উড়ানে ভুল

নাসরিন

ফোঁটা ফোঁটা আলতো বৃষ্টির কণাগুলো যখন গাল বেয়ে নামছিল , গ্লোরিয়া আনন্দে এক পাক ঘুরে নিল । অদ্ভুত একটা আনন্দে ... শুধু তানসেনই নয় তাহলে ... আরেকজনের ও ক্ষমতা আছে বৃষ্টি নামাবার ।গ্লোরিয়া বরাবরই একাকীত্ব - এর ঘরণী । মন - কাতরানো বিষণ্ণ দিনে সবার থেকে পালিয়ে ব্যালকনির কোণই ছিল তার একমাত্র আশ্রয়স্থল । আজ সে মগ্ন ছিল এক নতুন এক্সপেরিমেন্টে ।তার প্রিয় কবির কবিতার বইগুলো খুলে বর্ষার কবিতাগুলো একের পর এক পড়ছিল সে । আর চলছিল বৃষ্টির সাথে টেলিপ্যাথি টেলিপ্যাথি খেলা । উহু , শুধু বৃষ্টি নয় , নিজের প্রিয় কবিকেও কল্পনায় টেনে আনল টেলিপ্যাথি খেলতে । তা তিনি এলেন ... পাতার শব্দের নো - ম্যানস ল্যান্ড পেরিয়ে এলেন সেই মেঘদূত । ঘনীভূত করলেন মেঘ ... নামালেন বৃষ্টি ... সেই বৃষ্টির সাক্ষী থাকল ... উহু , আর
কেউ নয় , গ্লোরিয়া নিজে । অনুপস্থিত এক কবির উপস্থিত শব্দগুলোকে আঁকড়ে ধরে গ্লোরিয়া বৃষ্টিতে ভিজল ।
বৃষ্টি , ঝড় , মেঘমল্লার , ঋতুরঙ্গ এসবেই পালিয়ে বাঁচে সে । পালায় তার বাবা – মা - এর কাছ থেকে যারা তার শৈশব কেড়ে নিয়ে একরাশ বই - এর স্তূপে তাকে চাপিয়ে দিয়েছিল । পালায় তার বন্ধুদের কাছ থেকে , পালায় সমস্যা থেকে , হয়তো বা নিজের থেকে । পালানোর হাতিয়ার আপাতত
বই , মেঘ , মেঘমল্লার , কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে হয়তো হয়ে উঠবে ড্রাগ এমনকি ব্লেড ও । একদিন ঠিক এইভাবে পালাতে পালাতে হয়তো তার ঠাই হবে সেই সব কুয়াশা লেনে ... সেখানে ‘ Rest is silence ’
হয়তো এরকম অনেক বারান্দাতেই কোণে কোণে লুকিয়ে থাকা
সুতপা , পূজা ,আফসানা ,প্রতাপ , হানিফদের গল্পগুলো একই ভাবে গজিয়ে ওঠে । মাধুর্য হারিয়ে জীবন যখন মাথুর পর্যায়ে পৌঁছায় এরাও
ভাবে , আদতে বাঁচার একটাই মানে পলায়ন প্রবৃত্তি ।
হ্যাঁ এটা কোন ভাবেই অস্বীকার করা যায় না যে , জীবন মানেই শুধু
‘ ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় ’ নয় ।পাতার পর পাতা উল্টানো ‘পিকচার পারফেক্ট’ ক্যালেন্ডার ও নয় । মেডুসার মতো ঘৃণ্য সত্ত্বা নিয়েও জীবন আসে ... আমাদের জীবনে অন্যান্য সকল সুখ - আনন্দ গুলোকে ছেঁটে দিয়ে আমাদের এক দেশলাই বাক্স ভর্তি অক্ষাংশ - দ্রাঘিমাংশের বন্দী
করে দেয় । নাদির আর জেনিথ মিলিয়ে হয়তো একটাই মাস্টারপিস
