বারীনদার সঙ্গে

অরূপরতন ঘোষ



আমি ভাগ্যবান। আমি সেই আলোর স্পর্শ পেয়েছিলাম যা ভোরের আলোর মত সমস্ত অসুখ সারিয়ে দেয়। বারীনদার সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ নব্বই দশকের মাঝামাঝি, ময়দান বইমালার কৌরব-এর স্টলে, আর শেশগ দেখাও সেই কৌরব-এর স্টলে ,এ বছর (২০১৭র) জানুয়ারি , মিলন মেলায়। মধ্যে থেকে গেল দীর্ঘ ২০ বছরের অটুট যোগাযোগ। কত অজস্র কবিতা, কথা, দিন ও রাত্রি যাপন, আড্ডা----- পূব আর ফুরোয়নার মত বারীনদার সঙ্গে কথাও কোনদিন ফুরোলো না।
জানিনা কিভাবে আর কখন বারীনদা হয়ে উঠেছিলেন আমার উপন্যাসের চরিত্র। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের অংশ বিশেষের মধ্যে দিয়েই শুরু হয়েছিল সেই উপন্যাস। তখন মোবাইল ফোন ছিল না , ফলত উপন্যাসের ওই অধ্যায়ের শিরোনাম হিসাবে ছাপা হয়েছিল জামশেদপুর এস,টি, ডি কোড- “জিরো সিক্স ফাইভ সেভেন আপ”। প্রতিবার জামশেদপুর থেকে ফিরে এলেই বুঝতে পারতাম যেন আরো খানিকটা সাহসী হয়ে উঠতে পেরেছি। আরো এগোনো যায় তবে। বারীনদা বলতেন, যতদূর পা ফেলবি অন্ধকারে, দেখবি ততোদূরই আলোকিত হয়ে গেছে।
“হাশিস তরণী”, “ মায়াবী সিমূম”, “সৎকার”, “ অতিচেতনার কথা” আমার গর্বের উত্তরাধিকার, শুধু কাঁধে ওই আলতো ছোঁয়াটা আর পাবো না । আমরা যারা বারীনদার অযোগ্য অনুজ বন্ধু তারা জানি কী আমরা হারিয়ে ফেললাম।
আর কিছু বলার নেই। লেখা অসম্ভব এখন। ভেবেছিলাম ২/৩ দিনের মধ্যে সামলে উঠব কিন্তু এ বিষাদ যে ক্রমশ দীর্ঘতর হচ্ছে--- হায়! সোনারি ওয়েস্ট , রোড নম্বর এইট, ওই মায়াবী বইঘর, ওঃ, বিদায়।
৮ই নভেম্বর ২০১৭