বৃত্তের বাইরে

স্মৃতি ভদ্র



ঋভু'র গ্র্যাজুয়েশন শেষ হয়ে গেছে অল্প কিছুদিন হলো। মায়ের সাথে কিছুদিন কাটিয়ে ফিরে গিয়ে জয়েন করবে একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে। অসম্ভব মেধাবী ঋভু'র সামনে অবশ্য স্কলারশিপ নিয়ে দেশের বাইরে যাবার সুযোগ ছিল। কিন্তু একটি অনিবার্য কারণে ঋভু সেই সুযোগটি এড়িয়ে গেছে।

ঋভু'র মা থাকেন একটি শহরতলীতে। শহরের খুব লাগোয়া হয়েও এলাকাটির নিজস্ব একটি মফস্বলি আবেদন আছে, যাতে করে খুব সহজেই শহর থেকে এলাকাটিকে পৃথক করা যায়। আর এখানেই একটি বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ঋভু'র মা আশাবরি ইসলাম। ঋভু'র দাদু ছিলেন অসম্ভব সংগীতপিপাসু একজন মানুষ। উচ্চাঙ্গ সংগীতের প্রতি তাঁর দূর্বলতা ছিল খুব। এজন্যই একমাত্র মেয়ের নাম উনি রেখেছিলেন "আশাবরি", একটি রাগের নামে। যদিও এসব ঋভু জেনেছে মা'র কাছ থেকেই। কারণ দাদুকে কোনদিন দেখেনি ও।

ঋভু বসে আছে সবুজ রঙের গ্রিল দিয়ে ঘেরা ওদের বারান্দায়। গ্রিল বেয়ে উঠে গেছে লাল-সাদা মাধবীলতার ঝাড়। যার মিষ্টি গন্ধে ভেসে যাচ্ছে জায়গাটা। বারান্দার একপাশে ঋভু'র মায়ের শখের সব ফুলের গাছ। টবে টবে ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা সব শীতের ফুলগুলো রঙ ছড়িয়ে হাসছে।বহমান সময় ক্ষণ পেরিয়ে হয়ে ওঠে কাল। আর সেই ক্ষণ এক একটি অবতাড়িত গল্পকে ধারণ করে হয়ে থাকে ইতিহাস। সেই ক্ষণ,কাল,ইতিহাস বয়ে নিয়ে চলে কালের ধারা। যে ধারা অবিচ্ছিন্ন। অবিচ্ছিন্ন সে ধারায় কিছু কিছু মানুষ থাকে যাদের গল্প কালকে অতিক্রম করে যায়। তাদের জন্যই প্রবহমান কালের কিছু সময়ের ভাগ্যে জুটে যায় রাজতিলক, জ্বলজ্বলে সে সময় জীবনের জয়গান গেয়ে যায় অনতিকাল। আবার কখনো কখনো সেই জ্বলজ্বলে সময়ের প্রতিক্ষায় কেটে যায় অনন্তকাল, আর তা হয় বৈকি! বহমান সময় ক্ষণ পেরিয়ে হয়ে ওঠে কাল। আর সেই ক্ষণ এক একটি অবতাড়িত গল্পকে ধারণ করে হয়ে থাকে ইতিহাস। সেই ক্ষণ,কাল,ইতিহাস বয়ে নিয়ে চলে কালের ধারা। যে ধারা অবিচ্ছিন্ন। অবিচ্ছিন্ন সে ধারায় কিছু কিছু মানুষ থাকে যাদের গল্প কালকে অতিক্রম করে যায়। তাদের জন্যই প্রবহমান কালের কিছু সময়ের ভাগ্যে জুটে যায় রাজতিলক, জ্বলজ্বলে সে সময় জীবনের জয়গান গেয়ে যায় অনতিকাল। আবার কখনো কখনো সেই জ্বলজ্বলে সময়ের প্রতিক্ষায় কেটে যায় অনন্তকাল, আর তা হয় বৈকি।
একটি ট্রে তে দুই কাপ চা নিয়ে বারান্দায় আসেন আশাবরি ইসলাম। ঋভুর ভাবনার ছেদ ঘটিয়ে বলে ওঠেন,“বাবু কখন থেকে বারান্দায় বসে আছিস তুই। উত্তর দিকের বারান্দা এটা, তুই তো জানিস। বেলা পড়ে এসেছে, ঠান্ডা বাতাস আসছে"। চায়ের ট্রে টা টেবিলে রেখে ঘাড় থেকে একটা চাদর এগিয়ে দিলেন ছেলের দিকে।

