‘তবুও সুবোধ রাখিস সূর্য ধরে’

অঞ্জন আচার্য



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একটা দেয়ালচিত্র বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল ‘Kilroy was here’। কিলরয় নামের সেই চিত্রে দেখা যায়, একটা টেকো মাথার লম্বা নাকওয়ালা লোক দেয়াল ধরে বসে আছে। অতি সাধারণ এ অঙ্কনটি তখন ছড়িয়ে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের দেয়ালে দেয়ালে। ছবিটি সে সময়ে আঁকা, যখন আমেরিকান জাহাজের চালান ধরা পড়ে জার্মানদের হাতে। আর এডলফ হিটলার ভাবতে শুরু করেন, এটা নিশ্চয়ই আমেরিকান কোনো গুপ্তচরের সাংকেতিক নাম। অথচ এ কিলরয়ের রহস্য আজও অজানা। এ দেয়ালচিত্রে ব্যবহৃত চরিত্রের নাম ছিল মিস্টার চ্যাড। ধারণা করা হয়, এর অবয়ব গ্রিক বর্ণ ওমেগা থেকে অনুপ্রাণিত। এ সাদামাটা গ্রাফিতিই সে সময় আলোচ্য হয়ে উঠেছিল বিশ্বযুদ্ধের দামামায়। এর অন্তর্নিহিত অর্থ খুঁজতে নেমে পড়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপরিচালকরা।

গ্রাফিতি শব্দের উৎপত্তি গ্রিক শব্দ গ্রাফিয়েন (graphien) থেকে, যার অর্থ ‘লেখা’। এটি মূলত ভাষা ও শিল্পের এক অনন্য সমন্বয়। বছর কয়েক আগে আবিষ্কৃত হয়েছে তাজমহলের শ্বেতপাথরের দেয়ালে খোদিত শত শত শ্রমিকের নাম, যারা নির্মাণ করেছিলেন বিস্ময়কর স্থাপত্যকর্মটি। এত দিন ওই শ্রমিকদের নাম ছিল অজানা, এক গোপন সত্য। এখন তা বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশিত। বলা হয়, তাজমহল নির্মাণের পর এর নির্মাণশ্রমিকদের হত্যা করা হয়েছিল, যেন তারা সেটির আদলে আর কোনো স্থাপত্য গড়ে তুলতে না পারেন। কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার ও কড়া নজরদারি এড়িয়ে শ্রমিকেরা গোপনে তাজমহলেরই কোনো এক দেয়ালে লিখে গেছে নিজেদের নাম। এ যেন এক অনুচ্চারিত ঘোষণা, এক প্রতিবাদ- মমতাজের সঙ্গে নিজেদের নামকেও অমর করে রাখা। শিল্পের চোখে এ কাজ ঘৃণ্য- শিল্পের গায়ে কলঙ্কের দাগ! হয়তো এ কারণে এই নামলিপি এতদিন গোপন রাখা হয়েছিল। এ ধরনের আরও গ্রাফিতি পাওয়া গেছে গিজার পিরামিডের ভেতরের দেয়ালে, প্রাচীন রোমের ধ্বংসস্তূপে। সেখানে নামহীন যোদ্ধারা খোদাই করে গেছেন নিজেদের নাম।
গ্রাফিতির নিদর্শন এখনও আছে প্রাচীন গ্রিক শহর এফিসাস বা বর্তমান তুরস্কে। সেখানকার অধিবাসীদের মতে, এগুলো পতিতালয়ের বিজ্ঞাপন জাতীয় কিছু হতে পারে। হাতে আঁকা হৃদয়, পায়ের ছাপ আর সংখ্যায় যা ক্লান্ত পথচারীকে বেশ্যালয়ের ঠিকানা বাতলে দেয়। খুব সহজেই সে সময়কার সামাজিক অবস্থা আন্দাজ করা যায় এসব গ্রাফিতিতে।

