টিপ এবং-

আকতার জাভেদ




টিপ এবং-


কিছু নেই, অথবা পুনশ্চঃ
বলার মতো করে
বৃষ্টিপাত-
অবলীলায় উল্টানো পাতা-
খোলা জানালায় দমকা হাওয়া,
নেই তো; কেউ নয়-

এক হাঁটু জলের গভীরতায়
কখনো লাফায় কুনো ব্যাঙ-

নতুন ঢিবিটা ক্রমশ সবুজ হয়ে উঠছে
ঘাসের বুকে
দেখি- পৃথিবী বেশ প্রাচীন এক কবিতা-

লাল মোকাসিনে লেগে আছে
ধূসর কাদা, বলেছি-
কোন প্রশ্ন নয়
চোরাবালি ক্রমশ ডুবে যায়
চোরা পথে- তুমি বরং
ঝড় সামলাও,

একটা টিপ, অপেক্ষায় রেখেছে
সিরামিক আসবাবে,
ভুলেছি- আর্দ্রতায় পুরোটাই গলছে
[২৪ জুন, ২০১৫]

অপ্রসন্ন বিকেল-

অপ্রসন্ন হয়েছে আমাদের দৈনন্দিন নামচা
অতপর সাঁই করে চলে যায়
পুরোনো বার্তা- ইথারে মৃদু কম্পন
আকাশেই উড়তে থাকে, ছেঁড়া বসন-
আহলাদে কতবার বলি-
তু মুঝকো; ম্যায় তুঝকো সামঝাউন ক্যায়া-

সরে যাওয়া ক্ষণে নিভু আলো,
জানালার ফ্যাদম দূরত্বে
প্রতিবাদী মিছিল; একটা রোড ব্লক ছিলো
জেনেছে সবাই- থেমেছে কেউ কেউ
তারপর বলেছি তাকে-
আনা যানা তেরা ভি হ্যায়; মেরা ভি হ্যায়-

- আচ্ছা শব্দটা গম গম করে উঠলো ...
অতপর মনে পড়লো মহীনের সেই ঘোড়াগুলো -
টগবগ করে ছুটছে আর রাজ্যজুড়ে সুনশান !
সে জানে না, এভাবেই স্থিতি আসে -
সেই সুনশান পথে আচমকা ঝড়ো হাওয়া,
নিভে যাওয়া সলতেতে একটু পরশ।
হিম বাতাসে শব্দ হয় পাতা ওড়ার,
ওড়ে বৃন্ত- ওড়ে কবিতা -


চাওয়া-পাওয়া

পৃথিবীটার সব পেলেই বোধ হয় পৃথিবীটা শেষ...
বরং অপেক্ষায় থাকি সেই বৃষ্টিরই-
যার মেঘেতে কালো কালো ছায়া খুঁজি
কমলা রোদে উড়বে পাতা জেনেই শুধু
একটু ক্ষরণ গভীর হয়ে নামলে নদী,
আমিই বলি-
অপেক্ষাটা শুধু তোর জন্যই বৃষ্টি নামে, থামবে বোধ হয় হিমবাহের পতন- ভেবেই ভেবেই এক আধটু ওদিক হলেই শুনি- হু হু করে বাড়তে থাকে কান্না যদি, কবিতাটা বললে বোধ হয় বুঝতে থাকি বারান্দাটা আর নেই রে ভালো , দুলতে থাকা চাঁদের আলোয় রূপকথারই কল্পকথা- আমিই বলি "হাসতে থাকিস, হাসলে বরং টোল পড়ে যে, অপেক্ষাটা চলতে থাকুক- অপেক্ষারই নাহয় নাই যে শেষ"।


শীত উৎসব-

আমার শহরে এসে আজ তুমি কুয়াশচ্ছন্ন,
এক আধটু রঙ্গিন মিছিলে সেই গোলাপী কার্ডিগান-
অথবা
হঠাৎ অদৃশ্য হলে ট্রাফিক জ্যাম-
রিক্সার হুড নামানো কল্পনায়
পুরোটাই যেন শীতকাল-
আমি অপেক্ষায় থাকি-
রিংটোন বাঁজতে বাঁজতে শুনবো –
হয়তো শিশিরে ভিজতে ভিজতে তুমি আসছো,
তুমি হাসছো, শহরটায় ভাসছো শীতল স্পর্শ ধরে-
উৎসবে উৎসবে মাতোয়ারা আমার আঙ্গিনায়
নামবে ভায়োলেট চাঁদ-


উপবাসী বিকেল-

কেউ কেউ চুপ থাকেন,
নিরবতা ভেবে এড়িয়ে যান সাদা অন্দরমহল-
আমি তাঁর শব্দের অপেক্ষায় থাকি, কদাচিৎ ভুলে গেলে
পুরোনো পাতায় লিখতে বসি- তিনি জানেন-
আলবৎ তিনি জানেন, পসরা সাজানো হলে
কেউ কেউ আউড়ে যাবেন অথবা
রেফ্রিজারেটারে রাখা সেই আইসবক্স,
মনে পড়ে আইসক্রিম-
আজকাল তো প্রায় পাওয়া যায়, অর্থে আর অনর্থে
ভিনদেশী অথবা সেই পুরোনো কাঠি- দিন গুণি
পুরোনো ফাইল পত্তর ঘাটা শেষে একটা সংখ্যা-
কে জানে কেন রয়ে যায়; কেউ কেউ কিছুই বলেন না
ডাকবাক্সে কত কথা জমা হয়, ভোলা হয়-
কখনো পুরোনো পাতায় দেয়ালিকা লেখা হয়-

মনে পড়ে, ভিনদেশী কথনে একদিন তিনিই বলবেন-
আহ ! সরি !
সময়টা আজকাল বড্ড বেশি ইয়ে হয়েছে-
পুরোটায় মৌনতায় কবিতা লেখা যেন
একদম উপবাসী বিকেল-