চাদরটা জড়িয়ে নিল ঋভু।

" মা, তুমি সারাদিন একা কিভাবে থাকো এই বাড়িতে! আমার তো একবেলাতেই হাফ ধরে যায় মা!" বেশ বিস্ময় ঋভু'র কন্ঠে।

"আচ্ছা, বানুর মা আর আসে না? কাল আসার পর একবারো দেখলাম না যে ওনাকে।" আবার ঋভু বলে।

বানুর মা আশাবরি ইসলামের ঘরের কাজের সহায়িকা। ঋভু যেদিন থেকে স্কুলে যায় ঠিক সেদিন থেকে এ বাড়িতে তার যাতায়াত। স্কুলের পর মা আসার আগের সময় টুকু বানুর মা'ই ঋভুকে দেখাশোনা করতো। আর মা স্কুল +থেকে ফিরলে ঘরের কাজে মা কে সাহায্য করে সন্ধ্যায় ফিরে যেতো।

" বানুর মা আর আসতে পারে না বাবু। বয়স হয়ে গেছে তো! আমিই না করে দিয়েছি। তবুও আসে বিকেলের দিকে মাঝেমাঝে। আমার সাথে বসে চা খায়, আঁচলে বাঁধা পান মুখে দিয়ে নাতি-নাতনির গল্প করে, ছেলের বৌয়েদের নিন্দে করে, ছেলেরা আগের মতো কাছে আসে না টাকা পাবে না বলে দুঃখ করে। আবার জানিস সন্ধ্যে হলেই সেই যত না পাওয়ার ঘরেই বানুর মা ফিরতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।" শেষের লাইনটাতে ঋভুর মা কি দীর্ঘশ্বাস লুকোয়!

ঋভু উঠে গিয়ে পিছন থেকে মাকে জড়িয়ে ধরে বলে," আমি কিন্তু অল্প কিছুদিন পরেই তোমাকে আমার কাছে নিয়ে যাবো। আর একা এখানে থাকতে হবে না মা, তুমি আমার কাছে থাকবে।"

আশাবরি ইসলাম একটু চমকে ওঠে,কথাটা এড়িয়ে যান। চেয়ার থেকে উঠে বারান্দার শেষ কোণে রাখা ফুলের টবগুলোর পাশে গিয়ে দাঁড়ান। ঘিয়ে আর হলুদ রঙের মিশেলে চন্দ্রমল্লিকা ফুল দেখিয়ে বলে, " বাবু, তোর বাবা এই রঙের চন্দ্রমল্লিকা খুব পছন্দ করেন।"

" জানি মা, আর এজন্যই প্রতিবছর তুমি খুঁজে খুঁজে এই রঙের চন্দ্রমল্লিকা লাগাও। কিন্তু এভাবে আর কতবছর কাটবে মা?" ঋভুর কন্ঠের ক্ষোভটা মা পর্যন্ত পৌছালেও আশাবরি ইসলাম আবার এড়িয়ে যান।

" বাবু, কবে ফিরে যাবি তুই?ভোলা দা কে বলেছি কাল সকালে নদীর তাজা ছোট মাছ দিয়ে যেতে। তুই শীতের সবজি দিয়ে ছোট মাছ পছন্দ করিস।" মায়ের এই কথাগুলোও ঋভুকে প্রসঙ্গ থেকে সরিয়ে আনতে পারে না।

