আর ঐ যে মজঝিম

বিদ্যুৎলেখা ঘোষ




আপাতত কোনো গ্রন্থনা নেই । হয়তো আর কোনো জমে ওঠা সপ্তপর্ণ নেই বলে । আছে কেবলমাত্র এক শীলাবতী নদী অনন্ত বালুকণার মধ্যে কালকথা নিয়ে । ক্ষীণতোয়া মৃদুলা সে বহতার কীভাবে যেন সবচেয়ে আগে সবকিছুই জানা হয়ে যায় । বহুদিন আগলে রাখা পূর্ব অনুভব বুঝি আমাকে বলবে সেখানেই বালুতটে তেমন করে যা সে সময়ের কাছ থেকে কুড়িয়ে নিয়ে মীড় আঁচলে জমা করে রেখেছিলো পরম আদরে । আমার এই শহরযাপন এইসব শ্বাসরোধী বিষণ্ণ দিনরাতের আঙুল ডুবিয়ে তোমাকে স্পর্শ করলেই অনর্গল বলে গেছো হাজার বছর পর শাপমুক্ত অহল্যার মতো । এসেছিল কারা যেন । দূরে অনেক দূরে আজ আবছায়া ধূসর পাহাড়িয়া অতীত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অবিন্যস্ত গাছের সারি । কেউ উচ্ছল শৈশব রোদ্দুর । কেউ নতুন শীতের জন্য বোনা নরম ওম শোয়েটার । নিঃসঙ্গ কোনো সংলাপ কেউ একান্তে কোথাও । এইখানে স্তরে স্তরে সার বেঁধে আছে যাদের দেখে পাহাড়শ্রেণী বলে ভুল হয়ে যায় । উত্তুরে হাওয়ায় এলোমেলো বসে তোমার কাছে শুনেছি সাগ্রহে তোমার নিভৃত আলাপ । দৃষ্টিপথে দেখেছি কেবল দিগন্তের কোনো এক বিন্দু থেকে চলা শুরু করে আবার সেই দিগন্তেই মিলিয়ে যাচ্ছো কোথাও গোপন অভিসারে । ভালবেসেছিলে জলশরীরে শরীর ডুবিয়ে উদ্দাম মেতেছিলে শীলাবতী । সে সঙ্গম অভ্রতে রোদ পড়ে আলো ছলকে এলে পরে চোখে চমক লাগে । এত ভালোবাসতে পারো সইতে ! সমস্ত রমণক্ষত নিয়ে চিরন্তনী অপূর্ব রমণীয় বহুকাল ধরে এতদূর । কে অহল্যা আজ ও শীলাবতী নদী ! অবাক হয়ে কেবল শুনেছি তোমার মৃদু কলস্বরে তোমার নিঝুম কথা । বুঝি শাপমোচন হল কোনো কর্ণাবতীর । স্পন্দন শুরু হল যেন আবার নতুন করে । ছন্দে ছন্দে আবার নৃত্যপরা । শিরায় শিরায় প্রতিটি কণায় তোমার প্রেমের অশ্রুতপূর্ব গীতিকা...

কূহরিনী পেয়েছে আলাপ ,
আলবেলা নির্জনপদ
# এত কুহেলিয়ানা
আর ঐ যে মজঝিম...।।

সেদিনের নদী ও নারী তুমি আমি বলেছিলাম পরস্পরকে ছুঁয়ে , " অপেক্ষায় থেকো আমার "......।