জাতীয়তাবাদ অথবা সংসার - কিস্‌সা

শ্রুতি গোস্বামী

এই ক’দিন আগেই শহরে পিলে - চমকানো সাইজের হোর্ডিং দেখছিলাম । বিশালাক্ষী মিসেস মল্লিক সিং বিশালতর তরবারি এক হাতে নিয়ে আরেক হাতের ওপর রেখেছেন । কী করতে চাইছেন কে জানে ! যা -ই হোক , তারপর টিভি -খবরকাগজ ইত্যাদিতে দর্শকদের জিও বস ! ইয়ো কাকা ! কী লাগছে গুরু ! অ্যাঃ ছ্যাঃ টুকলি ! ইত্যাদি দেখেশুনে বোঝা গেলো , তিনি কলিকালের মা দুর্গা , কলির অসুরকে এক কোপে কাটতে নেমেছিলেন । রূপোর স্ক্রিনে অবশ্য অরুন্ধতী , লক্ষ্মীবাঈ , দেবী চৌধুরানী সবাইকে মোটামুটি দুর্গা - স্টাইলেই সাজানো হয় । মারকাটারি সুন্দরী হতেই হবে ! নারীশক্তি ব্লা ব্লা ব্লা বলে কতা ! প্রফুল্লকে কিলোখানেক সোনা দিয়ে মুড়ে তবেই না ভবানী পাঠক কাঙালগুলোর সামনে দেবী চৌধুরানী বলে হাজির করতে পেরেছিলেন ! সে তারপর যতোই প্রফুল্ল ‘ আমার এ রাণীগিরিতে আর চিত্ত নাই ’ বলে স্বামীপদ আশ্রয় করে বাসন মেজে দেবভক্তি লাভ করুক না কেন ।

না , তিন সত্যি বলছি , কোনো সস্তা ফেমিনিস্ট খোঁটা দিতে বসিনি । বঙ্কিম মশাই তো ঝামেলাটা আরো গোড়ায় পাকিয়েছেন । প্রথমে ইশ্বর গুপ্ত , তারপর রামমোহনদের কালের সামান্য পরে , মধুসূদন – দীনবন্ধু - প্যারীচাঁদ সকলেই নাক -উঁচু ইংরেজি কেতায় চলা দেশী লোকের ভুলটা ধরে ফেলছিলেন । তাদের শুধু কেতাই বদলায়নি , মূল্যবোধগুলোই বদলে যাচ্ছিলো , খারাপের দিকে । খুব স্বাভাবিকভাবেই বঙ্কিমের কালে এই অনুকৃতির বিরুদ্ধে কথা শুরু হলো , তবে আগের মতো শুধু নেগেটিভকে আঙুল দেখিয়ে নয় , সমাজের বিচ্ছিন্ন বিচ্ছিন্ন তড়িৎঝিলিককে থিতু রাখার জন্যে একটা নতুন পজিটিভের
খোঁজে । খুঁজতে খুঁজতে তাঁরা পেলেন ভারতের সনাতন ঐতিহ্যকে । এই ঐতিহ্য কিন্তু রামমোহনদের পুনরাবিষ্কৃত ঐতিহ্য নয় । সেগুলো বেশিরভাগই ছিলো শাস্ত্রের পথে । এনারা পেলেন আচার । কুলের , মানে হিন্দুকুলের দেশীয় চর্যা । সেই চর্যাকে ফের পালন করতে পারলেই জাতীয় ভাব বিকশিত হবে - মোদ্দায় এ - ই ছিলো তাঁদের বক্তব্যের সরল সার । পণ্ডিতপ্রবরেরা বলেছেন , এ - ই হলো উপনিবেশের এক বিশেষরকম জাতীয়তাবাদ । এর গোড়ার গলদ নিয়েই একটু বলার ধাষ্টামো করছি । কেমন করে হলো সেই ভুল ?