থাকে ... অন্ধকার । অক্টেভ আর সেস্টেটের পিচ ডার্ক যুগলবন্দীতে চতুর্দশপদী সনেট রচনা করে যাচ্ছেন কেউ ... ঊর্ধ্বালোকে বসে .... তার হয়তো ‘ Busy-idle ’ বিলাসিতা ।কিন্তু মাশুল দিতে হয় আমাদের । একটা ইঙ্কপটে ক্রমাগত চুবিয়ে যাচ্ছেন আমাদের বে - হিসেবী বজ্রকঠিন সে আদেশ । কখনো বা তুলে নিচ্ছেন ইঙ্কপট থেকে । আমরাও
ট্যান্টালাস , ... নিমেষে আবার সেই ইঙ্ক-পট , তা আমাদের করনীয়টাই বা কি ? এই Anathema এর Panacea টাই বা কি ? Nemesis কে আটকাতে Escapism ? বিপদের ‘ মেরি – গো – রাউন্ড ’ থেকে পালানো বা ঝাপানো কিন্তু সমান।
তা আমরা ছোটবেলা থেকেই এই পালানোর মাইলস্টোন গুনতে শুরু করি । স্কুল থেকে পালানো , বাবা – মা - এর অনুশাসন থেকে পালানো , মোহান্ধ প্রেমে রাত্রির অন্ধকারে যুগলের পালানো । এই সব পালানোর ভুল যখন পুঞ্জীভূত হয়ে হয়ে তিলোত্তমার জন্ম দেয় ... তখন প্রাপ্তবয়স্ক আমরা এই পলায়ন - প্রবৃত্তি জেব্রা ক্রসিংকেই রাস্তা পেরনোর একমাত্র বিকল্প হিসাবে মেনে নিই । কিন্তু পালিয়েই কি একমাত্র অনুবাত ঢালে
পৌঁছান যায় ? হড়কা বান কি শুধু মিথ্ ? আমরা ভাবি পালিয়ে যাওয়া আর হাতে পটার - কিশোরের ‘ ইনভিসিবিলিটি ক্লোক ’ পাওয়া সমার্থক? কিন্তু তা তো আর সত্যি নয়।
‘ Escapism ’ বা পরিস্থিতি থেকে মাথা বাঁচিয়ে ভয়ে পালিয়ে যাওয়া আসলে ভুলেরই রিফ্রেন । এটি ব্রহ্মাস্ত্র নয় , আসলে রক্তবীজ ।
তাহলে পালাব কি পালাব না ? অনেকেরই প্রশ্নবাণ আসতে
পারে ছুটে । এর সমর্থনে গর্জে উঠতে পারে অনেকে ... বলতে পারে
যে , বহু সৃজনশীল সত্তার জন্মের আড়ালের গল্পটি হচ্ছে এই পলায়ন প্রবৃত্তি , পার্থিব জগতের সমস্যার গোলক ধাঁধা এড়িয়ে চলে
শিল্পীমন । তাদের একটি নিজস্ব অন্তর - এলাকা থাকে । যাতে তারা মনের খেয়াল খুশি মতো ইমারত বানায় , তার সংস্কার করে । কিন্তু এক্ষেত্রে আর একটু পরিষ্কার করলে বলাই যায় , যে সৃজনশীল কল্পনার
‘ stream of consciousness ‘ আর সমস্যা থেকে পালিয়ে যাওয়া একেবারে আলাদা । শিল্পী বাস্তব জগতের সমস্যার মুখোমুখি হলেই যে সৃষ্টি সুখে মাততে পারেন না একথা পুরো ভুল । শুধু “ Scorner of the ground “ হলেই তিনি শিল্পী এ ষোল আনা ভুল । জীবনের মধ্যে মিলেমিশেও তৃতীয় চক্ষু ও ষষ্টেন্দ্রিয়র অধিকারী সে । তা এই দুটির মিশেলেই গড়ে উঠবে তার ‘ Winged Word ’
হ্যাঁ , জীবন অনেক মুহূর্ত আনে ... ধরুন একজন ধর্ষিতা নারী । সে হয়তো তার আঘাত কে লুকিয়ে রাখার জন্য সমাজ থেকে গুটিয়ে নেয় নিজেকে । কিন্তু এতো আস্ত একটি ভ্রান্ত ধারনা । কুকুর কামড়ালে যখন আমরা নিজেকে ঘর বন্দী না করি , তবে ধর্ষণের পর কিসের আত্মগোপন ?