ক্লাসিক্যাল গ্রিক শিল্পকে শিল্পের মানদণ্ড হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল নাৎসিরা। আধুনিক শিল্পকে তারা ‘অবক্ষয়ী’ বলে নিষিদ্ধ করেছিল। সেই নিষিদ্ধ শিল্পীদের তালিকায় কে না ছিলেন? পাবলো পিকাসো, ভ্যান গগ, গগ্যাঁ, মাতিস, সেজান প্রমুখ শিল্পীদের ছবি ছিল সেই ‘ডিজেনারেট আর্ট’-এর তালিকায়। এমনকি ১৯৩৯ সালে পুড়িয়ে ফেলা হয় প্রায় সাড়ে চার হাজার শিল্পকর্ম। শুধু তৎকালীন জার্মানিতে নয়, রাশিয়ায়ও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ‘কনস্ট্রাক্টিভিজম’। আজ যেসব শিল্পী ও শিল্পকে যথাযোগ্য মর্যাদায় বরণ করে নেওয়া হয়েছে, একসময় তা শিকার হয়েছে দমনের, রাষ্ট্রীয় ক্রোধের।
১৯৬৮ সালের মে মাসে প্যারিসে ছাত্র বিপ্লবের সময় ‘যা অসম্ভব তা-ই দাবি করো’ ধরনের স্লোগান সংবলিত গ্রাফিতি মতাদর্শগতভাবে গভীর দ্যোতনা বহন করে। গ্রাফিতির সঙ্গে রয়েছে শিল্পের প্রতিবাদী রূপের বিশেষ সম্পর্ক। এর কোনো সুনির্দিষ্ট ফর্ম নেই, নেই বিশেষ মাধ্যমের প্রতি কোনো আনুগত্য। গ্রাফিতি শিল্পীর কাছে পুরো পৃথিবীটাই ক্যানভাস। দেয়াল, বাড়ি, হোর্ডিং, যানবাহন সবই গ্রাফিতির জন্য উপযুক্ত। নাম না-জানা এক শিল্পী বার্সেলোনায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সর্বগ্রাসী নীতির বিরোধিতা করে সরকারি দেয়ালে আঁকেন- কাত হয়ে আছে পেট্রলের ক্যান আর তা থেকে গড়িয়ে পড়ছে রক্ত। এ থেকে স্পষ্ট হয়, মধ্যপ্রাচ্যে পেট্রলের খনি দখলের লড়াইয়ে বহুজাতিক সংস্থা ও পরাক্রমশালী দেশগুলোর রক্তক্ষয়ী রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা এটি।

গ্রাফিতি শিল্পীর উদ্দেশ্য স্থায়িত্ব নয়, তার সৃষ্টি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য, সংযোগ স্থাপনের জন্য, সচেতন করার জন্য। বলা যায়, এটি হছে তাৎক্ষণিকের শিল্প। ১৯৮০ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরের কতগুলো এলাকার সব Stop সাইনের নিচে সাদা রঙে Rape শব্দটি লিখে দেওয়া হয়। ফলে রাতের বেলা গাড়ির আলো এই ‘স্টপ’ সাইনের ওপর পড়লে স্টপ হয়ে যায় Stop Rape। শহরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে এভাবে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ধর্ষণবিরোধী বার্তা পৌঁছে দেন গ্রাফিতি-লেখক। এরপর একইভাবে লেখা হয় ‘নিকারাগুয়ায় মার্কিন গণহত্যা’ এবং ‘দক্ষিণ আমেরিকায় মার্কিন আগ্রাসন’। এভাবে ‘স্টপ’ শব্দটি পরিণত হয় সরকারবিরোধী স্লোগানে। এর মোকাবিলায় শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েছিল রং দিয়ে সব ‘স্টপ’ সাইন ঢেকে দিতে।