সাধারণত , মোটা ভাবে , জাতীয়তাবাদ বলতে নিজের দেশ বা জাতি নিয়ে আবেগ , সংবেদনশীলতা ইত্যাদিকে বুঝি আমরা । বিদেশি বণিক এসে যখন রাজপাট তুলে নিলো, তখন সেই আবেগে ঘা লেগেছিলো স্বাভাবিকভাবেই । কিন্তু তার মাত্রা কি সমান হতে পারে? ইন্দ্রপ্রতাপ রায়চৌধুরীর মনে , হরমোহন তর্কচূড়ামণির মনে , অনঙ্গমোহিনী দেবীর মনে , রেভারেন্ড ব্যানার্জীর মনে , রফিক শেখের মনে , মিস্‌ আঙুরবালা দাসীর মনে , পুঁটি জেলেনির মনে , লখা ডোমের মনে - দেশের তো আলাদা আলাদা ম্যাপ থাকে । অথচ ইংরেজের পোঁ ধরতেও যেমন আগে চলেছিলো শুধু এলিটের সারি , জাতির ধ্বজা ধরতেও এলো তারাই । উনিশ শতকের মাঝখান পর্যন্ত এই ‘ ভদ্রলোক ’ শ্রেণী হিসেবে কিন্তু বাঙালি ব্রাহ্ম - ক্রিশ্চানদেরই রমরমা । ব্রাহ্মসমাজ যদিও টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে তখন , ক্রিশ্চানরা রাজার ধর্ম আর যিশুর ধর্মে অবধারিতভাবে গুলিয়ে ফেলে অস্তিত্ব - সংকটে ভুগছেন , আর বিশুদ্ধ হিন্দুত্বের প্রবল শেকড় সেই সুযোগে দিব্যি রস টানছে এইসব ‘ আলোক ’ প্রাপ্ত চেতনা থেকেও । শতকের পরের ভাগে বদলে গেলো
চেহারাটা । আসতে শুরু করলো শিক্ষিত মধ্যবিত্ত আধুনিক হিন্দু ভদ্রলোক । কিন্তু চাটুজ্যে মুখুজ্যের দলও কি শেষ অব্দি ঠিক বুঝেছিলো বাংলাকে ? ভুল করেনি ?

বঙ্কিমচন্দ্র বাংলা লিখতে শুরু করেই চলে গেলেন ইতিহাসে । শহর কোলকাতার খাপছাড়া মুখ তাঁর মনে ধরেনি কোনোদিনই । যতোটুকু নিজের সময়কে দেখেছেন , তারও আশি ভাগে দেখেছেন পল্লী , তাও , অভিজাত পল্লী । অমনই এক পল্লীর মেয়ে ছিলো ইন্দিরা । শ্বশুরবাড়ি যেতে গিয়ে ডাকাতের হাতে পড়ে বেচারিকে কোলকাতায় অনাত্মীয় বাড়িতে রান্নার কাজ করতে হয়েছিলো । তারপর অবিশ্যি হ্যাপি এন্ডিং । ইন্দিরা কথা বলেছে নিজের মুখে । সে-ই বঙ্কিমের প্রোটাগনিস্ট । ইন্দিরার বর উপেন্দ্র । ইন্দিরা কিন্তু উপেন্দ্রকে ‘ একালের শিক্ষায় ’ শিক্ষিত বলে মনে করে না । কারণ , ‘ ঠাকুর দেবতা ’ , ‘ ভূত প্রেত , ডাকিনী যোগিনী’র প্রতি উপেন্দ্রর তুমুল বিশ্বাস । অথচ সেই ‘ একালের শিক্ষা ’ র সঙ্গে ‘ বুদ্ধি ’র প্রত্যক্ষ যোগ নেই , কারণ উপেন্দ্র ‘ বুদ্ধিমান ’ বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্দিরা । সেই ‘ বুদ্ধি ’র বলেই ইন্দিরা যখন নিজেকে শাপগ্রস্ত বিদ্যাধরী বলে চালানোর চেষ্টা করে , তখন তা পুরোপুরি