পালিয়ে যেতে যেতে একটা সময় দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাবেই । তখন কোন্ গর্ভগৃহে আশ্রয় নেব আমরা ? আর হ্যাঁ , পালিয়ে যাওয়া একটা ক্রমবর্ধমান নেশা । প্রথমে মন সাড়া দেয় ... ভাবে এই তো , এইবারটি কাটিয়ে দিই কোনোভাবে , পরের বার থেকে আবার বুক চিতিয়ে
দাঁড়াব । কিন্তু দিন বাড়ে , নেশা বাড়ে , সমস্যা বাড়ে ... জীবনের সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হয়ে তাদের থেকে নতুন শিক্ষা ,নতুন
চেতনা , নতুন স্পর্শ পাবার যে আড্রিনালিন রাশ , তা পালানোতে
কোথায়? একটা খুব প্রচলিত কথা আছে “ Literature mirrors life.” জীবনের লেন - বাইলেন গুলির একটা পরিবর্ধিত পরিমার্জিত সংস্করন সাহিত্য । জীবনেরই শ্রী - জাত হল সাহিত্য ।তাই এই সাহিত্যর ছত্রে ছত্রে আছে পলায়ন - প্রবৃত্তির আকুতি , কিন্তু অনেক রচনাও আছে যেখানে আমাদের এই প্রবৃত্তির পরিবর্ত এক নতুন পথ দেখায় ।
পালানো একটা ‘ Error of judgment ’ হতে পারে । হতে পারে একটা কাপুরুষোচিত ব্লান্ডার । কিন্তু তা চাঁদ সওদাগরের হেতালের দন্ডের মত অব্যর্থ হতে পারেনা । পরিস্থিতির ঝোড়ো হাওয়া - এর মুখোমুখি হতে হয় আবারও ।
ধরুন ওয়াদিপাউসকে । রাজা ওয়াদিপাউস ।আর তার পিতা লাইয়ুস ।
পিতা যখন দৈববাণীর দ্বারা জানতে পারে যে তার সন্তানই তার
ঘাতক , সে ভয়ে তার ভৃত্যকে নির্দেশ দেয় ছেলেকে মেরে দেবার জন্য। আত্মজ থেকেও পালিয়ে যাওয়া ... এ তো এসকেপিসমের আরো ঘৃণ্য একটি ম্যানিফেস্টেশন । পুত্র বেঁচে থাকে । পরে পুত্র অন্যর বাড়ীতে মানুষ হতে থাকে । সেও যখন জানতে পারে দৈববাণীর কথা ... সেও আবার ভয়ে পালিয়ে যায় । মাথা ঠাণ্ডা করে সমাধানের কথা চিন্তা না করে শুধু পালিয়েই বেড়ায় সে ... কিন্তু গল্পের শেষে সেই দৈববাণী বাস্তবায়িত হয়ে ওঠে ।
পালানো হরেক রকমের। নিজের দুঃখ থেকে পালানো। প্রতিবেশীর সাহায্যর আর্তি এড়িয়ে পালানো। কখনো বা নিজের দায়িত্ব,নিজের বিবেকের ঘেরাটোপ থেকে পালানো, নিজের আপন জন থেকে পালানো। এ প্রসঙ্গে মনে চলে আসে জোসেফ কনরাডের কালজয়ী ছোটোগল্প ‘লেগুন’ এর কথা । পলায়ন প্রবৃত্তি যে আদতে নৃশংস বাস্তব কে জয় করতে পারে না......এ গল্পে তা সুস্পষ্ট। Arsat পালিয়ে যেতে চেয়েছিল তার দায়িত্ব থেকে , নিজের দাদার জীবন রক্ষার মত পবিত্র কর্তব্য থেকেও পালিয়ে গিয়েছিল সে ......শুধু তার প্রেমিকার সঙ্গ পাওয়ার লোভে। একা একটি লেগুনে বাস করতে শুরু করে । সভ্যতার বাস্তব থেকে সরে গিয়ে সুদূর লেগুনে বসবাস ...... এর চেয়ে বড় এসকেপিসমের নিদর্শন পাওয়া কঠীন । তবু এর পরিনতিও হয় বেদনাজনক ........... Arsat এর প্রেমিকা মারা যায়। ব্যর্থ হয় তার এসকেপিসম। পাঠকের কাছে প্রকৃত নায়ক হয়ে ওঠে তার মৃত অগ্রজ।
