ফিরে এসো রাই, প্রিয় '৯০

তমাল রায়




আরোগ্য নিকেতন। তারাশংকরের না। এ আমার নিজস্ব নির্মাণ। যে প্রিয় '৯০ আমার বেড়ে ওঠাকে বহন করেছিল,তারই আঘাত আমায় ভেঙে টুকরো টুকরো করেছে দিনের পর দিন! আসলে,আজ মনে হয় সুন্দরের অভিশাপ। সব সুন্দরেরই বুঝি এমন অভিশাপ থাকে। আর তোর দেওয়া নামের মানুষটি আজ তাই 'স্বপ্ন' নয় স্বপ্নভঙ্গ নামেই বেঁচে আছে শহর কলকাতা থেকে প্রায় ৯০০কিমি দূরের এই সামুদ্রিক গ্রামে। এখানে জীবন তরঙ্গ বিহীন। স্মৃতি সত্তা নিয়েই কুঁকড়ে ছোট হতে হতে এখানে চলে আসা। এখানে শহুরে তরঙ্গ নেই। অভিঘাতও। চোখের সামনে পড়ে আছে কেবল হলুদ আলোর মাঝে,এক সমুদ্র,যে কিছু নেয় না,হয়ত দেয়। মানুষতো স্বার্থের অভিমুখে চলা পশু মাত্র,আর সংঘাতে টুকরো করে দেবার ক্ষেত্রে পশুরও অধম। তাই দূরে থাকো,সুরে থাকা,সমুদ্রেরও আছে নীল বিষাদ সুর,তাকে ছুঁয়ে আঘাতকে স্পর্শ করি,আর দেখি রুপালি জড়ি বিছিয়ে এক পথ তৈরি হয়েছে যে,পথে তুই এগিয়ে আসছিস আমার দিকে,রাই,কখনও আমার ছিল রাই...

রাই,
স্কটলেনের বাইরেটা সে সময়েও অনেকটা অন্ধকার নিয়ে ছিল। আলোও হয়ত। কিছুকাল পর যেখানে সমাধিফলকে লেখা হবে 'প্রিয় '৯০ ভালো থেকো'। বুকটা কেমন হু হু করে ওঠে,চোখ পড়তেই। ঘুমের গায়ে ঘুমের আস্তরণ পড়লে,নিদ্রা অধিকতর জাগরূক হয়ে ওঠে। রাই,আসবি না ফিরে?
বিন্দুগুলোকে জুড়তে চাইলে কিছুতেই জোড়েনা। আঁকতে চেয়েছিলাম সরলরেখা, আগে তো বিন্দুর অভিমুখ এক হওয়া প্রয়োজন। তারপর হয়ত মিল...
সন্ধ্যের সে সব অশান্ত তিমিরে,কি করে জানি উষ্ণতা,উন্মাদনা আর প্রতিভার হারাকিরি অথবা উন্মেষ... তুই শব্দকেই ব্রহ্ম মানলি, নীলু লিরিকে,সাম্য জোর দিয়েছিল ছন্দ,ছন্দ মন্দাক্রান্তা...এখন এই কলকাতা থেকে ৯০০ কিমি দূরের ছোট্ট সমুদ্রতীরবর্তী গ্রামে যখন সাইক্লোনের রেড এলার্ট জারি হয়,মনে পড়ে নব্বই...কি ঝাঁঝ ছিল,যেন ঘানিতে পেষা সরষের তেল,খালাসিটোলা,বৃষ্টি অববাহিকা, শান্তিনিকেতন, সুনীল শক্তির ক্লাস, 'ময়ূরাক্ষী তুমি দিলে', দেশ,বিদেশ, হাহা হি হি, লোভ, রাণাঘাটে আমিও গেছি তোকে নিয়ে। গোঁসাই যিনি, শিক্ষিত অথচ বিনয়ী হওয়াই অভিপ্রেত। তাঁর অনুগামীও অজস্র হওয়াই স্বাভাবিক, উন্মাদনাও...কিন্তু যাঁর কবিতায় আমরা শ্বাস নিতাম সপ্রাণ,সেও কেমন গুলিয়ে গেল, তাই না? কেবল কর্তাভজার সম্প্রদায়কেই তুলে নিয়ে আসতে লাগলো,বিখ্যাত সাপ্তাহিকে। নেওয়া যাচ্ছিল না জাস্ট! নেওয়া কি যায়? স্কট লেনে তখন অন্ধকার জমেছে পূর্ণ,'অত্যল্পও' তখন দিশাহারা... আমরাও, জলে ঘাই মেরে যেভাবে বাঁচার চেষ্টা, করেছিলাম তুই, আমি... আমার কেমন ঘেন্না ধরেছিল, শিল্প সাহিত্যের সমাজের সাথে মাছের বাজারের তফাৎ কই, তাহলে বল, কিসের এত অহং তাহলে? দূরে সরার সেই শুরু...তুই বলেছিলি মানিয়ে নে স্বপ্ন। এত চুজি হোস না। আমাদের অনেক কিছু ছিল না,ভালো মানুষ হয়ে ওঠাটাই তো একমাত্র লক্ষ্য, সেখান থেকে বিচ্যুত হতে হলে, এখানে কেন থাকবো,তার থেকে কর্পোরেটের সাম্রাজ্যে যাওয়াই ভালো। তুই তখনও যোগ রাখিস, আমি তোর থেকে শুনেই প্রিয় '৯০কে অনুভব করি। ভাবি দূরে থাকাই বরং শ্রেয়, কাছে এলেই কুৎসিত আর কর্কশ বাস্তব, কদর্যতা...অরূপ সুইসাইডকেই বেছে নিলো পথ,শালিনী বিয়ে করে উধাও, সঙ্ঘ ভাঙ্গে, ভাঙ্গে হয়ত এভাবেই...ভাঙন ধরেছে তখন, ভাঙন...

