সরকারী ভ্রান্তিবিলাস ও প্রান্তিক ভাষাসমূহ

অমৃতা দাস

মানুষের জীবনে অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানে মতো আরেক মৌলিক অধিকার তার মাতৃভাষা । সংযোগসাধন বা সম্পর্ক স্থাপন সাপেক্ষে মাতৃভাষা বা ভাষা -- দুই-ই communicative system -এর একটি বিশিষ্ট অঙ্গ । আবার, মানব জাতিগুলির সনাক্তিকরণেরও অন্যতম উপাদান ।
যেমন : বাংলা ভাষী মানুষেরা বাঙালী , ইংরেজী ভাষায় কথা বলা মানুষেরা ( যাদের মাতৃভাষা ) ইংরাজ ইত্যাদি। তাই মাতৃভাষা মানব জীবনের শেকড় সমান তা বলা বাহুল্য ।

এই মাতৃভাষার অধিকার থেকে বঞ্চিত মানুষেরা ক্রমশই সমাজের মূলধারার সংস্কৃতি থেকে বিচ্যূত হয়ে যাচ্ছে । এই বিচ্যূতি তাদের নিজেদের অবস্থান থেকে যেমন সরিয়ে দিচ্ছে, ঠিক তেমনি তাদের জাতিগত অস্তিত্বেরও বিলোপন ( Deletion ) ঘটাচ্ছে । আজ তারা প্রান্তিক মানুষ হিসেবে প্রতিভাত। এই প্রান্তিকীকরণ এক ধরণের অপরাধ , একটি ভুল ।

‘ জোর যার মূলুক তার ’ -- প্রবাদটি সকলেরই জানা । কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে যখন নিয়মিত প্রযুক্তির প্রভুত্ব স্বীকার করে মানুষ যখন আরো একধাপ এগিয়ে যাচ্ছে, তখন তাদের দৃষ্টির আড়ালেই থেকে যাচ্ছে আরো একধাপ পিছিয়ে যাওয়া এক দল মানুষ । এই মানুষগুলির পশ্চাদ্‌গমন কখনোই গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় কাঙ্খিত নয়। তা কোনোদিনই সার্বিক উন্নতি ঘটাবে না দেশের । প্রান্তিক মানুষগুলিকে সর্বগ্রাসী ক্ষমতার কবল থেকে উদ্ধার না করলে অবিলম্বে তা সমপূর্ণত ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়াবে ।

মূলত আদিবাসী জনজাতি গোষ্ঠীর মানুষেরা এই প্রান্তিক মানুষ । ভারতের মাটিতে তারা প্রায় খ্রীষ্টপূর্ব সময়ে এসেছে । তারপর ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে তাদের বসতি । প্রথমদিকে তাদের পেশা হিসেবে নিজেদের গোষ্ঠীগত পেশা বজায় থাকলেও পরবর্তী সময়ে এরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভারতীয় কৃষিবলয়ের মধ্যে প্রবেশ করেছে । আরণ্যক জীবন পর্যবশিত হয়েছে গ্রামীণ জীবনে । বর্তমানে তা নাগরিক জীবনে রূপান্তরিত । এই যে জীবন যাপনের জন্য বা বলা যায বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছার কারণে ক্রমাগত স্থান বদল , বেশ বদল , পেশা বদল , -- তা ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে আদিবাসী সমাজের ভাষা তথা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিতে । নিজেদের খোলস ত্যাগ করে তারা বর্তমান অপেক্ষাকৃত উন্নত জীবন যাপনের আশায় অন্য সাংস্কৃতিক বলয়ে প্রবেশ করেছে। অথবা বলা যায় অপেক্ষাকৃত উন্নত সংস্কৃতির আগ্রাসী থাবায় আদিম জনজাতিগুলি আজ সীমান্তে এসে ঠেকেছে ।