হ্যাঁ, এটা অনস্বীকার্য যে আমরা ঘোরতর অসুখী, আমাদের বরাতে ‘ব্ল্যাকহোল’, ‘ক্লসট্রফোবিয়া’, ‘হুইলচেয়ার’, ‘ডিপ্রেশনের মনখারাপ’, ......... আমাদের জীবন না মিলতে চাওয়া রুবিকিউব। আমরা পালিয়ে যেতে চাই....... ঈশানে,নৈঝতে,উত্তলে, অবতলে, ......... আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই বোধ হয় একজন জন কিটস্ বেঁচে থাকে। আমারা সবাই তার মত ‘ আইডিয়াল জগতে ’ পালিয়েই হাঁফ ছেড়ে বেঁচে যাই আর কি । ‘Ode to a Nightingale’ তার বিখ্যাত একটি Ode ।
পার্থিব জগতের ‘ Weariness ’ , ‘ fever ’ ও ‘ fret ’ থেকে মুক্তির জন্য সে পাড়ি দেয় Nightingale এর জগতে ।
“ Away ! Away ! I will fly to thee…”
আইডিয়াল জগত হয়ত জরাহীন । তা সময়হীন । কিন্তু কিটস্ যে জীবনের উষ্ণতার পুজারী । যে অনন্তের রাজত্বে জীবনের ধুকপুকুনিই নেই , সেই অনন্ত কি তার পোষায় ? অনন্তের এই নিঃস্তব্ধতা , নিঃসঙ্গতাই তাকে ডেকে আনে এই জগতে ।
“ Forlorn ! the very word is like a bell
To toll me back from thee to my sole self “
অনুভবী কিটস্ হয়তো এই পলায়ন প্রবৃত্তির সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারে । তাই Grecian urn ওডে সেই আইডিয়াল জগতই তার কাছে হয়ে ওঠে
‘ কোল্ড প্যাস্টোরাল ’ , ‘ ওড ’ গুলির ক্রমবিবর্তনে এটা স্পষ্ট হয়ে
যায় যে , আইডিয়ালের শীতল জীবন বিমুখীনতা তাকে পলায়ন প্রবৃত্তি থেকে সরিয়ে আনছে হয়তো বা । ‘Ode on Melancholy’ এক স্বতন্ত্র বার্তা এনে দেয় ।
বিস্মৃতির নদী ‘ Lethe ’ অথবা আত্মহনন ... কোনো মাধ্যমটির দ্বারাই
‘ এসকেপ ’ করতে তিনি চান না । উপরন্তু দুঃখ এর মুখোমুখি হয়ে , দুঃখ ও সুখের মেলবন্ধন ঘটানোর পরামর্শ দেন তিনি ।
পলায়ন প্রবৃত্তির সমর্থনে হয়তো বা অনেকের কলমে
ঝড় উঠবে । অনেকে তুলবে ‘ ডেস্টিনি ’ – এর প্রসঙ্গ । বলতে চাইবে যে বাস্তবের মুখোমুখি হয়েও কি ‘ নেমেসিস , আটকানো সম্ভব ? না , তা হয়তো সম্ভব নয় , J.M.Synge – এর বিখ্যাত নাটক ‘ Riders to the sea ’ এর কথাই ধরুন না , কেন্দ্রীয় চরিত্র অ্যারান আইল্যান্ড – বাসিনী
মৌরীয়া । স্বামী , শ্বশুর , পাঁচপুত্রসন্তানকে গ্রাস করেছে সমুদ্র । গল্পের শেষে শেষ সন্তান বার্টলের মৃতদেহ যখন আসে , মৌরীয়া বলে ওঠে,