বাংলাদেশের সব আন্দোলনেও দেয়াললিখন বা চিত্র জড়িয়ে ছিল অঙ্গাঙ্গীভাবে। সেই বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনে- ‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’ থেকে শুরু করে একাত্তরের ‘জয় বাংলা’, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ এসব গ্রাফিতি বিভিন্ন সময়ে দেখতে পাওয়া যায় দেয়ালে দেয়ালে।
এবার বলা যাক ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে আঁকা এক গ্রাফিতি নিয়ে। ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা, এখন সময় পক্ষে না’, ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা, তোর ভাগ্যে কিছু নেই’ কিংবা ‘সুবোধ এখন জেলে! পাপবোধ নিশ্চিন্তে করছে বাস মানুষের হৃদয়ে’ এ কথাগুলো এখন দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানের দেয়ালে। জনমনে প্রশ্ন, কে এই সুবোধ? কেন তাকে পালিয়ে যেতে বলা হচ্ছে? এ শহর থেকে, নাকি সময় থেকে পালাতে বলা হচ্ছে তাকে? কিংবা কারাই বা এসব বলছে সুবোধকে? কোনো প্রশ্নেরই অবশ্য উত্তর মেলেনি এখনও। রাজধানীর দেয়ালে দেয়ালে আঁকা সুবোধ বা তার শিল্পীর পরিচয় জানা যায়নি এখনও। গোটা বিষয়টাই হয়ে আছে রহস্যময়। কে বা কারা এসব আঁকছেন, কী তাদের উদ্দেশ্য, এর মাধ্যমে কী প্রচার করতে চাইছেন- সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফিরছেন আগ্রহী অনেকে। শহরের বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা এসব গ্রাফিতিতে দেখা যাচ্ছে, কখনও একজন লোক ছুটে যাচ্ছে, কখনও সে বন্দি, কখনও দাঁড়িয়ে আছে খাঁচা হাতে, সেই খাঁচার ভেতর টকটকে লাল সূর্য। আর এ লোকটির নামই সুবোধ। গ্রাফিতিতে সুবোধের ছবির পাশে লেখা থাকে দু-একটি লাইন। সুবোধের এসব ছবি এখন শুধু দেয়ালেই সীমাবদ্ধ নেই। দেয়ালের ছবি ছড়িয়ে সুবোধ ঠাঁই পেয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। ঘুরছে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের প্রোফাইলে। এমনকি সুবোধের নামে এবং এ ছবি দিয়ে খোলা হয়েছে ফেসবুক আইডি ও পেজ। অনেকে আবার শহর ঘুরে সুবোধের ছবি তুলে ফেসবুকে ফটো অ্যালবাম সাজিয়েছেন। কেউ আবার প্রোফাইল বা কভার ছবি হিসেবে ব্যবহার করছেন সুবোধের ছবি। ছবির কথাগুলোও স্ট্যাটাস হিসেবে দিচ্ছেন অনেকে। শহরের দেয়াল থেকে উঠে আসা সুবোধ এখন ভার্চুয়াল জগতেও এক পরিচিত নাম।
এ গ্রাফিতির বিষয়ে শিল্পী ও চিত্র সমালোচকদের ভাষ্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটা শিল্পিত মাধ্যম হিসেবে পশ্চিমা দেশগুলোতে গ্রাফিতি খুবই জনপ্রিয়। তবে বাংলাদেশে আগে এর তেমন ব্যবহার দেখা যায়নি। তবে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোতে গ্রাফিতি অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। নিকট অতীতে দিল্লির ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন, অকুপাই ওয়ালস্ট্রিট আন্দোলন, ইসরায়েলবিরোধী আন্দোলন কিংবা সম্প্রতি যাদবপুরে শিক্ষার্থী নিগ্রহের প্রতিবাদে ‘হোক কলরব’ আন্দোলনেও ছিল গ্রাফিতির জোরালো উপস্থাপন। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত ব্রাজিল বিশ্বকাপে পথশিল্পী পাওলো ইতোর আঁকা একটি গ্রাফিতিতে ক্ষুধার্ত শিশুর সামনে ফুটবলের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়। এটি আঁকা হয়েছিল আয়োজক দেশ হিসেবে ব্রাজিলের অমিতব্যয়ী আচরণের প্রতিবাদ হিসেবে। এর আগে নব্বইয়ের দশকে, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ‘কষ্টে আছি আইজুদ্দিন’ দেয়াল লেখাটি বেশ নজর কেড়েছিল। পরের দশকে দেখা গেল আরেকটি দেয়াল লিখন- ‘অপেক্ষায়… নাজির’। তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে অনেকে এগুলোকে ব্যাখ্যা করতেন।

