ফেরদৌস নাহারের দশটি কবিতা

ফেরদৌস নাহার




উভচর
অথচ তুমি ছিলে জলের দোসর
দুহাতে খেলেছ কত মৎস্য আসর
ও উভচর, ও উভচর
পারলে না ভেঙে দিতে
অতল জলের নিচে ভ্রমর-শিকল

কামসূত্র
বায়স্কোপের দৃশ্যগুলো সরে যাচ্ছে
অ্যারিজনা থেকে তার আসার কথা
সন্ধ্যা ঘনাল সাটেল ট্রেনের অপেক্ষায়
এসব অঞ্চলে নিয়মিত যানবাহনের আকাল
কথাটা ভাবতে ভালো লাগছে

নিয়ে যায় নোট খাতা
লেখা ছাড়া অতৃপ্ত কামসূত্র

রাবণহাট্টা
মাঝে মাঝে পুরানো ছবিতে যাই
মাঝে মাঝে প্রকৃতি দেখাই
অনেক দূরের মায়ানমারে
উড়ে যায় প্রাচ্যের পাখি
এমন আউলা লাগে কেন
আমিও কি উড়াল যন্ত্রণাতে
রাজস্থানের পথে ঘুরে ঘুরে গান ধরি
ছড়টানা রাবণহাট্টা হাতে

ঘটনা
আমি চন্দ্রবিন্দু চাঁদ
একটি রক্তবিন্দু রাত

কতকাল চিৎকার করিনি আমি আমি করে
শয্যাত্যাগের আগে জড়িয়ে ধরি কোন ক্রোধে
সীমাহীন দুঃখ ভোগ নেমে আসে
সেসবও জানার নেই সাধ

আমি চন্দ্রবিন্দু চাঁদ
একটি রক্তবিন্দু রাত
ঝেঁটিয়ে বিদেয় কর ওগো অভিশাপ

হুইট ফিল্ড উইথ ক্রো
সেই থেকে হলুদ রং আমার প্রিয়
আঠারোশো নব্বইয়ের জুলাই মাসের এক দ্বিপ্রহরে
ভিনসেন্ট আঁকলেন ‘হুইট ফিল্ড উইথ ক্রো’
গাঢ় নীল আকাশ, প্রগাঢ় হলদে রঙা গমক্ষেত
উড়ে বেড়ানো একঝাঁক কাক
সেদিন কি ভ্যানগহকে অন্য কোনো ইশারা দিয়েছিল

ইয়ংস্ট্রিট
এটি কবুতরের ঘর। উড়ে উড়ে নীল চোখের কেউ
প্রতিদিন ডেকে ওঠে বাকুম বাকুম
ভাগাভাগি করে দাঁড়িয়ে যাই পথের দুধারে
এত চাওয়া নিয়ে পলাতক দৌড়াতে থাকি
অন্টারিও লেক থেকে রেইনি রিভার, চলে যাই তাই তাই
গান গাওয়া বেলা শেষ গানে
পৃথিবী দীর্ঘতম পথ ইয়ংস্ট্রিটের টানে

গান
কী এক সান্ধ্যআইনের খোঁজে মহল্লার তরুণেরা
দলবেঁধে থানায় গেল। সেখানে বেজে চলছে
হিসাবের কশাই কামড়
ঢেঁকিতে পাড় দিতে দিতে কমলা ঝরিয়া গেয়ে ওঠেন
বেগম আখতার
সে গান শুনতে পালকি পাঠিয়ে দেন লৌক্ষনের নবাব

ঘূর্ণি
কাল, চলে যাও কাল
হাতে হাতে ঘুরে যায় অসমাপ্ত চিৎকার! যেখানে সেখানে
কবে এই যুদ্ধকাল শুরু হয়ে গেল। শীত ফুরালে চলে আসব
ঠিক চলে আসব দেখিস। ফানুস ঊর্ধ্বশ্বাসে তোর নাম ধরে
ডেকে ডেকে পৃথিবী জ্বালিয়ে ছাড়ব
এসব দেখার জন্য অনেকেই তখনো বেঁচে থাকবে
আপনি তুমি তুই সকলে জন্মান্তর দেখার আশায়
আশেপাশে ঘুরঘুর করবে। তখন
নদীতে উঠবে ঝড় ঠিকই

সিজোফ্রেনিক
বারবার আটকে থাকি স্মৃতি ও সমরাস্ত্রে। কোনো বিদেহী
অনুসরণ করে নিশিরাতে সাবওয়ের নির্জন স্টেশনে
যেখানে অন্ধকারে বিমর্ষ-ছুরি দিয়ে মাখন লাগাতে
চেষ্টা করছে একবিংশের সিজোফ্রেনিক

স্মৃতিতে এসব নাই, এখন যা আছে
সমরাস্ত্র দুই কাঁধে ভর করে লক্ষবস্তু খুঁজে মরছে
কাল ভোরেই শুনব, যেমন শুনি প্রতিদিন
সন্দেহ বাতাস খুব হিংস্র হয়ে গুলি ছুড়ছে এদিক সেদিক

প্রেয়ার বিডস
যে মিথ্যে আচ্ছাদনে ঢেকে একদিন কষ্ট দিয়েছিলে
সে মিথ্যেই আজ তোমাকে একাকী করেছে অথচ
এতটুকু অভিযোগ নেই আজ ভেতরে ভেতরে বরং
বারবার মরুভূমি টপকে যেতে যেতে বলি-
ভুলে যাও সেসব স্মৃতি, তীব্র দহনবেলা। তারচে’
মনে কর, কেউ এসেছিল কুড়াতে কিছু অনিশ্চয়তা
আলোছায়া, ছিমছাম না থাকা
এই তো অনেক ভালো হাত থেকে কেড়ে নিয়েছ
তসবিহ, রোজারি, তুলসী বা রুদ্রাক্ষর জপমালা
এক কথায় বাঁচা গেল