ভাঙন, প্রিয় নব্বইয়ের উপক্রমণিকা জুড়ে একদিকে ভাঙন আর একদিকে হয়ত কিছু আলোও বা... উনিশ কুড়ি বয়সটাই তো আলো হয়ে থাকে, অজান্তেই স্পর্ধার, জ্ঞানসঞ্চয়ী আলো। তরুণের এবং স্বপ্নভঙ্গেরও! সাম্যর লেখা পড়ে, বাবা নিজে দেখা করতে চেয়েছিল, সাম্য আসেনি। আসলে সেটাতো কথা না রাখারও দশক! বাবা স্টেবিলিটিতে বিশ্বাসী হয়েও কি জানি কেন লালেই আস্থা। মা অস্থির‍, তবু লালই।কারণ আই পি টি এ। কারণ ভালোবাসার রঙ তো আজন্ম লাল। মা ছিল ভালোবাসার কাঙাল। লাল অবশ্য তখন ফিকে লাল...বাবা প্রায়ই বলতেন এই গর্বাচভের মত বেজন্মার যে কেন মৃত্যু হয়না।

প্রিয় ফুলের মধ্যেও কোথা দিয়ে যেন বিষ ঢুকে পড়ে,বিসমিল্লার বিষাদ সানাই,অজস্র স্বপ্নের লাশ মাড়িয়ে গ্লাসনস্ত পেরস্ত্রৈকার বাতাসে তখন ছিঁড়ে যাচ্ছে,লাল পতাকা...