সুবোধের এ গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে স্টেনসিল (লেখা বা আঁকার জন্য ছিদ্রময় পাত) ব্যবহার করে। এ পদ্ধতিতে স্প্রে করে দ্রুত আঁকার কাজ করা যায়। যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত গ্রাফিতি আঁকিয়ে ব্যাংসি (Banksy) স্টেনসিল ব্যবহার করে গ্রাফিতি আঁকেন। কলকাতার মনফকিরা থেকে প্রকাশিত ‘গ্রাফিতি এক অবৈধ শিল্প’ নামের গ্রন্থে লেখক বীরেন দাশ শর্মা গ্রাফিতিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: ‘এক অর্থে গ্রাফিতি সাহিত্য না হয়েও লেখার শিল্প, চিত্রকলা না হয়েও অঙ্কনশিল্প।’ দুনিয়াজুড়েই বাজারি শিল্পকলার বাইরে এই গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র এবং নানা ধরনের স্ট্রিট আর্ট বা পথশিল্প খুব জনপ্রিয়। এর ইতিহাস এতই পুরোনো যে, প্রাচীন মিসর, গ্রিস ও রোমান সাম্রাজ্যে এর নিদর্শন আছে। এ শিল্পকর্মগুলোর মূল উপজীব্য সমসাময়িক বিভিন্ন রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক ঘটনা। ব্যঙ্গ- বিদ্রূপের ভেতর দিয়ে কখনও এগুলোতে ফুটিয়ে তোলা হয় যুদ্ধবিরোধী বক্তব্য কিংবা শান্তির বার্তা। কখনও এটি হয়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রচলিত নীতি কিংবা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শৈল্পিক রূপ। কখনও হয়ে ওঠে নাগরিক অধিকার আদায়ের হাতিয়ার। চিত্রকলার এ ‘অপ্রথাগত’ মাধ্যমটির সমালোচনাও কম নয়। অনেক দেশে গ্রাফিতি নিষিদ্ধ।

গ্রাফিতি নিজেই এক নিয়ম ভাঙ্গার নিয়ম। তাই এটি প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পের কাছে শিল্পের মর্যাদা পায় না। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার চোখেও গ্রাফিতি বিপজ্জনক। তবে কখনও গ্রাফিতির ছবিটাই লেখা কিংবা লেখাটাই হয়ে উঠে ছবি। গ্রাফিতি এমন এক অস্বীকৃত শিল্প, যা নির্দ্বিধায় সব প্রচলিত শিল্পের বৈশিষ্ট্য ভাঙতে পারে, আবার মিলিয়েও দিতে পারে। অজানা, অখ্যাত শিল্পমনস্ক মানুষ গ্রাফিতির দ্বারা প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ঘোষণা করে, বিদ্রূপ করে সমকালের রাজনৈতিক ঘটনাকে। নিয়মহীন বলেই গ্রাফিতি সম্পূর্ণ স্বাধীন। নির্দায় স্বাধীনতা বজায় রাখার জন্য শিল্পীরা নিজেদের গোপন রাখে, তাই এই গ্রাফিতি শিল্পীরাই গেরিলা শিল্পী; আবার এরাই নিষ্পাপ, অবুঝ, একগুয়ে আর অবাধ্য। এজন্যই গ্রাফিতি এক অদ্ভূত দ্বান্দ্বিকতার নাম: শিল্প ও অপরাধ, বৈধ ও অবৈধ।

সুবোধ চরিত্রটি এবং এটির আঁকিয়েরা একটি রহস্যময় আবহ তৈরি করেছে অনেকের কাছে। সুবোধকে নিয়ে এ গ্রাফিতিকে মাথায় রেখে লেখা হচ্ছে গান ও কবিতা। সুবোধকে নিয়ে একটি কবিতা স্ট্যাটাস হিসেবে দিতে দেখা গেছে অনেকের ফেসবুক পেজে। অজ্ঞাতনামা সেই লেখকের কবিতার কয়েক লাইন এ রকম: ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা/বড় নষ্টদের এই শহরটা/এখানে জারুল ফুলের দিনে/কেউ তোর হাত ছুঁয়ে হাঁটবে না।’ প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক অবস্থা, দায়বদ্ধতা আর বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলনই ঘটে আসছে গ্রাফিতিতে। সুবোধও এর বাইরে নয়। আমরা খালি চোখে দেখেই বুঝতে পারছি, সুবোধ পালাতে চায়। অথচ সূর্যবন্দি খাঁচা হাতে ওর চোখ দেখলেই বোঝা যাবে, সে পলায়নপর নয়। তাকে পালাতে বাধ্য করা হচ্ছে। কে বাধ্য করছে তাকে? এই সমাজ, এই দেশ নাকি দায়বদ্ধতা? সুবোধ সিরিজের একটি লেখা অন্যগুলো থেকে একেবারে আলাদা: ‘তবুও সুবোধ রাখিস সূর্য ধরে’। এই ‘তবুও’ শব্দটি আশাজাগানিয়া, বড় আত্মবিশ্বাসী। ওই আশা নিয়েই বাঁচতে চাই আমরা।