বিশ্বাস না করে উপেন্দ্র ‘ সংশয় ’ প্রকাশ করে কয়েকবার , সংশয়ের ভিত্তিতেই একটা দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর করে । এই সংশয় থেকেই যুক্তির জন্ম , আর আমাদের এতদিনকার পড়াশুনো বলে , যুক্তিবোধ থেকেই আধুনিকতার সূত্রপাত । এখানেও কিন্তু একটা বিরাট ভুল আছে । দয়া : রামমোহন রায় ও আমাদের আধুনিকতা বইতে সাব-অল্টার্ন স্টাডিজের অন্যতম প্রতিনিধি রণজিৎ গুহ মশাই যে ব্যাখ্যা করছেন , তা অনুযায়ী , আধুনিকতার সঙ্গে যুক্তির যে অবিচ্ছেদ্য আর অবধারিত সম্পর্ক জেনে নিয়ে আমরা হাত গুটিয়ে বসে আছি , তা এক্কেরে ভুল ।
‘ বঙ্গীয় রেনেসাঁ ’ র প্রাক্‌পুরুষের এই ভুল ব্যাখ্যা গোটা ‘ রেনেসাঁ ’ আর তার ফলাফলকেই শুধু যুক্তির ওপরেই অধিষ্ঠিত করেছে । আদতে রামমোহনের অনুরাগী বিশ্লেষণ কেবল যুক্তিতে পৌঁছয় না , পৌঁছয় ‘দয়া’তেও,যা হৃদয়ের সঙ্গে যুক্ত, তাই আধুনিকতা খুব বেশি করেই হার্দিক। এই মতামত অনুযায়ী , ‘ একালের উচ্চশিক্ষা ’ বিষয়েও সংশয় করা যেতে পারে , আর সেই বিচারে উপেন্দ্রর ‘ বুদ্ধি ’র দাম -ও বক্রোক্তির যোগ্য , তাই ‘ একালের ’ , তথা ‘ আধুনিক ’ শব্দগুলোর সঙ্গে এদের যোগ অনিবার্য নয় । অতএব ইন্দিরা বলে - তা,তোমরা পাঁচ রকমের পাঁচ জন মেয়ে আছ , পুরুষ পাঠকদিগের কথা আমি ধরি না - তাহারা এ শাস্ত্রের কথা কি বুঝিবে - তোমাদের আসল কথাটা বুঝাইয়া বলি । ইনি আমার স্বামী - পতিসেবাতেই আমার আনন্দ – তাই , কৃত্রিম নহে- সমস্ত অন্তঃকরণের সহিত , আমি তাহা করিতেছিলাম ।...যে বুদ্ধি কেবল কালেজের পরীক্ষা দিলেই সীমাপ্রান্তে পৌঁছে , ওকালতিতে দশ টাকা আনিতে পারিলেই বিশ্ব-বিজয়িনী প্রতিভা বলিয়া স্বীকৃত হয় , যাহার অভাবই রাজদ্বারে সম্মানিত , সে বুদ্ধির ভিতর পতিভক্তিতত্ত্ব প্রবেশ করান যাইতে পারে না । যাহারা বলে বিধবার বিবাহ দাও , ধেড়ে মেয়ে নইলে বিবাহ দিও না , মেয়েকে পুরুষ মানুষের মত নানা শাস্ত্রে পণ্ডিত কর , তাহারা পতিভক্তিতত্ত্ব বুঝিবে কি ? ... আমাদিগের পতিভক্তি আমাদের গুণ ; আমাদিগকে যে হাসি চাহনির কদয্য কলঙ্কে কলঙ্কিত হইতে হয় , সে তোমাদের দোষ ।