রাই,তুই বলেছিলি অসম্মতির, গায়ের জোরের সাম্য প্রতিষ্ঠাও ফিউডালিজম। হয়ত তুই ই ঠিক। আর,বাকিটা, প্রিয় নব্বই জানে রাই,জানে পরের দশকগুলোও। হ্যাঁ, তুই ও জেনেছিলি, মানিসনি। তৈরী হল একটা একমুখী দুনিয়া, আর ইয়েলৎসিনের হাত ধরে, ক্রেমলিন শুধু রাশিয়ার... আর,বাকিটা জুড়ে বেশ্যাবৃত্তি, চরম দারিদ্র, প্রবল শীতে অজস্র উদ্বাস্তু মানুষ পথে, আর একটা আলখাল্লা সংস্কৃতির দেশের অর্থের দম্ভ, আর গুন্ডাগিরি! দালালীই একমাত্র পেশা ও নেশা থেকে স্বভাব, সে কবির দালালি হোক বা বুর্জোয়া দেশের... অবশ্য ওরা তখনও বোঝেনি, যে গুন্ডাগিরি গুন্ডাগিরিরই জন্ম দেয়। আমার মা, আমার একমাত্র আশ্রয়, পাগল হয়ে গেল...কি অদ্ভুত সমাপতন... আর, আমি খুঁজছি তোকে, অসময়েই এভাবে চলে যেতে হয়, তাই না রাই?

রাই, তোর কাছেই শিখেছিলাম রঙ। রঙের ব্যবহার। ক্রিমসন ইয়োলোও তোর থেকেই চেনা। যেমন এই সমুদ্র উপকূলে আপাতত ক্রিমসন ইয়োলোর আধিক্য। শীতের রোদ যখন পুরু সর নিয়ে মাখিয়ে দেয় চরাচর, আমি স্থির সত্যের মত অবস্থান করি এখানেই। সমুদ্র নামক ক্রমিক বিষাদ নীলে ডুবে থাকতে থাকতে এও এক রিলিফইন। মনে পড়ে যায় প্রিয় '৯০। সাঁই সাঁই করেই তখন দিন আসে,দিন যায়, সকালের গায়ে গুটি গুটি অভিমানী মেঘের ছিট, দুপুর কেমন দুপুরের রঙে বিস্ফোরণের প্রহর গোণে, ভুপাল গ্যাস ট্রাজেডি, গোঁসাই এর উত্থান,আর উত্থান,আর কে'না জানে একটা উত্থান আসলেই পতনের অভিমুখই নির্দিষ্ট করে। প্রিয় '৯০এর শরীর ছুঁয়েছে চেরোনবিল থেকে ভুপাল, মানুষ মরছে, আর কেউ উঠে আসছেন, পতন চিহ্ন নিয়ে। ক'দিন পর কবিতার মাঝে গল্প ঢুকবে, এতদিনের অস্বীকার করা বিচূর্ণ কাব্যপ্রতিমার আবার নির্মাণ ঘটছে, তোরা বলছিস,এ'তো আপোষ...সরে যাচ্ছিস, ভেঙে যাচ্ছিস একলা হচ্ছিস, আর শয়ে শয়ে মানুষ মরছে, এবার অযোধ্যাও... মধ্যযুগ অভিমুখী আবার কবিতা, একটা দেশ, উপনিবেশ, মানুষ মারছে মানুষকে স্রেফ মন্দির নির্মাণার্থে। অন্ধকার ঘনাচ্ছে। তুই সেই পালাতে শুরু করেছিস শহর ছেড়ে, আমায় বলিসনি আগে... পাছে আমি বলে ফেলি, প্রতিবাদটা জায়গায় দাঁড়িয়েই করতে হয়, দূরে গিয়ে যতই প্রতিআক্রমণের প্রস্তুতি নিস, হয় তা রোমান্টিক ফুলিসনেস, অথবা এসকেপিজম। তুই সব শুনে হেসেছিলি। 'পথের পাঁচালি'ও তখন শেষ করেছে যাত্রাপথ! হঠাৎ অপু নেই, নিশ্চিন্দিপুর আর মাণিকবাবুও হঠাৎ থমকে গেছে। তুই আটলান্টা রওয়ানা দেবার আগে সন্ধ্যের নীল রঙ মুখে মেখে যাবার আগের দিন বলেছিলি 'কন্ট্রাডিকশন না হলে সভ্যতা! কবিতাও তো তার শরীরে ধারণ করে একটা গোটা বা খন্ড সভ্যতা, না'কি খন্ডহর? মুদ্রা দোষ বোঝাতে নিউমিসম্যাটিক্স, এত বাহুল্যে ভরা যে সমাজ তাতে কি আর প্রত্যাশা আর থাকে, স্বপ্ন?'
আমি উত্তরহীন ছিলাম। সব কথার কি আর উত্তর হয়! সেটা লোডশেডিং এর কলকাতা,চাপ বুনোট ঠাস ঠাস অন্ধকার চেপে বসেছে, আমি তোর স্বপ্ন, তোর দিকে এগিয়ে যেতে গিয়ে ধাক্কা খেলাম দেওয়ালে,সিঁড়ি দিয়ে তোর নেমে যাবার পদশব্দ...শক্তি চলে গেলেন...

