আমারেনি চিনে তোমার মন

ভাস্বতী গোস্বামী






লাল আকাশের গায়ে একতারা লিখে দিচ্ছো
তোমার ধৈবত মুকুল ঝরায়
চাঁদ সূয্যি হেঁটেও শীতবেলা পেরোল না
বিন্দু হল আকাশ
চলতে চলতে জোনাকি হই
তোমার যন্তরটা অবিকল বুক কেটে বসিয়েছি
তবু সর্ষে ফোটে নি ক্ষেতে
গত সনে আকাশে আকাশে কী যেন
ও জমির মাপ হয় তিনকোণা
সুর মেলান্তি গেয়ো না বাউল
পুকুর কাটতে গিয়ে আমি ঝিনুক নেব না





ডিমের অস্ফূটে আলো
শীত লেগে ফিরে যাচ্ছে পাখির ছানারা
মা পাখির ওমে বিকেল হল
তুমি ঠোঁট রাখছ ইশারায়
মৃদু ভাসিয়ে দিচ্ছ
শস্য ছেড়ে যাচ্ছে মাটির ঠিকানা
একটা স্টেশন থেমে আছে কোথাও
হাত রাখলে
পাথর গড়িয়ে যায় জলের ঠুমরিতে




রাতের নৌকোয় চাঁদ খেতে আসে আমায়
একটু তফাতে দেখি
বন্যায় ভেসে যাচ্ছে জল
ভিজে উঠছে চাওয়ার গন্ধগুলো
রাতের নৌকোয় চাঁদ...
দূরে দাঁড়িয়ে থাকে আমার ছেলে মেয়ে
ঝাপসা হতে হতে ওরা ছড়িয়ে যাবে
একতারা কেঁপে ওঠে
বাউল হাত রাখছে সিঁড়িতে চৌকাঠে







ছোট ছোট শ্বাসে কাঁপছে হলুদ তারাগুলো
তুমি জল ডাকছো
আর গিটারে ভেসে যাচ্ছে অন্ধকার চোখদুটো
এই ঘর বাসনকোসন পূজোর ঘণ্টার মধ্যে দিয়ে পথ
শীত ফুরোচ্ছে না ব’লে মাছেরা ফিরে যাচ্ছে
কতটা উড়াল দিলে পথের শেষ হয়
সূর্য ফিরে আসে কাছে?
লেবুগাছে লেবু, আঙুরের ক্ষেত ভ’রে নূপুর
পা খুলে রাখছি
জলের রঙ থেকে গিটারের গা থেকে
একটু একটু করে অপেক্ষা পুড়ে যাচ্ছে

ঋণ স্বীকারঃ এই সিরিজের শিরোনামটি বাংলাদেশের গীতিকার সেজুল হোসেনের গান থেকে নেওয়া হয়েছে।