কবিতাগুচ্ছ

বন্ধুসুন্দর পাল



ভগ্নাংশ

শীঘ্রপতন শীত। আলাপ আলপনা মুছে দেয় অপমানে
আগামীকালের বোতাম খোলা তুমি বন্ধ বর্তমানে।
উপকরণে উপপাদ্য, করাবাস ভুলবশত জ্যামিতি বক্সে
পাটিগনিতে মন ছিল না। হিসেব কষবো কোন দোষে?
মুখের উপার্জন পুরোটা ঢাকা। গায়ে পুরনো শাল জড়ানো
যে পাখিগুলোর ডাকনাম নেই তারা ওড়ে না কখনো।
সমান্তরাল হাসি। তরলে তাপমাত্রা আনুপাতিক হারে সরল
ভাগচাষী আমি। ভগ্নাংশ ভেঙে ভাগ করা আমাদের ফসল।
শরীরে শ্রেণিবিভাগ। কোথাও পরিচিত অপরিচিত অতিথি
কালপুরুষের কিশোরবেলা তোমার মনে পড়ে কোন তিথি?
অন্য নামে আলোর নেশা। মাখামাখি প্রয়োজনে জলের দাগ
প্রতিটা পাতায় বসন্ত। কেন শীতে আসে ঠোঁটের অনেক ভাগ?

এভাবেই

থেমে যাই। এভাবেই নেমে আসি রেলিং বেয়ে বন্দরে।
আশেপাশে অতীত আছে আমাদের দোমড়ানো শরীরে।
মাটির দামে মনের মলম। সংযোজন শুধু অভিযোজন
ধার করা বুকে ফেরত নিয়ে এসো আরও একটু ‘সাধারণ’।
আমাদের অচল আলো গায়ে লেগে থাকার থমথমে ভান
মুখ পুড়লে শহর জুড়ে খবর আনে ওপারের ডাকপিওন।
ঠিকানা ছাতনাতলা কারবারি কদমতলা। মশারির আগুন
চোখে তুমি আজ একটু কাজল দিও। ওটাই গজলের রিংটোন।
হারমোনিয়ামে হারানো সুর ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’
তুমি যদি হিসেব করে শেষ হও, আমিও অতীতের প’রে।