গ্রামাঞ্চল এলাকায় বসতি বিস্তারের কারণ মূলত জীবিকা । আরণ্যক এলাকাগুলিতে চাষবাসের বিশেষ সুবিধা নেই । থাকলেও তা বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবদ্ধ । বাকি
দিনগুলো বেকারত্ব এবং দারিদ্রের মধ্যে তাদের কাটাতে হয় । তাই গ্রামগুলিতে তাদের বাসস্থান গড়ে উঠেছে । গ্রামীণ এলাকাগুলিতে বসবাসের কারণে এই সব আদিম জনজাতিগুলিকে অন্যান্য ভাষা-সাংস্কৃতিক বলয়ের সান্নিধ্যে আসতে হয়েছে । ফলতঃ যোগাযোগের জন্য তাদের অন্যান্য ভাষা শিখতে হচ্ছে । হচ্ছে code mixing বা ভাষামিশ্রণ । এবং এই ভাষামিশ্রণ বাড়তে বাড়তে একসময় code switching অর্থাৎ সেই গোষ্ঠী নিজের ভাষা ছেড়ে অন্য ভাষায় কথা বলতে শুরু করে । ধীরে ধীরে এইভাবে দ্বি-ভাষিকতা বা Bilingualism এবং বহুভাষিকতা বা Multi-lingualism - এর পরিবেশ তৈরি হয়েছে । এবং সামাজিক বা রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী ভাষাগুলির চাপে জনজাতিগুলির বা বলা যায় পিছিয়ে পড়া মানুষগুলির ভাষা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে । জনজাতিগুলির বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যেহেতু লিখিত সাহিত্য নেই বা লেখার হরফ নেই, তাই তাদের মৌখিক ভাষাকে স্থায়ীভাবে ধরে রেখে স্থানান্তর বা কালান্তরযোগ্য করে রাখার ব্যবস্থাও নেই । ফলতঃ তাদের ভাষার সঙ্গে সঙ্গে জাতিগত পরিচয়ও ভাষাতাত্ত্বিক ভাবে বলা যায় , আজ ‘Endangered’.

অরণ্যবস্তীগুলিতে দুর্গমতার কারণে বাইরের মানুষ বা ঐ বস্তীবাসীদেরও গ্রামাঞ্চলগুলিতে যাতায়াত তেমনভাবে গড়ে না ওঠার কারণে ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত বিশুদ্ধতা কিছুটা বজায় রয়েছে । কিন্তু গ্রামাঞ্চলগুলিতে একেবারেই সেই প্রবণতা নষ্ট হয়ে গেছে । এই প্রসঙ্গে উদাহরণ হিসেবে প্রান্ত উত্তরবঙ্গের রাভা জনজাতির উল্লেখ করা যেতে পারে । ক্ষেত্র সমীক্ষা এবং বিভিন্ন গ্রন্থাদি থেকে জানা যায় , গ্রামবাসী রাভাদের মাতৃভাষা চর্চা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ । প্রতিবেশী রাজবংশী ভাষাতেই তারা বাক্‌ আদান-প্রদান করে । রাজবংশীদের সঙ্গে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কও স্থাপিত হয় । ফলস্বরূপ রাভাদের মাতৃতান্ত্রিক সভ্যতার ঐতিহ্য ছেড়ে পিতৃতান্ত্রিক সমাজের মধ্যে প্রবেশ ঘটেছে । শুধু তাই নয় , রাজবংশী সমাজে বিবাহ হলে রাভারা মনে করে তারা জাতে উঠেছে ।

খাদ্যাভ্যাস , পোশাক-পরিচ্ছদ , ধর্মীয় জীবন-সবদিক থেকেই জনজাতিগুলির লোক-সাংস্কৃতিক (Folkloric) উপাদান বর্তমানে দ্রুত ক্ষয়িষ্ণু । বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জনজাতিগুলির উপাস্য ছিল প্রকৃতি ( Nature ) | সেই জায়গায় বর্তমানে তাদের দুর্গা , কালী , গণপতি কিংবা খ্রীষ্টের পূজা করতে দেখা যায় ।

কেবলমাত্র জীবিকা নয় , নতুন প্রজন্মের জনজাতিদের শিক্ষাদীক্ষার কারণেও ভাষাতাত্ত্বিক পরিভাষায় বলা যায় ‘ sifting ’ – ঘটছে । খুব সীমিত ও স্বল্পমাত্রায় হলেও জনজাতিগুলির নতুন প্রজন্মের একদিকে অন্য ভাষা মাধ্যমে শিক্ষাপ্রাপ্তির ফলে নিজেদের ভাষার প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা কমে যাচ্ছে । অপরদিকে উন্নততর জীবনের আকর্ষণে নিজেদের সনাতন সংস্কৃতির প্রতি ঔদাসীন্য বাড়ছে । ভোগের পেছনে দৌড়তে গিয়ে তারাও যে ক্রমশ ভুক্ত হয়ে যাচ্ছে একথা নতুন প্রজন্মের জনজাতির ছেলেমেয়েরা বুঝতেই পারছে না ।