'মানুষ বড় কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও,
মানুষই ফাঁদ পাতছে, তুমি পাখির মতো পাশে দাঁড়াও,
মানুষ বড় একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও।
তোমাকে সেই সকাল থেকে তোমার মতো মনে পড়ছে,
সন্ধে হলে মনে পড়ছে, রাতের বেলা মনে পড়ছে।
মানুষ বড় একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও,'
তুই তখন আটলান্টার পথে...

পথ যখন কোথাও পৌঁছয় না, ভালোবাসার চক খড়িতে তখন আর দাগ পড়েনা। কখনও এমন হয়। আর, সে বড় দুর্ভাগা সময়, ইতিহাস বুঝিবা সেই সময়কেই মাৎসন্যায় বলে! কিছু তরুণের স্পর্ধার আকাশে সুর্য ওঠার বদলে গ্রহণ ঘিরলো সমাজ। দ একলিপ্স। আদতে, হেরে যাওয়াই... একটা বানতলা ধর্ষণ, আর সত্তরের পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদের মুখে,'এমন তো কতই ঘটে!' কি লজ্জা লেগেছিলো সেদিন! মা'তো বিস্মৃতির গহীনে, তার কিছু যায় আসেনি ভাগ্যিস। বাবা থম মেরে গেছিল। তুই আটলান্টা থেকে চিঠি লিখেছিলি, 'স্বপ্ন, ভাগ্যিস চলে এসেছিলাম, সিন্ধুসভ্যতার দেশ এত অসভ্য হয়ে গেল কবে রে?' আমি উত্তর করতে পারিনি। আর, দ্যাখ আমার উত্তর করা না করায়, বাস্তব কি আর বদলে যায়? এরপর এলো একুশে জুলাই। একইরকম ঔদ্ধত্য। সেই অবজ্ঞাজনিত হাসি ছুঁড়তে ছুঁড়তে বেরিয়ে যেতে যেতে বলে গেলেন,'গুন্ডাগিরি করে আর যাই হোক, রাইটার্স দখল করা যায় না,এটা ইলেকশনে জিতে দখল করতে হয়"। হায়! ইলেকশন। সেও তো প্রহসন হয়ে গেছিল কবেই। ওনার কথা হয়ত সত্য। কিন্তু মানুষতো! পুলিশের গুলিতে ১৩ জন মারা গেলেও বুঝি এত দর্প দেখানো যায়? 'পুলিশ কখনও অন্যায় করে না,সে যতক্ষণ আমার পুলিশ' যে সময় জুড়ে, এসব ঘটে, শিল্প ও শিল্পীর কাছে সে বড় সংকটের সময়। কালি শুকিয়ে আসে অজান্তেই। তোর বই প্রকাশ হয়েছিল আগেই। তোর রেডি করে যাওয়া পাণ্ডুলিপিতেই প্রথম বই। আমি আর নিজেই চাইনি, আসলে জানিস ঘেন্না লাগতো খুব। এই অহংকারী শাসক, তার পেছনে হেঁটে চলা অজস্র কৃমি কীটের মত মানুষ, আর কবিরা? তারা তো পরজীবী চিরটাকাল, তুই ই বল রাই এরপর একটা সমাজ কেন মুখ থুবড়ে পড়বে না? আর, যেদিন প্রবুদ্ধর বউ কে নিয়ে চলে গেলেন তিনি, প্রবুদ্ধ হাউ হাউ করে কাঁদছে... না, প্রেম কোনো অপরাধ নয়, কিন্তু প্রবুদ্ধ তো তাঁকে বিশ্বাস করত ঈশ্বরের মত, শালিনী তখন গর্ভবতী, ওর বাড়ির নীচে এসেছিলাম চা খেতে। সিগারেট। মাসিমার চিৎকার শুনে ওপরে গিয়ে দেখি সিলিং ফ্যানে...আমিই নামালাম, বাঁচাতে পারিনি...খাটের পাশে লেখা, 'আমার কবিতার মত নিরুচ্চার হোক, আমার প্রস্থান।' স্তব্ধ আমি দাঁড়িয়ে। ঘেন্না লাগছিলো খুউব। বমি পাচ্ছিলো। এত অন্ধকার। পাখির ডানায় ভর করে আমিও উড়ছিলাম। তোর ঠোঁট খুঁজছিলাম, হাত...রাই, তোর হাত খুঁজছিলাম একাই... শূন্যে ভাসতে ভাসতে দুম করে পড়ে গেলাম।

