হে ধর্মাবতার!

অদ্বয় চৌধুরী



পূর্ণ হয়ে ওঠে তোমার ফুসফুস, ফুলে ওঠে, প্রসারিত করে তোলে নিজেকে, যতটা সম্ভব। রক্তজালিকায় ক্রমশ ফুটে ওঠে গোলাপী আভা— ছোটো ছোটো এক-একটি দুর্দম ডানা মনে হয় তাদের। তোমার অস্থি ফুঁ দিয়ে বার করে দেয় যাবতীয় মজ্জা, তারপর হয়ে ওঠে শূন্যগর্ভ, কৃষ্ণগহ্বরের মতো, সময়ের সর্বগ্রাসী শূন্যতার মতো। তুমি শ্বাস নাও, গভীর শ্বাস। এক বিরাট ভারহীন হৃদয় আকণ্ঠ ভরে ওঠে বিশুদ্ধ হিলিয়ামে। এখানে হিলিয়াম যেন বিশুদ্ধ আনন্দ! বুকে নাগাড়ে বাজতে থাকে এক শান্ত সুষম স্পন্দন। সূর্যের শ্বেতশুভ্র বাতাস বয়ে যায় তোমার মধ্যে, প্রবেশ করে তোমার গহীন অন্দরে, যেখানে হতাশার নিখুঁত বাসা ছিল কিছু কাল আগেও। শ্বাস নেবার মাধ্যমে ভেসে ওঠো তুমি। বেলুনের মতো, যে বেলুন পাড়ি জমায় অন্যায় থেকে ন্যায়ে। তোমার ঊর্ধ্বে কিছুই নেই আর। তোমার চোখে পৃথিবী এখন এক ডিম্বাকার মণি, সমুদ্রনীল প্রেমে উজ্জ্বল।


শুধু স্বপ্নেই এসব তুমি পার।


জাগরণে, ক্রমাগত ঝাঁকিয়ে চলা এক মুষ্টিতে আবদ্ধ তোমার হৃদয়। মিহি ধুলো ভারী করে তোলে তোমার ফুসফুস। তুমি শ্বাস নিতে পার না। তোমার জিভ আস্তে আস্তে হারিয়ে ফেলে তার রক্তিম আভা, হয়ে ওঠে বিবর্ণ, পাণ্ডুর। সূর্য এক জ্বলন্ত তামাটে ভার হয়ে নেমে আসে সোজা তোমার ভাবনায়, তোমার করোটির গোলাপি আবরণে। এ ভার নেওয়া যায় না বেশিক্ষণ, সহ্য করা যায় না।


এই হল সেই ক্ষণ যখন দহনকাল ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে তোমারই দিকে। তুমি দেখতে পাও সেই আগত আগুন, আঁচ পাও নিদারুণ উষ্ণতার, অনুভব কর সেই ধাতব দহন। চেষ্টা কর, শুধু চেষ্টাই করতে থাকো তুমি বারংবার, উড়তে আর পারো না কিছুতেই, সেই বুড়ো দেবদূতের মতো। শীতকাল যে বহু বহু দূর! শীতকাল কবে আসবে হে ধর্মাবতার?