" মা, এবার তোমাকে পালটাতে হবে মা। এতগুলো বছর তুমি মিথ্যে জীবনকে যাপন করছো। তোমাকে এবার সব বুঝতে হবে। আর তুমি চাইলেই তা পারো।" দৃঢ়তা ঋভু'র কন্ঠে।

" বাবু, এই ব্যাপার টা নিয়ে তুই আমাকে কিছু বলিস না। আমি পালটাতে চাই না। এভাবেই ভাল আছি আমি।" শান্ত কন্ঠে বলেন আশাবরি ইসলাম।

" আমার চোখে তুমি ভাল নেই মা। তুমি কেন বুঝতে পারো না এভাবে কেউ ভাল থাকতে পারে না। আমি তোমাকে এখান থেকে বের করে নিয়ে যাব।" অস্থির হয়ে ওঠে ঋভু।

এই কথার উত্তর দেন না আশাবরি ইসলাম। বারান্দা ছেড়ে উঠোনে নেমে আসেন। ধীর পায়ে এসে দাঁড়ায় কড়ই গাছটার নিচে। গোলাপী রঙের কিছু কড়ই ফুল উঠোনে পড়ে আছে। কড়ই ফুলের একটা সোঁদা গন্ধ আছে। সেই গন্ধটা অনেককিছু মনে করিয়ে দেয়। এই বাড়িতে প্রথম দিনের কথা, শুরুর দিনগুলোতে কড়ই গাছের ভুতের ভয়ের কথা, বাবু হবার দিনের কথা আর রিদওয়ানের কথা। পাশাপাশি বাড়ি ছিল রিদওয়ান আর আশাবরির। ছোট থেকে একসাথেই বড় হয়েছেন ওনারা। এজন্য বন্ধুত্ব ছিল ছোট থেকেই। আবার একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে সেই বন্ধুত্ব টা প্রগাঢ় সম্পর্কে রূপ নেয় ওনাদের নিজেদের অজান্তেই। আর সেই সম্পর্কের আঁচ যখন দুই বাড়িতে আসে তখন ওদেরকে অবাক করে দিয়ে বিরোধিতা আসে উভয় বাড়ি থেকেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থি ছাত্রনেতা রিদওয়ান সব বিরোধিতা অগাহ্য করে আশাবরিকে নিয়ে নিজের শহর থেকে অনেকদূরে এখানে এসে সংসার শুরু করেন, আর তা এ বাড়িতেই। সেইদিন থেকে বাবার আদরের মেয়ে আশাবরি সকল স্নেহ বঞ্চিত হয়েছিলেন সারাজীবনের জন্য। বাবাকে ছেড়ে যেন রিদওয়ানকে আরোও আঁকড়ে ধরেন উনি। এখানকার একটি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন রিদওদান সাহেব। সারাদিন একা একা আশাবরি এ বাড়িতে থাকতো। কখনো গল্পের বই পড়ে, কখনো টেবিল ক্লথে সুতো দিয়ে ফুল-পাখি তুলে আবার কখনো রিদওয়ানের পছন্দের রান্না করে। আর যখন কিছুই করার থাকতো না তখন ছাদজুড়ে থাকা কড়ই গাছের সাথে গল্প করে। এখানেই প্রথম আশাবরি আর রিদওয়ান কড়ই ফুল দেখে। কত রাত যে বৃষ্টিশেষে ভেজা বাতাসে ছড়িয়ে পড়া কড়ই ফুলের সোঁদা গন্ধ ওদেরকে মাতিয়ে রাখতো তার ইয়ত্তা নেই। দু'জনের ভালবাসার সাথে কড়ইয়ের সোঁদা গন্ধ মিলিয়ে রাতের কাব্য লিখতো ওরা। এরপর ওদের জীবনে আসে ঋভু।

