অপেক্ষা এবং...

তমাল রায়




একটা বোকা পুলিশের মত সন্ধ্যে নামছে শহরে, যারা জলে ছিল জলেই থাকুক, যারা জঙ্গল সাফারিতে, তাদের বিরক্ত করার জন্য এ জন্ম নয়, তাই আকাশ আঁকছিলো সে এক মনে। একে একে তারাদের বসিয়ে দিলো যার যার অবস্থানে...কারণ 'অবস্থান' খুব জরুরী এক চতুষ্পদ। স্রেফ এই চতুস্পদের কারণেই ভাগ হয়ে যায় একটি দেশ দুটিতে, কাঁটাতার ফেলানিকে ঝুলিয়ে রেখে আমোদে মাতে। আর সান্ধ্য বাতাসে নৈর্ব্যক্তিক কেউ, রাত আটটার লোকাল ধরতে ভুলে গিয়ে হাঁ করে তাকিয়ে। ঠিক তখনই মুখের মধ্যে প্রবেশ করে ব্রহ্মাণ্ড, আর কি আগুন কি আগুন। দহন প্রণালীর এসব ব্যাখ্যা কেবল দুপুরের জানার ছিল, হয়ত সেও জানেনা। তবু সে'তো চেষ্টা করতে পারে, পারে না?

বাস্পের অতিরিক্ত উদগীরণে আকাশের মুখ ভার হয়, তাকে অকারণ না ভাবাই শ্রেয়। বরং বলা যাক একটি বাথরুম ও টাওয়েলের কাহানী, নর্দমা আর মশারীর অতিকথন। না, থাক। কথা ঘরে কি করে যেন বহুদিন নীরবতা পায়চারি করছিলো একাই। এই দরজা খুললো, এখন জোনাকি ঢুকছে কাতারে কাতারে...কবিদের জোট বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে যে লোকটা আন্দোলন করতে নেমেছিল, সে এখন ট্রাফিক পুলিশ, শহরের যান নিয়ন্ত্রক। আবহাওয়া সংবাদ জানিয়েছে, উত্তরে খুব ঠান্ডা, দক্ষিণে সমূহ বিপদ, পশ্চিম জুড়ে কেবল সন্দেহর শস্যক্ষেত। পূবদিকে যে আকাশ রাঙা হবে, তাকেও অল্প চেখে নিয়ে এখন সে রাস্তা পেরোচ্ছে...একাই, আবিস্কারকের মত একা...
ছাদের বাগান আর চৈত্র মাসের সূর্যাস্তের মধ্যে কোনো আপাত সরলরেখা নেই জেনেই সে পা বাড়ালো, একটা আলুনী সমাজ, পচা গন্ধযুক্ত দিনকাল, আর হ্যাক থু ইন্টেলিজেন্সিয়া...প্রয ুক্তি নির্ভর ম্যাজিক, যার শেষে অনন্ত অবসাদ, তবু হ্যাঁ সে পা বাড়ালো...শত্রুর কাঁধে হাত, অবিশ্বাসকে তফাৎ যেতে বলে সে এগিয়ে চললো, কিছু দূরে বাঙ্কার আরও দূরে সীম আর বেগুনের মিলনমেলা থেকে আরও দূর এগোলে সংবাদের পিঠে চেপে গুজব উড়ছে শিমুল তুলোর মত, তা বলে সে থমকায়নি...কারণ, মেঘের হাতে দিতে হবে যক্ষপ্রিয়ার চিঠি, ছ'মাসের টেঁপির বাপ নিরুদ্দেশে, টেঁপির কাছে বাপকে এনে দিতে হবে, কত কাজ, সাইকেলে জং ধরতে দিলে হয়, তুমিই বল? যা হবে বলেও হয়নি, তাকে হইয়ে দেওয়া, যে ট্রেন এসে পৌঁছয়নি, তাকে স্টেশনে এনে দেওয়া... এত শূন্যবাদ, গদ্য শহর ক্রমশ এম্পিথিয়েটারে রূপান্তরিত হওয়া অবশ্যম্ভাবী জেনেও ঘাবড়ায়নি! দহন আর দাহ্যপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত সম্যক জ্ঞান সঞ্চিত করল। জ্বালানিই নেই, আগুনে কি হবে, প্রাজ্ঞের মত বিচারে না বসে, সে চলতে লাগলো, কিন্তু ওই যে রাস্তা কাটা, কিন্তু বোকার অভিজ্ঞানে তো কোনো নাকাবন্দী নেই, তবু তো রাস্তা কাটা, ছাল চামড়া নেই, খানা আর খন্দ... তা হোক, এসবে কি প্রকৃত অভিযাত্রী ডরায়?
আপাতত সেতুবন্ধনের চেষ্টা...শোক পুস্তিকাকে ফুলেল মালায় রূপান্তরিত করে এ এক চেষ্টার প্রাক কথন, কারণ ওই যে 'অপেক্ষা...' এবার ঐহিক অনলাইনে রইলো এবং অপেক্ষার ঘর ও বাড়ি আর পথিকের গল্প, দেখ পথের ধারে আপাতত গাছ গজিয়ে উঠছে, কচি পাতা, এই শীতে মিঠেল রোদ্দুর ছড়ানো কিছু সম্ভব, অসম্ভবেরা আপাতত অপেক্ষা ডানা মেললো, শুধু তোমার, তোর, আপনার জন্য, তা হ্যাঁগা আষাঢ়ে গল্পে তোমাদের বিশ্বাস আছে তো? মৃদু টুং টাং শব্দ হচ্ছে, বাতাসে পরাগরেণু ভাসছে, একটা অসম্পূর্ণ কে সম্পূর্ণতা দিতে আমাদের আয়োজন হাত বাড়ালো, ধর, চেষ্টা কর, ওই তো অপেক্ষা...

ধ্বক থাকলে ছুঁয়ে দেখ...