অপেক্ষা

স্বপন রায়




১.
পাখিটা দূরের, দূরত্বটা আঁকা
তার নিয়তচাপা ডাক ‘কোপাই’-এর উপর কাঁপিয়ে ছেড়ে দিলে যেমন হয়
ডানা ঝাপ্টালো সেরকমই
মনে হয় এবার আসবে
মা, বাচ্চাটার কাছে, মায়ের নাম কিচিরমিচির
আঁকা সেই পাখির চেয়েও জ্যান্ত
দূরনত
আমি শুধু একটা ঢিলই মেরেছিলাম ‘কোপাই’-এর জলে, হে রবীন্দ্রনাথ
২.
আমি সামান্য বলি, তুমি অসামান্যে ওড়ো
দূরে মেঘ জমার আয়োজনে সামান্যপ্রতিম রোদ পড়ে
মনে হয় একটা ঠিকানা
ডিপো
হারিয়ে যাওয়া বাসের হর্ণকে ভুল করে ভাবা কেঁদে ওঠার কায়দা
আবার বলি
আরেকবার ওড়ো, বিকেলে এবার যদি কিছু হয়
সামান্য অসামান্য কিছু
এই যেমন তুমি হেঁটে যাচ্ছ আর আমি আলগা কাকতালীয় শিস দিচ্ছি
৩.
#
দাগ ছিল
দাগে শেরিশেরি ধুকপুক
হাস্কি ফলের বুকে ছিল বিকেলফেরত আস্কারা
জানলায় রোদবিহান আলো
#
জীপ টায়ার পরছে, কবেকার বটুয়া যাচ্ছে পানের রন্ধ্রে, নাকি কিছু পরছো বলে
শব্দটা
শব্দরা
গমের রং তো কবে থেকেই নিবাসী রিয়ার শীতে শীতে বাহারী উলেন
বাইরে এলাম, কেউ নেই
হাওয়া বইছে, সিরসির যত আপেলমোহিত হাওয়া
কফি
উপরে কি যেন আঁকা, রিয়া নয়, রিয়া এসব পছন্দ করেনা
রিয়া কি আমাকেও...
#
৪.
জল এক লীয়মানতার
#
পড়ে
জমে
#
দেখা হয় বালি’তে বালুকা
অস্তে কহারা কাহারা বলে নেমে যাওয়া লিখিতবেলার পাল্কি
জমে
পড়ে
দেখা হয় যারা নামে যারা যারা অসহায়
#
সোহিনীও ডাকে কিভাবে যেন সোহিনীকেই..
#
৫.
ঢেউ এসেই গজব তামা
সে ফুরোয়
সে না আমি কি ভাবে যেন লিপ্ত হতে হতে ফুরনো সভ্যতায় পাকা
আমি ধরি
ফেলে দিই না এ কথা ভেবে যে একদিন বিশাল কারখানা হবে
গজব শব্দটা হবে মেশিনে মেশিনে
#
আর ঢেউ হবেই হবে ‘ঢেউ রে’ তখনো যদি পদ্মা থাকে
বা রাজী থাকে...
#
৬.
তুমি বলছিলে
পাখি বসে ছিল # তুলে নিলাম আমরা
#
দেহী, বলা হয়নি, তো দেখাও হয়নি
একে একে শ্রাবণ আসে ডাঁসা, আঁচল কি ওড়নায় প্রভাব গৌরী মরালের
#
বৃষ্টি এল
তুমি কিছু বললে নাকি সবই কথার কথা, অর্জুন গাছের কথা
চিলেকোঠায় জমলো কিনা কাঁথাস্টিচ
#
বলছিলে ব’লে বসেছিল বৃষ্টিও
আর পড়ছিলও
#
এবার সেলাই হবেনা?
৭.
আশ্চর্য খুব কাছে, যেদিন সরিয়ে নিলাম
ময়ূর যে ছিলনা, শুধু য়ূর, ম দেখিনি, পড়িনি আমি
##
প্রসঙ্গে অবাকও
আমাদের উত্তরছেঁড়া নদী
আমাদের ফাটাফাটি আকাশ
##
শুধু দরজা ধরে
শুধু শুধু
যদি পেস্ট-কন্ট্রোলের লোকটা আসে
নদী আকাশ নিয়ে আসে আর একটা বাদামি ঘোড়াও যদি
সঙ্গে হাল্কা একটা নোটিস
তন্বী
#
ফেলে দিলাম, কোথাও যাবোনা, শুধু হাল্কা একটা দাগ রয়ে গেল
সরু মেটিয়াবুরুজের রোদটায়..
#
৮.
যে আমার শিথিল ট্রিঙ্কাস,চিল্‌ড
শাড়ি না পরার অবহেলায় ঠেসে ধরা মার্জিন, পুরু টেন্টে লাগানো বঙ্গীয় চাঁদ, চাঁদু
#
তাতে শ্যাম ঘন হ’য়ে শাড়িকে উদার লীলা ধিকিধিকি প্যাঁচ, যে ওখানে থাকে সেকি ওখানেই থাকে নাভিবেকার হয়ে, স্ট্রিটে চুরুট ধরাবার অপেক্ষায়
#
বৃষ্টিঘের মৌসিন যেন, ব্রামরাম বৃষ্টি আর ঘুরে বসবে না
রংতো সেই স্টিলেটোর হাই
আজ সোঁদা গন্ধে মেশানো, আজ আর ফস্কাবে না শেষ লোকাল
#
চাঁদের ফাটাফাটিতে ঢুকছে বারাসতের লম্বা মেয়েলি ভয়....