সবকিছু ঠিকঠাক চলছিলো। আশাবরিও স্বামীর স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। রিদওয়ান সাহেব স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি সমাজের ন্যায় অন্যায় নিয়েও ভাবতে শুরু করেন। তখন নব্বই এর দশক। সমাজ আর দেশের ক্রান্তিলগ্ন তখন। সৎ আর আদর্শিক রিদওয়ান সাহেব এই ক্রান্তিলগ্নে নিজের বিবেক কে অগাহ্য করতে পারলেন না। অন্যায়কে সরিয়ে ন্যায়কে প্রতিষ্ঠা করতে প্রত্যয়ি হয়ে উঠলেন। আশাবরি যদিও প্রথম প্রথম এসব থেকে স্বামীকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করতেন তবে স্বামীর যুক্তির কাছে একসময় হার মেনে যায়।

ঋভু বড় হতে থাকে। ঋভু আর রিদওয়ান সাহেব কে নিয়ে আশাবরির ছোট্ট পৃথিবী। ঋভুর তখন ৫ বছর। কিছুদিন পরেই স্কুলে যাবে। বাবার সাথে গিয়ে স্কুলের ইউনিফর্মও কিনে এনেছে। ডিসেম্বরের শীতের সকাল। ছুটির দিন। উঠোনে রোদে একটি বেতের মোড়া নিয়ে বসে আছেন রিদওয়ান সাহেব। কড়ই গাছের ছায়া মেপে আশাবরি সকাল বেলার চা তাঁকে দিয়ে, পাশে বসে ঋভুকে সকালের খাবার খাওয়াতে শুরু করেন। হঠাৎ করেই মূল ফটকে ধাক্কার শব্দ। এলাকার কয়েকটি ছেলে এসেছে রিদওয়ান সাহেবের কাছে, তাঁকে শহরে যেতে হবে।

তৎক্ষণাত বেরিয়ে যান তিনি। যাবার আগে আশাবরি কে বলে যান," দুপুরে ফিরে একসাথে খাবো। আজ ভোলা দা নদীর মাছ দিয়ে যাবে।" স্ত্রীর মাথায় হাত রেখে আর ঋভুর গালে নাকটা ছুঁইয়ে দিয়ে বের হয়ে যান তিনি। সেদিন আশাবরি ভোলা দার দিয়ে যাওয়া মাছ রেঁধে সারা দুপুর অপেক্ষা করতে থাকেন। সব সময়ের অভ্যাসবশত কড়ই গাছের ছায়া মেপে বার বার সময়ের আন্দাজ করতে থাকেন আর ফটকের কাছে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন স্বামীর জন্য। আর সেদিনের সেই অপেক্ষা ক্ষণ পেরিয়ে,দিন পেরিয়ে কালে বর্তায়। কিন্তু রেদওয়ান সাহেব ফেরেন না।

সময়, কাল পেরিয়ে এলেও অপেক্ষার সেই মুহূর্তে বন্দি হয়ে গিয়েছেন আশাবরি। এখনো তাঁর বারান্দাজুড়ে খেলা করে স্বামীর পছন্দের চন্দ্রমল্লিকা, এখনো প্রতি বিকেলে চা বানিয়ে প্রতিক্ষায় বসে থাকেন, বৃষ্টিভেজা বাতাসে কড়ই ফুলের গন্ধ ভেসে এলে উৎকর্ণ হোন, ফটকে সেই চেনা আগমনী বার্তা এল কি না!