ইন্দিরা যে বঙ্কিমের জবানিতে এক নারীর আখ্যান তা পাঠকমাত্রেই জানেন । কিন্তু এ কি আদৌ কোনো উনিশ শতকের মেয়ের নিজস্ব বয়ান ? যে ‘ পতিভক্তি ’কে বারবার ‘ হিন্দু মেয়ে’র ‘গুণ’ বলে চিহ্নিত করেছেন বঙ্কিম, তার বিপরীতে ‘ বুদ্ধি ’কে বসিয়ে দিচ্ছেন তিনি নিজেই। আর ইচ্ছে করেই মেয়ের জবানিতেই ভক্তিকে বুদ্ধির চেয়ে ওপরে বসাচ্ছেন , ‘ ওকালতিতে দশ টাকা ’ উপার্জনে বুদ্ধির ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করে দিচ্ছেন , যাতে ‘অল্পবুদ্ধি’সম্পন্না রা সহজ ও ‘শ্রেষ্ঠ’ রাস্তাটা নিতে পারেন। ফলে খুব সহজেই এই ‘শ্রেষ্ঠত্ব’র নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠতে আর কোনো অসুবিধা থাকে না ‘আধুনিক’ সমাজের । একই কারণে আধুনিক মেয়ের নিজের কোনো বয়ান সেখানে তৈরি হচ্ছে না । তার প্রগতির বয়ানও না , গৃহলক্ষ্মী - সতীলক্ষ্মী হয়ে থাকার বয়ানও না । দুটো বয়ানই অন্যের বানানো । আর বানানো বয়ান বলেই তাতে এই বিভ্রান্তিকর যুক্তিগুলো একের সঙ্গে অন্যে আপাত-সংলগ্ন হয়ে প্রকাশ পাচ্ছে । কারণ , বঙ্কিম দেখছেন মানবী , ভাবছেন মানব , খুঁজছেন অতি – মানব । একটা ভুল মুছতে গিয়ে আরেকটা ভুল। যাকে বলে ভুলভুলাইয়া ।

কিন্তু কেন অতি - মানব খুঁজছিলেন তিনি ? আসলে,যে মডেল এই সময় গড়ে তুলছেন তাঁরা , তাতে খাপ খাওয়ানোর মতো মানুষ পাওয়া দুষ্কর। ধরুন ১৮৮৪তে বেরনো দেবী চৌধুরাণী -র কথা । প্রফুল্ল একেবারে ইন্দিরার মতোই জঙ্গলের মধ্যে ডাকাতের হাতে পড়ে । তার স্বামী ব্রজেশ্বর বাবা হরবল্লভের কথায় বিয়ের পরেই ত্যাগ করেছিলো প্রফুল্লকে , তারপর আরো খান দুয়েক বিয়েও করেছিলো । কিন্তু সে নাকি ভালোটি বাসিত একমাত্র প্রফুল্লকেই । তাই গপ্পের শেষে প্রফুল্ল ভবানী পাঠকের ডাকাতদল ছেড়ে দুই সতীনের সঙ্গে সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিল। কেন ? ওমা , তা - ও জানো না ? প্রফুল্ল তো হলো বিষ্ণু - অবতার ! নেহাত বৌ – মানুষ , তাই শাঁখ – সুদর্শন - গদা ইত্যাদি দেওয়া যায়নি । কিন্তু ধর্মসংস্থাপনই তার কাজ । আর সেটা কিন্তু ডাকাতি করে গরিবের টাকা গরিবকে ফিরিয়ে দিয়ে নয় । ঘরে ফিরে সতীন আর সতীন-পোদের খাইয়ে পরিয়ে । ঘর , এটাই কিন্তু ছিলো ওই সময়ের জাতীয়তাবাদের সবচেয়ে জরুরি অংশ । বাইরে যুঝতে হবে শক্তিমান বিদেশির সঙ্গে , অতএব সেখানে বিদেশি সভ্যতার অনুপ্রবেশ অবধারিত । তাই অন্দরে বাঁচিয়ে রাখতে হবে অপাপবিদ্ধ দেশী সংস্কার । আর এটা কারা পারবে ? মেয়েরাই । মেয়েরা তো বাই ডিফল্ট বিশুদ্ধ প্রজাতি ! বিড়ালাক্ষি বিধুমুখীর দল তো অনেক আগে থেকেই