রিপ ভ্যানের মত কত কত বছর শুধু ঘুমালাম। কেবল মাস ছয় আগে পুরনো শহরটায় নেমে দেখেছিলাম, গলিগুলো চওড়া হয়েছে, স্ট্রীট লাইটগুলো আগের থেকে উজ্জ্বল, আর অনেক ফ্লাইওভার, সেতু... মানুষগুলোও কি বদলেছে? মাঝের সময়ের কোনো স্মৃতি নেই, কেবল ভয় আছে। স্মৃতিনাশও কখনও এক নিদারুণ ওষধি... আর, তুই। তুই কিছু জানিস এখনও লোক কবিতা লেখে? মানুষ কি সেই আগের মতই? আর কবিরা?

গত ছ'মাসে অশক্ত শরীরে মানুষের সাথে আর মিশিনি। ভয় লাগে। তবে জানিস প্রিয় '৯০ সম্মন্ধে আজও কেন জানি কিছু মায়া রয়ে গেছে।

এখানে আকাশ নীল,ভুল বললাম। সন্ধ্যে নামার আগে,টার্কিশ ব্লু। রঙহীন দুনিয়ায় রঙ শিখিয়েছিলি হাতে করে তুই,তোর চুলের মাঝে জোনাকি দেখে কবিতার সিরিজ লিখলে,তুই কেমন গম্ভীর থেকে মৃদু হেসে উঠেছিলি,আলো জ্বলে উঠেছিলো কোথাও। আজ হঠাৎ তেমনই এক সন্ধ্যে। আর তোর কথা মনে পড়তে চিঠি লিখছি তোকেই। এ চিঠিও আমাদের জীবনের মতই হয়ত ভাঙা সেতুর ওপারে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে,আর আমি দাঁড়িয়ে থাকবো এক অলৌকিকের,হয়ত আমায় শুদ্ধু ভাঙা সেতুকে তুলে ধরবেন কোনো এক সর্বশক্তিমান,আর পৌঁছে যাবো তোর কাছে। আমার প্রিয় রাই,প্রিয় '৯০ কে যদি এত বিনির্মানের পর,ফের গড়ে তোলা যায়,এমন কি আদৌ হয়? তুই জানিস,রাই? একবার মিষ্টি করে হাসবি? হাসছিস হয়ত,নইলে এত গভীর কৃষ্ণপক্ষে সমুদ্র এত সফেন কেন? এত আলোর বিচ্ছুরণ?
মনে পড়ছে আমার প্রথম বই প্রবেশিকা-

'ক্রমে,অপর আলো,স্পর্শ ও বিচ্ছুরণ
অন্ধকারেই পথ হাঁটা,একা এবং একা'

কতদিন পর একটা পুরনো চিঠির মত সন্ধ্যে। একটা আলোর হয়ত নির্মাণ হচ্ছে কোথাও...রাই,স্রেফ তোর জন্য,একটা আলোর সিঁড়ির হয়ত নির্মাণ হচ্ছে, আসবিনা?