সামাজিক , অর্থনৈতিক , ধর্মীয় ইত্যাদি নানা ধরণের মানদন্ডের বিচারে super stratum বা ঊধ্‌বস্তরে থাকা ভাষা সংস্কৃতির এই আগ্রাসন বন্ধ না হলে , হয়তো এমন
দিন আসবে যখন ঐ super strata -র ভাষা সংস্কৃতির পেট ফুলতে ফুলতে ফেটে যাবে । সেদিন কিন্তু তাকেও হতে হবে ‘অপমানে তাহাদের সমান । ’ বিশ্বায়নের মতো অঞ্চলায়নের মাধ্যমে কেবল সবকিছুকে গ্রাস করে নিজের আধিপত্য বিস্তারের ভুলের মাশুল একদিন উর্ধ্বস্তরে থাকা ভাষা - সংস্কৃতিকেও দিতে হাতে পারে । কারণ এই স্থানটি বড়ই আপেক্ষিক ।

গৌণ ও আদিবাসী ভাষাগুলির জন্য সংবিধানে কিছু ‘ শুভেচ্ছা ’ - র প্রকাশ আছে । ‘ গৌণ ’ কোনো মুল্যায়িত বিচারে নয়। সংখ্যালঘিষ্ঠতার সাপেক্ষে ব্যবহৃত শব্দ এখানে । পরোক্ষভাবে ১৯ ধারায় ‘ বাকস্বাধীনতার ’ ধারায় নিজের কথা বলার , মত প্রকাশের স্বাধীনতা - freedom of speech and expression থাকবে বলা হয়েছে । ২৯ ও ৩০ ধারায় এই বিষয়টিই একটু নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে । সংখ্যালঘুদের নিজেদের ভাষা , লিপি ও সংস্কৃতি রক্ষার অধিকার রক্ষা করা হচ্ছে ২৯/১ ধারায় । এখানে লক্ষ করার মতো বিষয় হল , এটা যেন সংখ্যালঘুদেরই দায়িত্ব এইসব রক্ষা করার । সরকারি কর্তব্য এক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়নি । ২৯ ( ২ ) ধারাতে বলা হয়েছে , সরকারি অর্থে বা তার সাহায্যে পরিচালিত কোনো বিদ্যালয়ে নৃ-গোষ্ঠী , জাতপাতের ভাষা ইত্যাদির কারণে কারও ভর্তিও অধিকার হবে না । এখানেও বলা নেই , নিজেদের ভাষাতেই তারা সেইসবে স্কুলে পড়তে পারবে কিনা । ৩০ - ধারায় রয়েছে গৌণ ভাষাগোষ্ঠীর মানুষেরা নিজেদের স্কুল স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে । কিন্তু এতেও সব কিছুর দায়িত্ব ঐ ভাষাগোষ্ঠীর উপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে । পিছিয়ে পড়া , আত্মবিশ্বাসহীনতায জর্জরিত সেই গৌণ ভাষিক গোষ্ঠীর মধ্যে ঐ সব সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার দায় ভার কার ? এ বিষয়ে সরকার বা সংবিধান নিশ্চুপ ।

যদিও language Minority বা ভাষাগত সংখ্যালঘু কমিশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কিছুটা সাংবিধানিক দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে । কিন্তু সংখ্যালঘুর ভাষাগত পরিস্থিতি এইসব কমিশন দ্বারা বা থেকে তেমন উপকৃত হয়নি । ভারতীয় সংবিধানের নির্দেশ অনুযায়ী কিছু ভাষার উন্নয়ন পরিকল্পনায় কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে । ভাষার উন্নতি বলতে এখানে হিন্দী, উর্দু , সিন্ধি , কাশ্মিরী ভাষা বোঝানো হয়েছে । এখানে বলার অপেক্ষা রাখে না যে , উক্ত সবকটি ভাষাই মোটামুটি উন্নতমানের। পবিত্র সরকার বলেছেন , “ এগুলির আরও উন্নয়ন ও প্রচারের চেষ্টা খানিকটা তেলা মাথায় তেল দেওয়ার কথা মনে পড়ায় ” ( ভাষাপ্রেম ভাষাবিরোধি , ২০০৩, দেজ পাবলিশিং ) ।