গুচ্ছের খোঁচা খেয়েছে , এবার ‘স্ত্রীজাতির বিশেষ কার্য্য ’ বলে নির্দিষ্ট করে যেসব কাজকে চিনিয়ে দিচ্ছেন বঙ্কিম কিংবা ভূদেব মুখুজ্যে , উমেশ দত্তরা , তার মধ্যে পড়ে ঘর সামলানো , গেরস্থালির সব আয়-ব্যয়ের হিসেব রাখা , চাকরবাকরের ওপর ভরসা না করে সব কাজ নিজের নখ-আরশিতে জ্বলজ্বলে করে রাখা, ছেলেপুলেকে পড়ানো , ধর্ম পালন এটাসেটারা । নজরটান - শুধু চরিত্রে সতী হওয়াটা কোনো আদর্শের শর্ত নয় , হতে হবে লক্ষ্মীশ্রীর ধারক । অর্থাৎ , হিন্দু জাতির সুস্থতার জন্যে হিন্দু সমাজকে বাঁচাতে হবে , হিন্দু সমাজের জন্যে হিন্দু পরিবারকে বাঁচাতে হবে , আর হিন্দু পরিবারের পালক নারীকে পবিত্র সতীলক্ষ্মী হতে হবে । এই প্রোপাগান্ডার বাইরে যাওয়া অসম্ভব হয়ে গেলো বঙ্কিমের কাছে । না হলো গোটা ফিকশন , না হলো প্রোপাগান্ডা । আমার তো মনে হয় , কপালকুণ্ডলা আসলে উপন্যাস লিখতে গিয়ে শিল্পী বঙ্কিমের ভুল করে লিখে ফেলা রোমান্স । বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রমের মতো উপন্যাসের আওতাটাকে এড়িয়েই গেলো । মানে , বক্তব্য আর বক্তব্যের মাধ্যম - দুয়ে আর কিছুতেই মিশ খেলো না । এ - ই সবচেয়ে বড়ো ভুল ।

কিন্তু বঙ্কিমের প্রোপাগান্ডার শেষতম উদ্দেশ্য ছিলো যে জাতীয় বোধের জারণ , তার বাস্তব রাজনৈতিক চরিত্রটাও এই ভাবের সাগরে হাবুডুবু খেয়ে ফাঁপা হয়ে গেলো । অবশ্য ভুল তো একা বঙ্কিমের না । যে প্রতিবেশে মানুষকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা যে অনুচিত , এটা প্রমাণ করার জন্যেই লক্ষ লক্ষ সাক্ষীসাবুদ দরকার হয় , অতিবৃদ্ধের বালিকাবিবাহ সুপ্রচুর মানুষের সাগ্রহ অনুমোদন পেয়ে যায় , কোন্‌ বিদেশি কম খারাপ , সেই ভেবেই সাপলুডোর দান ফেলতে হয় , সেখানে এটা অবধারিত ছিলো। যবন আর ম্লেচ্ছদের ঘেন্না করতে করতে চোখের সামনে বসে থাকা বর্গির দলটাকে আর দেখতে পাচ্ছিলো না দেশের লোক , এ অবশ্য একরকম সুবিধে । মুশকিল শুধু একটাই , ভবানী পাঠক তো নাহয় ইংরেজ রাজা হয়ে গেছে বলে খুশি হয়ে নিশ্চিন্ত মনে ধরা দিলো; রামধন পোদ , রামা কৈবর্ত্তরা কিন্তু শেষমেশ ম্যাপের ছাইরঙা কোণেই দাঁড়িয়ে রইলো , পা বাড়ালো কাঁটাতারের বাইরে । আর সব নতুন নতুন বুলবুলিরা ওদিকে ধান খেয়ে গেলো মনের
সুখে । লক্ষ্মীর চালও বাড়ন্ত । মিসেস সিং,আপনার তলোয়ারটা ভুল করে একবার ধার দেবেন ?