“ No man at all can be living forever , and we must be satisfied “
অনেকেই এই উক্তিকে এক স্টোয়িকের প্রলাপ বলে উড়িয়ে
দিতে চায় । কিন্তু এই উক্তি এক এসকেপিস্টের উক্তিও নয় , আবার এক স্টোয়িকের সেলফ - ডিফেন্স ও নয় । পলায়ন প্রবৃত্তি অবলম্বন না নিয়ে বাস্তবের জমিতে লড়াই করা এক সাহসী মহিলার উক্তি এটি । সে এই এক উক্তির মাধ্যমই অদ্ভুত এক ‘ tragic grandeur ’ লাভ করে ।
ক্লাস ইলেভেনে পড়ি। স্পষ্ট মনে পড়ে প্রীতির কথা । আমারই সহপাঠী সে । মাঝে মাঝে বাড়ীতেও আসত । তখন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আর ছয়-মাস বাকী ।একদিন এক রেস্তরাঁতে দেখা করতে বলে । উদভ্রান্ত চোখমুখ ।হাতে একটা ডায়েরি । বলে উঠে , “ শোন্ ! আমার কবিতার ডায়েরীটা তোর কাছেই রাখ । যখন বড় হবি পারলে ছাপাস।আমি যে কবিতা লিখি কাউকেই জানাই নি ”
“ কিন্তু কেন ? তুই কোথায় যাচ্ছিস ? ”
“ আমার বাড়ীতে কাকারা টাকা দিতে পারেনি বলে কারেন্ট কানেকশন কেটে দিয়েছে । বাবা - মা – এর ক্ষমতা নেই নতুন কানেকশন
আনার । আর ছ - মাস বাকী পরীক্ষার । আমি অন্ধকারে পড়তে
পারছি না । আমি পারব না কাউকে মুখ দেখাতে ”
“ তো তুই কি করবি ? ”
“ জানি না রে ” । ডায়েরীটা বুকে নিয়ে কাঁদতে শুরু করল সে ।
প্রীতির ডায়েরী দেওয়া , তার ডায়েরীতে মুখ গোঁজা - অন্য কিছুর গন্ধ পেলাম । তড়িঘড়ি প্রীতির কাঁধে হাত দিয়ে বললাম “ পারবি তুই । আমি জানি প্রীতি ... তুই ঠিক পারবি । ভোরে উঠে পড় । আমাদের বাড়ী এসে পড় । পারতে তোকে হবেই ”।
প্রীতি মুখ তুলে বলল , “ পারবো রে ” ?
সেদিনের পর থেকে বহুদিন ধরে চলল প্রীতির লড়াই। ফলাফলের দিনে খবর পেলাম আমাদের স্কুল থেকে টপ্ করে সে । জেলাতেও সে টপার । রিপোর্টারদের সাক্ষাৎকার পর্বের পর বিকালে আমাদের বাড়ী আসে সে । আমরা একসাথে অনেক আনন্দের মুহূর্ত কাটাই । যাওয়ার আগে বলে
যায় , “ পেরেছি রে আমি ”।
আজ হঠাৎ প্রীতির কথা খুব মনে পড়ছে । আর মনে পড়ছে Haruki Murakami এর কতগুলি লাইন ...
“ Closing your eyes isn’t going to change anything . Nothing going to disappear just because you can’t see what’s going on . In fact , things will even be worse the next time you open your eyes . That’s the kind of world we live in . keep your eyes wide open . Only a coward closes his eyes. Closing your eyes and plugging up your ears won ’t make time stand still . ”