ঋভু জানে মা'র এই অপেক্ষা অর্থহীন। তাই এই ভ্রম সময়ের বৃত্ত হতে মাকে বের করে আনতে চায়। কিন্তু সব সময়ের মতো এবারো মা মানসিকভাবে এই ব্যাপারে দ্ব্যর্থহীন। মা যেন সেই অপেক্ষার বৃত্তে প্রতিনিয়ত বন্দি হতেই ভালবাসে। বারান্দা থেকে নেমে ঋভুও উঠোনে মা'র পাশে এসে দাঁড়ায়।

" কি ভাবছো মা? ঘরে চলো, সন্ধ্যা পেরিয়ে যাচ্ছে।" মায়ের ঘাড়ে হাত রেখে বলে ঋভু।

" বাবু, শোন আমাকে একটা কথা দিবি আজ। তুই কোনদিন আমাকে এখান থেকে যেতে বলবি না আর। আমার বিশ্বাস তোর বাবা ফিরে আসবেন। হয়ত কোন শীতের সন্ধ্যায় বা কোন বৃষ্টির রাতে, হয়ত বা কড়ইয়ের ছায়া উঠোন থেকে গুটিয়ে শুধু ছাদে সীমাবদ্ধ হলে বা ভোলা দা যেদিন নদীর মাছ দিয়ে যাবে সেদিন। আমি অপেক্ষায় আছি, আমার কাছে তিনি ফিরবেনই।" মা ঋভুর দিকে ফেরে।

সন্ধ্যার আবছা আলোতেও ঋভু লক্ষ্য করে অসম্ভব দৃপ্ত আর প্রত্যয়ি মায়ের মুখ। যে মুখ ঋভুর মায়ের চেয়েও "আশাবরি ইসলাম" এর অনেক বেশি। সেই মুখের প্রত্যয় দেখে ঋভু আর বেশি কিছু বলে না। শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস বুকের মধ্যে লুকিয়ে মাকে জানিয়ে দেয় প্রতিক্ষার সেই অপছন্দনীয় বৃত্ত এই সময় থেকে ঋভুকেও বন্দি করে ফেললো। আর ঋভুর সে প্রতিক্ষা মায়ের জন্য। শহরে গিয়ে ও অপেক্ষা করবে মায়ের জন্য, মায়ের সেই বৃত্ত ভাঙার খানখান শব্দ শোনার জন্য! ঋভুর কথাগুলো আশাবরি কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ শুনে যায়।

পরদিন সকালে ঋভু যখন শহরে ফিরতে প্রস্তুত হচ্ছে তখন আশাবরি পাশে এসে দাঁড়ায়। ঋভুকে অবাক করে দিয়ে বলে ওঠেন," বাবু, আমাকে নিবি তোর সাথে? অনেকদিন হয়ে গেল শহর দেখি না। আমাকে শহর ঘুরিয়ে দেখাবি তো! নাকি মা কে ঘরে একলা ফেলে সারাদিন অফিস করবি!" আশাবরির কন্ঠে যেন সেই কৈশোরের চঞ্চলতা। ঋভু আবেগকে প্রতিহত করতে পারে না। মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে "আমার বিশ্বাস ছিল তুমি আমার সাথে যাবে। আমি তোমাকে এভাবে আর দেখতে পারছিলাম না।" ঘরময় তখন মা-ছেলের অপত্য স্নেহ আর মমতার এক নিগূঢ় ছবি আঁকা হতে থাকে।

ঋভুর সাথে শহরতলির সেই ছোট্ট বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে যে আশাবরি সে এতদিন ধরে হয়ে চলা মানসিক টানাপোড়নের অবসান ঘটিয়ে অনেক দৃঢ়।কাল রাতে ঋভুর বলা কথাগুলো নিয়ে অনেক ভেবেছে আশাবরি। অপেক্ষার বৃত্তে ঋভুকে আবদ্ধ হতে দিবেন না তিনি।যদিও এখনো আশাবরি বিশ্বাস করেন রিদওয়ান ফিরবে এই বাড়িতে। ফিরুক রিদওয়ান,ফিরে না হয় ঘিয়ে আর হলুদ রঙের মিশেলে চন্দ্রমল্লিকার পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষারত হোক একজন “আশাবরি ইসলাম" এর জন্য। প্রহরগুলো অপেক্ষার হয়ে উঠুক এবার রিদওয়ানের!