেনা
জীবনের ডালপালা মুখস্থ করা শেয়াল
তাকে বাইরে নেয়
ঘরে আনে
ঘড়ি দেখে
খোলা দিন ঝরে যায়...