সাংবিধানিক বা সরকারী উদ্যোগের দারিদ্র বা ভ্রান্তি আদিবাসী জনজাতিদের
ভাষিক - সামাজিক অবস্থানকে আরো অবহেলার দিকে ঠেলে দিয়েছে । এদের উন্নতি সাধনের ভার এদের উপরই ন্যস্ত করার প্রসঙ্গে ‘ অন্ধের কিবা দিন কিবা রাত ’ --- প্রবাদটির কথা মনে পড়ে যায় । ভিলি , গোন্ডি , সাঁওতাল , টুলু , রাভা , টোটো ইত্যাদি আদিবাসী পিছিয়ে পড়া ভাষাগুলির সার্বিক উন্নয়নের কোনো বড় পরিকল্পনা সরকার নিজের দায়িত্বের মধ্যে রাখেনি । তবে, মহীশূরের কেন্দ্রিয় ভারতীয় ভাষা সংস্থান ( CIIL ) ভারতের গৌণ ভাষাগুলির উন্নতিবিধানের জন্য কিছুটা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । ভাষাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ব্যাকরণ , অভিধান নির্মান করে ভাষাতাত্ত্বিকভাবে Language documentation -এর কাজ করছে এই সংস্থা । মনে হয় , ভাষা সংরক্ষণের কাজটির দ্বারা সরকারী ভুল সংশোধনের সামান্য প্রয়াস চালাচ্ছে CIIL.

সংবিধানের উদ্দেশ্য ছিল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত আদিবাসী ভাষায় সেইসব গোষ্ঠীর বাচ্চাদের প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা, যা আজও পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। সংবিধানের ৩৫০ ( খ ) - ধারায় ভাষাগতভাবে সংখ্যা লঘুদের জন্য যে কমিশন গঠিত হয়েছে, সেই কমিশন ২০০১ সাল পর্যন্ত ছত্রিশটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছে । কিন্তু রিপোর্ট কেবল এক হাত থেকে আরেক হাতে স্থানান্তরিত হয়েছে মাত্র। ফলপ্রসূ কোনো কাজ হয়নি । The 35th Report of the linguistic Minority Commission ( ১৯৯৯ ) - তে কমিশনার শ্রী দেওল ভারতের গৌণভাষাগুলির ক্ষেত্রে সরকারের ঔদাসীন্য বিষয়টিকে নিয়ে বলেছেন , ‘ However , in our experience, one after another Reports are simply laid in the parliament , seldom discussed and later on shelved to gather dust in almirahs libreries . The recommendations are rarely taken note of and are hardly ever acted upon by many of the states and UTs who are the actual implementation agencies . No action has been taken on the recommendations in the CLM’S Reports .

সরকারের এই ধারাবাহিক ভ্রান্তি ও ভ্রান্তিবিলাস জনজাতিগুলির ক্ষয়িষ্ণুতাকে ত্বরাণ্বিত করছে । আদিবাসী জনজাতি গোষ্ঠীর মানুষেরা হয়তো থেকে যাবে । কিন্তু থাকবে না তাদের মাতৃভাষা, নিজস্ব সংস্কৃতি , নিজস্ব জাতিগত পরিচিতি । এই ঘটনার সাক্ষী হওয়াও পাপ । সরকারের উচিত দীর্ঘদিনের ঔদাসীন্যজনিত ভ্রান্তির সংশোধন করে Endangered language গোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো । ভাষাতাত্ত্বিক বিভিন্ন সংস্থা , বিভিন্ন গবেষণাগুলোর দিকে তাকিয়ে জনজাতিগুলির জীবনে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা। তাদের নিজেদের ভাষা - সংস্কৃতির চর্চার ক্ষেত্র নির্মান করা । তাতে হয়তো জনজাতিগুলির বহুদিনের লাঞ্ছনা - বঞ্চনার জীবনেতিহাসে কিছুটা প্রলেপ লেপন হবে ।

তথ্যসুত্র :

ভাষাপ্রেম ভাষাবিরোধ, পবিত্র সরকার , ২০০৬ , দে’জ পাবলিশিং
রাভাদের লোককাহিনী , রেবতী মোহন সাহা , ২০১০ , অঞ্জলি পাবলিশার্স
পশ্চিমবঙ্গ , ২০০৬ , কোচবিহার জেলা সংখ্যা ,
পশ্চিমবঙ্গ , ২০০১, জলপাইগুড়ি জেলা সংখ্যা।